সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

ফেরদৌসী রহমান: পবিত্র আত্মার মানুষ

শৈশবে খিলগাঁওয়ে আমাদের প্রতিবেশী ছিলেন খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী সোহরাব হোসেন। তিনি আমার বন্ধুর বাবা ছিলেন, খালু বলে ডাকতাম। কিন্তু উনার সঙ্গেও আমার সম্পর্কটা ছিলো বন্ধুর মতোই। কারণ, উনি রেডিও-টেলিভিশনে গান করতেন, তার একটা হোন্ডা ফিফটি মোটর সাইকেল ছিলো আর তার সঙ্গে ঘুরতে গেলেই তিনি পেটিস খাওয়াতেন। শৈ

শৈশবে খিলগাঁওয়ে আমাদের প্রতিবেশী ছিলেন খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী সোহরাব হোসেন। তিনি আমার বন্ধুর বাবা ছিলেন, খালু বলে ডাকতাম। কিন্তু উনার সঙ্গেও আমার সম্পর্কটা ছিলো বন্ধুর মতোই। কারণ, উনি রেডিও-টেলিভিশনে গান করতেন, তার একটা হোন্ডা ফিফটি মোটর সাইকেল ছিলো আর তার সঙ্গে ঘুরতে গেলেই তিনি পেটিস খাওয়াতেন। শৈশব থেকেই আমার রেডিও-টেলিভিশনের প্রতি ছিলো অসামান্য ঝোঁক।

সোহরাব খালুর সঙ্গে রেডিও-টেলিভিশনে যাওয়ার সুযোগ হতো, তাঁর হোন্ডা ফিফটি মোটরসাইকেলের পেছনে বসে সারা শহর ঘুরে বেড়াতাম। মতিঝিল পীরজঙ্গি মাজারের মোড়ে ছিলো প্যারামাউন্ট কনফেকশনারি নামের একটি বেকারি। ছোটবেলা দেখেছি সন্ধ্যে হলেই মহল্লায় কাঁচের বাক্স মাথায় নিয়ে ডাক ছাড়তো- ‘হট পেটিস’ বলে। ওই সময়ে কাঁচে ঘেরা এমন দোকান খুব একটা ছিলো না। ডিআইটি থেকে টেলিভিশনে গান গাওয়া শেষ করে ফেরার পথে বেকারিতে বসে দু’জনে দুটি পেটিস খেতাম। এই লোভে সোহরাব খালুর সঙ্গে আমার ছিলো সেই ভাব।

যাইহোক, সোহরাব খালুর সঙ্গে একদিন সেসময়কার ডিআইটিতে টেলিভিশন ভবনে গিয়েছিলাম। তখনকার গানের অনুষ্ঠানগুলো সাধারণত লাইভ সম্প্রচার হতো। সেখানেই প্রথমবারের মতো দেখা মেলে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ফেরদৌসী রহমানের সাথে। এর আগে উনাকে বহুবার টেলিভিশনে গান গেতে দেখেছি, সামনা-সামনি কখনো দেখিনি।

১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ফেরদৌসী রহমানের গান দিয়েই শুরু হয়েছিলো বিটিভির (তখনকার পিটিভি, অর্থাৎ পাকিস্তান টেলিভিশন) প্রথম গানের অনুষ্ঠান। আর ২৭ ডিসেম্বর শুরু করেন জনপ্রিয় ‘এসো গান শিখি’ অনুষ্ঠানটি। সেই ‘ফেরদৌসী রহমান’ কে দেখে যে কী আনন্দ হয়েছিলো। এমন সাদাসিধে, মার্জিত অথচ কী স্মার্ট আর অভিজাত্যে ভরা তার ব্যক্তিত্ব! ফিরে এসে বন্ধুদের সঙ্গে গর্ব করে বলেছি, ‘জানিস, ফেরদৌসী রহমানকে আমি নিজ চোখে দেখে এসেছি!’

মেট্রিকে বোর্ড স্ট্যান্ড করা, সারাদেশের মেয়েদের মধ্যে প্রথম হওয়া ফেরদৌসী রহমান শুধু গানের জন্য নয়, পড়াশোনায়ও তিনি ছিলেন আদর্শ। খুব সম্ভবত জোনাকি কিংবা মধুমিতা সিনেমা হলে রাজ্জাক-কবরী অভিনীত ‘নীল আকাশের নীচে’ সিনেমার প্রথম শো দেখে বের হয়েছি। কানে তখনও লেগে আছে, কবরীর ঠোঁটে ফেরদৌসী রহমানের গান ‘গান হয়ে এলে…’।

সে সময় সিনেমাহলের সামনে প্রদর্শিত সিনেমার গান নিয়ে নিউজপ্রিন্টে ছাপা ছোট বই বের হতো। সেখানে সিনেমার গানগুলোর লিরিক লেখা থাকতো। মনে আছে, আমি সিনেমাহল থেকে বের হয়েই কিনে নিয়েছিলাম ওমন একটি বই। সেই শৈশব-কৈশোরে ফেরদৌসী রহমান আমার কাছে এভাবেই ‘গান হয়ে’ এসেছিলেন। শুধু আমার কাছে না।

আমার মনে হয়, আমার বয়সী অনেকের কাছেই ফেরদৌসী রহমান মিষ্টি গানের কোকিল। ‘কথা বলো না বলো ওগো বন্ধু’, ‘আমি কার জন্য পথ চেয়ে রব’, ‘আমি রূপনগরের রাজকন্যা’, ‘প্রাণ সখিরে ঐ শোন কদম্বতলে’, ‘যে জন প্রেমের ভাব জানে না’, ‘পদ্মার ঢেউ রে’, ‘যার ছায়া পড়েছে মনের আয়নাতে’, ‘ও কী ও বন্ধু কাজল ভ্রমরা’, ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’ এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গান দিয়ে ভরিয়েছেন আমাদের হৃদয়।

পল্লীগীতি সম্রাট খ্যাত আব্বাসউদ্দীনের সুযোগ্য কন্যা ফেরদৌসী রহমান। তার পিতা বিখ্যাত হয়েছিলেন পল্লীগীতি গেয়ে। ফেরদৌসী রহমান পল্লীগীতি ছাড়াও রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আধুনিক গান ও চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকসহ সব ধরনের গানই তিনি করেছেন। বাংলা ছাড়া তিনি উর্দু, ফারসি, আরবি, জাপানি, রুশ, জার্মানসহ আরও বেশ কিছু ভাষায় গান গেয়েছেন। তিনি আমাদের প্রথম নারী সংগীত পরিচালক।

আমরা চ্যানেল আই প্রতিষ্ঠা করার পর বেশ কয়েকবার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। দিনে দিনে বুঝেছি তিনি শুধু ভালো গানই করেন না, তিনি আসলে পবিত্র আত্মার মানুষ। যার সঙ্গে কথা বললেই মন ভালো হয়ে যায়। তার কণ্ঠে যেমন সুর আছে, কথায় আছে জাদু। যে জাদু কথায় তিনি টেলিভিশনের অসংখ্য দর্শককে মুগ্ধ করেছেন, অগণিত শিশু-কিশোর উদ্বুদ্ধ হয়েছে গান শিখতে। ‘এসো গান শিখি’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংগীতের এই জীবন্ত কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন ‘খালামণি’।

‘এসো গান শিখি’ অনুষ্ঠান থেকে অনেক শিল্পীই উঠে এসেছেন। এই সময়ের জনপ্রিয় শিল্পী কণাও যুক্ত ছিলেন ‘এসো গান শিখি’ অনুষ্ঠানে। হয়তো অনেকেই খ্যাতিমান শিল্পী হয়ে উঠতে পারেননি। কিন্তু যারা ফেরদৌসী রহমানের সংস্পর্শে ছিলেন, তারা তাঁর আদর্শে, নীতিনৈতিকতায় সুন্দর মানুষ হয়ে উঠেছেন ঠিকই। যারা ছড়িয়ে আছেন দেশ-বিদেশে ফেরদৌসী রহমানের পরিবারের মানুষ হয়েই। ফেরদোসী রহমান হয়ে আছেন আমাদের চ্যানেল আই পরিবারের একজন। তাকে আমরা পেয়েছি সবসময়। তিনিও চ্যানেল আইকে নিজের বাড়ি বলে জ্ঞান করেছেন।

আজ ২৮ জুন ৮৪ বছর পূর্ণ করলেন ফেরদৌসী রহমান। এ উপলক্ষে আমাদের আমন্ত্রণে চ্যানেল আই প্রাঙ্গনে এসেছিলেন তিনি। এই বয়সেও সেই আগের প্রাণ-প্রাচুর্য্য। কণ্ঠে স্নেহ জড়িয়ে কথা বললেন। মাত্র ৮ বছর বয়স থেকেই তিনি রেডিওর ‘খেলাঘর’ অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শোনান। সেই হিসেবে ৮৪ বছর বয়সের ৭৬ বছরই তিনি আমাদের গান শুনিয়ে আসছেন।

এই গুণী শিল্পীর গানে মিশে আছে আমাদের হৃদয়ের অনুভূতি, দেশের মাটি ও মানুষের কথা। আজ জন্মদিনে তার দীর্ঘ সুস্থজীবন প্রত্যাশা করি। শুভ জন্মদিন ফেরদৌসী আপা।

শাইখ সিরাজকৃষি সাংবাদিক

অন্যান্য

সম্পর্কিত খবর

অন্যান্য

মার্চ মাসে কৃষিতে করণীয়: ফাল্গুন চৈত্রের মাঠের কাজ

মার্চে একসঙ্গে শেষ হয় শীতের ফসল, শুরু হয় গরমের ফসল। বোরোতে পানি ও বাদামি গাছফড়িং, গম কাটা, পাট ও মুগ বোনা, গরমের সবজি, আমের মুকুল রক্ষা, পুকুর তৈরি আর গরমে পশুপাখির যত্ন নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ।

তানিয়া চৌধুরী২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬১৩ মিনিটের পড়া
অন্যান্য

ফেব্রুয়ারি মাসে কৃষিতে করণীয় কাজ: ফসল ধরে ধরে মাঠের পঞ্জিকা

শীত বিদায় আর গরমের শুরু, ফেব্রুয়ারিতে একসঙ্গে ফসল তোলা, বীজ বোনা আর পরিচর্যার চাপ। কৃষি তথ্য সার্ভিসের মাসভিত্তিক পরামর্শ ধরে বোরো, গম, ভুট্টা, পাট, ডাল, সরিষা, সবজি, আম-লিচু, পুকুর ও গবাদি পশুর এ মাসের কাজ।

তানিয়া চৌধুরী২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬১২ মিনিটের পড়া
অন্যান্য

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাতের অবদান

জিডিপিতে কৃষির ভাগ কমছে, কিন্তু দেশের প্রায় অর্ধেক কর্মজীবী মানুষ এখনো মাঠে, খামারে আর জলাশয়ে কাজ করেন। খাদ্য নিরাপত্তা, পাট ও চায়ের রপ্তানি, শিল্পের কাঁচামাল আর গ্রামীণ দারিদ্র্য কমানোয় কৃষির ভূমিকা, সামনের চ্যালেঞ্জ এবং টেকসই কৃষির পথ নিয়ে বিশ্লেষণ।

তানিয়া চৌধুরী২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬১৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)