নিজের জমিতে বেশি প্রোটিন ফসল ফলানোর যে উদ্যোগ ইউরোপ নিয়েছে, তা কৃষক ও বীজ খাতের জন্য সুযোগ, এমন যুক্তি দিয়েছেন কৃষিব্যবসার বিপণন পরামর্শক ফ্রাঙ্কো ব্রাজ্জাবেনি (Franco Brazzabeni), সিড ওয়ার্ল্ড ইউরোপে প্রকাশিত এক কলামে। তিনি ইতালির বীজ সমিতি আসোসেমেন্তি (Assosementi) এবং আইএসএফের বিভিন্ন গ্রুপের সদস্য। মতামত লেখকের নিজস্ব।
তাঁর আলোচনার শুরু আমদানি করা পশুখাদ্য-প্রোটিনের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ভরতা দিয়ে। তিনি লিখেছেন, ইইউ প্রচুর উদ্ভিজ্জ প্রোটিন উৎপাদন করে, তবে বেশির ভাগই ঘাস-জাতীয় খাদ্য ও দানাশস্য, যাতে প্রোটিন কম থেকে মাঝারি। উচ্চ প্রোটিনের ফসল, অর্থাৎ সয়াবিন ও ডালশস্য, মোট উৎপাদনের মাত্র ৩.৩ শতাংশ। সয়াবিনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা প্রায় ১৮ শতাংশ: ২০২৫ সালে ১ কোটি ৭০ লাখ টনের বেশি চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ছিল ৩০ লাখ টনের কিছু বেশি। বাকিটা আসে মূলত ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে, যার বেশির ভাগই জিন প্রকৌশলে উদ্ভাবিত (জিএম) ফসল। ইইউর বড় অংশে যে জিএম ফসলের চাষ নিষিদ্ধ, পশুখাদ্য হিসেবে তা বৈধভাবেই আমদানি হচ্ছে, মনে করিয়ে দেন তিনি।
মানুষের খাদ্যে ইউরোপে প্রোটিনের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে প্রাণিজ উৎস থেকে, ৪০ শতাংশ উদ্ভিদ থেকে; আর প্রাণিজ প্রোটিন উৎপাদনে পানি ও খরচ দুটোই বেশি, লিখেছেন ব্রাজ্জাবেনি। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষার বরাতে তিনি জানান, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বে বিকল্প প্রোটিনের ভোগ সাত গুণের বেশি বাড়তে পারে।
ইউরোপীয় কমিশন ২০২৬ সালের জুলাইয়ে যে প্রোটিন কর্মপরিকল্পনা চালু করেছে, তার লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে পশুখাদ্যে ইইউতে উৎপাদিত প্রোটিনের অংশ ২৫.৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশের মানদণ্ডে নেওয়া। হরাইজন কর্মসূচির আওতায় ইউরোপীয় প্রোটিন গবেষণায় এরই মধ্যে প্রায় ১৯ কোটি ইউরো বিনিয়োগ হয়েছে: উদ্ভিদ প্রজনন, বীজ, সার কমানো ও জৈববস্তুর ব্যবহার নিয়ে। ২০২৭-পরবর্তী কৃষি নীতির বাজেটে প্রোটিন ফসলের জন্য উৎপাদনভিত্তিক ভর্তুকি, কার্বন ক্রেডিট ও যন্ত্রপাতির খরচে সহায়তার মতো প্রণোদনা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্রাজ্জাবেনি মনে করিয়ে দেন, ডালজাতীয় ফসল বাতাসের নাইট্রোজেন মাটিতে ধরে রাখে; ফলে সারের দাম চড়া ও সরবরাহ টানাটানির সময়ে সারের প্রয়োজন কমে, কৃষির নিঃসরণও কমে। সমালোচনাগুলোও তিনি তুলে ধরেছেন: ৩৫ শতাংশের লক্ষ্য বাধ্যতামূলক নয়, অর্থ আসছে বিদ্যমান তহবিল থেকে, আলাদা বাজেট নেই, পরিকল্পনার মনোযোগ মানুষের বৈচিত্র্যময় খাদ্যের চেয়ে পশুপালনে বেশি, আর অনেক অঞ্চলে সয়াবিনের ফলন সন্তোষজনক নয়। তবু তাঁর উপসংহার, এই পরিকল্পনা অনেক কৃষকের মুনাফা ও টেকসইতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, বীজ খাতের জন্যও বিকাশের উপলক্ষ।
ছবি: Acabashi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
কলাম: ফ্রাঙ্কো ব্রাজ্জাবেনি, সিড ওয়ার্ল্ড ইউরোপ।
সূত্র: Seed World Europe





মন্তব্য
(০)