যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) ২০২৬ সালের ২২ জুলাই ওয়াশিংটন থেকে জানিয়েছিল, বিভাগ যে বিপুল জার্মপ্লাজম তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণের জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে মিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নতুন সরঞ্জাম তৈরি করতে চায়। এ জন্য "জেনেসিস মিশন" এবং "অ্যাগ্রিকালচার অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি" (অ্যাগআরডিএ) এর মাধ্যমে সেই বছরের শেষ দিকে একটি "কৃষি জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চ্যালেঞ্জ" চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল।
প্রতিযোগিতায় কী চাওয়া হয়েছিল
ইউএসডিএর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিযোগীদের এমন ব্যবহারিক সমাধান বানাতে বলা হবে, যা নানা ধরনের তথ্য, যেমন ছবি, মাঠের পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাগারের ফলাফল, একসঙ্গে জুড়ে দেয়। উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞানীরা যেন দ্রুত গাছ ও বীজের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে পারেন এবং আরও সহনশীল ও বেশি ফলনশীল ফসল উদ্ভাবন করতে পারেন।
প্রতিযোগী দলগুলো "আমেরিকান সায়েন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি প্ল্যাটফর্ম" ব্যবহারের সুযোগ পাবে বলে জানানো হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তৈরি এই অভিন্ন অবকাঠামো তথ্যভাণ্ডার, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও এআই সরঞ্জামকে এক জায়গায় যুক্ত করে। প্রতিযোগিতার বিস্তারিত নিয়ম তখনো প্রকাশ হয়নি; আগ্রহী দলগুলোকে জেনেসিস মিশনের নির্বাহী আদেশটি পড়ে নিতে বলা হয়েছিল।
বিভাগের গবেষণা, শিক্ষা ও অর্থনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এবং প্রধান বিজ্ঞানী ড. স্কট হাচিন্স বলেছিলেন, "বিজ্ঞানীরা যে বিপুল উদ্ভিদ-তথ্য সংগ্রহ করেন, তা থেকে কৃষির সমাধান উদ্ভাবনে তাঁদের প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম দিতে ইউএসডিএ বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছে।"

জার্মপ্লাজম ও যুক্তরাষ্ট্রের বীজভাণ্ডার
জার্মপ্লাজম বলতে বোঝায় বীজ, টিস্যু ও ডিএনএর মতো জিনগত সম্পদ, যা উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রজনন, সংরক্ষণ, কৃষি ও গবেষণার জন্য রক্ষা করা হয়। নতুন জাত উদ্ভাবনে প্রজননবিদেরা এই ভাণ্ডারের বৈচিত্র্য থেকেই খরা সহিষ্ণুতা বা রোগ প্রতিরোধের মতো গুণ খোঁজেন।
যুক্তরাষ্ট্রে এই কাজ করে ইউএসডিএর কৃষি গবেষণা সার্ভিসের (এআরএস) জাতীয় উদ্ভিদ জার্মপ্লাজম ব্যবস্থা (এনপিজিএস)। এর লক্ষ্য ফসলের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ, সংরক্ষণ, মূল্যায়ন, নথিভুক্ত ও বিতরণ করা। এআরএসের জার্মপ্লাজম রিসোর্সেস ইনফরমেশন নেটওয়ার্কের (জিআরআইএন) তথ্য অনুযায়ী এনপিজিএস খাদ্য ও কৃষির জন্য ৬ লাখের বেশি সক্রিয় উদ্ভিদ জিনগত নমুনা দেখভাল করে। ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে এই তথ্যভাণ্ডার চলে "জিআরআইএন-গ্লোবাল" সফটওয়্যারে, যা ইউএসডিএ ও গ্লোবাল ক্রপ ডাইভারসিটি ট্রাস্ট মিলে তৈরি করেছে।
কলোরাডোর ফোর্ট কলিন্সে এআরএসের জিনগত সম্পদ সংরক্ষণ কেন্দ্রে দীর্ঘমেয়াদি হিমাগার রয়েছে। ২০১৩ সালে ইউএসডিএ জানিয়েছিল, সেখানে ১৩ হাজার ২০০টির বেশি উদ্ভিদ প্রজাতির প্রায় ১০ লাখ নমুনা রাখা আছে, যার বেশির ভাগই বীজ, আর দেশজুড়ে এনপিজিএসের ২০টি জিনব্যাংক এসব নমুনা রক্ষা, গবেষণা ও বিতরণ করে।

জেনেসিস মিশন ও অ্যাগআরডিএ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর এক নির্বাহী আদেশে জেনেসিস মিশন চালু করেন। জ্বালানি বিভাগের নেতৃত্বে এই জাতীয় উদ্যোগের লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত কম্পিউটিং দিয়ে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার দ্রুত করা; ঘোষণায় এক দশকের মধ্যে মার্কিন বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের উৎপাদনশীলতা ও প্রভাব দ্বিগুণ করার কথা বলা হয়েছিল এবং জ্বালানি বিভাগের ১৭টি জাতীয় গবেষণাগারকে এতে যুক্ত করা হয়। ইউএসডিএর ভাষ্যে, হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতি দপ্তর এই মিশন সমন্বয় করে।
অ্যাগআরডিএর অনুমোদন এসেছিল ২০১৮ সালের ফার্ম বিলে। মার্কিন প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডারপা যে "অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সি" মডেলে গড়া, সেই আদলে কৃষি ও খাদ্যে উচ্চ ঝুঁকির, দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় অর্থ দেওয়াই এর কাজ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রেকথ্রু ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পাঁচ বছরের পরীক্ষামূলক কর্মসূচির জন্য বছরে ৫ কোটি ডলার অনুমোদিত হলেও সংস্থাটি সীমিত অর্থ পেয়েছে।

ছবি: ইউএসডিএ / নিল পামার / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ), আরএফডি-টিভি, মর্নিং অ্যাগ ক্লিপস, ফার্মিল্যাব (মার্কিন জ্বালানি বিভাগ), ব্রেকথ্রু ইনস্টিটিউট, ইউএসডিএ-এআরএস জিআরআইএন, উইকিপিডিয়া




মন্তব্য
(০)