সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

যুক্তরাষ্ট্রে মাথাপিছু মাংস ও ডিমের জোগান ২০২৭ পর্যন্ত বাড়ার পূর্বাভাস

ইউএসডিএর ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিসের ২০২৬ সালের ৪ জুনের পূর্বাভাসে প্রতি মার্কিন ভোক্তার জন্য ২০২৬ সালে ২২৮.৮ পাউন্ড গরু, শূকর, ব্রয়লার ও টার্কির মাংস এবং ২২.৫ ডজন ডিম ধরা হয়; ২০২৭ সালে তা ২২৯.৪ পাউন্ড ও ২২.৯ ডজনে উঠবে বলে অনুমান।

যুক্তরাষ্ট্রে মাথাপিছু মাংস ও ডিমের জোগান ২০২৭ পর্যন্ত বাড়ার পূর্বাভাস
লাইভস্টক

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি ভোক্তার জন্য লাল মাংস, পোলট্রি ও ডিমের প্রাপ্যতা ২০২৬ সালে বাড়বে এবং ২০২৭ সালে আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) গবেষণা শাখা ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (ইআরএস)। ২০২৬ সালের ৪ জুন প্রকাশিত সংস্থাটির এক "চার্ট অব নোট"-এ এ হিসাব দেওয়া হয়। চার্টটি তৈরি করেন ইআরএসের অর্থনীতিবিদ গ্রেস গ্রসেন, আর এর তথ্য নেওয়া হয় ২০২৬ সালের ১৮ মে প্রকাশিত ইআরএসের মাসিক প্রতিবেদন "লাইভস্টক, ডেইরি অ্যান্ড পোলট্রি আউটলুক" থেকে।

ইউএসডিএর তখনকার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রতি মার্কিন ভোক্তার জন্য গরু, শূকর, ব্রয়লার মুরগি ও টার্কি মিলিয়ে ২২৮.৮ পাউন্ড মাংস এবং ২২.৫ ডজন ডিম পাওয়া যাবে। ২০২৭ সালে এই চার ধরনের মাংসে মাথাপিছু প্রাপ্যতা ২২৯.৪ পাউন্ড এবং ডিমে ২২.৯ ডজনে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়।

মাথাপিছু প্রাপ্যতা বলতে কী বোঝায়


এই হিসাব দেশের ভেতরের বাজারে ব্যবহারের জন্য থাকা জোগানের মাথাপিছু পূর্বাভাস। ইআরএস জানায়, প্রাপ্যতাকে ভোগের সূচক হিসেবে ধরা হয়; এতে মুদি দোকানে বিক্রি হওয়া ও রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত তাজা ও প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং ডিম অন্তর্ভুক্ত। আউটলুক প্রতিবেদনের ব্যাখ্যায়, উৎপাদনের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানির হিসাব ও হিমাগারের মজুতের পরিবর্তন মিলিয়ে যা দেশের ভেতরে ব্যবহারের জন্য থাকে, সেটিই এই হিসাবের ভিত্তি। জনসংখ্যা হিসেবে ধরা হয় দেশে বসবাসকারী মানুষ এবং বিদেশে থাকা মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের।

ইআরএসের খাদ্য প্রাপ্যতা (মাথাপিছু) ডেটা সিস্টেম মনে করিয়ে দেয়, এই সংখ্যা জাতীয় পর্যায়ে প্রকৃত ভোগের একটি বিকল্প সূচক মাত্র; নষ্ট হওয়া খাবার বা পাতে ফেলে দেওয়া অংশ এতে বাদ দেওয়া হয় না। মাংসের হিসাব খুচরা ওজনে, আর এক পাউন্ড সমান ০.৪৫৩৫৯২৩৭ কিলোগ্রাম।

ব্রয়লার এগিয়ে, টার্কি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে


ব্রয়লার মুরগি যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি খাওয়া প্রাণিজ পণ্য, আর এর মাথাপিছু প্রাপ্যতা বহু বছর ধরে বাড়ছে। ২০২৬ সালে তা ১০৫.৬ পাউন্ড ও ২০২৭ সালে ১০৬.৫ পাউন্ডে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হয়। মে মাসের আউটলুকে ২০২৬ সালের ব্রয়লার উৎপাদন ধরা হয় ৪৯ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন পাউন্ড, যা ২০২৫ সালের চেয়ে ২.৪ শতাংশ বেশি; ২০২৭ সালে উৎপাদন আরও ১ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস ছিল।

টার্কির প্রাপ্যতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমছিল, তবে ২০২৬ সালে মাথাপিছু ১৩.৬ পাউন্ড ও ২০২৭ সালে ১৩.৮ পাউন্ডে বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়। আউটলুক অনুযায়ী, ২০২৬ সালে টার্কি উৎপাদন ৫ হাজার ৫৫ মিলিয়ন পাউন্ড হতে পারে, যা ২০২৫ সালের চেয়ে ৪.৩ শতাংশ বেশি হলেও ২০২২ সালের আগের স্তরের নিচে। অত্যন্ত রোগজনক বার্ড ফ্লুতে (এইচপিএআই) ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ১২ লাখ মাংসের টার্কি মারা যায় বা নিধন করতে হয়; ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের এক খামারের শেডে টার্কি। ছবি: Brandon O'Connor, USDA NRCS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের এক খামারের শেডে টার্কি। ছবি: Brandon O'Connor, USDA NRCS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

বার্ড ফ্লুর ধাক্কা সামলে বাড়ছে ডিম


টেবিল ডিমের মাথাপিছু প্রাপ্যতা ২০২৬ সালে ২২.৫ ডজন ও ২০২৭ সালে ২২.৯ ডজন ধরা হয়। আউটলুক জানায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বার্ড ফ্লুতে ১৫ কোটি ১২ লাখ ডিমপাড়া মুরগি হারানোর পর দেশটির ডিমপাড়া মুরগির ঝাঁক আবার বড় হচ্ছিল। ২০২৬ সালে টেবিল ডিম উৎপাদন ৭ হাজার ৮২৭ মিলিয়ন ডজন হতে পারে, যা ২০২৫ সালের চেয়ে ৪.৪ শতাংশ বেশি, আর ২০২৭ সালে তা ৮ হাজার ২০ মিলিয়ন ডজনে উঠতে পারে। তবে ১ এপ্রিলের খামারের তথ্যে ঝাঁক বাড়ার গতি কমার ইঙ্গিত থাকায় মে মাসে ২০২৬ সালের উৎপাদনের পূর্বাভাস কিছুটা কমানো হয়।

জর্জিয়ার অ্যাথেন্সে ইউএসডিএর এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং সার্ভিসের ডিম ও পোলট্রি গ্রেডিং কেন্দ্র, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর। ছবি: Rene Carranza, USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
জর্জিয়ার অ্যাথেন্সে ইউএসডিএর এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং সার্ভিসের ডিম ও পোলট্রি গ্রেডিং কেন্দ্র, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর। ছবি: Rene Carranza, USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

গরুর মাংস কমবে, শূকরের মাংস সামান্য বাড়বে


২০২৬ সালে গরুর মাংসের মাথাপিছু প্রাপ্যতা ৬০.০ পাউন্ড ধরা হয়, যা ২০২৫ সালের চেয়ে সামান্য বেশি; তবে ২০২৭ সালে তা কমে ৫৯.২ পাউন্ডে নামবে বলে পূর্বাভাস। আউটলুকের ব্যাখ্যায়, ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা সাত বছর মাংসের জন্য পালিত গাভির সংখ্যা কমায় প্রতিবছর বাছুরও কম জন্মাচ্ছে, তাই ২০২৭ সালে জবাইয়ের জন্য গবাদিপশু কম থাকবে। সে বছর গরুর মাংসের উৎপাদন ০.৯ শতাংশ কমে ২৫ হাজার ৩১০ মিলিয়ন পাউন্ডে নামতে পারে, যা ২০১৬ সালের পর সবচেয়ে কম। তবু ২০২৭ সালের মাথাপিছু পরিমাণ গত ১০ ও ২০ বছরের গড়ের ওপরে থাকবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার মেডিসিন পার্কের একটি ফিডলটে মাংসের জন্য পালিত গবাদিপশু, ২০০৯ সালের আগস্ট। ছবি: Alice Welch, USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার মেডিসিন পার্কের একটি ফিডলটে মাংসের জন্য পালিত গবাদিপশু, ২০০৯ সালের আগস্ট। ছবি: Alice Welch, USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

শূকরের মাংসের মাথাপিছু প্রাপ্যতা ২০২৬ সালে ৪৯.৬ পাউন্ড ও ২০২৭ সালে ৪৯.৯ পাউন্ড ধরা হয়, যা ২০২৫ সালের ৪৯.৩ পাউন্ডের চেয়ে সামান্য বেশি। আউটলুক অনুযায়ী, ২০২৭ সালে বাণিজ্যিক শূকরের মাংস উৎপাদন ২৮ হাজার ২৫৫ মিলিয়ন পাউন্ড হতে পারে, যা ২০২৬ সালের চেয়ে ১ শতাংশ বেশি, আর উৎপাদনের ২৫.৯ শতাংশ রপ্তানি হবে বলে ধরা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের ব্রায়ানটাউনে চারণভূমিতে পালিত শূকর। ছবি: Preston Keres, USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের ব্রায়ানটাউনে চারণভূমিতে পালিত শূকর। ছবি: Preston Keres, USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

ছবি: Bob Nichols, USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

সূত্র: ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (চার্ট অব নোট, ৪ জুন ২০২৬), ইআরএস লাইভস্টক, ডেইরি অ্যান্ড পোলট্রি আউটলুক (মে ২০২৬), ইআরএস খাদ্য প্রাপ্যতা (মাথাপিছু) ডেটা সিস্টেম, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সৌরপ্যানেলের নিচে ভেড়া চরালে বাড়ে মৌমাছি, তবে সংখ্যা রাখতে হবে কম

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, সৌরখামারে হেক্টরপ্রতি দুটি ভেড়া চরালে ঘাস কাটার তুলনায় উপকারী পোকা ৩৮ শতাংশ বাড়ে। খামারিদের জন্য ভেড়ার পাল পরিকল্পনার একটি সহায়ক টুলও তৈরি করেছেন গবেষকেরা।

Farms.com১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

প্রোটিনের চাহিদায় বদলে গেল কানাডার দুধের বাজার, মাখনের উদ্বৃত্ত শেষ

দুগ্ধজাত প্রোটিনের চাহিদা বাড়ায় পাঁচ বছরের মধ্যে কানাডার দুধের বাজারে মাখনচর্বির কাঠামোগত উদ্বৃত্ত মিটে গেছে, দুধের দাম নির্ধারণেও এসেছে পরিবর্তন।

Manitoba Co-operator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিকি হেক্টরে ওটের বীজ চাষ, ইথিওপিয়ার এক কৃষকের পারিবারিক ব্যবসা

ইথিওপিয়ার এক ক্ষুদ্র কৃষক মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে বীজের জন্য ওট চাষ করে প্রথম ফসল ৪৫ হাজার বির্রে বিক্রি করেন এবং পরের বছর চাষ বাড়ান। আইএলআরআইয়ের পশুখাদ্যের বীজকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের অংশ এটি।

ILRI১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)