সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

গবাদিপশুর চারণ কমলে বাড়ে দাবানল, বলছেন তিন বিজ্ঞানী

বিফ সেন্ট্রালে প্রকাশিত এক কলামে ডাবলিন ডিক্লারেশনের তিন বিজ্ঞানী পাবলো মানজানো, এনরিকে মারি ও পিয়ার এডেরার যুক্তি দিয়েছেন, চারণভূমি থেকে গরু-ছাগল সরালে ঘাস-লতা জমে আগুনের জ্বালানি হয়; তাই দাবানল ঠেকাতে পরিকল্পিত চারণ দরকার।

গবাদিপশুর চারণ কমলে বাড়ে দাবানল, বলছেন তিন বিজ্ঞানী
মতামত

খোলা প্রাকৃতিক ভূমি থেকে গরু, ভেড়া ও ছাগল সরিয়ে নিলে ঘাস ও গুল্ম জমে জ্বালানিতে পরিণত হয়, ফলে দাবানল বড় ও তীব্র হয়, এমন যুক্তি দিয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। অস্ট্রেলিয়ার সাময়িকী বিফ সেন্ট্রালে প্রকাশিত এই কলাম লিখেছেন পাবলো মানজানো (Pablo Manzano), এনরিকে মারি (Enrike Maree) ও পিয়ার এডেরার (Peer Ederer)। তাঁরা মাংস ও প্রাণিসম্পদের ভূমিকা নিয়ে গঠিত ডাবলিন ডিক্লারেশন গোষ্ঠীর সদস্য। মতামত লেখকদের নিজস্ব।

তাঁদের যুক্তির শুরু বাস্তুবিদ্যা থেকে। লেখকেরা বলছেন, লাখ লাখ বছর ধরে বাইসন, অরকসের মতো বড় তৃণভোজী প্রাণী কাঠল গাছপালা নিয়ন্ত্রণে রেখে ভূমি খোলা রেখেছে। সেই প্রাণী না থাকায় এবং প্রান্তিক জমি পরিত্যক্ত হওয়ায় উদ্ভিদের স্তূপ জমছে, আর আগুনই হয়ে উঠছে একমাত্র নিয়ন্ত্রক। উদাহরণ হিসেবে তাঁরা এ বছরের পশ্চিম ইউরোপের কথা বলেছেন: জুলাইয়ের শেষ নাগাদ ফ্রান্সে প্রায় ১,১৫,০০০ হেক্টর পুড়েছে, যার ৪২,০০০ হেক্টরের বেশি জিরোঁদ অঞ্চলে, যা ১৯৪৯ সালের পর দেশটির সবচেয়ে বড় দাবানল। বেলজিয়ামের হাই ফেনসে পুড়েছে প্রায় ৩,০০০ হেক্টর। ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো আগুন থেকে বজ্রমেঘ (পাইরোকিউমুলোনিম্বাস) তৈরি হতে দেখা গেছে।

লেখকেরা দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্রি স্টেটের চারণ পরীক্ষার তথ্য দিয়েছেন। যেসব প্লটে পশু চরানো হয়নি, সেখানে সুস্বাদু ঘাস হারিয়ে গেছে, অখাদ্য প্রজাতি ২০ শতাংশ বেড়েছে, আটটি প্রজাতি কমেছে, আর হেক্টরে ৬,৭৬০ কেজি জৈববস্তু জমেছে, যার বেশির ভাগ মরা। তাঁদের ভাষায়, এটাই আগুনের জ্বালানি। অন্যদিকে পরিকল্পিত চারণের প্লটে চারণভূমির অবস্থা ৭.৯ শতাংশ ভালো হয়েছে, প্রজাতি বেড়েছে ছয়টি। গাছের সঙ্গে মিলিয়ে চারণ (সিলভোপাস্চার) জ্বালানির বোঝা কমাতে পারে বলেও তাঁরা লিখেছেন।

তাঁরা স্বীকার করেছেন, এসব তথ্য প্রমাণ করে না যে ২০২৬ সালের আগুন সরাসরি পশু কমানোর কারণে লেগেছে; তবে প্রক্রিয়াটি বৈজ্ঞানিকভাবে স্পষ্ট বলে তাঁদের দাবি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেসামরিক সুরক্ষা নির্দেশনায় চারণকে দাবানল প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে ধরা হয়েছে; স্পেন ও পর্তুগালে অগ্নিনিরোধী রেখা বরাবর পশু চরানোর প্রকল্প চলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জমিতেও লক্ষ্যভিত্তিক চারণ উৎসাহিত করা হচ্ছে। তাঁদের ভাষায়, খোলা ভূমিতে জমে ওঠা উদ্ভিদের পরিণতি দুটোই: হয় পশুর মুখে, নয় আগুনে।

খামারিদের জন্য কলামটির বার্তা হলো, চারণকে শুধু খাদ্য উৎপাদন নয়, ভূমি ব্যবস্থাপনা হিসেবেও দেখা। লেখকদের মতে, পালের আকার, চরানোর সময় আর পশুর ঘনত্ব অগ্নিনিরোধী রেখার মতোই গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা করা উচিত।

ছবি: Jeff Schmaltz, MODIS Land Rapid Response Team, NASA GSFC / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

সূত্র: বিফ সেন্ট্রাল

Beef Centralসূত্র

মতামত

সম্পর্কিত খবর

মতামত

মতামত: চীনা বালাইনাশক কোম্পানি মার্কিন কৃষকের দোরগোড়ায়, বিক্রেতারা কী করবেন

ক্রপলাইফে লেখা এক কলামে হুয়া চেং ও ডেভিড লি বলছেন, চীনা ফসল সুরক্ষা কোম্পানিগুলো মার্কিন কৃষকের কাছে পৌঁছানোর নতুন পথ পাচ্ছে, তবে স্থানীয় বিক্রেতাদের এমন কিছু শক্তি আছে যা কনটেইনারে করে পাঠানো যায় না।

ক্রপলাইফ১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

শীতে শিশুর রোটাভাইরাস ঝুঁকি, টিকা আছে, তবু সরকারি কর্মসূচিতে নেই: ফারিয়া এজাজের কলাম

আজকের পত্রিকায় ফারিয়া এজাজ লিখেছেন, আইসিডিডিআরবির হিসাবে দেশে বছরে আড়াই থেকে ৩ হাজার শিশু রোটাভাইরাসে মারা যায়; ১৩২টি দেশ টিকাটি জাতীয় কর্মসূচিতে নিলেও বাংলাদেশে এক ডোজের দাম ২,৯৯৩ টাকা, সরকারিভাবে দেওয়া হয় না।

আজকের পত্রিকা১৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

নিঃসরণ ০.০৫ শতাংশ, ক্ষতি পাহাড়সম: নেপালের শিক্ষায় অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন চান রাকিব হোসেন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির পিএইচডি গবেষক রাকিব হোসেন লিখেছেন, বিশ্বের কার্বন নিঃসরণে মাত্র ০.০৫ শতাংশ অবদানের নেপাল যেমন বারবার দুর্যোগের দাম দিচ্ছে, বাংলাদেশও তেমনি; তাই ঋণ নয়, অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন দরকার।

ঢাকা পোস্ট১৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)