সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

মশা তাড়াতে তুলসী, পুদিনা, ল্যাভেন্ডার: টবের গাছ কতটা কাজ করে

মশা তাড়াতে তুলসী, পুদিনা, সাইট্রোনেলার মতো সুগন্ধি গাছ ঘরে রাখার পরামর্শ ছিল; কেনিয়ার পরীক্ষায় টবের সেরা গাছও প্রায় ৪০ শতাংশ মশা দূরে রেখেছিল, তাই গবেষকেরা একে মশারির বিকল্প নয়, সহায়ক বলেছেন।

মশা তাড়াতে তুলসী, পুদিনা, ল্যাভেন্ডার: টবের গাছ কতটা কাজ করে
দৈনন্দিন

বাংলাদেশে মশা কোনো ঋতুতেই পুরোপুরি বিদায় নেয় না। এই প্রতিবেদন যখন প্রথম লেখা হয়, তখন ছিল শীতকাল। প্রকৃতি তখন শীতল চাদরে নিজেকে মুড়িয়ে নিলেও মশার উপদ্রব বেড়ে গিয়েছিল অনেকটাই। প্রশ্ন ছিল সহজ: বারান্দা বা জানালার পাশে কয়েকটি সুগন্ধি গাছের টব কি মশা দূরে রাখতে পারে?

দ্য এগ্রো নিউজে প্রথম প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে এমন কয়েকটি গাছের কথা বলা হয়েছিল, যেগুলো ঘরের কোণে প্রায়ই অযত্নে পড়ে থাকে, অথচ যাদের গন্ধ মশা পছন্দ করে না বলে ধারণা করা হয়: তুলসী, পুদিনা, ল্যাভেন্ডার, গাঁদা, সাইট্রোনেলা ঘাস, রোজমেরি ও লেমন বাম। এখানে মূল প্রতিবেদনের পাশে রাখা হলো এসব গাছ নিয়ে ততদিনে প্রকাশিত গবেষণার ফল: জীবন্ত গাছ কী পারে আর কী পারে না, মূল লেখার একটি দাবিতে কোথায় ভুল ছিল, আর মশার কামড় থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কী পরামর্শ দেয়।

মূল প্রতিবেদনে উদ্ভিদবিজ্ঞানী যা বলেছিলেন


মূল প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান (বোটানি) বিভাগের অধ্যাপক নুহু আলম জানিয়েছিলেন, তুলসী, পুদিনা, ল্যাভেন্ডার ও গাঁদাজাতীয় গাছে কিছু কীট প্রতিরোধক যৌগ থাকে। তাঁর ব্যাখ্যা ছিল, একটি যৌগের দুই ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকে, একটি শারীরিক, অন্যটি রাসায়নিক। গাছের পাতা বা ফুলের তীব্র গন্ধ এর শারীরিক বৈশিষ্ট্যের অংশ। কিন্তু শুধু গন্ধ যথেষ্ট নয়, কীট প্রতিরোধক যৌগের সক্রিয় উপস্থিতিও থাকতে হবে। তবেই এ ধরনের গাছ মশা দূর করতে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মশা মারতেও কাজ করে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ড. মো. নুহু আলমকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; তিনি ছত্রাকবিদ্যা (মাইকোলজি), উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব ও উদ্ভিদ ভাইরাসবিদ্যা নিয়ে পড়ান ও গবেষণা করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, ঘাস প্রজাতির উদ্ভিদ সাইট্রোনেলা এবং রোজমেরি ও লেমন বামের মতো গাছও মশা দূরে রাখতে পারে। আগারগাঁও, গুলশান, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, দোয়েল চত্বর এলাকাসহ ঢাকার বিভিন্ন নার্সারিতে এসব গাছের চারা পাওয়া যেত; চারার বয়স অনুসারে দাম ছিল ৭০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।

একটি সংশোধন: সাইপারমেথ্রিন ও ম্যালাথিয়ন গাছের যৌগ নয়


মূল প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সাইপারমেথ্রিন ও ম্যালাথিয়ন জাতীয় সক্রিয় যৌগ মশার ডিম, লার্ভা ও বৃদ্ধি রোধ ও ধ্বংস করতে কাজ করে। এই তথ্যটি সংশোধন দরকার, কারণ এই দুটি রাসায়নিকের কোনোটিই তুলসী, পুদিনা, ল্যাভেন্ডার বা গাঁদা থেকে আসে না, কোনো গাছ থেকেই আসে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটি ও দেশটির পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) মিলে পরিচালিত ন্যাশনাল পেস্টিসাইড ইনফরমেশন সেন্টারের (এনপিআইসি) তথ্যপত্র অনুযায়ী, সাইপারমেথ্রিন একটি পাইরেথ্রয়েড কীটনাশক, যা প্রথম কৃত্রিমভাবে তৈরি হয় ১৯৭৪ সালে। এটি পাইরেথ্রাম নির্যাসের পাইরেথ্রিনের মতো একটি কৃত্রিম রাসায়নিক; পাইরেথ্রয়েড তৈরি করা হয়েছিল যাতে তা পাইরেথ্রিনের চেয়ে বেশি সময় কার্যকর থাকে। যে পোকা এটি খায় বা এর সংস্পর্শে আসে, সাইপারমেথ্রিন দ্রুত তার কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে।

এনপিআইসির ভাষায়, ম্যালাথিয়ন অর্গানোফসফেট নামের রাসায়নিক পরিবারের একটি কীটনাশক। যুক্তরাষ্ট্রে এটি প্রথম নিবন্ধিত হয় ১৯৫৬ সালে এবং জনস্বাস্থ্যের মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি এমন একটি এনজাইমের কাজ আটকে দেয়, যা স্বাভাবিকভাবে স্নায়ুর সংকেত থামায়; ফলে পোকার স্নায়ু অনবরত সংকেত পাঠাতে থাকে, পোকা স্বাভাবিকভাবে নড়তে বা শ্বাস নিতে পারে না।

এই বিভ্রান্তির পেছনে অবশ্য একটি সত্যিকারের উদ্ভিদজাত কীটনাশক আছে। এনপিআইসি জানায়, পাইরেথ্রিন হলো কিছু চন্দ্রমল্লিকা (ক্রিসানথিমাম) ফুলে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া কীটনাশক, ছয়টি রাসায়নিকের এক মিশ্রণ, যা পোকার জন্য বিষাক্ত; গোটা ফুল গুঁড়া করলে তাকে বলে পাইরেথ্রাম পাউডার। পাইরেথ্রাম তৈরি হয় Chrysanthemum cinerariifolium ও Chrysanthemum coccineum প্রজাতির শুকনো ফুল থেকে। এরা গাঁদার মতোই সূর্যমুখী পরিবারের সদস্য, কিন্তু বাংলাদেশে বাগানে যে গাঁদা ফোটে তা এই গাছ নয়, আর টবে লাগানো জীবন্ত গাছ ঘরের বাতাসে পাইরেথ্রিন ছড়ায় না।

গাছের গন্ধ মশার ওপর কীভাবে কাজ করে


২০১১ সালে ম্যালেরিয়া জার্নালে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের মার্তা ফেরেইরা মাইয়া ও সারা মুর উদ্ভিদভিত্তিক কীট প্রতিরোধক নিয়ে তখন পর্যন্ত জানা তথ্য একত্র করেন। পোকা গন্ধ টের পায় যখন বাতাসে ভাসা গন্ধের অণু তাদের শুঙ্গ ও মুখাংশের গ্রাহক প্রোটিনে যুক্ত হয়। পর্যালোচনায় দেখানো হয়েছে, এর কিছু গ্রাহক যেমন মানক কৃত্রিম প্রতিরোধক ডিইইটিতে সাড়া দেয়, তেমনি সাড়া দেয় সাইট্রোনেলাল, লিনালুল ও ইউক্যালিপটলের মতো উদ্ভিদ যৌগেও।

পর্যালোচনায় লেখা আছে, মশা তাড়াতে শত শত বছর ধরে গাছ পোড়ানো হয়েছে; প্রাচীন গ্রিক, রোমান ও ভারতীয় লেখকদের লেখাতেও এর উল্লেখ আছে। এতে আরও বলা হয়েছে, পুদিনা পরিবারের (ল্যামিয়েসি) অনেক গাছ, সুগন্ধি ঘাস (পোয়েসি) ও পাইন পরিবারের গাছ গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এখনো ঘরের ভেতরে পোড়ায় বা ঝুলিয়ে রাখে।

দুর্বলতা হলো সময়। পর্যালোচনা অনুযায়ী, উদ্ভিদজাত প্রতিরোধকের সক্রিয় উপাদান খুব উদ্বায়ী; প্রয়োগের পর অল্প সময় কাজ করে, তারপর দ্রুত উবে যায় এবং ব্যবহারকারী অরক্ষিত হয়ে পড়েন। এ কারণেই বাতাসে ভাসা পাতার গন্ধ ত্বকে মাখা পরীক্ষিত প্রতিরোধকের চেয়ে অনেক দুর্বল।

উদ্ভিদ থেকে পাওয়া একটি পণ্য অবশ্য ব্যতিক্রম। লেমন ইউক্যালিপটাস (Corymbia citriodora) গাছের পাতা থেকে পাওয়া পিএমডিকে (প্যারা-মেনথেন-৩,৮-ডায়োল) পর্যালোচনায় একমাত্র উদ্ভিদভিত্তিক প্রতিরোধক বলা হয়েছে, যা প্রমাণিত কার্যকারিতার কারণে রোগপ্রবণ এলাকায় ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) সুপারিশ করেছে। পর্যালোচনায় উদ্ধৃত বলিভিয়ার এক মাঠ গবেষণায় ত্বকে ৩০ শতাংশ পিএমডি মাখলে চার ঘণ্টা ধরে মশা থেকে ৯৬.৮৮ শতাংশ সুরক্ষা মিলেছিল। তবে এটি প্রক্রিয়াজাত নির্যাস, টবের গাছ নয়।

জীবন্ত গাছ নিয়ে পরীক্ষায় যা পাওয়া গেছে


গোটা, জীবন্ত গাছ নিয়ে পরীক্ষা হয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি। প্রথমটি করেন কেনিয়ার ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অব ইনসেক্ট ফিজিওলজি অ্যান্ড ইকোলজির (আইসিপ) আবেবে সেয়ুম ও তাঁর সহকর্মীরা; ২০০২ সালে তা আমেরিকান জার্নাল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিনে প্রকাশিত হয়। জাল-ঘেরা একটি গ্রিনহাউসের ভেতরে পরীক্ষামূলক কুঁড়েঘরে টবের গাছ রেখে তাঁরা ম্যালেরিয়ার বাহক অ্যানোফিলিস গ্যাম্বিয়ি মশা ছেড়েছিলেন।

তুলসীর আত্মীয় এক জাতের বাসিল Ocimum americanum গড়ে ৩৯.৭ শতাংশ মশা দূরে রেখেছিল। ল্যান্টানা (Lantana camara) রেখেছিল ৩২.৪ শতাংশ, আর Lippia uckambensis ৩৩.৩ শতাংশ। বাসিলের সঙ্গে লিপিয়া একসঙ্গে রাখলে এই হার দাঁড়ায় ৪৫.২ শতাংশে। কিন্তু আরও দুটি Ocimum প্রজাতি, লেমন ইউক্যালিপটাস, নিম (Azadirachta indica) এবং গাঁদা প্রজাতি Tagetes minuta জীবন্ত টবের গাছ হিসেবে মশাকে উল্লেখযোগ্যভাবে দূরে রাখতে পারেনি।

একই দল এরপর পশ্চিম কেনিয়ার প্রচলিত ঘরবাড়িতে পরীক্ষা চালায় এবং ২০০৩ সালে ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল হেলথ সাময়িকীতে ফল প্রকাশ করে। টবে রাখা Ocimum americanum অ্যানোফিলিস গ্যাম্বিয়ি মশার ৩৭.৯১ শতাংশ এবং ল্যান্টানা ২৭.২২ শতাংশ দূরে রেখেছিল, কিন্তু ম্যালেরিয়ার আরেক বাহক অ্যানোফিলিস ফুনেস্টাসকে কোনো টবের গাছই দূরে রাখতে পারেনি। পরিবর্তিত চুলায় গাছের পাতা গরম করলে ফল ভালো হয়েছিল; লেমন ইউক্যালিপটাসের পাতায় তা পৌঁছেছিল ৪৮.৭১ শতাংশে।

গবেষকেরা উপসংহারে বলেন, দুটি পদ্ধতিই ঘরের বাড়তি সুরক্ষার উপায় হতে পারে এবং মশারির উপযোগী সহায়ক হতে পারে, বিশেষ করে সন্ধ্যার শুরুতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে। অর্থাৎ সবচেয়ে ভালো ফলেও অর্ধেকের বেশি মশা দূরে যায়নি, আর গবেষকেরা গাছকে মশারির বিকল্প নয়, মশারির সঙ্গে বাড়তি উপায় হিসেবে দেখিয়েছেন।

বাংলাদেশে ফোটা গাঁদা ফুল (Tagetes patula)। ছবি: কামরুল ইসলাম শাহীন / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশে ফোটা গাঁদা ফুল (Tagetes patula)। ছবি: কামরুল ইসলাম শাহীন / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

প্রতিবেদনের গাছগুলো একে একে


তুলসী (Ocimum tenuiflorum, আরেক নাম Ocimum sanctum) পুদিনা পরিবার ল্যামিয়েসির একটি সুগন্ধি বহুবর্ষজীবী গাছ, যার আদি নিবাস এশিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপগ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চল। ভারতের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের গবেষকদের ২০০৯ সালের এক পর্যালোচনায় তুলসীর যেসব গুণ নিয়ে গবেষণা হয়েছে তার মধ্যে মশা তাড়ানোর ক্ষমতাও আছে, তবে সেখানে বলা হয়েছে, এসব প্রমাণের বেশির ভাগ গবেষণাগার ও প্রাণীর ওপর পরীক্ষা থেকে, মানুষের ওপর গবেষণা কম। ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (আইসিএমআর) ভেক্টর কন্ট্রোল রিসার্চ সেন্টারের ২০১৭ সালের এক গবেষণাগার পরীক্ষায় ইথানলে ২০ শতাংশ তুলসীর তেলের দ্রবণ ডেঙ্গুর বাহক এডিস ইজিপ্টাই মশাকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত বসতে দেয়নি; পিপারমিন্ট তেলেও একই ফল মিলেছিল, যা ২০ শতাংশ ডিইইটির সমান। তবে এগুলো ছিল পাতন করা তেল, গাছের পাতা নয়।

পুদিনা (Mentha) একই পরিবারের একটি গণ, যাতে আনুমানিক ১৮ থেকে ২৪টি প্রজাতি আছে। মাইয়া ও মুরের পর্যালোচনায় পিপারমিন্ট তেলকে তুলনামূলক কার্যকর সুগন্ধি তেলগুলোর মধ্যে রাখা হয়েছে; উদ্ধৃত গবেষণাগুলোতে এসব তেল ম্যালেরিয়া, গোদরোগ ও পীতজ্বরের বাহক মশাকে ৬০ থেকে ১৮০ মিনিট দূরে রেখেছিল। বলিভিয়ার এক মাঠ গবেষণায় কেরোসিনের বাতিতে জাপানি পুদিনার তেল পোড়ালে ঘরের ভেতরে ম্যানসোনিয়া মশা থেকে ৪১ শতাংশ সুরক্ষা মিলেছিল।

ভারতের জম্মুর একটি রান্নাঘর-বাগানে পুদিনা (Mentha spicata)। ছবি: বিক্রমাদিত্যসুমব্রিয়া / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ভারতের জম্মুর একটি রান্নাঘর-বাগানে পুদিনা (Mentha spicata)। ছবি: বিক্রমাদিত্যসুমব্রিয়া / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ল্যাভেন্ডার (Lavandula) সেজ পরিবারের ৪৭টি জানা প্রজাতির একটি গণ, যার আদি নিবাস ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতীয় উপমহাদেশ পর্যন্ত। ল্যাভেন্ডারের তেল পাতন করা হয় এর ফুলের মঞ্জরি থেকে, সুগন্ধি শিল্পে তা বহুল ব্যবহৃত। মাইয়া ও মুরের পর্যালোচনা অনুযায়ী, বেশ কিছু সুগন্ধি ভেষজে পাওয়া যৌগ লিনালুল কিউলেক্স মশার সেই একই গন্ধ-গ্রাহকে কাজ করে, যেখানে ডিইইটি কাজ করে; তবে এই প্রতিবেদনের জন্য দেখা সূত্রগুলোতে জীবন্ত ল্যাভেন্ডার গাছ নিয়ে মশার ওপর কোনো পরীক্ষা পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশে গাঁদা বলতে সাধারণত Tagetes erecta বা Tagetes patula বোঝায়; এদের আদি নিবাস মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা, মালা গাঁথার জন্য ব্যাপকভাবে চাষ হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ২০১১ সালে জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানক পদ্ধতিতে করা গবেষণাগার পরীক্ষায় Tagetes erecta ফুলের নির্যাস কিউলেক্স কুইনকুইফ্যাসিয়াটাস মশার লার্ভা মেরেছে; একই বছর ব্রাজিলের এক গবেষণায় এই ফুলের তেল এডিস ইজিপ্টাইয়ের লার্ভার বিরুদ্ধে কার্যকর পাওয়া যায়। তবে এসব ফল লার্ভাসহ পানিতে মেশানো নির্যাসের, জানালার পাশে দাঁড়ানো গাঁদা গাছের নয়; আর কেনিয়ার পরীক্ষায় জীবন্ত গাঁদা প্রজাতি Tagetes minuta পূর্ণবয়স্ক মশাকে উল্লেখযোগ্যভাবে দূরে রাখতে পারেনি।

জার্মানির ভিটজেনহাউজেনের একটি গ্রিনহাউসে সাইট্রোনেলা ঘাস (Cymbopogon nardus)। ছবি: জেমস স্টিকলি / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
জার্মানির ভিটজেনহাউজেনের একটি গ্রিনহাউসে সাইট্রোনেলা ঘাস (Cymbopogon nardus)। ছবি: জেমস স্টিকলি / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সাইট্রোনেলা Cymbopogon গণের একটি ঘাস, লেমনগ্রাসের আত্মীয়। এর পাতা ও কাণ্ড থেকে পাওয়া তেল থেকে সুগন্ধি, সাবান ও মোমবাতি শিল্পের জন্য সাইট্রোনেলাল, সাইট্রোনেলল ও জেরানিয়ল আসে। মাইয়া ও মুরের পর্যালোচনা বলছে, সাইট্রোনেলা অনেক বাণিজ্যিক প্রতিরোধকে জায়গা পেয়েছে কার্যকারিতার চেয়ে বেশি পরিচিতির জোরে: সমান মাত্রায় শুরুতে এটি ডিইইটির মতোই শক্তিশালী, কিন্তু তেল দ্রুত উবে যায়, আর সাইট্রোনেলাভিত্তিক প্রতিরোধক শিকার খোঁজা মশা থেকে মোটে প্রায় দুই ঘণ্টা সুরক্ষা দেয়।

রোজমেরি (Salvia rosmarinus, আগের নাম Rosmarinus officinalis) পুদিনা পরিবারের একটি চিরসবুজ গুল্ম, আদি নিবাস ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল। লেমন বাম (Melissa officinalis) একই পরিবারের লেবুর গন্ধওয়ালা বহুবর্ষজীবী গাছ, যার পাতার তেলে জেরানিয়াল ও নেরাল থাকে। দুটিই রান্নায় ব্যবহৃত সুগন্ধি ভেষজ; এই প্রতিবেদনের জন্য দেখা সূত্রগুলোতে এর কোনোটিকেই জীবন্ত টবের গাছ হিসেবে মশার বিরুদ্ধে পরীক্ষার তথ্য পাওয়া যায়নি।

তেল, মোমবাতি ও ধোঁয়া: প্রমাণ যা বলে


গাছের গন্ধ অন্যভাবেও ছড়ানো যায়, প্রতিটিরই সীমাবদ্ধতা আছে। পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বাইরে ব্যবহারের জন্য বহুল বিক্রি হওয়া সাইট্রোনেলা ও জেরানিয়লের মোমবাতি মাঠ গবেষণায় উপদ্রবকারী মশার কামড় প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়েছে, কিন্তু কামড় থেকে উল্লেখযোগ্য সুরক্ষা দেয়নি।

পাতা পোড়ালে অল্প সময়ের জন্য মশা দূরে থাকতে পারে। পর্যালোচনার সারণিতে কয়েকটি মাঠ গবেষণার কথা আছে, যেখানে বাসিল, লেমন ইউক্যালিপটাস বা নিমপাতার ধোঁয়া পোড়ানোর সময় মোটামুটি ৭০ শতাংশ বা তার বেশি সুরক্ষা দিয়েছিল। এই সুরক্ষা থাকে কেবল পোড়ানোর সময় বা তার কিছু পরে পর্যন্ত, কেনিয়ার চুলা-পরীক্ষাতেও তা দেখা গেছে।

প্রাকৃতিক মানেই নিরাপদ নয়। পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সাধারণত ধরে নেওয়া হয় উদ্ভিদভিত্তিক প্রতিরোধক প্রাকৃতিক বলে ডিইইটির চেয়ে নিরাপদ, অথচ ডিইইটি কঠোর পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেছে এবং এর নিরাপত্তার রেকর্ড ভালো। অনেক সুগন্ধি তেল ত্বকে প্রদাহ (কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস) ঘটাতে পারে, আর বেশি মাত্রার সুগন্ধি তেলযুক্ত প্রতিরোধক ত্বকে জ্বালা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে রোদে। পর্যালোচনার নিরাপত্তা সারণিতে বাসিল তেলে ক্যানসার সৃষ্টিকারী মিথাইল ইউজিনল থাকার কথা এবং Tagetes minuta গাঁদার তেলকে রোদে ত্বকে জ্বালা সৃষ্টিকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই পরামর্শ ছাড়া শিশু বা সংবেদনশীল ত্বকের কারও গায়ে এসব তেল মাখা উচিত নয়।

যেখানে মশা রোগ ছড়ায়, সেখানকার জন্য পর্যালোচনার রায় স্পষ্ট: ডিইইটির মতো সক্রিয় উপাদান ছাড়া শুধু সুগন্ধি তেলের প্রতিরোধক রোগপ্রবণ এলাকায় ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করা উচিত নয়। ডেঙ্গু যেখানে স্থানীয় রোগ, সেই বাংলাদেশ এমনই একটি এলাকা।

জার্মানিতে ফুটে থাকা ল্যাভেন্ডার (Lavandula angustifolia)। ছবি: নরবার্ট নাগেল / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
জার্মানিতে ফুটে থাকা ল্যাভেন্ডার (Lavandula angustifolia)। ছবি: নরবার্ট নাগেল / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

বাংলাদেশের ঘরবাড়ির আশপাশের মশা


বারান্দায় যে মশা আসে, সব এক রকম নয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কীটতত্ত্ব গবেষণাগারের কবিরুল বাশার ও তাঁর সহকর্মীদের এক গবেষণা ২০১৬ সালে প্যাথোজেনস অ্যান্ড গ্লোবাল হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। ২০১২ সালের মে ও জুনে ঢাকার আধা-শহুরে এলাকার ১৪ ধরনের প্রজননস্থল থেকে তাঁরা ৬ হাজার ৮৮টি মশার লার্ভা সংগ্রহ করেন। এগুলো ছিল পাঁচটি গণের ১২টি প্রজাতির, যার মধ্যে এডিস ইজিপ্টাই, এডিস অ্যালবোপিকটাস, তিনটি অ্যানোফিলিস প্রজাতি ও চারটি কিউলেক্স প্রজাতি ছিল। সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় কিউলেক্স কুইনকুইফ্যাসিয়াটাস, তারপর কিউলেক্স ট্রাইটেনিওরিনকাস।

কিউলেক্স কুইনকুইফ্যাসিয়াটাস পরিচিত ‘সাউদার্ন হাউস মসকিটো’ নামে। ঢাকার ওই গবেষণায় প্রতিটি কিউলেক্স প্রজাতির লার্ভা বেশি পাওয়া গেছে সেই পানিতে, যার রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা বেশি, অর্থাৎ যা জৈব দূষণে ভরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, কিউলেক্স মশা জাপানিজ এনকেফালাইটিস, গোদরোগ (লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস) ও ওয়েস্ট নাইল জ্বর ছড়াতে পারে; এডিস মশা ছড়ায় ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, পীতজ্বর ও জিকা; আর অ্যানোফিলিস ছড়ায় ম্যালেরিয়া। ডব্লিউএইচও জানায়, ডেঙ্গু ছড়ানো মশা দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে।

ঝুঁকিটি কাল্পনিক নয়। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ রেকর্ড পরিমাণ ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের মুখে পড়ে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে ঢাকা ট্রিবিউন ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর জানায়, সে বছর দেশজুড়ে ৯১ হাজার ৮৬৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, অথচ ২০০০ সাল থেকে ২০১৮ সালের শেষ পর্যন্ত পুরো সময়ে শনাক্ত ডেঙ্গু রোগী ছিলেন ৫০ হাজার ১৭৬ জন। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ততদিনে সে বছরের ৯৩টি ডেঙ্গু মৃত্যু নিশ্চিত করেছিল, আরও কিছু মৃত্যু তখনো পর্যালোচনাধীন ছিল।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শ


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিংবা ওপরের কোনো গবেষণাই বলেনি যে ঘরের গাছ পরিবারকে মশাবাহিত রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে। ডেঙ্গু ও অন্যান্য বাহকবাহিত রোগ নিয়ে ডব্লিউএইচওর নির্দেশনায় কামড় কমানোর যেসব উপায় বলা হয়েছে:

  • শরীরের যতটা সম্ভব বেশি অংশ ঢাকা থাকে এমন পোশাক পরুন।
  • খোলা ত্বকে মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করুন; ডব্লিউএইচও ডিইইটি, পিকারিডিন বা আইআর৩৫৩৫ যুক্ত পণ্যের কথা বলেছে, মোড়কের নির্দেশনা মেনে ব্যবহার করতে হবে।
  • মশারি টানিয়ে ঘুমান, সম্ভব হলে কীটনাশকযুক্ত মশারি, দিনে ঘুমালেও, কারণ ডেঙ্গুর মশা দিনে কামড়ায়।
  • জানালা ও দরজায় নেট লাগান; মশার কয়েল ও অন্যান্য বাষ্পীকরণ যন্ত্রও কামড় কমাতে পারে।
  • ঘরের পানি রাখার পাত্র প্রতি সপ্তাহে ঢেকে রাখুন, খালি করুন ও পরিষ্কার করুন; কঠিন বর্জ্য ও বৃষ্টির পানি জমতে পারে এমন সব জিনিস সরিয়ে ফেলুন, যাতে মশা বংশবিস্তার করতে না পারে।

কেনিয়ার গবেষকেরা যেমন বলেছেন, সুগন্ধি গাছ এসব ব্যবস্থার পাশাপাশি থাকতে পারে, হয়তো সন্ধ্যার শুরুতে বারান্দায়, কিন্তু মশারি, পরীক্ষিত প্রতিরোধক আর খালি পানির পাত্রের বিকল্প তা নয়। ডেঙ্গুর মৌসুমে কারও জ্বর হলে ঘরোয়া উপায়ের ওপর ভরসা না করে চিকিৎসকের কাছে বা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া উচিত।

গাছ কেনা ও যত্ন


যাঁরা গন্ধ, রান্নায় ব্যবহার বা ঘরে একটু সবুজের জন্য এসব গাছ রাখতে চান, তাঁদের জন্য মূল প্রতিবেদন জানিয়েছিল, ঢাকার নার্সারিতে, বিশেষ করে আগারগাঁও, গুলশান, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও দোয়েল চত্বর এলাকায়, চারার বয়স অনুযায়ী ৭০ থেকে ৩০০ টাকায় এসব চারা সহজেই মেলে।

তুলসী, পুদিনা, রোজমেরি, লেমন বাম ও ল্যাভেন্ডার পুদিনা পরিবারের গাছ, সাইট্রোনেলা একটি ঘাস, আর গাঁদা সূর্যমুখী পরিবারের। মাইয়া ও মুরের পর্যালোচনা জানায়, পাতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে গাছ সাধারণত উদ্বায়ী যৌগ ছাড়ে; পাতা ঘষলে এসব ভেষজের গন্ধ সবচেয়ে তীব্র হওয়ার এটি একটি কারণ। কোন গাছের কেমন মাটি, রোদ ও পানি লাগে, নার্সারির কর্মীরা তা জানাতে পারবেন। টবের নিচের থালায় জমে থাকা পানি নিয়মিত ফেলে দিতে হবে, যাতে টব নিজেই মশার প্রজননস্থল না হয়ে ওঠে।

ছবি: মালয়ালম উইকিপিডিয়ার চাল্লিয়ান / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)

সূত্র: দ্য এগ্রো নিউজ (নিজস্ব প্রতিবেদক), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যালেরিয়া জার্নাল (মাইয়া ও মুর, ২০১১), আমেরিকান জার্নাল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন (সেয়ুম ও সহকর্মী, ২০০২), ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল হেলথ (সেয়ুম ও সহকর্মী, ২০০৩), ন্যাশনাল পেস্টিসাইড ইনফরমেশন সেন্টার, প্যারাসাইটোলজি রিসার্চ (লালথাজুয়ালি ও ম্যাথু, ২০১৭), ইন্ডিয়ান জার্নাল অব ফিজিওলজি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি (মণ্ডল ও সহকর্মী, ২০০৯), এশিয়ান প্যাসিফিক জার্নাল অব ট্রপিক্যাল বায়োমেডিসিন (নিক্কন ও সহকর্মী, ২০১১), জার্নাল অব দি আমেরিকান মসকিটো কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশন (মার্কেস ও সহকর্মী, ২০১১), প্যাথোজেনস অ্যান্ড গ্লোবাল হেলথ (বাশার ও সহকর্মী, ২০১৬), ঢাকা ট্রিবিউন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

দৈনন্দিন

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

সাতক্ষীরার বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত পরিবারের ৭৪.৯ শতাংশ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীন

ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও নদীভাঙনে ঘর হারিয়ে সাতক্ষীরা শহরের বস্তিতে ওঠা ৩৫৮ পরিবারের ওপর খানি বাংলাদেশ ও প্রানের গবেষণায় দেখা গেছে, ৭৪.৯ শতাংশ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীন, সামাজিক সুরক্ষার আওতায় মাত্র ৭.৫ শতাংশ।

চ্যানেল আই অনলাইন১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
দৈনন্দিন

এলপিজি ব্যবসায়ীদের দুই দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার, ২৯ অক্টোবর গণশুনানি করবে বিইআরসি

সরকারের কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি আর বিইআরসির সঙ্গে আলোচনার পর ১৫ ও ১৬ অক্টোবর দোকান বন্ধ রাখার কর্মসূচি তুলে নিয়েছেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা; তাঁদের দাবি নিয়ে ২৯ অক্টোবর গণশুনানি।

নিউজবাংলা ২৪১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
দৈনন্দিন

ঘাটাইলের চান্দশীতে মাসের পর মাস জলাবদ্ধতা, পানির নিচে আবাদি জমি

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভার চান্দশী গ্রামে ড্রেনেজ না থাকায় শত শত পরিবার পানিবন্দি, আবাদি জমি তলিয়ে চাষ করতে পারছেন না কৃষকেরা; ইউএনও বলছেন, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হবে।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)