২০২৬ সালের ২৫ মার্চ অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগো নিউজ তাদের কৃষি ও প্রকৃতি বিভাগে দেশে উদ্ভাবিত একটি ডিজিটাল সয়েল সেন্সর নিয়ে একটি ফিচার প্রকাশ করে। লেখক সমীরণ বিশ্বাস, পত্রিকাটি তাঁকে কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। যন্ত্রটির নাম 'জিএফএল সয়েল সেন্সর', এটি এনেছে জিনিয়াস ফার্মস লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানই এর আগে তৈরি করেছে 'ডা. চাষী', যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ফসলের রোগ ও পোকামাকড় শনাক্ত করে এবং সমাধান জানায়। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন সেন্সরটি ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তিতে মাটি বিশ্লেষণ করে এবং জমির অবস্থান অনুযায়ী তাৎক্ষণিক বা রিয়েল-টাইম সার সুপারিশ দেয়। তিনি একে আরও একটি দেশি উদ্ভাবন হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, এটি বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
লেখক যন্ত্রটিকে দেশের প্রচলিত চাষাবাদের প্রেক্ষাপটে রেখেছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের কৃষি দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতি, অভিজ্ঞতা ও প্রচলিত জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। কৃষকেরা বছরের পর বছর মাঠে কাজ করে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে মাটির অবস্থা বুঝে সার প্রয়োগ ও চাষাবাদ পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু আধুনিক যুগে কৃষির চাহিদা বদলে গেছে: উৎপাদন বাড়াতে, খরচ কমাতে এবং পরিবেশ রক্ষা করতে এখন প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক ও তথ্যনির্ভর কৃষিব্যবস্থা। এই প্রেক্ষাপটে, তাঁর যুক্তি, ডিজিটাল সয়েল সেন্সর একটি আধুনিক ও কার্যকর সমাধান, যা মুহূর্তের মধ্যে মাটির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বিশ্লেষণ করে তথ্য দিতে পারে। এতে কৃষক সহজে মাটির অবস্থা জেনে সে অনুযায়ী সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা করতে পারেন। লেখকের ভাষায়, এর ফলে কৃষিতে তৈরি হয় নতুন সম্ভাবনা, স্মার্ট কৃষি বা ডিজিটাল কৃষি।
লেখকের বর্ণনায় সেন্সরটি কী মাপে
লেখার মূল কথা হলো, চাষাবাদের সাফল্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি মাটির গুণাগুণ। মাটিতে কোন পুষ্টি উপাদান কত পরিমাণে আছে তা জানা না থাকলে সঠিকভাবে সার প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না। লেখক উল্লেখ করেন, অনুমাননির্ভর সার প্রয়োগে অনেক সময় অতিরিক্ত সার ব্যবহার হয়, আবার কখনো প্রয়োজনের তুলনায় কম সার দেওয়া হয়। এতে যেমন উৎপাদন কমে, তেমনি বাড়ে উৎপাদন খরচ। তাঁর মতে, ডিজিটাল সয়েল সেন্সর খুব দ্রুত মাটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষককে জানিয়ে দিয়ে এই সমস্যার সমাধান দেয়। লেখা অনুযায়ী যন্ত্রটি যেসব তথ্য জানায়:
- নাইট্রোজেন (এন)
- ফসফরাস (পি)
- পটাশিয়াম (কে)
- পিএইচ মান, অর্থাৎ মাটির অম্লতা বা ক্ষারত্বের মাপ
- মাটির আর্দ্রতা
- মাটির তাপমাত্রা
- ইলেকট্রিক্যাল কন্ডাক্টিভিটি (ইসি) বা বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা
- লবণাক্ততা
লেখকের ভাষ্যে, এসব তথ্য কৃষকের হাতে পৌঁছালে তিনি সহজেই বুঝতে পারেন তাঁর জমিতে কী ধরনের সার কত পরিমাণে দরকার। তিনি বলেন, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, ব্যবহার কঠিন হলে কৃষকের কাজে তা খুব বেশি আসে না; সে কথা মাথায় রেখে যন্ত্রটি সহজে ব্যবহারের উপযোগী করে বানানো হয়েছে। মাটির ভেতরে সেন্সরের প্রোব ঢোকালে কয়েক মিনিটের মধ্যে মাটির তথ্য পাওয়া যায়, এরপর সফটওয়্যার তা বিশ্লেষণ করে সার ব্যবহারের সুপারিশ দিতে পারে। লেখায় যন্ত্রটির মাঠপরীক্ষার ফল বা নির্ভুলতার কোনো পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। এই প্রতিবেদনেও নিজস্ব কোনো সারের মাত্রা দেওয়া হলো না: বাংলাদেশে সারের মাত্রা আসে মাটি পরীক্ষা ও সরকারি সুপারিশ থেকে, যার কথা নিচে রয়েছে, এবং উপজেলা কৃষি অফিস থেকে।
জমিভিত্তিক তাৎক্ষণিক তথ্য ও 'সয়েল টেস্টার' সফটওয়্যার
লেখক যন্ত্রটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে এটি লোকেশন বেইজড বা অবস্থানভিত্তিক রিয়েল-টাইম প্রযুক্তি। তাঁর ব্যাখ্যায়, নির্দিষ্ট জমির মাটির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা যায়, কারণ আইওটি প্রযুক্তির মাধ্যমে সেন্সরটি একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে মাঠে থাকা সেন্সর থেকে সংগৃহীত তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। এতে সময় বাঁচে এবং কৃষক দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষিতে সময়ের গুরুত্ব অনেক। কখন সার দিতে হবে, কখন সেচ দিতে হবে বা কখন ফসলের যত্ন নিতে হবে, এই সিদ্ধান্তগুলো সময়মতো নিতে না পারলে উৎপাদনে বড় ক্ষতি হতে পারে। লেখকের যুক্তি, মাটির সঠিক তথ্য হাতে থাকলে কৃষক অনুমানের ওপর নির্ভর না করে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে সারের অপচয় ও উৎপাদন খরচ কমে, ফলন বাড়ে, আর কৃষি হয়ে ওঠে আরও কার্যকর ও লাভজনক।
লেখক দ্বিতীয় যে বৈশিষ্ট্যের ওপর জোর দিয়েছেন তা হলো যন্ত্রটির নিজস্ব সফটওয়্যার 'সয়েল টেস্টার'। তিনি লিখেছেন, সফটওয়্যারটি বাংলাদেশের মাটি, সার ও ফসলের তথ্য ব্যবহার করে তৈরি এবং দেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় তৈরি একটি ডাটাবেজের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। তাঁর মতে, বিশ্বের অনেক সয়েল সেন্সর বিদেশি সর্বজনীন ডাটা ব্যবহার করে, যা সব সময় বাংলাদেশের মাটির জন্য পুরোপুরি উপযোগী নাও হতে পারে; অন্যদিকে সয়েল টেস্টার স্থানীয় তথ্য ব্যবহার করায় তুলনামূলক বেশি নির্ভুল ফল দেয়। তিনি একে দেশের কৃষিপ্রযুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন হিসেবে বিবেচনার যোগ্য বলে উল্লেখ করেন। এগুলো উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠানের পণ্য সম্পর্কে লেখকের বর্ণনা; সফটওয়্যার বা ডাটাবেজের কোনো স্বাধীন মূল্যায়নের উল্লেখ লেখায় ছিল না।

লেখকের বর্ণনায় সম্ভাব্য সুফল
মাটির স্বাস্থ্য প্রসঙ্গে লেখক বলেন, বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের কারণে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা কমে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। মাটির প্রকৃত অবস্থা জানা গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগ করা যায় এবং অপ্রয়োজনীয় সার ব্যবহারের প্রবণতা কমে। তাঁর মতে, এতে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা বজায় থাকে, পরিবেশদূষণ কমে, কৃষি হয় আরও টেকসই; অর্থাৎ প্রযুক্তিটি শুধু উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মাটির স্বাস্থ্য রক্ষাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
লেখক সেন্সরটিকে নিরাপদ খাদ্যের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন। তিনি লিখেছেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এখন বড় চ্যালেঞ্জ, আর অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে অনেক সময় খাদ্যের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। কৃষক যখন জানবেন তাঁর জমিতে ঠিক কতটুকু পুষ্টি উপাদান আছে, তখন তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী সার দেবেন, অতিরিক্ত সারের দরকার পড়বে না, আর লেখকের ভাষায় উৎপাদিত ফসল হবে তুলনামূলক নিরাপদ ও বিষমুক্ত।
বৃহত্তর প্রবণতার কথা টেনে লেখক উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে কৃষিতে দ্রুত ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে; ড্রোন, সেন্সর, স্যাটেলাইট ডাটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৃষিব্যবস্থাকে আধুনিক করে তুলছে, আর বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে এই পরিবর্তন শুরু হয়েছে। তিনি জানান, জিনিয়াস ফার্মস লিমিটেড 'ডা. চাষী প্রজেক্ট'-এর মাধ্যমে এই উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য কৃষকের হাতে সহজ প্রযুক্তি তুলে দেওয়া, যাতে তাঁরা নিজেরাই মাটির তথ্য বিশ্লেষণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। লেখকের যুক্তি, এভাবে কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়বে, কৃষকের আয়ও বাড়বে।
কৃষির ভবিষ্যৎ নিয়ে লেখক লিখেছেন, আগামী দিনের কৃষি চলবে মাটি, আবহাওয়া ও ফসলের চাহিদার তথ্য বিশ্লেষণ করে, আর ডিজিটাল সয়েল সেন্সর সেই পথের একটি ধাপ, যা কৃষকের সময় বাঁচাবে, খরচ কমাবে এবং ভালো ফলন নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। তাঁর মূল্যায়নে, আইওটি প্রযুক্তি, দেশীয় ডাটাভিত্তিক সফটওয়্যার এবং সহজ ব্যবহারযোগ্য নকশা, এই তিনের সমন্বয়ে যন্ত্রটি কৃষকের জন্য একটি কার্যকর সমাধান এবং বাংলাদেশে স্মার্ট কৃষির একটি নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশে মাটির তথ্য কেন জরুরি
যে মাটি নিয়ে এই লেখা, তার সীমাবদ্ধতা ভালোভাবেই নথিভুক্ত। বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া জানায়, উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় ১৭টি পুষ্টি উপাদানের ১৪টিই আসে মাটি থেকে। কিন্তু উপাদান জোগানোর ক্ষমতায় মাটিতে মাটিতে বড় পার্থক্য আছে, আর উচ্চফলনশীল জাতের নিবিড় চাষ, জৈব পদার্থের সামান্য বা শূন্য ব্যবহার এবং মাটি ও ফসলের অনুপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় সেই ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। দেশে রাসায়নিক সার আসে পঞ্চাশের দশকের গোড়ায়; ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকে আধুনিক জাত ও সেচ সুবিধা বাড়ার সঙ্গে এর ব্যবহার ক্রমাগত বেড়েছে। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে দেশের মোট ফসল উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকের কৃতিত্ব অজৈব সারের।
মাটির উর্বরতা বিষয়ক ভুক্তিতে প্রধান সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের মাটির গড় পিএইচ অম্লীয় দিকে, ৫.৫ থেকে ৬.৫-এর মধ্যে; তবে গাঙ্গেয় চুনযুক্ত পলিমাটির পিএইচ ৭.৫ ছাড়িয়ে কখনো ৮.৩ পর্যন্ত ওঠে। দেশের মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বিশ্বে সর্বনিম্নগুলোর একটি। মাটির জৈব পদার্থ বিষয়ক ভুক্তি বলছে, উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমির নিট আবাদযোগ্য এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশে জৈব পদার্থ ২ শতাংশের কম, আর একে অনেক মাটির কম উৎপাদনশীলতার অন্যতম প্রধান কারণ বলা হয়েছে। জৈব পদার্থ কম বলে নাইট্রোজেনও কম; সব মাটিতেই বেশির ভাগ ফসল নাইট্রোজেনে সাড়া দেয়, আর দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় নাইট্রোজেন সার।
অন্যান্য উপাদানেরও ঘাটতি আছে। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে দেশের প্রায় ৬ শতাংশ জমিতে ফসফরাসের তীব্র ঘাটতি, ৫০ শতাংশে প্রকট ঘাটতি এবং ৪৪ শতাংশে মাঝারি ঘাটতি। পটাশিয়ামের ক্ষেত্রে এই হার যথাক্রমে ৬, ৪৫ ও ৩৩ শতাংশ; কম থেকে খুব কম পটাশিয়ামযুক্ত জমি ২০০০ সালে ছিল ২৯ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর, ২০০৭ সালে তা দাঁড়ায় ৩৭ লাখ ৬০ হাজার হেক্টরে। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মাটিতে গন্ধকের ঘাটতি রয়েছে। দস্তা সারের চাহিদা ২০০০-০১ সালের ৩ হাজার টন থেকে বেড়ে ২০১০-১১ সালে ৪২ হাজার টনে দাঁড়ায়, যাকে জ্ঞানকোষটি দেশজুড়ে দস্তার ব্যাপক ঘাটতির লক্ষণ হিসেবে দেখেছে।
একই সময়ে সারের ব্যবহারও বেড়েছে। ১৯৬২-৬৩ সালে দেশে ২০,২৩৫ টন সার-পুষ্টি ব্যবহৃত হয়; ১৯৯৫-৯৬ সালে তা দাঁড়ায় ১১,৭৯,৩৯০ টনে, যার মধ্যে নাইট্রোজেন ছিল ৯,৪২,৭৭১ টন। ইউরিয়ার বিক্রি ২০০০-০১ সালের ২১ লাখ ২১ হাজার টন থেকে বেড়ে ২০১০-১১ সালে ২৬ লাখ ৫৭ হাজার টনে পৌঁছায়। বাংলাপিডিয়া লক্ষ করেছে, নাইট্রোজেনের তুলনায় ফসফরাসের জোগান সমানতালে বাড়েনি। ইউরিয়ার ওপর বেশি নির্ভরতা আর অন্য উপাদানের ঘাটতি, এ ধরনের ভারসাম্যহীনতা সামলাতেই মাটির তথ্য কৃষককে সাহায্য করতে পারে বলে লেখকের দাবি।

বাংলাদেশে মাটি পরীক্ষা ও সার সুপারিশ যেভাবে হয়
দেশে মাটির তথ্যের দায়িত্বে থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠান মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই), যা কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত দপ্তর। বাংলাপিডিয়ার তথ্যে এর সূচনা ১৯৬১ সালে, যখন এফএও ও ইউএনডিপির সহায়তায় তৎকালীন পাকিস্তানের মৃত্তিকা জরিপ প্রকল্পের পূর্বাঞ্চলীয় পরিদপ্তর গঠিত হয়, উদ্দেশ্য ছিল দেশের মাটি ও ভূমিসম্পদের দ্রুত তালিকা তৈরি। ১৯৬৩ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত বন ছাড়া সারা দেশের রিকনেসান্স মৃত্তিকা জরিপ শেষ হয়। এসআরডিআই প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮২-৮৩ সালে, আর ১৯৮৩ সালে আগের মৃত্তিকা জরিপ সংস্থাগুলো এর অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে শক্তিশালী করার একটি প্রকল্প শুরু হয়, যার লক্ষ্য ছিল দেশের ৪৬০টি উপজেলার জন্য 'উপজেলা নির্দেশিকা' তৈরি করা। ১৯৯২ সালে ডেনমার্কের সহায়তায় মাটি পরীক্ষা বিষয়ক একটি প্রকল্প শুরু হয়, এবং ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বিশ্লেষণ সেবা বিভাগ, কুমিল্লা, জয়দেবপুর, খুলনা ও রাজশাহীর চারটি আঞ্চলিক গবেষণাগারসহ, এসআরডিআইয়ের সঙ্গে একীভূত হয়। ১৯৯৪-৯৫ সালে বান্দরবানে মৃত্তিকা সংরক্ষণ ও পানিবিভাজিকা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র এবং খুলনার বটিয়াঘাটায় লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা কেন্দ্র চালু হয়। প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত লক্ষ্য দেশের সীমিত ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পদের বিবেচনাপ্রসূত ও লাভজনক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কৃষিরাসায়নিকজনিত দূষণ সর্বনিম্ন রাখা।
গেজেট অনুযায়ী এসআরডিআইয়ের কাজের মধ্যে রয়েছে মাটি, পানি ও উদ্ভিদের নমুনার রাসায়নিক বিশ্লেষণ, মান যাচাইয়ে রাসায়নিক ও জৈব সারের বিশ্লেষণ, এবং সম্প্রসারণ ও গবেষণাকর্মীদের জন্য প্রতিটি উপজেলার মাটি ও কৃষি সম্ভাবনা নিয়ে সহজ নির্দেশিকা তৈরি। গবেষণাগারের পাশাপাশি এসআরডিআইয়ের ওয়েবসাইট থেকে যুক্ত একটি অনলাইন সার সুপারিশ ব্যবস্থাও লেখাটি প্রকাশের আগে চালু ছিল। ২০২৬ সালের ১৫ মার্চের একটি আর্কাইভ কপিতে দেখা যায়, 'সার সুপারিশ কার্ড' পেতে ব্যবহারকারী বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন, মাটির ধরন, ফসলের মৌসুম (খরিপ-১, খরিপ-২ বা রবি), উঁচু জমি থেকে অতি নিচু জমি পর্যন্ত ভূমি শ্রেণি, ফসল এবং শতাংশে জমির পরিমাণ বেছে নেন; ঐচ্ছিক ঘরে থাকে নিষ্কাশন শ্রেণি ও উপরিস্তরের মৃত্তিকা বুনট। লেখায় বর্ণিত যন্ত্রটি একই লক্ষ্যে, অর্থাৎ নির্দিষ্ট জমিভিত্তিক সুপারিশে পৌঁছাতে, ভিন্ন একটি পথ দেখায়।

কম দামের এনপিকে সেন্সরের স্বাধীন পরীক্ষায় যা পাওয়া গেছে
জিএফএল সয়েল সেন্সর কোন পদ্ধতিতে মাপে, লেখায় তা বলা হয়নি, যন্ত্রটির কোনো স্বাধীন পরীক্ষার উল্লেখও ছিল না। তবে কম দামের বহনযোগ্য এনপিকে সেন্সর নিয়ে স্বাধীন গবেষণা ২০২৬ সালের মার্চের আগেই প্রকাশিত হয়েছিল। সিজিআইএআরের অন্তর্ভুক্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যালায়েন্স অব বায়োভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিআইএটির গবেষকেরা ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর 'লো-কস্ট পোর্টেবল সয়েল ফার্টিলিটি সেন্সরস: মিথ অর রিয়ালিটি?' শিরোনামে একটি কারিগরি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এতে গুয়াতেমালা ও কলম্বিয়ায় বাজারে পাওয়া সেন্সরের পাঠ গবেষণাগারের বিশ্লেষণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষিত সব যন্ত্র ফ্রিকোয়েন্সি ডোমেইন রিফ্লেক্টোমেট্রি নামের তড়িৎচৌম্বকীয় পদ্ধতিতে কাজ করে। পদ্ধতিটি মূলত মাটির আর্দ্রতা মাপতে ব্যবহৃত হয়; কিছু নির্মাতা একে বহুমুখী প্রোবে যুক্ত করে বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা, তাপমাত্রা এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক সম্পর্কের মাধ্যমে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়ামের পরিমাণ অনুমান করে। গুয়াতেমালায় পাঁচটি বিভাগের ১০টি মাটির নমুনায় তিন মডেলের সেন্সর পরীক্ষা করা হয়; গবেষণাগারের মানের সঙ্গে তুলনায় নির্ণায়ক সহগ (আর-স্কয়ার) শূন্যের কাছাকাছি থেকে সর্বোচ্চ ০.২৪৫৮ পর্যন্ত পাওয়া যায়, যা দুর্বল সম্পর্ক নির্দেশ করে। কলম্বিয়ায় ২০ শতাংশ গ্র্যাভিমেট্রিক আর্দ্রতায় আনা ৬৩টি নমুনায় পরীক্ষা হয়; ফসফরাস ও নাইট্রোজেনের সমন্বিত আর-স্কয়ার সাধারণত ০.০৫২ থেকে ০.৪৭৯-এর মধ্যে ছিল, আর সবচেয়ে ভালো ফল দেয় পটাশিয়াম, সর্বোচ্চ ০.৫৩৯। গবেষকেরা লিখেছেন, এই সেরা ক্ষেত্রেও গবেষণাগারের তথ্যের প্রায় অর্ধেক (৪৬ শতাংশ) তারতম্যের ব্যাখ্যা মেলে না।
দ্বিতীয় একটি পরীক্ষায় দেখা যায়, পাঠ মাটির পানির ওপর কতটা নির্ভরশীল। চুলায় শুকানো মাটিতে পাঠ ছিল শূন্য বা প্রায় শূন্য; আর্দ্রতা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার সঙ্গে পাঠ বেড়েছে, তারপর স্থির হয়েছে। গবেষকদের সিদ্ধান্ত, মাঠে ভিন্ন আর্দ্রতায়, যেমন দিনের ভিন্ন সময়ে নেওয়া পাঠ সরাসরি তুলনা করা যায় না। তাঁদের সুপারিশ, এ ধরনের সেন্সর দিয়ে সারের মাত্রা নির্ধারণ করা বা গবেষণাগারের বিশ্লেষণের সরাসরি বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়; তবে স্থানীয়ভাবে ক্যালিব্রেট করা হলে জমির ভেতরের আপেক্ষিক পার্থক্যের মানচিত্র তৈরি, উঁচু, মাঝারি ও নিচু ব্যবস্থাপনা অঞ্চল চিহ্নিত করা এবং কোথা থেকে মাটির নমুনা নিতে হবে তা ঠিক করতে এগুলো কাজে লাগতে পারে।
আগের গবেষণাও স্থানীয় পরীক্ষার প্রয়োজনের দিকেই ইঙ্গিত দেয়। ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট 'কম্পিউটারস' সাময়িকীতে প্রকাশিত ইয়িই সুলায়মান ও সহকর্মীদের এক গবেষণায় বাজারে পাওয়া কম দামের একটি এনপিকে সেন্সর দিয়ে বহনযোগ্য যন্ত্র তৈরি করা হয়; লেখকদের ভাষায়, এ ধরনের সেন্সর কৃষিতে আইওটি ব্যবস্থায় সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। যন্ত্রটি ইন্দোনেশিয়ার জাভার সেচনির্ভর ও বৃষ্টিনির্ভর ধানের জমিতে পরীক্ষা করা হয়। এটি মাটির তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, পিএইচ, বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা এবং নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম মাপে। মাঠপরীক্ষায় যন্ত্রটি মাটির বৈশিষ্ট্য ও অবস্থানভেদে সংবেদনশীল বলে দেখা যায়, এবং লেখকেরা একে ধানক্ষেতে তাৎক্ষণিক পরিমাপের একটি সম্ভাব্য বিকল্প হাতিয়ার বলেছেন। সিআইএটির দল নিজেদের ২০ শতাংশ আর্দ্রতার মান ঠিক করতে এই গবেষণাপত্রের উল্লেখ করেছে।
ইসি, লবণাক্ততা, পিএইচ ও আর্দ্রতার পাঠ বোঝা
লেখায় উল্লিখিত কয়েকটি বৈশিষ্ট্য একে অপরের সঙ্গে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ন্যাচারাল রিসোর্সেস কনজারভেশন সার্ভিস (এনআরসিএস) তাদের মৃত্তিকা মান নির্দেশক পত্রে ব্যাখ্যা করেছে, ইসি হলো মাটির পানির বিদ্যুৎ পরিবহনের ক্ষমতা, যা ঘটে পানিতে দ্রবীভূত লবণের আয়নের মাধ্যমে; তাই আয়নের ঘনত্বই মাটির ইসি নির্ধারণ করে। কৃষিতে ইসি মূলত লবণাক্ততার মাপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, একক ডেসিসিমেন্স প্রতি মিটার (ডিএস/মি)। পত্রটি বলছে, ইসি সরাসরি নির্দিষ্ট কোনো আয়ন মাপে না, যদিও পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, সালফেট, অ্যামোনিয়া ও নাইট্রেটের সঙ্গে এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে; অন্য সব একই থাকলে মাটি যত ভেজা, ইসি তত বেশি। কাদার পরিমাণ বাড়লেও সাধারণত ইসি বাড়ে। এনআরসিএস ব্যবহারের আগে ইসি মিটার ক্যালিব্রেট করার পরামর্শ দেয়।
এনআরসিএসের পত্রে ইসি অনুযায়ী লবণাক্ততার শ্রেণি:
- ২ ডিএস/মি-এর কম: অলবণাক্ত
- ২ থেকে ৪-এর কম: খুব সামান্য লবণাক্ত
- ৪ থেকে ৮-এর কম: সামান্য লবণাক্ত
- ৮ থেকে ১৬-এর কম: মাঝারি লবণাক্ত
- ১৬ ডিএস/মি বা তার বেশি: তীব্র লবণাক্ত
বাংলাদেশের উপকূলে লবণাক্ততা বড় বিষয়। বাংলাপিডিয়ার লবণাক্ত মৃত্তিকা বিষয়ক ভুক্তির হিসাবে ২০০৯ সালে প্রায় ১০ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমি লবণাক্ততায় আক্রান্ত ছিল, প্রধানত খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চলের জেলায়। সেখানে মাটির লবণাক্ততা ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়তে থাকে, এপ্রিল-মে মাসে সর্বোচ্চে পৌঁছায় এবং জুনের পর দ্রুত কমে; ফলে একই জমিতে ভিন্ন মাসে লবণাক্ততার ভিন্ন পাঠ আসতে পারে। অম্লতার বিষয়ে বাংলাপিডিয়া এসআরডিআইয়ের শ্রেণিবিভাগ তুলে ধরেছে: পিএইচ ৪.৫-এর নিচে অতি তীব্র অম্লীয়, ৪.৬ থেকে ৫.৫ তীব্র অম্লীয়, ৫.৬ থেকে ৬.৫ সামান্য অম্লীয়, ৬.৬ থেকে ৭.৩ নিরপেক্ষ, ৭.৪ থেকে ৮.৪ সামান্য ক্ষারীয় এবং ৮.৫ থেকে ৯.০ তীব্র ক্ষারীয়।

সেন্সর, আইওটি ও নির্ভুল কৃষি
লেখাটি যে ধারণাগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে, সেগুলোর আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা আছে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) ২০১২ সালের জুনে প্রকাশিত সুপারিশ আইটিইউ-টি ওয়াই.২০৬০-এ ইন্টারনেট অব থিংসকে সংজ্ঞায়িত করেছে তথ্যসমাজের জন্য একটি বৈশ্বিক অবকাঠামো হিসেবে, যা বিদ্যমান ও বিকাশমান আন্তঃকার্যক্ষম তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভিত্তিতে ভৌত ও ভার্চুয়াল বস্তুগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে উন্নত সেবা সম্ভব করে। যে সয়েল সেন্সর বিশ্লেষণের জন্য নিজের পাঠ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাঠায়, সেটি এমন একটি সংযুক্ত বস্তুর উদাহরণ।
ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব প্রিসিশন এগ্রিকালচার ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে হালনাগাদ করা সংজ্ঞায় নির্ভুল কৃষিকে (প্রিসিশন এগ্রিকালচার) বর্ণনা করেছে এমন একটি ব্যবস্থাপনা কৌশল হিসেবে, যা সময়, স্থান এবং আলাদা আলাদা উদ্ভিদ ও প্রাণীর তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়া ও বিশ্লেষণ করে এবং অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে অনুমিত তারতম্য অনুযায়ী ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে, যাতে সম্পদ ব্যবহারের দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা, মান, মুনাফা ও কৃষি উৎপাদনের টেকসইতা বাড়ে। লেখায় বর্ণিত জমিভিত্তিক সার সুপারিশ এই ধারণার মধ্যেই পড়ে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) কৃষি স্বয়ংক্রিয়তা নিয়ে তাদের 'দ্য স্টেট অব ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার ২০২২' প্রতিবেদনে এসব প্রযুক্তি পর্যালোচনা করেছে। ২৭টি কেস স্টাডির ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি বলছে, ডিজিটাল স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি উৎপাদনশীলতা ও সহনশীলতা বাড়াতে এবং পরিবেশগত সমস্যা মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে। তবে বিশেষ করে ক্ষুদ্র উৎপাদকদের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবহারে বাধাও চিহ্নিত করা হয়েছে: ডিজিটাল সাক্ষরতার ঘাটতি, ইন্টারনেট সংযোগ ও বিদ্যুৎ সুবিধার মতো সহায়ক অবকাঠামোর অভাব এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা। লেখায় বর্ণিত যন্ত্রটির মতো প্রযুক্তিকে এই বাস্তবতার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে।
ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, অ্যালায়েন্স অব বায়োভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিআইএটি (সিজিআইএআর), কম্পিউটারস (এমডিপিআই), বাংলাপিডিয়া, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) অনলাইন সার সুপারিশ ব্যবস্থা, ইউএসডিএ ন্যাচারাল রিসোর্সেস কনজারভেশন সার্ভিস, আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ), ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব প্রিসিশন এগ্রিকালচার, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)




মন্তব্য
(০)