নেপাল-তিব্বত সীমান্তের রসুয়া জেলায় লাংতাং লিরুং পর্বতের গা থেকে হিমবাহের বড় অংশ খসে প্রায় ১,২০০ মিটার গড়িয়ে ভোতেকোশি নদী আটকে দিয়েছিল। প্রাকৃতিক বাঁধ ভাঙতেই নিচের জনপদে নামে পানি, কাদা ও পাথরের ঢল। সমকালের এক কলামে ব্যাংকার ও উন্নয়ন গবেষক এম এম মাহবুব হাসান এ ঘটনা দিয়ে শুরু করে বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকির আর্থিক দিক নিয়ে লিখেছেন।
লেখায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া হিসাব উদ্ধৃত হয়েছে: অন্তত ১,৪৫০ জনের মৃত্যু, ভেসে গেছে সড়ক, সেতু, স্কুল ও ঘরবাড়ি। অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলের হিসাবে পুনর্গঠনে লাগবে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার; বিশ্বব্যাংক জরুরি ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১৭ কোটি ডলারের ব্যবস্থা করেছে, বাংলাদেশ দিয়েছে ১০ লাখ ডলার অনুদান। লেখকের মতে, দরকার আর পাওয়ার এই ফাঁকটাই আসল কথা।
তাঁর যুক্তি, দুর্যোগের ক্ষতি আসে তিন ধাপে: ভাঙা অবকাঠামো, থমকে যাওয়া উৎপাদন ও কাজ, তারপর বছরের পর বছর বাজেটের ঘাড়ে পুনর্গঠনের ঋণ। একটা সেতু ভাঙলে কৃষকের ধান হাটে ওঠে না। লেখকের উল্লেখ করা হিসাবে একটি বড় বন্যা বাংলাদেশের জিডিপি ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে; ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতি দেড় বিলিয়ন ডলার, ২০০৭ সালের সিডরে প্রায় পৌনে দুই বিলিয়ন।
ঢাকার গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের জলবায়ু ঋণঝুঁকি সূচকে বাংলাদেশ 'উচ্চঝুঁকির ঋণফাঁদ' শ্রেণিতে। ২০০২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অভিযোজনে এসেছে মাত্র ১.৪১ বিলিয়ন ডলার, প্রয়োজনের এক শতাংশও নয়। সরকার চলতি অর্থবছরে ২৫ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু বরাদ্দ প্রায় ২৬ শতাংশ বাড়িয়েছে, যা মোট বাজেটের ১১ শতাংশের বেশি; লেখকের প্রশ্ন, এর কতটা যাচ্ছে আগাম প্রস্তুতিতে।
তিনি তিনটি প্রস্তাব দিয়েছেন: আন্তর্জাতিক মানে ক্ষয়ক্ষতির জাতীয় তথ্যভান্ডার; প্যারামেট্রিক বীমা, যাতে বৃষ্টি, বাতাস বা পানির উচ্চতা নির্দিষ্ট মাত্রা ছাড়ালেই কৃষক, ছোট দোকানি ও দিনমজুরের হাতে আগে ঠিক করা টাকা পৌঁছায়; এবং বিদেশি ঋণচুক্তিতে দুর্যোগ ধারা, যাতে বড় বিপর্যয়ের পর কিস্তি কিছুদিন স্থগিত থাকে।
৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আন্তালিয়ায় কপ-৩১ বসছে। লেখক জানিয়েছেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয় কারিগরি সমন্বয় কমিটি ও তিনটি উপকমিটি করেছে, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের যৌথ অবস্থানের কথাও ভাবা হচ্ছে। তাঁর মতে, 'বাস্তবায়নের কপ'-এ শুধু অভিযোগ নয়, সৌরবিদ্যুৎ, গ্রিড, বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ও সবুজ শিল্পের মতো বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পের তালিকা নিয়ে যেতে হবে। এ লেখার মত লেখকের নিজের।
লেখা: এম এম মাহবুব হাসান, ব্যাংকার ও উন্নয়ন গবেষক, সমকাল
ছবি: Ahtih / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0); লাংতাং লিরুং পর্বত
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)