ইউরোপে জিন সম্পাদিত ফসল গ্রহণযোগ্যতা পেলে সময়ের সঙ্গে জিনগতভাবে পরিবর্তিত (জিএম) ফসলের বিরুদ্ধে কয়েক দশকের প্রতিরোধও কমতে পারে বলে মন্তব্য করেছে জার্মান কৃষি রসায়ন ও বীজ কোম্পানি বায়ার (Bayer)। খবরটি দিয়েছে এজিনেভিগেটর। বায়ারের অর্থায়নে করা কৃষির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিয়ে এক প্রতিবেদনের ওয়েবিনারে কোম্পানির জনবিষয়ক প্রধান মাথিয়াস বেরনিঙ্গার (Matthias Berninger) বলেন, নতুন প্রজনন প্রযুক্তির সুফল দেখাতে পারলে জৈবপ্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা নরম হবে।
নতুন জিনোমিক কৌশল (এনজিটি) নিয়ে ইইউর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমঝোতাকে তিনি জৈবপ্রযুক্তি নিয়ে ৩০ বছরের দ্বন্দ্বের পর ‘ওয়েস্টফালিয়ার শান্তিচুক্তি’র সঙ্গে তুলনা করেন। ইইউ নীতির একটি স্ববিরোধও তুলে ধরেন তিনি: ইউরোপে জিএম ফসলের চাষ কার্যত নিষিদ্ধ, অথচ পশুখাদ্য হিসেবে জিএম ফসল আমদানি সেখানে সাধারণ ব্যাপার।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, ভোক্তা জরিপ এবং ইউরোপের আটটি বাজারের কৃষকদের সাক্ষাৎকার নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি বলছে, ২০১১ থেকে ২০২৩ সালে ইইউতে ফসল উৎপাদন বছরে মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে, যুক্তরাজ্যে একেবারেই বাড়েনি; একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে ১ শতাংশ, ব্রাজিলে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ইইউর জিডিপিতে ফসল খাতের অবদান ২৪৬ বিলিয়ন ইউরো, যুক্তরাজ্যে ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ইউরো। প্রতিবেদনে জিন সম্পাদনা, বীজের বৈশিষ্ট্য, বালাইনাশক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও যথার্থ কৃষির দ্রুত ও অনুমানযোগ্য অনুমোদনের দাবি জানানো হয়েছে।
বায়ারের কর্মকর্তারা বারবার ফসল সুরক্ষার প্রসঙ্গে ফিরে আসেন। কোম্পানির ক্রপ সায়েন্স বিভাগের কৌশল ও টেকসইতা প্রধান ফ্রাঙ্ক টেরহর্স্ট (Frank Terhorst) বলেন, গত সাত বছরেই ৯২টি পণ্য বা সক্রিয় উপাদান বাজার থেকে উঠে গেছে, অথচ নতুন সিনথেটিক বালাইনাশক নিবন্ধিত হয়েছে মাত্র একটি; সরিষাজাতীয় তেলবীজ ও উদ্যানফসলের চাষিদের সুরক্ষায় এখন বড় ফাঁক। বেরনিঙ্গার বলেন, পুরোনো পণ্যের পুনঃঅনুমোদনে ব্যবস্থাটি আটকে আছে; জৈব ও রাসায়নিক নতুন পণ্যের জন্য একটি ‘দ্রুত পথ’ দরকার। উদাহরণ হিসেবে তিনি ছত্রাকনাশক ইবলনের কথা বলেন, যা যুক্তরাজ্যে অনুমোদন পেলেও ইইউতে আটকে আছে।
এ মতামত এমন একটি কোম্পানির, যারা বীজ ও বালাইনাশক বিক্রি করে; প্রতিবেদনটিও বায়ারের অর্থায়নে করা।
ছবি: Florian Siebeck / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এজিনেভিগেটর




মন্তব্য
(০)