সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

বৈরী আবহাওয়ায় মহারাষ্ট্রে আলফানসো আমের ব্যাপক ক্ষতি, দুশ্চিন্তায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা

২০২৬ সালের মৌসুমে ভারতের মহারাষ্ট্রে শীতে দিন-রাতের তাপমাত্রার বড় পার্থক্য এবং এপ্রিল-মে মাসের বাড়তি গরমে ‘আমের রাজা’ আলফানসোর ফলন ভেঙে পড়ে; রয়টার্সের দেখা সরকার-সমর্থিত এক জরিপে দেবগড়ে ক্ষতি ধরা হয় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ, আর ইরান যুদ্ধে উপসাগরীয় রপ্তানিও কমে যায়।

বৈরী আবহাওয়ায় মহারাষ্ট্রে আলফানসো আমের ব্যাপক ক্ষতি, দুশ্চিন্তায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা
ফল

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে ২০২৬ সালের আম মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিখ্যাত আলফানসো আমের উৎপাদন ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ২০২৬ সালের ২৬ মে উপকূলীয় শহর দেবগড় থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে জানায়, ‘আমের রাজা’ নামে পরিচিত এই জাতের ফলন সে মৌসুমে এতটাই কমে যায় যে চাষি, ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকেরা গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েন। জাগো নিউজ ২৪ একই দিন সকালে রয়টার্সের বরাতে খবরটি বাংলায় প্রকাশ করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, সে বছরের গরম আবহাওয়া আলফানসোর ফসল নষ্ট করে দিয়েছে। প্রতিবেদক মহারাষ্ট্রের এক ডজনের বেশি চাষির পাশাপাশি ব্যবসায়ী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রপ্তানিকারক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের ভাষ্য ছিল, ক্ষতি মারাত্মক এবং উৎপাদন কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম পর্যায়গুলোর একটিতে নেমে এসেছে। একই সময়ে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে রপ্তানিও কমে যায়।

দেবগড়ের বাগানে প্রায় শূন্য ফলন


দেবগড়ের ২৬ বছর বয়সী উদ্যানতত্ত্ববিদ কোমল ওয়ালকে রয়টার্সকে জানান, তাদের পরিবারের তিন একরের বাগানে সে বছর প্রায় কোনো আলফানসো আমই হয়নি। বাবার ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এবং ভারতের অনলাইন মুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্ডার পূরণ করতে তাকে বড় খামার থেকে আম সংগ্রহ করতে হচ্ছিল। তিনি বলেন, “আমরা অর্ডার সরবরাহ করতে না পারলে বড় ক্রেতারা আগামী বছর আর ফিরবে না।”

দেবগড় মহারাষ্ট্রের শীর্ষ আলফানসো উৎপাদনকারী এলাকাগুলোর একটি। সেখানকার সরকারি কৃষি কর্মকর্তা বাপুসাহেব মানিকরাও লাম্বাডে রয়টার্সকে জানান, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে দিন ও রাতের তাপমাত্রার তীব্র পার্থক্য আমের মুকুল আসা ও ফল ধরার প্রক্রিয়ার ক্ষতি করে। এরপর এপ্রিল ও মে মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম গাছে থাকা ফলগুলোও নষ্ট করে দেয়। তার মতে, এই গরম সম্ভবত এল নিনো নামের আবহাওয়াজনিত প্রপঞ্চের কারণে হয়েছিল।

বিজ্ঞানী ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের করা সরকার-সমর্থিত একটি জরিপ, যার একটি কপি রয়টার্স দেখেছে, সে বছরের শুরুর দিকে দেবগড়ে ফসলের ক্ষতি ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ বলে অনুমান করে। রয়টার্স জানায়, রাজ্যের অন্যান্য আম উৎপাদনকারী এলাকাতেও আবহাওয়ার কারণে ক্ষতি হয়েছে।

আমের মৌসুমি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যবসাতেও এর ধাক্কা লাগে। দেবগড় থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের উপকূলীয় শহর মালবনের ৫২ বছর বয়সী আমের কার্টন প্রস্তুতকারক সঞ্জয় নারে রয়টার্সকে জানান, সে বছর তার কারখানায় প্রায় এক লাখ বাক্স অবিক্রীত পড়ে ছিল। তিনি বলেন, “এই অঞ্চলের অর্থনীতি আম আর মাছের ওপর টিকে আছে। গ্রীষ্মের মৌসুমি আম না থাকলে আমাদের হাতে আর খুব সামান্যই কিছু থাকে।”

মৌসুমের শুরু থেকেই ক্ষতির খবর


দেবগড়ের এই ক্ষতি হঠাৎ করে সামনে আসেনি। ২০২৬ সালের মার্চ থেকেই ভারতের সংবাদমাধ্যমে কোঙ্কণ উপকূলের আলফানসো বাগানের দুরবস্থার খবর আসতে থাকে। আউটলুক ইন্ডিয়া ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, সিন্ধুদুর্গ ও রত্নগিরি জেলায় আমের ক্ষতি ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ এবং সিন্ধুদুর্গে কাজুবাদামের ক্ষতি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বলে অনুমান করা হচ্ছিল। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের মৌসুমে এ অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ ছিল, আর ২০২৬ সালের মৌসুমে অস্বাভাবিক দীর্ঘ শীত ফুল আসার চক্র এলোমেলো করে দেয়; গাছে মূলত পুরুষ ফুল আসে, যা থেকে ফল হয় না।

আউটলুকের একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ মার্চ কৃষকেরা মুম্বাই-গোয়া মহাসড়ক অবরোধ করেন। কৃষক নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য রাজু শেট্টি প্রত্যেক আমচাষির জন্য ৫ লাখ রুপি এবং কাজুচাষির জন্য ৩ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। দেবগড়ের চাষি যশ সুরেন্দ্র পারব জানান, তিনি তার ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিকের মজুরি সময়মতো দিতে পারছিলেন না। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বলেছিলেন, চলমান অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে বিধানসভায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ত্রাণ ব্যবস্থা ঘোষণা করা হবে।

পুনেভিত্তিক সংবাদ প্ল্যাটফর্ম ১০১রিপোর্টার্স ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, মার্চ শেষ হয়ে এলেও রত্নগিরি জেলার সঙ্গমেশ্বর ও রত্নগিরি তালুকার বাগানমালিক মন্দার খেড়কারের বাগানের একটি আমও পুনের বাজারে পৌঁছায়নি। সাধারণত মার্চের মধ্যে তিনি দিনে ৩০ বাক্স আম তোলেন, প্রতিটি বাক্সে থাকে চার ডজন আম; অথচ সে বছর সপ্তাহে ১০ থেকে ১৫ বাক্সের বেশি পাচ্ছিলেন না। রত্নগিরি তালুকার পাভাস গ্রামের বাগানমালিক আনন্দ দেশাই প্রতিবেদককে বলেন, “প্রায় ৮০ শতাংশ আম নষ্ট হয়ে গেছে। যা আছে, তা স্থানীয় বাজারের জন্যও যথেষ্ট নয়।”

নবি মুম্বাইয়ের ভাশি পাইকারি বাজারের কর্মকর্তারা ১০১রিপোর্টার্সকে জানান, মারাঠি নববর্ষ গুড়ি পাড়োয়ার সময় কোঙ্কণ থেকে সাধারণত যেখানে ৫০ হাজার বাক্স আম আসে, সে বছর এসেছিল মাত্র প্রায় ৫০০ বাক্স। দেবগড় তালুকার চাষি নীলেশ পূজারি জানান, তার এক হাজার গাছের বাগানে ফুল ভালোই এসেছিল, কিন্তু পরে বোঝা যায় সেগুলোর বেশির ভাগই ছিল পুরুষ ফুল। তিনি স্বাভাবিক ফলনের মাত্র ২০ শতাংশ পাওয়ার আশা করছিলেন। গণপতিপুলের কাছের বাগানমালিক অবিনাশ দেশাই বলেন, স্বাভাবিক ফলনের ১০ শতাংশ পেলেও তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করবেন।

কৃষি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম ইন্ডিয়া ২০২৬ সালের ১২ মে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে জানায়, নভেম্বর পর্যন্ত বর্ষার মতো আবহাওয়া থাকায় বাগানগুলো ফুল আসার জন্য দরকারি শুষ্ক পর্যায়ে ঢুকতে পারেনি। এরপর ডিসেম্বরে হঠাৎ ঠান্ডা পড়ে, যা গাছের প্রজনন পর্যায়ের সঙ্গে মিলে যায়। কয়েকটি বাগানে প্রত্যাশিত ফুলের মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ থেকে কার্যকর ফল ধরে এবং পরে শারীরবৃত্তীয় চাপে আগাম ফল ঝরে পড়ে। প্রতিবেদনটিতে স্বাভিমানী শেতকরী সংগঠনের গণেশ গাভাকর গাছপ্রতি ৫ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ এবং মহারাষ্ট্রের ১৪টি আম উৎপাদনকারী জেলায় পূর্ণ ঋণ মওকুফের দাবি জানান।

মুকুল থেকে ফল: আলফানসো কেন আবহাওয়ার কাছে নাজুক


আমের মুকুল বা পুষ্পমঞ্জরি একটি শাখাযুক্ত প্রান্তীয় মঞ্জরি, যা প্রায় ০.৬ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং তাতে কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার ফুল থাকে। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের গবেষকদের ২০১৭ সালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়, একটি মুকুলে দুই ধরনের ফুল থাকে, পুরুষ ফুল ও উভলিঙ্গ ফুল, এবং প্রাথমিক ফল ধরা সরাসরি উভলিঙ্গ ফুলের অনুপাতের ওপর নির্ভর করে। গবেষণাপত্রটি জানায়, ঠান্ডা তাপমাত্রা আমের ফুল আসা নিয়ন্ত্রণ করে; ঠান্ডা না থাকলে পানির চাপেও ফুল আসতে পারে। আম সাধারণত ২৪ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভালো জন্মায়, যদিও ৪৮ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপ সহ্য করতে পারে।

দাপোলির ড. বালাসাহেব সাওয়ান্ত কোঙ্কণ কৃষি বিদ্যাপীঠের গবেষকদের ২০১৬ সালের এক গবেষণাপত্রে পুরোনো গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, পূর্ণবয়স্ক একটি আলফানসো গাছ ফলনের বছরে হাজার হাজার মুকুল দেয় এবং প্রতিটি মুকুলে প্রায় ১০০০ থেকে ৬০০০ ফুল থাকে। কিন্তু তার মাত্র ১১ থেকে ১৩ শতাংশ উভলিঙ্গ ফুল, আর সেগুলোর মাত্র ০.১৩ শতাংশ পরিপক্ব ফলে পরিণত হয়। তাই কোনো মৌসুমে উভলিঙ্গ ফুলের সংখ্যা কমে গেলে তার প্রভাব সরাসরি ফলনে পড়ে।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের ২০১৮ সালে ইন্ডিয়ান জার্নাল অব হর্টিকালচারে প্রকাশিত আরেক গবেষণাপত্রে আলফানসোকে স্বাদ ও গন্ধের জন্য বিখ্যাত, তবে কম ও এক বছর পরপর ফলন দেওয়া জাত হিসেবে বর্ণনা করা হয়। গবেষণাপত্রটি জানায়, স্বাভাবিক আবহাওয়ায় কোঙ্কণে অক্টোবরে বৃষ্টি থেমে যায় এবং নভেম্বরে আমের ফুল আসা শুরু হয়। কিন্তু ২০০৬ সাল থেকে প্রায়ই দেখা যাচ্ছিল, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে দেরিতে বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ, উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার মতো জলবায়ুগত অস্বাভাবিকতায় মুকুলের বদলে নতুন পাতার ডাল বের হয়।

ওই গবেষণা অনুযায়ী, এমন নতুন ডাল পরিণত হয়ে ফুল দিতে আরও ৮০ থেকে ১০০ দিন লাগে। ফলে ফুল আসা এবং ফল বড় হওয়া ও তোলা পিছিয়ে যায়। দেরিতে তোলা আম বাজারে কম দাম পায়, আর মে মাসের প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি এসব দেরিতে পাকা আমের চেহারা ও মান নষ্ট করে। গবেষকেরা লিখেছেন, বর্ষার পরে বের হওয়া অনেক নতুন ডালে আর ফুলই আসে না, তাই ফুল কম আসে এবং ফলন খুব খারাপ হয়।

১০১রিপোর্টার্সের প্রতিবেদনে চাষিদের সমবায় সংগঠন কোঙ্কণ হাপুস আম্বা উৎপাদক বিক্রেতা সংঘের চেয়ারম্যান ড. বিবেক ভিড়ে বলেন, “এটা একটা ধারায় পরিণত হয়েছে, একমাত্র স্থির বিষয় হলো অনিশ্চয়তা।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর পর্যন্ত সব ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রতিবেদনটি জানায়, প্রথম দফার ফুল, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘মোহর’ বলা হয়, থেকে ফল ধরতে ১৯ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দরকার হয়; সে বছর তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে যাওয়ায় ফুল ঝরে পড়ে এবং ভোরের শিশিরে ছত্রাকের আক্রমণও দেখা দেয়।

আমগাছের মুকুলে ফোটা ছোট ফুল। ছবি: Lalithamba / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
আমগাছের মুকুলে ফোটা ছোট ফুল। ছবি: Lalithamba / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

এল নিনো নিয়ে আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এল নিনো এমন একটি জলবায়ু প্রবণতা, যা বিশ্বের আবহাওয়া বদলে দেয় এবং চরম পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে বছর একটি শক্তিশালী এল নিনো প্রত্যাশিত ছিল এবং এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার ফসলে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছিল।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) ২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিল তার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানায়, জুন থেকে সেপ্টেম্বরের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টি দীর্ঘমেয়াদি গড়ের ৯২ শতাংশ হতে পারে, যা ‘স্বাভাবিকের নিচে’ শ্রেণিতে পড়ে; পূর্বাভাসের মডেল ত্রুটি ধরা হয় ৫ শতাংশ কমবেশি। ভারতীয় সাময়িকী দ্য উইক ১৫ এপ্রিল জানায়, আইএমডির মতে কয়েক বছর ভালো বৃষ্টিতে সহায়তা করা দুর্বল লা নিনার মতো অবস্থা তখন এনসো-নিরপেক্ষ অবস্থার দিকে যাচ্ছিল এবং বর্ষা মৌসুমের মধ্যেই এল নিনো অবস্থা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। মৌসুমি বৃষ্টি ঘাটতির পর্যায়ে নামার সম্ভাবনা ধরা হয় ৩৫ শতাংশ। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪ এপ্রিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয় মহারাষ্ট্রের আকোলায়।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসনের (নোয়া) ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার ২০২৬ সালের ১৪ মে ‘এল নিনো ওয়াচ’ বহাল রেখে জানায়, আগের মাসে প্রশান্ত মহাসাগরে এনসো-নিরপেক্ষ অবস্থা অব্যাহত ছিল। তবে মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে এল নিনো তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল ৮২ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ সালের উত্তর গোলার্ধের শীত পর্যন্ত তা থাকার সম্ভাবনা ৯৬ শতাংশ। সংস্থাটি জানায়, এল নিনোর সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে তখনো যথেষ্ট অনিশ্চয়তা ছিল, এবং শক্তিশালী এল নিনো মানেই শক্তিশালী প্রভাব নিশ্চিত নয়, তা কেবল কিছু প্রভাবের সম্ভাবনা বাড়ায়।

এ কারণে দেবগড়ের এপ্রিল-মে মাসের গরমকে এল নিনোর সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি রয়টার্সের প্রতিবেদনে কৃষি কর্মকর্তা লাম্বাডের ধারণা হিসেবেই এসেছে, যিনি নিজেই ‘সম্ভবত’ শব্দটি ব্যবহার করেন। নোয়ার মে মাসের হিসাবে তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এল নিনো শুরু হয়নি, তবে তা আসন্ন বলে ধরা হচ্ছিল।

আলফানসো: ‘আমের রাজা’র পরিচয়


আলফানসো জাতের নামকরণ করা হয় পর্তুগিজ সেনানায়ক আফোনসো দে আলবুকার্কের নামে, যিনি ১৫০৯ থেকে ১৫১৫ সাল পর্যন্ত পর্তুগিজ ভারতের ভাইসরয় ছিলেন। পর্তুগিজ গোয়ায় জেসুইট মিশনারিরা আমগাছে কলম করার কৌশল চালু করেন এবং এভাবেই জাতটির বিস্তার ঘটে। আলফানসো আমের ওজন সাধারণত ১৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম; পাকলে খোসা সোনালি হলুদ হয়, ওপরের দিকে লালচে আভা থাকে, আর ভেতরের শাঁস জাফরান রঙের, আঁশহীন, নরম ও রসালো। মার্চের শেষ থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত এই আম তোলা হয়। ফুল আসা থেকে ফল তোলা পর্যন্ত প্রায় ৯০ দিন লাগে, আর তোলার পর পাকতে আরও প্রায় ১৫ দিন।

মহারাষ্ট্রে আলফানসো স্থানীয়ভাবে ‘হাপুস’ নামে পরিচিত। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের অক্টোবরে জানায়, রত্নগিরি, সিন্ধুদুর্গ ও আশপাশের এলাকার আলফানসো আম ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষায়, জিআই পণ্যের মান ও স্বাতন্ত্র্যের নিশ্চয়তা দেয়, যা মূলত তার উৎপত্তিস্থলের সঙ্গে যুক্ত। মন্ত্রণালয় তখন জানায়, আলফানসো জাপান, কোরিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মতো নতুন বাজারও খুলেছে। সে সময় ভারতের ৩২৫টি পণ্য জিআই স্বীকৃতি পেয়েছিল; প্রথমটি ছিল ২০০৪ সালে দার্জিলিং চা।

১০১রিপোর্টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্ণাটকেও কাছাকাছি ধরনের একটি জাত চাষ হয়, আর অন্যদের ‘হাপুস’ নাম ব্যবহারের বিরুদ্ধে কোঙ্কণের চাষিরা আইনি ও প্রচারণার লড়াই চালিয়ে আসছেন। কোঙ্কণ হাপুস আম্বা উৎপাদক বিক্রেতা সংঘের মতো সংগঠন চাষিদের বাগান নিবন্ধন ও জিআই সনদ পেতে সহায়তা করে। অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম ইন্ডিয়ার মে মাসের বিশ্লেষণেও বলা হয়, ঘাটতির মধ্যেও অন্য জাতের আম ভৌগোলিক নামের আড়ালে বিক্রি হওয়ায় প্রকৃত উৎপাদকেরা ন্যায্য দাম পাচ্ছিলেন না।

আলফানসোর রপ্তানির পথও সব সময় মসৃণ ছিল না। ১৯৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় আম আমদানি নিষিদ্ধ করে, যা ২০০৭ সালের এপ্রিলে তুলে নেওয়া হয়; তবে ফলের মাছি ও ক্ষতিকর ছত্রাক ঠেকাতে আম পাঠানোর আগে শোধন বাধ্যতামূলক। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০১৪ সালের এপ্রিলে চালানে ইউরোপে না থাকা ফলের মাছি পাওয়ার কারণে নিষেধাজ্ঞা দেয়, যা ভারতের রপ্তানি প্রক্রিয়া উন্নত হওয়ার পর ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রত্যাহার করা হয়। রপ্তানিকারকদের সহায়তায় মহারাষ্ট্র রাজ্য কৃষি বিপণন বোর্ড নবি মুম্বাইয়ের ভাশি ও রত্নগিরিতে শোধন কেন্দ্র পরিচালনা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার হোমস্টেডে এক ফল উৎসবে প্রদর্শিত আলফানসো আম। ছবি: Asit K. Ghosh / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার হোমস্টেডে এক ফল উৎসবে প্রদর্শিত আলফানসো আম। ছবি: Asit K. Ghosh / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

কোঙ্কণ উপকূল ও দেবগড়: আলফানসোর ঘর


কোঙ্কণ হলো মহারাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের আম উৎপাদনকারী প্রধান অঞ্চল। ড. বালাসাহেব সাওয়ান্ত কোঙ্কণ কৃষি বিদ্যাপীঠের গবেষকদের ২০১৬ সালের গবেষণাপত্র অনুযায়ী, ভারতের মোট আমবাগানের এলাকার প্রায় ১০ শতাংশ কোঙ্কণে, আর তার প্রায় ৯০ শতাংশেই আলফানসো চাষ হয়। গবেষকদের মতে, এ অঞ্চলের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু, বছরে ৩০০০ থেকে ৪০০০ মিলিমিটার বৃষ্টি, পানি ভালোভাবে সরে যাওয়া ল্যাটেরাইট মাটি এবং নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত বৃষ্টিহীন মৌসুম আলফানসোর জন্য আদর্শ।

পরিবেশ বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মঙ্গাবে ইন্ডিয়া ২০২০ সালের জানুয়ারিতে জানায়, কোঙ্কণের পাঁচ জেলা রত্নগিরি, সিন্ধুদুর্গ, রায়গড়, থানে ও পালঘরে প্রায় দেড় লাখ হেক্টর জমিতে আলফানসো চাষ হয়, যার মধ্যে রত্নগিরি ও সিন্ধুদুর্গ প্রধান উৎপাদক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোঙ্কণের বাগানে সাধারণত হেক্টরে ১০০টি গাছ লাগানো হয় এবং এক মৌসুমে তা থেকে তিন টন আম পাওয়া যায়।

দেবগড় সিন্ধুদুর্গ জেলার একটি তালুকা বা উপজেলা, যা আরব সাগরের তীরে কোঙ্কণ উপকূলে অবস্থিত। এর অধীনে ৯৮টি গ্রাম। সিন্ধুদুর্গ মহারাষ্ট্রের সবচেয়ে দক্ষিণের জেলা; ১৯৮১ সালের ১ মে রত্নগিরি জেলা ভেঙে এটি গঠিত হয় এবং এর সদর দপ্তর ওরোসে। জেলার আয়তন প্রায় ৫২০৭ বর্গকিলোমিটার, আর ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৬৫১, যা তখন মহারাষ্ট্রের জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম। জেলার আটটি তালুকার মধ্যে রয়েছে দেবগড় ও মালবন।

সিন্ধুদুর্গের সমুদ্রতট প্রায় ১২১ কিলোমিটার, যা মাছ ধরাকে জেলার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত করে তুলেছে। জুন থেকে অক্টোবরের বর্ষায় এখানে গড়ে প্রায় ৩২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। প্রধান ফসলের মধ্যে আছে ধান, নারকেল, কোকম, আম ও কাজুবাদাম। দেবগড় দুর্গে ১৯১৫ সালে নির্মিত একটি বাতিঘর রয়েছে, আর তালুকার বিজয়দুর্গ দুর্গ ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কার্টন প্রস্তুতকারক সঞ্জয় নারের কথায়ও এই অঞ্চলের আম ও মাছনির্ভর অর্থনীতির চিত্র উঠে আসে।

মহারাষ্ট্রের সিন্ধুদুর্গ জেলার উপকূলে দেবগড় দুর্গ। ছবি: Mvkulkarni23 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
মহারাষ্ট্রের সিন্ধুদুর্গ জেলার উপকূলে দেবগড় দুর্গ। ছবি: Mvkulkarni23 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

ভারতের আম উৎপাদন ও বাজার


ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় আম উৎপাদনকারী দেশ। রয়টার্স গবেষণা ও রেটিং সংস্থা ক্রিসিলের তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, ২০২৪-২৫ সালে দেশটি ২ কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন করে। ভারতের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় অগ্রিম প্রাক্কলনের হিসাব কিছুটা আলাদা: ২০২৫ সালের জুলাইয়ে লোকসভায় দেওয়া এক লিখিত উত্তরে মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৪-২৫ সালে আমের উৎপাদন ২২৮.৩৭ লাখ মেট্রিক টন হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা ২০২৩-২৪ সালে ছিল ২২৩.৯৮ লাখ টন। মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায়, দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে প্রক্রিয়াজাতযোগ্য জাতের ফলন বাড়াই এই বৃদ্ধির মূল কারণ। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট আম উৎপাদনের ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ ভারতে হয়।

ভারতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান মর্ডর ইন্টেলিজেন্সের হিসাব উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, আগের বছর ভারতের মোট আম ফসলের মূল্য ছিল ২.৩ বিলিয়ন ডলার এবং প্রতিষ্ঠানটি ২০৩১ সালের মধ্যে এই বাজার ৩.৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করে। গ্রীষ্মের তীব্র গরমে আমের চাহিদা বেশি থাকায় উৎপাদিত আমের বেশির ভাগ দেশেই বিক্রি হয়; তবে ২০২৫ সালে প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের আম এবং ৮ কোটি ডলারের আমের পাল্প রপ্তানি হয়।

রয়টার্স জানায়, বিশ্ববাজারে ভারত মেক্সিকো, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে, আর ভারতের তাজা আমের সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কুয়েত ও কাতার। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জানায়, ২০২৪ সালে দেশটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১২ হাজার মেট্রিক টনের বেশি আম রপ্তানি করে, যার মূল্য ২ কোটি ডলার। ১০১রিপোর্টার্সের হিসাবে ভারত বছরে গড়ে ২৫ থেকে ২৭ হাজার টন আম রপ্তানি করে।

ভারতে আম ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আওতাভুক্ত ২২টি ফসলের মধ্যে নেই। কৃষি মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালে লোকসভায় জানায়, দাম পড়ে গেলে পচনশীল ফসলের চাষিদের সুরক্ষায় পিএম-আশা প্রকল্পের অধীনে বাজার হস্তক্ষেপ প্রকল্প চালু আছে, আর সমন্বিত উদ্যান উন্নয়ন মিশনের (এমআইডিএইচ) মাধ্যমে নার্সারি, উৎপাদন, সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা ও বিপণনে সহায়তা দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয় তখন আলাদা আম উন্নয়ন বোর্ড গঠনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানায়।

যুদ্ধের ধাক্কায় রপ্তানি ও দাম


রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবহাওয়ার ক্ষতির সঙ্গে একই সময়ে ইরান যুদ্ধের কারণে রপ্তানিতেও ধস নামে। আম রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান শ্রীভালি অ্যাগ্রোর সহ-প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর পাঠক রয়টার্সকে জানান, পরিবহন ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে এবং দুবাই ও ওমানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে চালান বিলম্বিত বা বাতিল হওয়ায় সে বছর তার রপ্তানি প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়। তিনি বলেন, রপ্তানির জন্য রাখা আম স্থানীয় বাজারে পাঠাতে হওয়ায় এল নিনো-সংশ্লিষ্ট ঘাটতির মধ্যেও দাম কমে যায়।

রপ্তানির এই সংকটের আভাস মৌসুমের শুরুতেই পাওয়া যায়। ন্যাশনাল হেরাল্ড ২০২৬ সালের ২০ মার্চ জানায়, কোঙ্কণ বিকাশ প্রতিষ্ঠানের সচিব রাজেন্দ্র তাওড়ের মতে সংঘাতের কারণে সে মৌসুমে আলফানসো রপ্তানির সম্ভাবনা কম ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় গন্তব্যের চালান নিয়ে নবি মুম্বাইয়ের জওহরলাল নেহরু বন্দরে এক হাজারের বেশি কনটেইনার আটকে ছিল, আর গুড়ি পাড়োয়ার সময় ভাশির কৃষি বাজারে হাজার হাজার বাক্স আলফানসো কম দামে বিক্রি হয় বলে খবর পাওয়া যায়।

১০১রিপোর্টার্সের এপ্রিলের প্রতিবেদনে কে বি এক্সপোর্টসের প্রধান নির্বাহী কৌশল খাকার বলেন, রপ্তানি স্বাভাবিকের প্রায় অর্ধেক হবে। তার ভাষ্য, কোঙ্কণের ফসল খুবই খারাপ, যদিও আহিল্যানগর জেলায় তাদের বাগানে ফলন ভালো; ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিমানভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্রপথের যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ। একই প্রতিবেদনে চাষি মন্দার খেড়কার জানান, তখন পুনের বাজারে এক বাক্স আলফানসোর দাম ছিল ৬ থেকে ৮ হাজার রুপি, কিন্তু পুনের পাইকারি বাজারে বড় ট্রাক পাঠাতে অন্তত ৪ থেকে ৫ টন আম লাগে, যা তার ছিল না। বাগান রক্ষণাবেক্ষণে তার বছরে প্রায় ৪ লাখ রুপি খরচ হয়, আর খরচ ওঠাতে দরকার প্রায় ১০০০ বাক্স।

নবি মুম্বাইয়ের তুর্ভেতে এপিএমসি বাজারের ফল বাজার। ছবি: Sntshkumar750 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
নবি মুম্বাইয়ের তুর্ভেতে এপিএমসি বাজারের ফল বাজার। ছবি: Sntshkumar750 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

স্পঞ্জি টিস্যু ও আগের মৌসুমগুলোর অভিজ্ঞতা


আবহাওয়ার চাপে আলফানসোর আরেকটি পরিচিত সমস্যা হলো ‘স্পঞ্জি টিস্যু’, যা আউটলুকের মার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালের তাপপ্রবাহে কোঙ্কণের আমে দেখা দিয়েছিল এবং আম বিক্রির অযোগ্য করে তুলেছিল। বেঙ্গালুরুর আইসিএআর-ভারতীয় উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইআইএইচআর) গবেষণায় দেখা যায়, ফল প্রায় ৬০ শতাংশ পরিপক্ব হওয়ার পর্যায়ে আঁটি অঙ্কুরোদ্গমের অবস্থায় চলে গেলে পাশের শাঁস থেকে পানি ও অন্যান্য উপাদান টেনে নেয়, আর তা থেকেই এই সমস্যা তৈরি হয়।

আইআইএইচআর এই সমস্যা ঠেকাতে ‘আরকা সাকানিবারক’ নামের একটি পরিবেশবান্ধব মিশ্রণ তৈরি করে, যা ২০১১ সালের মৌসুমে রত্নগিরি ও সিন্ধুদুর্গের ২০টি চাষির বাগানে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা করা হয় এবং আলফানসো ও মল্লিকা জাতে ৯৫ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে স্পঞ্জি টিস্যু ঠেকাতে সফল হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ফুল আসা ও ফল ধরা অনেক বেশি বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ায় একই ডালে, এমনকি একই মুকুলে ভিন্ন ভিন্ন পরিপক্বতার ফল থাকে, ফলে প্রয়োগের সঠিক সময় ঠিক করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োগের মাত্রা ও পদ্ধতি জানতে চাষিদের স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আবহাওয়ার কারণে আলফানসোর ফলন বিপর্যয় আগেও ঘটেছে। মঙ্গাবে ইন্ডিয়া ২০২০ সালের জানুয়ারিতে জানায়, সে বছর বর্ষা স্বাভাবিক অক্টোবরের বদলে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত চলে, নভেম্বরের শুরুতে কিয়ার ও মহা নামের দুটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে, এবং পুনেতে আইএমডির কর্মকর্তা এ কে শ্রীবাস্তবের ভাষ্য অনুযায়ী বছরে সাধারণত ৩৫০০ মিলিমিটারের জায়গায় ৫০০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। কুঁড়ি ফোটার জন্য দিন ও রাতের তাপমাত্রায় ১৫ ডিগ্রি পার্থক্য দরকার হলেও তখন সর্বোচ্চ ছিল ৩০ ডিগ্রি আর সর্বনিম্ন ১৮ থেকে ১৯ ডিগ্রি।

সে সময় ড. বালাসাহেব সাওয়ান্ত কোঙ্কণ কৃষি বিদ্যাপীঠের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রধান ভরত সালভি মঙ্গাবেকে বলেছিলেন, সে বছর আমের উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম হবে, আর ফল তোলা মার্চের মাঝামাঝির বদলে এপ্রিলের শেষে পিছিয়ে যাবে। পাভাসের বাগানমালিক আনন্দ দেশাই তখনই বলেছিলেন, আবহাওয়ার বড় পরিবর্তনের কারণে তিনি গত তিন বছর ধরে উৎপাদনে পরিবর্তন দেখছেন। ছয় বছর পর ২০২৬ সালের মৌসুমে তিনিই ১০১রিপোর্টার্সকে প্রায় ৮০ শতাংশ ফসল নষ্টের কথা জানান।

ছবি: Rudolph.A.furtado / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC০)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (রয়টার্সের বরাতে), রয়টার্স, আউটলুক ইন্ডিয়া, ১০১রিপোর্টার্স, অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল হেরাল্ড, দ্য উইক, নোয়া ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার, ড. বালাসাহেব সাওয়ান্ত কোঙ্কণ কৃষি বিদ্যাপীঠের গবেষণাপত্র (ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ট্রপিক্যাল অ্যাগ্রিকালচার, ইন্ডিয়ান জার্নাল অব হর্টিকালচার), বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্র (ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব বায়ো-রিসোর্স অ্যান্ড স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট), আইসিএআর-আইআইএইচআর, মঙ্গাবে ইন্ডিয়া, ফ্রেশপ্লাজা, কৃষি জাগরণ, দ্য উইক (পিটিআই), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)