সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ঈশ্বরদীতে লিচুর রেকর্ড ফলন, ভারে ভেঙে পড়ছিল গাছের ডাল

২০২৬ সালের মে মাসে পাবনার ঈশ্বরদীতে লিচুর এমন ফলন হয় যে চাষিদের দাবি, আগে যে গাছে তিন হাজার লিচু ধরত, সেখানে ধরেছিল ১০ হাজারের বেশি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফলন আগের বছরের তিনগুণ হওয়ার এবং ৭০০ কোটি টাকার বেশি বেচাকেনার আশা করেছিলেন, তবে বেশি ফলনে দাম ছিল কিছুটা কম।

ঈশ্বরদীতে লিচুর রেকর্ড ফলন, ভারে ভেঙে পড়ছিল গাছের ডাল
ফল

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় ২০২৬ সালের মৌসুমে লিচুর এমন ফলন হয়েছিল, যা চাষি ও বাগানমালিকদের দাবি অনুযায়ী আগে কখনো দেখা যায়নি। ২৫ মে ২০২৬ তারিখে জাগো নিউজ ২৪-এ প্রকাশিত শেখ মহসীনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে গাছে আগে কখনো তিন হাজারের বেশি লিচু ধরেনি, সে গাছে সেবার ১০ হাজার লিচু ছাড়িয়ে গিয়েছিল, আর লিচুর ওজন সইতে না পেরে ভেঙে পড়ছিল ডাল। উপজেলায় ৭০০ কোটি টাকার লিচু বেচাকেনা হবে বলে আশা করছিলেন চাষি, বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীরা। তবে ফলন বেশি হওয়ায় লিচুর দাম ছিল কিছুটা কম।

প্রতিবেদনের বর্ণনায়, লিচুর রঙে তখন রঙিন হয়ে উঠেছিল ঈশ্বরদী। উপজেলার প্রতিটি গ্রামের পাকা সড়ক আর মেঠোপথের দুই ধারে মাইলের পর মাইলজুড়ে চোখে পড়ছিল শুধু লিচু আর লিচু। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জাগো নিউজকে জানান, আগের বছর লিচু কম হয়েছিল, আর সেবারের ফলন হবে আগের বছরের তুলনায় তিনগুণ।

বাগানে বাগানে কর্মব্যস্ততা


ঈশ্বরদী ‘লিচুর রাজধানী’ হিসেবে খ্যাত, আর এখানকার রসালো লিচুর কদর রয়েছে দেশজুড়ে। উপজেলা কৃষি বিভাগের জরিপের বরাত দিয়ে জাগো নিউজ জানায়, উপজেলায় তিন হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর বাণিজ্যিক বাগান রয়েছে, গাছের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখের বেশি। এর বাইরে পুরো উপজেলাজুড়ে বসতবাড়ির আশপাশেও রয়েছে প্রচুর লিচুগাছ। লিচু চাষ লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই বাগানের সংখ্যা বাড়ছিল।

সরেজমিনে ঈশ্বরদীর লিচুবাগানগুলোতে দেখা যায় বিপুল কর্মচাঞ্চল্য। সবচেয়ে বেশি বাগান উপজেলার জয়নগর, মানিকনগর, মিরকামারী, আওতাপাড়া, বড়ইচরা, জগন্নাথপুর, মহাদেবপুর ও বাঁশেরবাদা এলাকায়। এখানে মোজাফ্ফর জাতের দেশি লিচু, বোম্বাই, চায়না-৩ ও কদমি জাতের লিচুর চাষ বেশি হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় দেশি লিচুর পাশাপাশি বোম্বাই জাতের লিচু সংগ্রহও শুরু হয়ে গিয়েছিল। জাগো নিউজের একটি ছবিতে দেখা যায়, লিচুর ভার ঠেকাতে গাছের ডালে বাঁশের ঠেকনা দিয়ে রাখা হয়েছে।

চাষি ও ব্যবসায়ীরা যা বলেছিলেন


উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল কিতাব মন্ডল লিচু চাষে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন কৃষক। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘লিচু চাষিদের এবার স্বপ্ন পূরণ হতে চলছে। তারা বেশ কয়েক বছর ধরে আশানুরূপ ফলন পাননি। বিশেষ করে গত বছর লিচু চাষিদের ফলন বিপর্যয় হয়েছিল। এবার ব্যাপক ফলনের কারণে উপজেলাজুড়ে মচ্ছব শুরু হয়েছে। উৎপাদন অতীতের যে কোনো সময়কে ছাড়িয়ে গেছে। চাষিরা যদি লিচু সঠিকভাবে সংগ্রহ ও বাজারজাত করতে পারেন, তাহলে তারা লাভবান হবেন।’

জয়নগর গ্রামের লিচুচাষি কামরুজ্জামান স্বপন বলেন, ‘আমাদের এলাকার প্রধান অর্থকরী ফসল লিচু। উপজেলার সাহাপুর ও সলিমপুর ইউনিয়নের ৮০ শতাংশ জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। ফলনও অনেক ভালো হয়েছে। যদি সঠিকভাবে লিচু বাজারজাত করা সম্ভব হয়, তাহলে চাষিরা ব্যাপক লাভবান হবেন।’

মানিকনগর গ্রামের লিচুচাষি মোস্তফা জামান নয়ন জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশের লিচুর চাহিদা বেশিরভাগ পূরণ হয় ঈশ্বরদীর লিচুতে। গত বছর উৎপাদন খুব কম ছিল। এবার ব্যাপক ফলন হয়েছে।’ একই গ্রামের পূর্ব স্কুলপাড়া এলাকার লিচুচাষি জহুরুল ইসলামও জানান, সেবার লিচুর ব্যাপক ফলন হয়েছে। তার কথায়, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে চাষিরা লাভবান হবেন।

উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে কথা হয় যশোরের লিচু ব্যবসায়ী হাসেম আলীর সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর ধরে ঈশ্বরদীতে লিচুর ব্যবসা করছি। লিচুর মৌসুম এলেই এখানে চলে আসি। এবার যে পরিমাণ লিচুর ফলন হয়েছে, আগে কখনো এমন ফলন দেখিনি। এবার ফলন বেশি হওয়ায় লিচুর দাম কিছুটা কম।’

গাছে ঝুলছে পাকা লিচুর থোকা, গাজীপুর, মে ২০১১। ছবি: Mazhar Zarif / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
গাছে ঝুলছে পাকা লিচুর থোকা, গাজীপুর, মে ২০১১। ছবি: Mazhar Zarif / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কৃষি বিভাগের হিসাব ও বাজারের চিত্র


ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জাগো নিউজকে জানান, উপজেলার তিন হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে এবং সেবার বাম্পার ফলন হয়েছে। আগের বছর লিচু কম হয়েছিল; সেবারের ফলন হবে তার তিনগুণ। ব্যাপক ফলনের কারণে উপজেলায় ৭০০ কোটি টাকার ওপরে লিচু বেচাকেনা হবে বলে আশা করা হচ্ছিল।

মৌসুমের শুরুতে, ২০২৬ সালের ২ মার্চ জাগো নিউজে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের বরাতে জানানো হয়, উপজেলায় লিচুর বাগান রয়েছে ১১ হাজার ২৭০টি। আগের বছর এ এলাকায় উৎপাদিত লিচুর বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। সেবার গাছে পর্যাপ্ত মুকুল আসায় বাজারমূল্য আগের যে কোনো সময়ের রেকর্ড ছাড়াতে পারে বলে আশা করছিলেন চাষিরা।

জেলা পর্যায়ের হিসাব নিয়ে মে মাসে দুটি আলাদা প্রতিবেদনে দুই রকম সংখ্যা আসে। ১৩ মে ডেল্টা টাইমসের প্রতিবেদনে পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একজন অতিরিক্ত উপপরিচালক জানান, জেলায় সেবার চার হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ হাজার মেট্রিক টন, আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৮০০ কোটি টাকা বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। ২০ মে সময়ের আলোর প্রতিবেদনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য হিসেবে বলা হয়, চলতি মৌসুমে জেলায় চার হাজার ৬২৪ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে, ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ৪০ হাজার মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। ওই প্রতিবেদনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) বলেন, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে লিচু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে এবং আগের বছরের ক্ষতি এবার কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

জাগো নিউজের প্রতিবেদনের দিন ভোরে প্রকাশিত আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে বাজারের আরেকটি দিক উঠে আসে। ২৪ মে রোববার সলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর লিচুহাটে প্রচুর লিচু উঠলেও ক্রেতা ছিল কম। সেদিন হাটে প্রতি হাজার মোজাফ্ফর জাতের লিচু বিক্রি হয় দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকায়, আর বোম্বাই লিচু তিন হাজার টাকায়। ঢাকা, সাভার, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, নরসিংদী ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলার পাইকাররা হাট এলাকায় বাড়ি ভাড়া করে বা উপজেলা সদরের হোটেলে থেকে লিচু কিনছিলেন। তবে ঈদুল আজহার আগে চাহিদা কমে যাওয়ায় কয়েক দিন ধরে জয়নগর ও আওতাপাড়া হাটে বেচাকেনা কমে গিয়েছিল। চাষিদের কেউ কেউ ঈদের খরচ জোগাতে বাগান থেকে লিচু ভেঙে হাটে আনছিলেন।

মুকুল থেকে পাকা লিচু: ২০২৬ মৌসুমের পথচলা


২ মার্চের জাগো নিউজের প্রতিবেদনে দেখা যায়, জয়নগর, মিরকামারী, মানিকনগর, সাহাপুর, জগন্নাথপুর, ভাড়ইমারী ও আওতাপাড়া এলাকায় শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ গাছে মুকুল এসেছিল। চাষিরা জানান, মাঘের শেষ সপ্তাহ থেকে ফাল্গুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত সাধারণত লিচুর মুকুল আসে। উপজেলায় মূলত মোজাফ্ফর বা দেশি এবং বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের চাষ বেশি; অল্প পরিসরে কদমি, কাঁঠালি, বেদানা, চায়না-১ ও চায়না-২ জাতেরও চাষ হয়। মুকুল রক্ষায় চাষিরা তখন গাছে পানি দেওয়া ও বালাইনাশক স্প্রেসহ বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত ছিলেন। মিরকামারী গ্রামের এক চাষি জানান, আগের বছর ফলন কম হওয়ায় অনেকে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং লিচুবাগান কেটে ফেলার কথাও শোনা যাচ্ছিল।

লিচুগাছে মুকুল, কুড়িগ্রাম, ২০২৪। ছবি: Tanvir Rahat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
লিচুগাছে মুকুল, কুড়িগ্রাম, ২০২৪। ছবি: Tanvir Rahat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

এপ্রিলের শেষে দুশ্চিন্তা দেখা দেয়। ২৬ এপ্রিল মানবকণ্ঠের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের ১৫ দিনের প্রচণ্ড তাপদাহে লিচুর গুটি ঝরতে শুরু করেছিল; দেশি হিসেবে পরিচিত মোজাফ্ফরপুরী জাতের গুটি ঝরছিল বেশি, বোম্বাই লিচুর গুটিও ঝরা শুরু হয়েছিল। বক্তারপুর গ্রামের এক চাষি তখন ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কথা জানান। মানিকনগরের লিচুচাষি জহুরুল ইসলাম বলেন, গাছের শতকরা ১০ থেকে ২০ ভাগ গুটি ঝরে যাওয়া স্বাভাবিক, এর বেশি ঝরলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চাষি আব্দুল জলিল কিতাব মন্ডল জানান, গুটি ঝরলেও অস্বাভাবিক হারে ঝরছে না এবং ঝরা রোধে বাগানে সেচ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, লিচু বাগানে নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোন বালাইনাশক বা কী মাত্রায়, তা প্রতিবেদনে ছিল না; এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নেওয়াই নিয়ম।

মে মাসের শুরুতে বাজারে আগেভাগে কাঁচা লিচু ওঠার অভিযোগ আসে। ১১ মে সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়, জয়নগর শিমুলতলা লিচুহাট, ঈশ্বরদী পৌর বাজার ও আওতাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অপরিপক্ব ও টক লিচু বিক্রি হচ্ছিল। সাধারণত জ্যৈষ্ঠের শুরুতে এ অঞ্চলের লিচু পরিপক্ব হয়, কিন্তু সেবার বৈশাখের শেষ ভাগেই বাজারে ওঠে দেশি, বোম্বাই, চায়না-৩ ও বেদানা জাতের লিচু। কৃষকেরা জানান, তীব্র গরমে গাছ থেকে লিচু ঝরে পড়ায় লোকসান এড়াতে তারা আগেই লিচু বাজারে আনছিলেন। খুচরা বাজারে তখন ১০০টি লিচুর এক আঁটি বিক্রি হচ্ছিল ২৯০ থেকে ৩৬০ টাকায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন সমকালকে বলেন, প্রকৃত স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করতে কৃষকদের আরও অন্তত আট থেকে ১০ দিন অপেক্ষা করা উচিত।

১৩ মে ডেল্টা টাইমস জানায়, আর এক সপ্তাহের মধ্যে পাবনার দেশি লিচু বাজারে উঠবে এবং মে মাসের শেষ দিকে আসবে চায়না-৩ ও বোম্বাই জাতের লিচু। ২০ মে সময়ের আলো জানায়, আগাম জাতের দেশি লিচু তখন আওতাপাড়া ও জয়নগর-শিমুলতলা হাটে উঠতে শুরু করেছে এবং দেশের নানা প্রান্ত থেকে ব্যাপারীরা আসছেন। চাষিদের বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশি আটি ও মোজাফ্ফর জাতের পর আসে বোম্বাই, তারপর চায়না-৩ ও চায়না-৪; মে মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হওয়া এই মৌসুমে দুই থেকে তিন মাস লিচু পাওয়া যায়।

আগের মৌসুমগুলোর ওঠানামা


ঈশ্বরদীর লিচুর ফলন বছর বছর ওঠানামা করে, আর আবহাওয়াই তার বড় কারণ। ২০২৩ সালের ৯ এপ্রিল দ্য ডেইলি স্টার বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, সে বছর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি বৃষ্টিতে বেশিরভাগ মুকুল ঝরে যায়। তখনকার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেছিলেন, লিচুর ফলন এক বছর ভালো হলে পরের বছর অনেক কম হয়; আগের বছর, অর্থাৎ ২০২২ সালে, ঈশ্বরদীতে দেশের সবচেয়ে বেশি লিচুর ফলন হয়েছিল এবং ৮০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছিল। তিনি আরও বলেছিলেন, বৃষ্টিতে লিচুর পরাগায়নে ক্ষতি হয়, কারণ বৃষ্টিতে মৌমাছিরা বের হয় না।

২০২৩ সালের ২৯ মে একই পত্রিকা জানায়, ফলন কম হলেও ভালো দাম পেয়ে খুশি ছিলেন চাষিরা। ঢাকার এক পাইকার জানান, সে বছর বাগান থেকে প্রতি হাজার লিচু কিনতে হয়েছে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকায়, আগের বছর যা ছিল এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা। সলিমপুর পাইকারি হাট থেকে আগের মৌসুমে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ ট্রাক লিচু যেত, সে বছর তা নেমে আসে আট থেকে ১০ ট্রাকে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তখন তিন হাজার ১০০ হেক্টর থেকে প্রায় ৩৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন লিচু পাওয়ার এবং ৫০০ থেকে ৫৫০ কোটি টাকার ব্যবসার আশা করেছিলেন; তার হিসাবে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ গাছে ফল এসেছিল।

২০২৪ সালের ১ এপ্রিল দ্য ডেইলি স্টার বাংলা জানায়, পাবনা জেলায় সে বছর চার হাজার ৭২১ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়, যার মধ্যে শুধু ঈশ্বরদীতে তিন হাজার ১৫০ হেক্টর; জেলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮ হাজার ৮০১ টন। কিন্তু ১৬ এপ্রিলের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চৈত্রের মাঝামাঝি দুই দফা বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মুকুল পচে ঝরে যায়, তারপর প্রচণ্ড তাপদাহে গুটি ঝরতে থাকে। তখন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক চাষিদের দাবির সঙ্গে দ্বিমত করে বলেছিলেন, ‘যে পরিমাণ মুকুল এসেছে তার অর্ধেক ফলন হলেও লিচুর ভারে ডাল ভেঙে পড়ার কথা।’

২০২৫ সালের চিত্র ছিল আরও কঠিন। সে বছরের ১২ মার্চ দ্য ডেইলি স্টার বাংলা জানায়, ফাল্গুনে ঈশ্বরদীর প্রতিটি বাগানে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ গাছে মুকুলের বদলে নতুন পাতা গজিয়েছিল। এক জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চাষি জানান, তার ৬০০-র বেশি গাছের মধ্যে প্রতি বছর চার থেকে পাঁচ শ গাছে মুকুল আসে, কিন্তু সে বছর এসেছিল ১০০ থেকে ১৫০ গাছে। তখনকার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেছিলেন, সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনেই এমনটি হয়েছে। মুকুল কম থাকায় গাছের দাম বেড়ে যায়; সাহাপুরের এক ব্যবসায়ী জানান, ২০০টি গাছ কিনতে তার খরচ হয়েছিল প্রায় পাঁচ লাখ টাকা, যেখানে আগের বছর ১০০টি গাছ কিনেছিলেন প্রায় দেড় লাখ টাকায়। ২০২৬ সালের প্রতিবেদনগুলোতে চাষিরা যে ‘গত বছরের ফলন বিপর্যয়ের’ কথা বলছিলেন, তা এই মৌসুমেরই।

ঈশ্বরদীর লিচুর ব্যবসার ধরনও আলাদা। ২০২৫ সালের ওই প্রতিবেদনে ব্যবসায়ীরা জানান, একটি লিচুগাছ এক মৌসুমে অন্তত তিন থেকে চারবার বিক্রি হয়: প্রথমে মুকুল দেখে, পরে গুটি এলে, আবার লিচু পাকার পর। দফায় দফায় হাতবদলের কারণে বাজারে লিচুর দামও বাড়ে। তাই মুকুল ও গুটির সময়ের আবহাওয়া চাষির পাশাপাশি মৌসুমি ব্যবসায়ীর লাভ-লোকসানও ঠিক করে দেয়।

ঈশ্বরদী: পদ্মাপারের উপজেলা


বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার আয়তন ২৫০.৮৯ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে লালপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলা, দক্ষিণে গঙ্গা (পদ্মা) নদী এবং কুষ্টিয়া সদর ও মিরপুর উপজেলা, পূর্বে পাবনা সদর ও আটঘরিয়া, পশ্চিমে গঙ্গা নদী ও ভেড়ামারা উপজেলা। ঈশ্বরদী থানা গঠিত হয় ১৯৪৯ সালে, উপজেলা হয় ১৯৮৩ সালে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা তিন লাখ ১৩ হাজার ৯৩২। একটি পৌরসভা ছাড়াও এখানে সাতটি ইউনিয়ন রয়েছে: দাশুড়িয়া, পাকশী, মুলাডুলি, লক্ষ্মীকুণ্ডা, সাঁড়া, সাহাপুর ও সলিমপুর।

পদ্মার ওপর ১৯১২ সালে তৈরি হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এই উপজেলাতেই; বাংলাপিডিয়ার হিসাবে পাঁচ হাজার ৯৪০ ফুট দীর্ঘ এই রেলসেতু ছিল আজকের বাংলাদেশ এলাকার তখনকার বৃহত্তম। উপজেলায় লালন শাহ সেতু, ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, দেশের একমাত্র ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্র এবং ডাল গবেষণা কেন্দ্রও রয়েছে। এখানকার প্রধান ফসল ধান, গম, আখ, পান, আলু ও পেঁয়াজ। বাংলাপিডিয়ায় উপজেলার হাটবাজারের সংখ্যা ৩০; উল্লেখযোগ্যগুলোর মধ্যে আওতাপাড়া হাটও আছে, যা এখন লিচুর বড় হাট হিসেবে পরিচিত।

পদ্মা নদীর ওপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, যা ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীতে অবস্থিত। ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
পদ্মা নদীর ওপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, যা ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীতে অবস্থিত। ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

২০২৩ সালের মে মাসে দ্য ডেইলি স্টার বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈশ্বরদীতে বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ শুরু হয় গত শতকের আশির দশকে। তখন শৌখিন কিছু মানুষ বাড়ির আঙিনায় লিচুগাছ লাগাতে শুরু করেন; অন্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভ হওয়ায় ধীরে ধীরে বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধার ও মাঠজুড়ে বাগান ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলার সলিমপুর, দাশুড়িয়া, সাহাপুর, পাকশী ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে লিচুর আবাদ হয়, আর সলিমপুর ও সাহাপুরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই লিচুগাছ বা বাগান আছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে একই পত্রিকা লিখেছিল, দিনাজপুরকে লিচুর ‘পুরোনো রাজধানী’ ধরলে ‘নতুন রাজধানী’র তকমা পাচ্ছে পাবনা। তুলনার জন্য, ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৪ সালে দিনাজপুরে লিচুর আবাদ ছিল প্রায় পাঁচ হাজার ৬৯০ হেক্টরে।

লিচু ফলটি সম্পর্কে যা জানা দরকার


বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, লিচু (Litchi chinensis) সাপিনডেসি গোত্রের একটি ফল। এর আদি নিবাস চীন; সপ্তদশ শতকের শেষ দিকে এটি বার্মা ও ভারতে আসে। বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই লিচু জন্মাতে পারে, আর দেশের বৃক্ষজাতীয় ফলের মধ্যে উৎপাদনে আমের পরেই লিচুর স্থান। উইকিপিডিয়ার তথ্যে, দক্ষিণ চীনে লিচুর চাষের ইতিহাস বহু পুরোনো; বিশ্বে লিচুর প্রায় ২০০টি জাত আছে, আর চারা তৈরির সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হলো গুটি কলম।

লিচুগাছ মাঝারি থেকে বড়, অনেক ডালপালাওয়ালা, গোলাকার মাথার চিরসবুজ গাছ, উচ্চতা ১২ থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত হয়। পাতা যৌগিক, প্রতিটিতে চার থেকে সাতটি পত্রক। ছোট, হালকা সাদাটে ফুল যৌগিক মঞ্জরিতে ফোটে। ফল থোকায় ধরে, প্রতিটিতে একটি বীজ। খোসার নিচে যে রসালো শাঁস খাওয়া হয়, তা ফলের ওজনের ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ; এতে মূলত শর্করা, সঙ্গে আমিষ, চর্বি, ভিটামিন বি ও সি, ক্যালসিয়াম ও লৌহ থাকে। উইকিপিডিয়া অনুযায়ী, জলবায়ু, স্থান ও জাতভেদে ফল পাকতে ৮০ থেকে ১১২ দিন লাগে, আর কাঁচা অবস্থায় সবুজ খোসা পাকলে লাল বা গোলাপি-লাল হয়।

বাংলাপিডিয়া বলছে, গাছের বৃদ্ধির জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া দরকার, তবে শুষ্ক গরম বাতাস ফলের জন্য ক্ষতিকর। গভীর দোআঁশ পলিমাটি লিচুর জন্য সবচেয়ে উপযোগী; গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না, তবে আর্দ্র মাটি পছন্দ করে। এ কারণেই এপ্রিলের তাপদাহে ঈশ্বরদীর চাষিরা গুটি ঝরা নিয়ে এত উদ্বিগ্ন ছিলেন। বাংলাদেশের লিচু মোটা দাগে দুই ধরনের: দেশি ও বোম্বাই। ঈশ্বরদীতে সবার আগে বাজারে আসে মোজাফ্ফর বা দেশি লিচু; ২০২৩ সালের ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে চাষিরা জানান, বোম্বাই ও চায়না-৩ কিছুদিন পরে পাকলেও বাজারে এদের কদর ও দাম বেশি। দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্ভাবিত লিচুর জাতও রয়েছে, যেমন বারি লিচু-৩।

সিলেটের জৈন্তাপুরে সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রে বারি লিচু-৩ জাতের লিচু, জুলাই ২০১৭। ছবি: Abu Sayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সিলেটের জৈন্তাপুরে সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রে বারি লিচু-৩ জাতের লিচু, জুলাই ২০১৭। ছবি: Abu Sayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বাদুড় ঠেকাতে জাল, আটকে মরছিল পাখি


ফলনের আনন্দের মধ্যেও ২০২৬ মৌসুমে একটি উদ্বেগের খবর আসে। ২০ মে সময়ের আলোর প্রতিবেদনে বাগানমালিক ও চাষিদের বরাতে বলা হয়, বাদুড়ের হাত থেকে লিচু রক্ষায় অনেকে বাগানে কারেন্ট জাল ব্যবহার করছিলেন, আর তাতে আটকে প্রতিদিন শত শত পাখি মারা যাচ্ছিল। পাখিপ্রেমীরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষি বিভাগ কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি নিধন না করে বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছিল। পাবনার জেলা প্রশাসক জানান, লিচু রক্ষা করতে গিয়ে কারেন্ট জাল ব্যবহার করে পাখি হত্যা করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে; বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ বিষয়টি নজরদারি করছিল।

অপরিপক্ব লিচু ও শিশুর স্বাস্থ্য: গবেষণা যা বলে


আগাম কাঁচা লিচু বাজারে ওঠার প্রসঙ্গে ২০২৬ সালের ১১ মে সমকালের প্রতিবেদনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, ‘অপরিপক্ব লিচুতে অনেক সময় ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, যা মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে খালি পেটে কাঁচা লিচু খেলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া, বমি, পেটব্যথাসহ জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে।’ চিকিৎসকেরা বিশেষ করে শিশুদের অপরিপক্ব লিচু খেতে নিষেধ করছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণাও আছে। ২০১৭ সালে দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথে প্রকাশিত ভারতের জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ও যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির গবেষণায় ভারতের বিহারের মুজাফ্ফরপুরে, দেশটির সবচেয়ে বড় লিচু উৎপাদন এলাকায়, শিশুদের তীব্র স্নায়বিক অসুস্থতার প্রাদুর্ভাব খতিয়ে দেখা হয়। ২০১৪ সালের ২৬ মে থেকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে দুটি হাসপাতালে ৩৯০ জন রোগী ভর্তি হয়, যাদের ১২২ জন মারা যায়। গবেষণায় অসুস্থতার সঙ্গে আগের ২৪ ঘণ্টায় লিচু খাওয়া এবং রাতের খাবার না খাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া যায়; লিচুতে থাকা প্রাকৃতিক বিষ হাইপোগ্লাইসিন এ ও মিথিলিন সাইক্লোপ্রোপাইল গ্লাইসিনের (এমসিপিজি) প্রভাব শনাক্ত হয়। গবেষকেরা লিচু খাওয়া সীমিত রাখা, শিশুর রাতের খাবার নিশ্চিত করা এবং সন্দেহজনক রোগীর রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি দ্রুত পূরণের সুপারিশ করেন।

বাংলাদেশেও এমন ঘটনা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। আইসিডিডিআর,বি ও আইইডিসিআরের গবেষকদের ২০১৭ সালে আমেরিকান জার্নাল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিনে প্রকাশিত গবেষণায় ২০১২ সালে উত্তরাঞ্চলের একটি লিচু উৎপাদন এলাকায় শিশুদের তীব্র এনকেফালাইটিস সিনড্রোমের প্রাদুর্ভাব বিশ্লেষণ করা হয়; আক্রান্ত ১৪ শিশুর ১৩ জন মারা যায়। সেখানে প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া যায় এমন লিচুবাগানে যাওয়ার, যেখানে নিয়মিত কৃষিরাসায়নিক ব্যবহার হতো; ওই গবেষণায় লিচু খাওয়ার সঙ্গে অসুস্থতার সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। বাগানে কয়েক ধরনের বালাইনাশক ব্যবহারের তথ্য মেলে, যার কয়েকটি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। শিশুর খাদ্যাভ্যাস বা এমন কোনো উপসর্গ নিয়ে প্রশ্ন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ছবি: Sibbir Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, মানবকণ্ঠ, সমকাল, ডেল্টা টাইমস, সময়ের আলো, আজকের পত্রিকা, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া, দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ, আমেরিকান জার্নাল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)