দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি গবেষণার ওপর জোর দিয়েছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাসুদুল হাসান। ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) মিলনায়তনে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কৃষি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি এমনভাবে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে গবেষণার ফল কৃষকের কাছে পৌঁছায়। অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল কৃষি মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবু জুবাইর হোসেন বাবলু। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, বাংলাদেশে এফএওর প্রতিনিধি দিয়া সানো এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. ভ্যালেন্টাইন আচাঙ্কো। প্রথম আলো জানায়, স্বাগত বক্তব্য দেন বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান নাজমুন নাহার করিম এবং মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ এইচ এম সাইফুল ইসলাম।
কৃষক, গবেষণা ও বাজার নিয়ে খাদ্য সচিবের বক্তব্য
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাদ্য সচিব মো. মাসুদুল হাসান বলেন, দেশের কৃষি উৎপাদনের সাফল্যের পেছনে প্রধান ভূমিকা কৃষক ও কৃষিবিদদের। তাঁর মতে, উৎপাদনকারীদের সঙ্গে বাজারের সংযোগ খুবই সামান্য। কৃষকের এই অবস্থা বোঝাতে তিনি হাসন রাজার ‘পরের জায়গা পরের জমি’ গানের উদাহরণ টানেন। জাগো নিউজ জানায়, তিনি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি গবেষণার ফল মাঠে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।

জলবায়ু ঝুঁকি, নতুন চর ও খাদ্য অপচয়
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত সচিব মো. আবু জুবাইর হোসেন বাবলু পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা করে খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ধীরে ধীরে বাড়ছে, পাশাপাশি পলি জমে নতুন ভূখণ্ডও সৃষ্টি হচ্ছে। এ জমি যদি আমরা কাজে লাগাতে পারি সংকট হবে না।’ তাঁর মতে, বিশ্বায়নের ফলে খাদ্যের চাহিদা ও সরবরাহ দুটিই বেড়েছে, আর সবাই একসঙ্গে কাজ করলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
প্রথম আলো জানায়, আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানী খন্দকার মো. ইফতেখারুদ্দৌলা বলেন, দেশের প্রায় ৭৬ শতাংশ জমি মোটামুটি অনুর্বর ধরনের এবং এর পরিমাণ বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, বছরে মাথাপিছু খাদ্যের অপচয় গড়ে ৮২ কেজি। তাঁর ভাষায়, দুর্যোগপ্রবণ এই দেশে খাদ্য নিরাপত্তা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; শিক্ষক, গবেষক, সরকার ও কৃষক সবাইকে মিলে কাজ করতে হবে।
ইলিশের দাম ও পশুখাদ্য নিয়ে মৎস্য সচিব
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন, ইলিশ উৎপাদনে পোনা ছাড়তে বা খাবার দিতে হয় না, তবু এর দাম এত বেশি কেন, সে প্রশ্নের ‘ভালো উত্তর’ তিনি এখনো পাননি। তিনি জানান, মাছ ধরার খরচ বেশি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে দাম বাড়ে বলে শোনা যায়, ঢাকায় এলে দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়, আর এসব নিয়ে আরও কাজ করার আছে। তিনি আরও বলেন, ধানের জমিতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে সেখানে এখন মাছ হয় না, এগুলোর ব্যবহার কমানো নিয়ে গবেষণা দরকার; পশুখাদ্যের দামের কারণে মাছ, দুধ ও ডিমের দাম বেড়ে যায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্ব খাদ্য দিবস ও এফএওর ৮০ বছর
১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর এফএও প্রতিষ্ঠার দিনটি স্মরণে প্রতিবছর বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হয়। এফএওর সদস্য দেশগুলো ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে সংস্থাটির ২০তম সাধারণ সম্মেলনে দিবসটি প্রবর্তন করে। এফএও জানায়, ২০২৫ সালের প্রতিপাদ্য ছিল ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফর বেটার ফুডস অ্যান্ড আ বেটার ফিউচার’, অর্থাৎ উন্নত খাদ্য ও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য হাতে হাত রেখে কাজ; সেই বছর সংস্থাটি তার ৮০ বছর পূর্তিও উদযাপন করে। আয়োজক বিএআরসি ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং দেশের জাতীয় কৃষি গবেষণা ব্যবস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ব খাদ্য দিবস নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়া হয়।

ছবি: Md Joni Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), উইকিপিডিয়া




মন্তব্য
(০)