সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

পাঁচটি গরু দিয়ে শুরু, মিরসরাইয়ের আরবিসি এগ্রো খামারে এখন প্রায় ৫০০ পশু

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ২০১২ সালে পাঁচটি গরু নিয়ে শুরু হওয়া আরবিসি এগ্রো টুরিজম লিমিটেডের খামারে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তিন শতাধিক গরুসহ প্রায় ৫০০ পশু ছিল; সেবারের ঈদুল আজহায় খামারটি দুই শতাধিক গরু-মহিষ বিক্রি করে।

পাঁচটি গরু দিয়ে শুরু, মিরসরাইয়ের আরবিসি এগ্রো খামারে এখন প্রায় ৫০০ পশু
লাইভস্টক

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়নে ডোমখালী বেড়িবাঁধের পাশে গড়ে ওঠা আরবিসি এগ্রো টুরিজম লিমিটেডের খামারের যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র পাঁচটি গরু দিয়ে। জাগো নিউজ ২৪ ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই জানায়, খামারটিতে তখন তিন শতাধিক গরু ছিল; ছাগল, মহিষ ও ভেড়া মিলিয়ে পশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০০। সেবারের ঈদুল আজহায় খামারটি থেকে দুই শতাধিক গরু-মহিষ বিক্রি হয়।

মিরসরাই চট্টগ্রাম জেলার একটি উপজেলা; এর দক্ষিণ সীমা বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেল। উপজেলার আয়তন ৪৮২ দশমিক ৮৮ বর্গকিলোমিটার, ইউনিয়ন ১৬টি, সাহেরখালী তার একটি। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী এখানে ৪ লাখ ৭২ হাজার ৭৯৪ জন মানুষের বাস।

পাঁচটি গরু থেকে প্রায় ৫০০ পশু


খামারের স্বত্বাধিকারী ওই এলাকার বাসিন্দা শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০১২ সালে ৫টি গরু নিয়ে ছোট পরিসরে শুরু করেছি। এরপর ধীরে ধীরে পরিধি বাড়াতে থাকি। গরুর পাশাপাশি ছাগল, মহিষ, ভেড়া পালন শুরু করেছি।’ গরুর সংখ্যা ধাপে ধাপে ১০টি, ২৫টি করে বেড়ে তিন শতাধিকে পৌঁছায়।

প্রায় ২২ একর জায়গা নিয়ে খামারটি। গরু ও মহিষের পাশাপাশি এখানে ভেড়া, ছাগল, হাঁস, মুরগি ও কবুতর পালন করা হয়, মাছ চাষের জন্য আছে পুকুর। মালিকের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ১৫ জন লোক খামারে কাজ করেন। সেবারের ঈদুল আজহায় গরুর পাশাপাশি ২৫টি মহিষও বিক্রি হয়।

খামারের ম্যানেজার রাশেদ নুর জাগো নিউজকে জানান, খামারে শাহীওয়াল, জার্সি, ভুট্টি ও হাঁসা জাতের গরু রয়েছে। এর মধ্যে শাহীওয়াল ভারতীয় উপমহাদেশের একটি দেশি জেবু জাতের গরু, নাম এসেছে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের সাহিওয়াল জেলা থেকে। দুধ, মাংস ও হালচাষ তিন কাজেই এ জাতের গরু পালন করা হয়; এটি গরম সহ্য করতে পারে, গায়ের রং লালচে বাদামি। ফ্রিজিয়ান ও জার্সির মতো ইউরোপীয় দুগ্ধ জাতের সঙ্গে সংকরায়ণে শাহীওয়াল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

একটি দুগ্ধ খামারে শাহীওয়াল জাতের গাভি, ভারতের পাঞ্জাব। ছবি: Harvinder Chandigarh / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
একটি দুগ্ধ খামারে শাহীওয়াল জাতের গাভি, ভারতের পাঞ্জাব। ছবি: Harvinder Chandigarh / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

নিজের জমির ঘাস আর খড়েই পশুর খাবার


গরু, মহিষসহ খামারের পশুদের জন্য নিজের জমিতে নেপিয়ার ঘাস ও ভুট্টা চাষ করা হয়। সঙ্গে প্রায় ৩ একর জমিতে চাষ করা ধানের খড়ও খাওয়ানো হয়। শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের নিজের জমিতে উৎপাদিত খাবার খাওয়ানো হয় পশুগুলোকে। বাইরের কোনো খাবার প্রয়োজন হয় না।’

নেপিয়ার ঘাস, যার আরেক নাম হাতি ঘাস (বৈজ্ঞানিক নাম Cenchrus purpureus), আফ্রিকার উষ্ণমণ্ডলের বহুবর্ষজীবী ঘাস। পশুখাদ্যের তথ্যভান্ডার ফিডিপিডিয়ার বর্ণনায় এটি উষ্ণমণ্ডলের সবচেয়ে বেশি ফলনের পশুখাদ্য ঘাসগুলোর একটি; কেটে এনে গোয়ালে খাওয়ানোর পদ্ধতিতে ছোট ও বাণিজ্যিক দুই ধরনের খামারেই এর ব্যাপক ব্যবহার। গাছ ৪ থেকে ৭ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয় এবং সাধারণত কাণ্ডের কাটিং দিয়ে লাগানো হয়।

পশুখাদ্য হিসেবে চাষ করা নেপিয়ার ঘাস। ছবি: Salil Kumar Mukherjee / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
পশুখাদ্য হিসেবে চাষ করা নেপিয়ার ঘাস। ছবি: Salil Kumar Mukherjee / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

জাগো নিউজের প্রতিবেদক সরেজমিনে খামারে গিয়ে দেখেন, একাধিক কর্মচারী গরুর পরিচর্যা করছেন। ছোট গরুগুলো একসঙ্গে রাখা হলেও বড় গরুগুলো আলাদা আলাদা কক্ষে রাখা হয়, মহিষ রাখা হয় আলাদা জায়গায়। কেউ গরুকে গোসল করাচ্ছিলেন, কেউ খাবার দিচ্ছিলেন, কেউ ময়লা পরিষ্কার করছিলেন।

বাংলাদেশে মহিষের গোসল। ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বাংলাদেশে মহিষের গোসল। ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

উপজেলার বড় খামারগুলোর একটি


মিরসরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শুভ সূত্রধর জাগো নিউজকে বলেন, ‘মিরসরাই উপজেলায় ছোট বড় অনেক খামারি রয়েছে। তার মধ্যে আরবিসি এগ্রো খামার অন্যতম। স্বল্প সংখ্যক গরু দিয়ে শুরু করলেও এখন এটি উপজেলার অন্যতম একটি বড় খামারে পরিণত হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে বিভিন্ন সময় তাদের সহযোগিতা করা হয়।’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাবে দেশে গরু ছিল ২৫১ দশমিক ৭১ লাখ, ছাগল ২৭২ দশমিক ৯১ লাখ, ভেড়া ৩৯ দশমিক ৮১ লাখ এবং মহিষ ১৫ দশমিক ৩২ লাখ। একই অর্থবছরে দুধের উৎপাদন ছিল ১৫৫ দশমিক ৩৮ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে চাহিদা ছিল ১৬২ দশমিক ৩৩ লাখ মেট্রিক টন। সাময়িক হিসাবে স্থির মূল্যে দেশের জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ছিল ১ দশমিক ৮১ শতাংশ, আর কৃষি জিডিপিতে ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস), ফিডিপিডিয়া (ইনরায়ে, সিরাদ, এএফজেড ও এফএও), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সৌরপ্যানেলের নিচে ভেড়া চরালে বাড়ে মৌমাছি, তবে সংখ্যা রাখতে হবে কম

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, সৌরখামারে হেক্টরপ্রতি দুটি ভেড়া চরালে ঘাস কাটার তুলনায় উপকারী পোকা ৩৮ শতাংশ বাড়ে। খামারিদের জন্য ভেড়ার পাল পরিকল্পনার একটি সহায়ক টুলও তৈরি করেছেন গবেষকেরা।

Farms.com১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

প্রোটিনের চাহিদায় বদলে গেল কানাডার দুধের বাজার, মাখনের উদ্বৃত্ত শেষ

দুগ্ধজাত প্রোটিনের চাহিদা বাড়ায় পাঁচ বছরের মধ্যে কানাডার দুধের বাজারে মাখনচর্বির কাঠামোগত উদ্বৃত্ত মিটে গেছে, দুধের দাম নির্ধারণেও এসেছে পরিবর্তন।

Manitoba Co-operator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিকি হেক্টরে ওটের বীজ চাষ, ইথিওপিয়ার এক কৃষকের পারিবারিক ব্যবসা

ইথিওপিয়ার এক ক্ষুদ্র কৃষক মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে বীজের জন্য ওট চাষ করে প্রথম ফসল ৪৫ হাজার বির্রে বিক্রি করেন এবং পরের বছর চাষ বাড়ান। আইএলআরআইয়ের পশুখাদ্যের বীজকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের অংশ এটি।

ILRI১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)