ঈদুল আজহার কয়েক দিন আগে ঢাকার অলিগলিতে বসা গরু-ছাগলের অনানুষ্ঠানিক বাজারগুলোতে ভিড় বাড়তে শুরু করে। ২০২৫ সালের ৪ জুন, বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জিটিসিএল ভবনের পেছনের সড়কে বসা এমন একটি গরুর বাজারের চিত্র তুলে ধরে জাগো নিউজ। প্রথম আলোর ৩ জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেবার দেশে ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার কথা ছিল ৭ জুন।
জিটিসিএল হলো রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড, যা পেট্রোবাংলার তত্ত্বাবধানে সারা দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস সঞ্চালনের দায়িত্বে আছে। আগারগাঁও ঢাকার একটি প্রশাসনিক এলাকা।
এক অ্যাগ্রো ফার্মের ব্যানারে বসা বাজার
জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি অ্যাগ্রো ফার্মের ব্যানারে আয়োজন করা ওই বাজারে ততক্ষণে ৩০০টির বেশি গরু-ছাগল উঠেছিল। বাজার ব্যবস্থাপকদের একজন বাবু মিয়া জানান, আগের দুই দিন ধরে সেখানে গরু আসছিল, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বেচাকেনা শুরু হয় সেদিন থেকে। তাঁর হিসাবে প্রথম দিনেই ৩৯টি পশু বিক্রি হয়েছিল।
সিরাজগঞ্জ থেকে নিজের খামারের ৯টি গরু নিয়ে এসেছিলেন মুসলিম নামের এক খামারি। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, “মাত্রতো উঠেছি বাজারে। ক্রেতারা দাম করছেন। এখনো একটাও বিক্রি করতে পারিনি।” তাঁর ধারণা, ক্রেতারা আগে দামের একটা আন্দাজ পেতে অপেক্ষা করছেন; বেচাকেনা শুরু হলে সবাই কিনতে শুরু করবেন।

ক্রেতার প্রত্যাশা আর খামারির দামে ফারাক
পশ্চিম আগারগাঁওয়ের বাসিন্দা মাহবুব আলম গরু কিনতে এসেছিলেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা এবং খামারিদের দামে ব্যাপক ফারাক।” তাঁর মতে, দামের বিষয়ে ক্রেতাদের ধারণা না থাকায় এমনটা হচ্ছিল; যাচাই-বাছাই করে তিনি গরু কিনবেন বলে জানান।
একই দিনে প্রথম আলো জানায়, রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু বেশি বিক্রি হচ্ছিল এবং এসব গরুর দাম ছিল ৭২ হাজার থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকার মধ্যে। সেখানে সিরাজগঞ্জের গরু ব্যবসায়ী আলতাফ মিয়া ২৪টি গরু নিয়ে এসে প্রথম দিনে তিনটি বিক্রি করেছিলেন বলে পত্রিকাটিকে জানান।

রাজধানীর অনুমোদিত হাট ও দেশের পশুর জোগান
প্রথম আলোর ৩ জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে সেদিন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানির পশু বিক্রি শুরু হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১২টি ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭টি, মোট ১৯টি হাট বসে; আরও তিনটি হাটের চূড়ান্ত অনুমোদন তখনো বাকি ছিল। ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক পত্রিকাটিকে জানান, হাটের নিরাপত্তা, যানজট, অবৈধ হাট বসতে না দেওয়া এবং হাটে আনা পশুর স্বাস্থ্য নিয়ে কয়েকটি মন্ত্রণালয় মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগারগাঁওয়ের বাজারটি অনুমোদিত তালিকায় ছিল কি না, জাগো নিউজের প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি।
দেশে পশুর জোগান নিয়ে ২০২৫ সালের ৪ মে সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানান, সেবার কোরবানিযোগ্য পশু ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি। এর মধ্যে গরু-মহিষ ৫৬ লাখ ২ হাজার ৯০৫টি এবং ছাগল-ভেড়া ৬৮ লাখ ৩৮ হাজার ৯২০টি। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে চাহিদার চেয়ে ২০ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকার কথা ছিল, তাই সেবার পশু আমদানি না করার কথা জানানো হয়।

ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো (৪ মে, ৩ জুন ও ৪ জুন ২০২৫), উইকিপিডিয়া




মন্তব্য
(০)