খাদ্যের ক্ষতি ও অপচয়কে কেবল পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে নয়, খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি ও কৃষকের আয় বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। ২৯ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক খাদ্য ক্ষতি ও অপচয় সচেতনতা দিবস উপলক্ষে এমনটাই লিখেছেন সিজিআইএআরের ফুড ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড সিকিউরিটি কর্মসূচির শহুরে খাদ্য ব্যবস্থা বিভাগের প্রধান ড. Mukani Moyo (মুকানি মোয়ো)। মতামত লেখকের নিজস্ব।
মোয়ো মনে করিয়ে দেন, ফসল তোলা থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৩ শতাংশ খাদ্য নষ্ট হয়, আর ভোক্তার জন্য থাকা খাদ্যের আনুমানিক ১৯ শতাংশ অপচয় হয়। ক্ষতি শুরু হয় থালায় পৌঁছানোর অনেক আগেই: খামারে, ফসল তোলা ও নাড়াচাড়ায়, গুদামে ও পরিবহনে, আর গ্রামের উৎপাদককে বড় হতে থাকা শহরের সঙ্গে যুক্ত করা বাজারে। প্রতিটি ক্ষতি কৃষকের আয় কমায় এবং খাদ্য উৎপাদনে লাগা জমি, পানি, জ্বালানি ও শ্রম নষ্ট করে।
পচনশীল খাদ্যের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এফএওর তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছেন, ফল, সবজি, মূল ও কন্দজাতীয় ফসল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে; আলু ও মিষ্টি আলুতে দুর্বল নাড়াচাড়া, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজার সংযোগ ক্ষতি বাড়ায়। সমাধানের মধ্যে আছে স্থানীয় অবস্থার উপযোগী জাত, উন্নত নাড়াচাড়া, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত প্রযুক্তি, মূল্য সংযোজন আর শক্তিশালী বাজার সংযোগ; বিদ্যুৎ কম এমন এলাকায় সৌরচালিত কোল্ড চেইন তাজা পণ্য বেশি দিন ভালো রাখতে পারে।
চক্রাকার পদ্ধতির উদাহরণও দিয়েছেন তিনি। ভিয়েতনামে কৃষকেরা গবাদিপশুর গোবর কম্পোস্ট করে আবার জমিতে দিচ্ছেন। ঘানায় গবেষকেরা শহরের জৈব বর্জ্য থেকে কৃষির জন্য মূল্য ফেরানোর উপায় খুঁজছেন। কেনিয়ার নাইরোবিতে স্কুলশিক্ষার্থীরা দুপুরের খাবারের উচ্ছিষ্ট খাওয়াচ্ছে ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই পোকার লার্ভাকে; সেই লার্ভা হচ্ছে মুরগি ও শূকরের আমিষসমৃদ্ধ খাদ্য, আর অবশিষ্ট অংশ সবজি বাগানের সার। পেরুর লিমায় খাদ্য উদ্ধার উদ্যোগ স্থানীয় উৎপাদকদের সঙ্গে কমিউনিটি রান্নাঘরের যোগ ঘটাচ্ছে, আর ফিলিপাইনের কুইজন সিটিতে একটি ভেন্ডর বিজনেস স্কুল বাজারের বিক্রেতাদের খাদ্য নিরাপত্তা, নাড়াচাড়া ও সংরক্ষণ শেখাচ্ছে।
মোয়োর যুক্তি, শুধু প্রযুক্তি দিয়ে এই রূপান্তর আসবে না: সমাধান বড় পরিসরে নিতে অর্থ, অবকাঠামো, দক্ষতা আর ক্ষতি কোথায় ও কেন হয় তা নিয়ে গবেষণা লাগবে, সঙ্গে কৃষক, ব্যবসায়ী, স্থানীয় সরকার ও ভোক্তার মধ্যে আলোচনা। তাঁর মতে শহরের উদ্যোগকে শহরে খাদ্য জোগানো বৃহত্তর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে হবে, যাতে যা উৎপাদন হয় তার বেশির ভাগই অপচয় না হয়ে খাদ্য, আয় ও সুযোগে পরিণত হয়।
সূত্র: CGIAR



মন্তব্য
(০)