সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

চার বছরে দেড়শ থেকে ৪৭৫ টন: বাংলাদেশে বাড়ছে রঙিন ক্যাপসিকামের চাষ

পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে ২০২১-২২ অর্থবছরের দেড়শ টন থেকে ২০২৪-২৫-এ ক্যাপসিকাম উৎপাদন বেড়ে ৪৭৫ টন; মোট উৎপাদনের ৫৫ শতাংশ ভোলায়, আর যশোরের এক চাষি বছরে গড়ে ৫০ লাখ টাকার বিক্রির কথা বলছেন।

মেক্সিকো ও পেরু অঞ্চলের সবজি ক্যাপসিকাম বাংলাদেশে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং চাহিদা বাড়তে থাকায় জমিতে ও টবে এর চাষ ক্রমশ বাড়ছে বলে জানাচ্ছে কৃষি বিভাগ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪৭৫ টন, যেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরে তা ছিল দেড়শ টনের কাছাকাছি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে গত কয়েক বছরে উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে এবং দেশের মোট উৎপাদনের ৫৫ শতাংশই আবাদ হয় ভোলা জেলায়।

ভোলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক জানান, জেলার দুটি উপজেলায় প্রায় ১৮০ হেক্টর জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ হচ্ছে। এর বাইরে সিলেট, নওগাঁ, চুয়াডাঙ্গা, কুড়িগ্রাম ও যশোর অঞ্চলের কিছু জেলা-উপজেলায় চাষ হচ্ছে, আর চলতি বছর কুমিল্লাসহ আরও কয়েকটি জায়গায় প্রথমবারের মতো চাষের তথ্য মিলেছে। কৃষি বিভাগ বলছে, ২০১৪-১৫ সালের দিকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ক্যাপসিকাম বাজারে আসতে শুরু করে, তারপর থেকে উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

কৃষি বিভাগের টিস্যুকালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক তালহা জুবাইর মাসরুর বলছেন, সালাদ, পিৎজা, সাসলিকসহ ফাস্টফুডে অপরিহার্য উপাদান হওয়ায় শহরাঞ্চলসহ সর্বত্র এর স্থায়ী বাজার তৈরি হয়েছে; হলুদ, কমলা ও লাল ক্যাপসিকামের চাহিদা তুলনামূলক বেশি এবং বছরজুড়ে ভালো দাম মেলে। তার ভাষায়, "বর্তমানে দেশে এর চাহিদা দ্রুত বাড়লেও উৎপাদন এখনো সীমিত, ফলে বাজারে একটি বড় ঘাটতি বিদ্যমান এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা রয়েছে। এই বাস্তবতা আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে।"

যশোরের শার্শা ও ঝিকরগাছায় চাষ করা মানিক রাজা, যিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, জানান কয়েক বছর আগে ৬-৭ বিঘায় শুরু করতে খরচ হয়েছিল প্রায় ২৪ লাখ টাকা; প্রথম বছরেই বিক্রি হয় প্রায় ৩৫ লাখ টাকার, এরপর প্রতি বছর গড়ে ৫০ লাখের মতো আসছে। পলি হাউস বা নেট হাউস একবার হয়ে গেলে পরের বছর আর বড় খরচ লাগে না। এবার তিনি প্রায় ১৪ বিঘায় চাষ করেছেন, যার বেশিরভাগ হলুদ জাত; হলুদ ও লাল ক্যাপসিকাম মাঠ থেকেই কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর সরকার পলি হাউসসহ আধুনিক ব্যবস্থাপনার উপকরণ দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

চাষের ধরনও উল্লেখযোগ্য। চারা লাগানোর দুই মাস পর ফল আসে, সবুজ থেকে অন্য রঙে যেতে লাগে প্রায় তিন মাস, আর একই গাছ থেকে অন্তত নয় মাস ফলন মেলে; পরিপক্ব একটি ক্যাপসিকামের ওজন প্রায় আড়াইশ গ্রাম। মানিক রাজা ক্যাপসিকামের মৌসুমের ফাঁকে জমিতে ধান বুনে নির্দিষ্ট সময়ে চাষ দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেন, যা জৈব সারের কাজ করে; একই জমিতে টমেটো, ব্রোকলি, রঙিন বাঁধাকপি ও শসাও করেন। ফসলটি মূলত পলিনেট বা গ্রিনহাউসের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষ হয়, যেখানে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও আলো নিয়ন্ত্রণ করে উন্নত মানের উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, নদীর পলি, সবুজ সার ও নিয়মিত সার ব্যবহারে হেক্টরপ্রতি ৩০-৩৫ টন ফলন সম্ভব এবং কৃষকরা সাধারণত হেক্টরপ্রতি ১৪-১৮ লাখ টাকা আয় করেন, তবে চাষটি ব্যয় ও কষ্টসাধ্য, চাষিদের মৌসুমজুড়ে মাঠেই পড়ে থাকতে হয়। চাষ বাড়ায় বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী বীজ আমদানি শুরু করেছে, আর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত তিন ধরনের বীজ বিএডিসির মাধ্যমে কৃষকের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে। কৃষি তথ্য সার্ভিসের মতে ক্যাপসিকামে ভিটামিন এ, সি, কোলাজেন ও ক্যাপসিসিন থাকে, এবং টবে সহজে চাষ করা যায় বলে সাধারণ মানুষকে এই মিষ্টি মরিচ খেতে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

বিবিসি বাংলাসূত্র

শাকসবজি

সম্পর্কিত খবর

শাকসবজি

কুয়াশায় শিকড় খাওয়ানোর প্রযুক্তিতে রোগমুক্ত আলুবীজ উৎপাদনের পরীক্ষা ইংল্যান্ডে

স্টার্টআপ এয়ারপনিক্স ও ডাইসন ফার্মিং ডেফরার অর্থায়নে দুই বছরের এক পরীক্ষা শুরু করেছে: কুয়াশাভিত্তিক পদ্ধতিতে বর্তমান খরচের অর্ধেকেরও কমে ইংল্যান্ডে রোগমুক্ত প্রথম প্রজন্মের আলুবীজ উৎপাদন সম্ভব কি না।

AgNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

মাশরুমের গাঁজন প্রযুক্তিতে টফুর বর্জ্য হলো প্রোটিনসমৃদ্ধ সুস্বাদু উপাদান

সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা সয়া দুধ ও টফুর অবশিষ্ট ওকারা ঝিনুক মাশরুমের মাইসেলিয়াম দিয়ে গাঁজন করে এর প্রোটিন প্রায় ২৮ থেকে ৩০ শতাংশে তুলেছেন, বাড়িয়েছেন উমামি স্বাদ।

Green Queen১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

মাদারগঞ্জে ৬০ হেক্টরে আগাম শসা, দুই হাজার টন উৎপাদনের আশা

জামালপুরের মাদারগঞ্জে এবার প্রায় ৬০ হেক্টরে আগাম শসার আবাদ হয়েছে, উৎপাদন হতে পারে প্রায় দুই হাজার টন; পাইকারি বাজারে কেজি ৩০-৪০ টাকা, বিঘায় খরচ ১৫-২০ হাজার আর বিক্রি ৩০-৪০ হাজার টাকা।

ডেইলি বাংলাদেশ১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)