মধ্য আফ্রিকার দেশ ক্যামেরুনে বিশ্বব্যাংক-সমর্থিত একটি প্রকল্প ডিজিটাল সেবা দিয়ে কৃষকদের বাজার, তথ্য ও আধুনিক উপকরণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। ২০২৬ সালের ২৫ জুন প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘অ্যাক্সিলারেশন অব দ্য ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন অব ক্যামেরুন প্রজেক্ট’ (পিএটিএনইউসি) এর ই-ভাউচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ৩৫ হাজার ক্ষুদ্র কৃষক উন্নত বীজ ও সারের মতো উপকরণ পান। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষিতে যুক্ত, অথচ তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাজার, তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তিতে সীমিত সুযোগ পেয়ে এসেছেন।
প্রকল্পটি কী এবং কারা চালায়
বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, পিএটিএনইউসি ২০২১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংকের বোর্ডে অনুমোদিত হয়, প্রতিশ্রুত অর্থ ১০০ মিলিয়ন ডলার এবং ঋণগ্রহীতা ক্যামেরুন সরকার। প্রকল্পের লক্ষ্য দুটি: ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং কৃষি মূল্যশৃঙ্খলের বাছাই করা অংশীজনদের মধ্যে ডিজিটাল কৃষিসেবার ব্যবহার বাড়ানো। বাস্তবায়নে আছে তিনটি মন্ত্রণালয়: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও প্রাণিশিল্প মন্ত্রণালয়।
কৃষি ক্যামেরুনের অর্থনীতির বড় অংশ। ২০১৮ সালে দেশটি প্রায় ৫ মিলিয়ন টন কাসাভা, ৩.৯ মিলিয়ন টন প্ল্যান্টেইন (রান্নার কলা) এবং ৩ লাখ ৭ হাজার টন কোকো উৎপাদন করে; প্ল্যান্টেইনে দেশটি ছিল বিশ্বে তৃতীয় এবং কোকোতে পঞ্চম।
ই-ভাউচার আর মাটির তথ্য সরাসরি খামারে
বিশ্বব্যাংক জানায়, সংযোগ, ডিজিটাল সাক্ষরতা ও তথ্যব্যবস্থায় বিনিয়োগ করে প্রকল্পটি সেই কাঠামোগত বাধাগুলো কমাতে চায়, যেগুলো এতদিন কৃষকের উৎপাদনশীলতা ও বাজারে প্রবেশ আটকে রেখেছিল। ই-ভাউচারের পাশাপাশি ডিজিটাল সরঞ্জাম কৃষককে মাটির স্বাস্থ্য ও মাঠের অবস্থার তাৎক্ষণিক তথ্য দেয়। বিশ্বব্যাংকের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, এতে প্রধান কয়েকটি ফসলের ফলন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
ডিজিটাল সমাধান গ্রহণের খরচ যাতে বাধা না হয়, সে জন্য পিএটিএনইউসি ৪.৪ মিলিয়ন ডলারের ম্যাচিং অনুদান দেয়, যা কৃষক দলের খরচের সর্বোচ্চ তিন ভাগের দুই ভাগ বহন করে।

স্টার্টআপ আর কৃষক দল একসঙ্গে
কর্মসূচির কেন্দ্রে ছিল ‘অ্যাগ্রিটেক ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’, একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম, যা কৃষির জন্য ডিজিটাল সমাধান তৈরি করা স্টার্টআপ খুঁজে বের করে ও সহায়তা দেয়; বিষয় বাজারে প্রবেশ, উৎপাদনশীলতা ও জলবায়ু সহনশীলতা। বাছাই হওয়া স্টার্টআপগুলো অ্যাক্সিলারেশন কর্মসূচি, মেন্টরিং এবং কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা পায়।
নকশার মূল দিক হলো জোড়া বাঁধা: প্রতিটি স্টার্টআপকে কৃষক দলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, যাতে তাদের উদ্ভাবন বাস্তব মাঠে পরীক্ষা হয় এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায়। বিশ্বব্যাংকের ভাষায়, স্টার্টআপ, ইনকিউবেটর ও উদ্ভাবন পরিবেশকে সহায়তা দিয়ে উদ্যোগটি তরুণদের কর্মসংস্থানও বাড়াচ্ছিল।

অনলাইন বিপণনে কৃষকের কাছে ক্রেতা
প্ল্যাটফর্মের অন্যতম প্রতিষ্ঠান ইফার্ম ডট সিএম-এর প্রধান পামেলা এনচো বিশ্বব্যাংককে বলেন, “আমরা কৃষকদের বিপণনে সহায়তা করি। তাঁরা শুধু আমাদের ওয়েবসাইটে পণ্য নিবন্ধন করেন না, আমরা সেগুলোর প্রচারও করি, যাতে আরও বেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছায়।” বিশ্বব্যাংকের মতে, কৃষক ও ক্রেতার দূরত্ব কমিয়ে এসব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাজারের সুযোগ বাড়াচ্ছিল এবং ফসল-পরবর্তী ক্ষতি কমাচ্ছিল।
পোলট্রি খাতে এর প্রভাব দেখা যায় এলিবয় ফরচুন ফার্মসের ফেতেহ ক্ল্যারেন্সের কথায়: “ই-মার্কেটিং আমাদের ব্যবসায় সত্যিই প্রভাব ফেলেছে। আমরা আমাদের পুরো উৎপাদন এলাকাজুড়ে বিক্রি করতে পেরেছি।” তিনি জানান, আগে তাঁরা সপ্তাহে ৫ হাজার মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করতেন, কিন্তু সেগুলো বিক্রি করা খুব কঠিন ছিল; এখন সপ্তাহে অন্তত ১৫ হাজার বাচ্চা বিক্রি করেন এবং ২০ হাজার পর্যন্ত উৎপাদন করেন।

ছবি: Adesolive / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বিশ্বব্যাংক (২৫ জুন ২০২৬), বিশ্বব্যাংক প্রকল্প তথ্যভান্ডার, উইকিপিডিয়া (Agriculture in Cameroon)




মন্তব্য
(০)