সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

ধামরাইয়ে কোরবানির জন্য ৫১ হাজার পশু, ৬০০ কোটি টাকা বিক্রির আশা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের

২০২৬ সালের ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঢাকার ধামরাইয়ে কোরবানির জন্য ৫১ হাজার ৫০৮টি পশু প্রস্তুত হয়েছিল, যা স্থানীয় চাহিদার চেয়ে প্রায় ১৭ হাজার বেশি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ধারণা ছিল, ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার পশু বিক্রি হতে পারে।

ধামরাইয়ে কোরবানির জন্য ৫১ হাজার পশু, ৬০০ কোটি টাকা বিক্রির আশা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের
লাইভস্টক

২০২৬ সালের মে মাসে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলায় কোরবানির জন্য ৫১ হাজার ৫০৮টি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করেছিলেন খামারি ও কৃষকেরা, যা উপজেলার নিজস্ব চাহিদার চেয়ে প্রায় ১৭ হাজার বেশি। জাগো নিউজ ২৪ ২০২৬ সালের ১৭ মে এ খবর প্রকাশ করে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছিলেন, উদ্বৃত্ত এসব পশু রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কোরবানির চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।

ধামরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ধারণা করছিলেন, সে বছর ধামরাইয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার পশু বিক্রি হতে পারে। এটি ছিল মৌসুমে কত টাকার বেচাকেনা হতে পারে সে সম্পর্কে তাঁর অনুমান, ইতিমধ্যে হওয়া বিক্রির হিসাব নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পশুর দাম নিয়ে ধামরাইয়ের খামারিরাও আশাবাদী ছিলেন।

কোরবানির জন্য ধামরাইয়ে কী কী পশু প্রস্তুত ছিল


উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সে বছর ধামরাইয়ের প্রায় ৩০০ খামারি ও কৃষক কোরবানির জন্য পশু প্রস্তুত করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল ১ হাজার ২২৫টি গাভি ও বকনা, ৩১ হাজার ৪৩টি ষাঁড়, ২৪০টি বলদ, ৪০টি মহিষ, ১৬ হাজার ৫৬০টি ছাগল এবং ২ হাজার ৪০০টি ভেড়া। সংখ্যায় ষাঁড়ই ছিল সবচেয়ে বেশি, এরপর ছাগল। উপজেলায় স্থানীয়ভাবে কোরবানির পশুর চাহিদা ধরা হয়েছিল প্রায় ৩৫ হাজার। এই চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের কথা ছিল।

এর আগে ১১ মে ঢাকা ট্রিবিউনও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বরাতে ধামরাই থেকে একই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। পত্রিকাটির প্রতিনিধি লেখেন, এসব পশুর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৩২ হাজার ৫৪৮টি, আর স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর প্রায় ১৭ হাজার বাড়তি গরু ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, উপজেলায় কোরবানির জন্য ৫১ হাজার ৫০৮টি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশীয় জাতের পাশাপাশি এর মধ্যে নেপালি, অস্ট্রেলিয়ান, ফ্রিজিয়ান ও হরিয়ানা জাতের গরুও রয়েছে। ঢাকা ট্রিবিউনকেও তিনি জাতের একই তালিকা দেন।

দাম নিয়ে খামারি ও ব্যাপারীর দূরত্ব


জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গরু পালন ধামরাইয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। কোরবানিকে সামনে রেখে উপজেলার খামারিরা প্রাকৃতিক ও দেশীয় পদ্ধতিতে গরু লালনপালন ও মোটাতাজা করেছিলেন। হাট শুরুর আগের শেষ দিনগুলোতে লাভের আশায় পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন খামারি ও কৃষকেরা।

পরিচর্যা চলছিল সার্বক্ষণিক। খামারিরা নিয়মিত পশুকে গোসল করাচ্ছিলেন, কাঁচা ঘাস সংগ্রহ করছিলেন, গোয়ালে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখছিলেন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করছিলেন। কয়েকটি খামার ও প্রান্তিক কৃষকের বাড়ি ঘুরে ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিনিধিও একই চিত্র দেখেন। তবে খামারিরা জানান, গোখাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসার খরচ আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেড়েছে।

দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা তখনো এক জায়গায় আসেননি। খামারিদের দাবি ছিল, ব্যাপারীরা পশুর তুলনায় কম দাম প্রস্তাব করছেন; অন্যদিকে ব্যাপারীদের ভাষ্য, খামারিরা পশুর তুলনায় বেশি দাম চাইছেন। তবে জাগো নিউজ জানায়, সে বছর ভারতীয় গরু আমদানির শঙ্কা না থাকায় আগের তুলনায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ার আশা করছিলেন খামারি ও ব্যবসায়ী উভয়েই।

ধামরাইয়ের গরু পালনকারী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে তাঁদের খামারে প্রায় ২০টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, "গাভির বাছুরগুলো প্রাকৃতিক উপায়ে কাঁচা ঘাস ও কুঁড়া-ভুসি খাইয়ে বড় করেছি। এখন ব্যাপারীরা একেকটি গরুর দাম ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বলছেন। তবে আমি আশা করছি, দাম আরও বাড়বে।"

মিজানুর রহমান জানান, স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর বাকি পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হবে। সে বছর ধামরাইয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার পশু বিক্রি হতে পারে বলে নিজের অনুমানের কথাও তিনি আবার উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে গরুর সঙ্গে একজন কৃষক। ছবি: Belayet2014 / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৩.০)
বাংলাদেশে গরুর সঙ্গে একজন কৃষক। ছবি: Belayet2014 / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৩.০)

বংশী নদীর তীরের কৃষিপ্রধান উপজেলা ধামরাই


ধামরাই ঢাকা জেলার একটি উপজেলা, রাজধানী থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এবং আয়তনে জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা। এর আয়তন ৩০৭.৪১ বর্গকিলোমিটার। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, উপজেলাটির উত্তরে মির্জাপুর ও কালিয়াকৈর, দক্ষিণে সিঙ্গাইর, পূর্বে সাভার এবং পশ্চিমে মানিকগঞ্জ সদর, সাটুরিয়া ও নাগরপুর উপজেলা। বংশী, ধলেশ্বরী ও গাজীখালী এখানকার উল্লেখযোগ্য নদী, আর এর মাটি গড়ে উঠেছে বংশী ও ধলেশ্বরীর পলিতে।

বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, ধামরাই থানা গঠিত হয় ১৯১৪ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৫ সালে। উপজেলায় একটি পৌরসভা, ১৬টি ইউনিয়ন, ২৯০টি মৌজা ও ৩৯৮টি গ্রাম রয়েছে। ২০২২ সালের জনশুমারিতে এখানে ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৩টি খানায় ৫ লাখ ১৭ হাজার ১৩৫ জন মানুষ গণনা করা হয়, যাদের ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৬৭ জন শহর এলাকায় বাস করেন; ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ৪ লাখ ১২ হাজার ৪১৮।

কৃষিই বরাবর এখানকার অর্থনীতির মূল ভিত্তি। আদমশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাপিডিয়া জানায়, জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৫৫.৪৭ শতাংশ, এরপর ব্যবসা ১২.৭৪ শতাংশ ও চাকরি ১১.৩৯ শতাংশ। প্রধান ফসল ধান, পাট, ভুট্টা, সরিষা, আলু ও শাকসবজি; প্রধান ফল আম, কাঁঠাল, নারকেল ও পেয়ারা। জ্ঞানকোষটির জরিপে উপজেলায় ৫৯৮টি গবাদিপশুর খামার, ১৯৫টি হাঁস-মুরগির খামার ও একটি হ্যাচারি এবং ৩৫টি হাটবাজারের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ধামরাই বাজার, শ্রীরামপুর বাজার, কালামপুর বাজার, ইসলামপুর বাজার ও কুশুরা বাজার উল্লেখযোগ্য।

উইকিপিডিয়ার ধামরাই উপজেলা নিবন্ধে মোট আবাদযোগ্য জমি ২৩ হাজার ৪৭০ হেক্টর বলে উল্লেখ আছে, যার ১৪ হাজার ৫৮০ হেক্টরে বছরে দুটি এবং ৬ হাজার ৭৪০ হেক্টরে তিনটি ফসল হয়; ফসলের নিবিড়তা ২২০.৮৩ শতাংশ। বাংলাপিডিয়া চাল, পাট, ওষুধ, সিরামিক ও শাকসবজিকে উপজেলার প্রধান রপ্তানিপণ্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। এখানকার শিল্প-কারখানার মধ্যে রয়েছে সিরামিক, পাট, ওষুধ ও বস্ত্রশিল্প, চালকল এবং বিসিক শিল্পনগরী।

কৃষির বাইরেও ধামরাইয়ের পরিচিতি আছে। এটি বাংলাদেশের হাতে ঢালাই করা ধাতবশিল্পের প্রধান কেন্দ্র, যেখানে বংশপরম্পরায় পরিবারগুলো লস্ট-ওয়াক্স বা মোমের ছাঁচ এবং ফাঁপা ঢালাই পদ্ধতিতে কাঁসা-পিতলের তৈজস ও মূর্তি তৈরি করে আসছে। প্রতিবছর এখানে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা হয় এবং তা ঘিরে মাসব্যাপী রথমেলা বসে।

ধামরাইয়ের ফোর্ডনগর এলাকা থেকে তোলা বংশী নদী। ছবি: আদিব এহসান / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
ধামরাইয়ের ফোর্ডনগর এলাকা থেকে তোলা বংশী নদী। ছবি: আদিব এহসান / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

ধামরাইয়ের গোয়ালে কোন কোন জাতের গরু


বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, বাংলাদেশের বেশির ভাগ গরু নির্দিষ্ট জাতবিহীন দেশি জেবু, অর্থাৎ বস ইন্ডিকাস প্রজাতির কুঁজওয়ালা গরু। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের বস টরাস গরুর তুলনায় এরা ধীরে বাড়ে, আকারে ছোট ও দেরিতে প্রজননক্ষম হয়; তবে কিছু সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করতে পারে, গরম সহ্য করে এবং নিম্নমানের খড়-জাতীয় খাদ্যও ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারে। জ্ঞানকোষটি বলছে, দেশে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট গরুর জাত প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবে দীর্ঘ নির্বাচনের ফলে কয়েকটি উন্নত দেশি ধরন তৈরি হয়েছে: পাবনা গরু, রেড চিটাগাং, মুন্সীগঞ্জের গরু ও নর্থ বেঙ্গল গ্রে।

দেশি গরুর উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে বিদেশি জাত এনে সংকরায়ণ করা হয়েছে। বাংলাপিডিয়া এগুলোর মধ্যে হলস্টেইন-ফ্রিজিয়ান, জার্সি, শাহীওয়াল, হরিয়ানা, সিন্ধি, অস্ট্রেলিয়ান ও শাহীওয়াল-ফ্রিজিয়ানের নাম উল্লেখ করেছে। এসব বিশুদ্ধ বিদেশি জাত, এদের সংকর ও উন্নীত গরু সরকারি ও বাণিজ্যিক দুগ্ধখামারে, দুধ উৎপাদনের পকেট এলাকায় এবং শহর ও উপশহর এলাকায় দেখা যায়। জ্ঞানকোষটি আরও বলছে, দেশি গরুর তুলনায় বিশুদ্ধ ও সংকর জাতের গরুর পুষ্টির চাহিদা বেশি, পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা কম এবং পরজীবী ও রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

ধামরাইয়ে যে জাতগুলোর নাম এসেছে, তার দুটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান দুগ্ধজাত গরুর একটি আন্তর্জাতিক জাত বা জাতগোষ্ঠী; ইউরোপে এই জাতের একটি গাভি বছরে গড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার লিটার দুধ দেয়। হরিয়ানা ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের নিজস্ব জেবু জাত। এ জাতের গরু মাঝারি থেকে বড় আকারের, সাধারণত সাদা থেকে ধূসর রঙের, শিং ছোট এবং মুখ লম্বা ও সরু। এটি দুধ ও হালচাষ দুই কাজের উপযোগী জাত, এবং এর গাভি দিনে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লিটার দুধ দেয় বলে উইকিপিডিয়ার নিবন্ধে উল্লেখ আছে।

ধামরাইয়ের খামারিরা যে ধরনের মোটাতাজাকরণের কথা বলছিলেন, বাংলাপিডিয়ায় তারও বর্ণনা আছে। কিছু খামারি প্রচলিত ও অপ্রচলিত খাদ্য দিয়ে এক বছর বয়সী ষাঁড় বাছুর মোটাতাজা করেন; এর সঙ্গে সম্পূরক হিসেবে দেন কাঁচা ঘাস, গমের ভুসি, চালের কুঁড়া, ভাতের মাড়, ইউরিয়া-মোলাসেস ব্লক ও ইউরিয়া-মোলাসেস খড়। জ্ঞানকোষটি আরও জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে শহর ও শহরতলি এলাকায় বেশ কিছু ছোট বাণিজ্যিক দুগ্ধ ও মাংসের খামার গড়ে উঠেছে।

বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির দুগ্ধখামারে প্রজননের জন্য রাখা একটি ষাঁড়। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৩.০)
বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির দুগ্ধখামারে প্রজননের জন্য রাখা একটি ষাঁড়। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৩.০)

সারা দেশে কোরবানির পশুর চাহিদা ও জোগান


ধামরাইয়ের হিসাব ছিল জাতীয় হিসাবেরই অংশ। ২০২৬ সালের ৩ মে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী জানান, সে বছর কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি, আর প্রাপ্যতা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি; ফলে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকতে পারে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, প্রাপ্য পশুর মধ্যে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু-মহিষ, ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল-ভেড়া এবং উট ও দুম্বার মতো অন্যান্য প্রজাতির ৫ হাজার ৬৫৫টি পশু।

একই ব্রিফিংয়ে আগের বছরের কথাও আসে। ২০২৫ সালের ঈদুল আজহায় ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি পশু প্রাপ্য ছিল এবং ২০ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের জুনে কোরবানির হিসাব প্রকাশ করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানায়, সে বছর ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু কোরবানি হয়েছে: ৪৭ লাখ ৫ হাজার ১০৬টি গরু-মহিষ, ৪৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮টি ছাগল-ভেড়া এবং ৯৬০টি অন্যান্য পশু; অবিক্রীত ছিল ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৬০৩টি কোরবানিযোগ্য পশু। অধিদপ্তর জানায়, প্রতিটি উপজেলার ছোট, মাঝারি ও বড় তিনটি গ্রাম থেকে অন্তত ১ শতাংশ নমুনা নিয়ে স্তরভিত্তিক দৈবচয়ন পদ্ধতিতে এই হিসাব করা হয়েছে।

২০২৫ সালের ওই হিসাবে ধামরাই যে বিভাগের অংশ, সেই ঢাকা বিভাগে ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০টি পশু কোরবানি হয়, যা দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ; প্রথম ছিল রাজশাহী বিভাগ, ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৯৭১টি। সবচেয়ে কম কোরবানি হয় সিলেট বিভাগে, ৩ লাখ ১৯ হাজার ৮২৩টি।

কয়েক বছর ধরে কোরবানির পশুর সংখ্যা মোটামুটি এক কোটির আশপাশে ছিল। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যের বরাতে প্রথম আলো ২০২৪ সালের জুনে জানায়, ২০১৯ সালে দেশে ১ কোটি ৬ লাখ ১৪ হাজার ২৮১টি পশু কোরবানি হয়েছিল। করোনা সংক্রমণের পর ২০২০ সালে এই সংখ্যা কমে ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ২৬৩টিতে এবং ২০২১ সালে ৯০ লাখ ৯৩ হাজারের কিছু বেশিতে নামে। ২০২২ সালে তা বেড়ে হয় ৯৯ লাখ ৫৪ হাজার ৬৭২টি এবং ২০২৩ সালে ১ কোটি ৪১ হাজার ৮১২টি।

২০২৬ সালের মৌসুমের জন্য মন্ত্রী জানান, সারা দেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি পশুর হাট বসবে; এর মধ্যে রাজধানীতে ২৭টি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬টি ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টি। রাজধানীর হাটগুলোতে ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। সে বছরও অনলাইনে পশু কেনার ব্যবস্থা থাকবে এবং অনলাইনে কেনা পশুর জন্য কোনো খাজনা বা হাসিল নেওয়া হবে না; চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য পেশাদার ও মৌসুমি কসাইদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল।

যেসব জেলা থেকে ঢাকায় পশু যায়


রাজধানীর হাটে যেসব উদ্বৃত্ত এলাকা থেকে পশু আসার কথা ছিল, ধামরাই তার একটি। জাগো নিউজের প্রতিবেদনের আগের সপ্তাহে অন্যান্য জেলা থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের বরাতে এই হিসাবগুলো আসে:

  • সিরাজগঞ্জ: স্থানীয় চাহিদা ২ লাখ ৯৩ হাজার ৬৭৬টির বিপরীতে কোরবানিযোগ্য পশু ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি, উদ্বৃত্ত প্রায় ৩ লাখ ২৪ হাজার; এর মধ্যে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯২৪টি গরু, ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০টি ছাগল ও ৪৭ হাজার ৭২৪টি ভেড়া, আর শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া ও সদর উপজেলায় পশু উৎপাদন সবচেয়ে বেশি (বাসস, ১৪ মে)। ঢাকা ট্রিবিউন ১২ মে জানায়, উদ্বৃত্ত পশু ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় যাবে এবং জেলার ২৭টি স্থায়ী ও ২০টি অস্থায়ী হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচা হবে।
  • নওগাঁ: ছোট-বড় প্রায় ৩৮ হাজার ৯০৯ জন খামারি প্রায় ৮ লাখ কোরবানির পশু লালনপালন করেছেন; জেলার আনুমানিক চাহিদা ৩ লাখ ৮৭ হাজারের বিপরীতে ৪ লাখ ১০ হাজারের বেশি পশু ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হবে (বাসস, ১২ মে)।
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ: স্থানীয় চাহিদা ১ লাখ ৬৭ হাজার ২০টির বিপরীতে পশু ২ লাখ ২৬ হাজার ৫০টি, আনুমানিক উদ্বৃত্ত ৫৮ হাজার ৮৪৮টি (ঢাকা ট্রিবিউন, ১৫ মে)।
  • শরীয়তপুর: পারিবারিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার খামারে দেড় লক্ষাধিক গরু, ছাগল ও মহিষ প্রস্তুত; জেলার ৬ উপজেলায় চাহিদা প্রায় ১ লাখ (বাসস, ১৪ মে)।

এসব জেলার খামারিরাও ধামরাইয়ের খামারিদের মতো একই চাপের কথা বলছিলেন। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের এক খামারি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, গোখাদ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে গরু পালনের খরচও বাড়ছে, যার প্রভাবে এবারের ঈদে গরুর দাম বাড়তে পারে। নওগাঁর খামারিরা বাসসকে জানান, তিন মাসে দানাদার খাদ্যের দাম বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেড়েছে; একজন বলেন, আগে ১ হাজার ৮০০ টাকায় পাওয়া ৫০ কেজির বস্তা তখন ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের এক খামারি জানান, আগে যে খাদ্য ৪০ টাকায় কেনা যেত, তার দাম তখন ৬০ টাকা। নওগাঁ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বাসসকে বলেন, দানাদার খাদ্যের বেশির ভাগ উপকরণ আমদানিনির্ভর হওয়ায় বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে, আর কৃমিনাশক ও টিকা সরকারি হারে দেওয়া হচ্ছে।

আগের বছরগুলোতেও খামারিরা একই অভিযোগ করেছিলেন। প্রথম আলো ২০২৪ সালের ১৯ মে জানায়, সে বছরের শুরুতে প্রতি কেজি গমের ভুসি ছিল ৪৬ থেকে ৪৭ টাকা, যা তখন ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল; বুটের খোসা ৫২ থেকে ৫৩ টাকা থেকে বেড়ে ৬২ থেকে ৬৫ টাকা এবং দানাদার ফিড ৪৯ থেকে ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা হয়েছিল।

ভারতীয় গরু ও সীমান্ত


ভারতীয় গরু না আসার যে আশার কথা ধামরাইয়ের খামারিরা বলছিলেন, সে মৌসুমে দেশজুড়ে খামারিদের মধ্যেই তা শোনা যাচ্ছিল। উইকিপিডিয়ার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিবন্ধে উল্লেখ আছে, ভারত থেকে বাংলাদেশে গবাদিপশু, খাদ্যপণ্য, ওষুধ ও মাদক চোরাচালানের পথ হিসেবে এই সীমান্ত ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

৩ মের ব্রিফিংয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী জানান, দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সে বছর সীমান্তবর্তী পশুর হাট বন্ধের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বলেন, অতীতে সীমান্তঘেঁষা কিছু হাটের মাধ্যমে বিদেশি পশু প্রবেশ করায় দেশীয় খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তাই সীমান্ত এলাকায় হাট না বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১৪ মে ধামরাইয়ের পাশের উপজেলা সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে মন্ত্রী বলেন, দেশে কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই এবং দেশীয় খামারিদের লালনপালন করা পশু দিয়েই কোরবানি হবে। চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি থাকায় সে বছর বিদেশ থেকে পশু আমদানির প্রয়োজন হবে না বলেও তিনি জানান। ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং সীমান্ত এলাকার মানুষকেও পশু চোরাচালান না হতে দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।

অন্যান্য জেলার খামারিরা তবু বিষয়টি নিয়ে সরব ছিলেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের খামারিরা স্থানীয় খামারিদের ক্ষতির আশঙ্কায় সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, আর জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, তা ঠেকাতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। শরীয়তপুরের খামারমালিকেরা বাসসকে জানান, ভারতীয় গরু না এলে তাঁরা লাভবান হওয়ার আশা করছেন; তাঁদের একজন সরকারের কাছে গরু আমদানি বন্ধ রাখার দাবি জানান।

দাম, লেনদেন ও বেচাকেনার মৌসুম


মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা ঝুঁকছিল ছোট পশুর দিকে। ১৫ মে খামারি ও ব্যবসায়ীরা বাসসকে জানান, এ বছর বিশেষ করে ঢাকাসহ শহরাঞ্চলে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি, এতে মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা বড় ভূমিকা রাখছে। ২০০ থেকে ৫০০ কেজি ওজনের গরুর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছিল, আর ৫০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা বাজেটের ক্রেতারা পছন্দমতো পশু পাবেন বলে আশা করা হচ্ছিল। খামারিরা জানান, পশুখাদ্য, ওষুধ, শ্রম, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে; কিছু ক্রেতা আগেভাগেই খামারে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছিলেন এবং আগাম বুকিং দিচ্ছিলেন।

খামারে ও অনলাইনে জীবিত ওজন বা লাইভ ওয়েটে গরু বিক্রি তখন প্রচলিত হয়ে উঠেছিল। প্রথম আলো ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের বরাতে জানায়, আকারভেদে তখন জীবিত গরু প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, যা আগের বছর ছিল ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা; আর কোরবানির পর মাংস ও হাড় মিলিয়ে পাওয়া যায় জীবিত ওজনের প্রায় ৫৫ শতাংশ।

হাটে নগদ লেনদেন নিরাপদ রাখারও ব্যবস্থা হচ্ছিল। দেশ রূপান্তর জানায়, ২০২৬ সালের ১০ মে বাংলাদেশ ব্যাংক পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ বসাতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে ১০টি নির্দেশনা পাঠায়। এর মধ্যে রয়েছে:

  • ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত হাটে হাট শুরুর দিন থেকে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র ও অভিজ্ঞ ক্যাশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিনামূল্যে নোট যাচাইয়ের সেবা দিতে হবে;
  • যেসব জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস নেই, সেখানে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও থানা বা উপজেলার অনুমোদিত হাটে ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব বণ্টন করবে সোনালী ব্যাংকের চেস্ট শাখা;
  • বুথে নোট কাউন্টিং মেশিনে নগদ টাকা গোনার সুবিধা দিতে হবে এবং ব্যাংকের নামসহ 'জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ' লেখা ব্যানার টানাতে হবে;
  • ঈদের পর ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিটি ব্যাংককে নির্দেশনা পরিপালনের প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে।

পরিসংখ্যানের পেছনের প্রতিষ্ঠান ও কোরবানির বিধান


ধামরাইয়ের পরিসংখ্যান এসেছিল প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপজেলা দপ্তর থেকে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন এই সরকারি অধিদপ্তরের দেশের প্রতিটি উপজেলায় দপ্তর রয়েছে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, অধিদপ্তরটি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির চিকিৎসাসেবা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণসেবা এবং এসব পণ্যের বাজারজাতকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের দায়িত্বে রয়েছে। ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ সরকারের সিভিল ভেটেরিনারি বিভাগের মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হয়; দেশভাগের পর এটি পূর্ব পাকিস্তানের পশুপালন অধিদপ্তর হিসেবে পুনর্গঠিত হয় এবং ১৯৬০ সালে নাম হয় প্রাণিসম্পদ পরিদপ্তর। এর প্রধান কার্যালয় ঢাকার ফার্মগেটে।

মন্ত্রী ১৪ মে যেখানে বক্তব্য দেন, সেই বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট ধামরাইয়ের ঠিক পূর্ব পাশের উপজেলা সাভারে অবস্থিত। বাংলাপিডিয়া জানায়, ১৯৮৪ সালে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর রয়েছে প্রাণী উৎপাদন, প্রাণিস্বাস্থ্য, পোলট্রি উৎপাদন, আর্থসামাজিক ও বিপণন, সিস্টেম রিসার্চ এবং সহায়ক সেবা বিভাগ, আর সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে দুটি আঞ্চলিক কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটি গরু মোটাতাজাকরণের একটি মডেল উদ্ভাবন করেছে, যার লক্ষ্য জীবিত ওজনে দ্রুত বৃদ্ধি ও খাদ্যের ভালো রূপান্তর দক্ষতা; পাশাপাশি পাবনা গরু, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল, মহিষ ও গয়ালের ওপর নির্বাচনী প্রজনন কর্মসূচি চালাচ্ছে। সফরে মন্ত্রী বলেন, কম খরচে গরু পালন নিশ্চিত করা এবং উন্নত জাতের ঘাসের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

কোরবানি বা উযহিয়া হলো ঈদুল আজহায় গবাদিপশু উৎসর্গের ধর্মীয় বিধান। এটি আল্লাহর নির্দেশে নিজ পুত্র ইসমাইলকে কোরবানি করতে হজরত ইবরাহিমের প্রস্তুতির স্মরণে পালন করা হয়; তিনি তা করার আগেই তাঁকে থামানো হয় এবং আল্লাহ পুত্রের বদলে একটি দুম্বা কোরবানির জন্য পাঠান। উইকিপিডিয়ার নিবন্ধ অনুযায়ী, কোরবানির মাংসের এক-তৃতীয়াংশ কোরবানিদাতার পরিবার খায় এবং বাকিটা গরিব ও অভাবী মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। বাংলাদেশে জিলহজ মাসের প্রথম দিন থেকেই সারা দেশে অস্থায়ী পশুর হাট বসতে শুরু করে; এই মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হয়।

ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ঢাকা ট্রিবিউন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), প্রথম আলো, দেশ রূপান্তর, বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সৌরপ্যানেলের নিচে ভেড়া চরালে বাড়ে মৌমাছি, তবে সংখ্যা রাখতে হবে কম

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, সৌরখামারে হেক্টরপ্রতি দুটি ভেড়া চরালে ঘাস কাটার তুলনায় উপকারী পোকা ৩৮ শতাংশ বাড়ে। খামারিদের জন্য ভেড়ার পাল পরিকল্পনার একটি সহায়ক টুলও তৈরি করেছেন গবেষকেরা।

Farms.com১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

প্রোটিনের চাহিদায় বদলে গেল কানাডার দুধের বাজার, মাখনের উদ্বৃত্ত শেষ

দুগ্ধজাত প্রোটিনের চাহিদা বাড়ায় পাঁচ বছরের মধ্যে কানাডার দুধের বাজারে মাখনচর্বির কাঠামোগত উদ্বৃত্ত মিটে গেছে, দুধের দাম নির্ধারণেও এসেছে পরিবর্তন।

Manitoba Co-operator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিকি হেক্টরে ওটের বীজ চাষ, ইথিওপিয়ার এক কৃষকের পারিবারিক ব্যবসা

ইথিওপিয়ার এক ক্ষুদ্র কৃষক মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে বীজের জন্য ওট চাষ করে প্রথম ফসল ৪৫ হাজার বির্রে বিক্রি করেন এবং পরের বছর চাষ বাড়ান। আইএলআরআইয়ের পশুখাদ্যের বীজকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের অংশ এটি।

ILRI১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)