সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

কিশোরগঞ্জে শিলাবৃষ্টিতে প্রায় চার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত

২০২৬ সালের ২৪ মার্চ বিকেল ও রাতে দুই দফা শিলাবৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের প্রায় চার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জেলা কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে জানা গেছে; সবচেয়ে বেশি ক্ষতি মিঠামইনসহ হাওরাঞ্চলে।

কিশোরগঞ্জে শিলাবৃষ্টিতে প্রায় চার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত
ফসল

কিশোরগঞ্জে ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ, মঙ্গলবার বজ্রসহ শিলাবৃষ্টিতে প্রায় চার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। বিকেল ও রাতে দুই দফায় এই শিলাবৃষ্টি হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জেলার পূর্বাংশের নিচু জলাভূমি হাওরাঞ্চলে, যেখানে বছরের প্রধান ফসলই বোরো ধান।

হাওর অধ্যুষিত ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী উপজেলার পাশাপাশি জেলা সদর, পাকুন্দিয়া, হোসেনপুর, কটিয়াদী ও ভৈরবের বিভিন্ন এলাকায় শিলাবৃষ্টি হয়। জাগো নিউজ ২৪ পরদিন ২৫ মার্চ জানায়, অনেক স্থানে শিলার পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে জমি ও সড়ক সাদা হয়ে যায়। পাকুন্দিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজির খেতেও ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি মিঠামইনে, আট উপজেলায় ধানের ক্ষতি


জেলা কৃষি বিভাগ ২৫ মার্চ যে হিসাব দেয়, তা ছিল শিলাবৃষ্টির পরদিন সকালের প্রাথমিক হিসাব। সেই হিসাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মিঠামইন উপজেলায়, প্রায় ২,৫০০ হেক্টর জমির বোরো ধান। এরপর ইটনায় ৯৮৬ হেক্টর এবং অষ্টগ্রামে ১৪০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকুন্দিয়ায় ১২০ হেক্টর ও নিকলীতে ১০০ হেক্টর জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া হোসেনপুরে ১০ হেক্টর, কুলিয়ারচরে ৬ হেক্টর এবং ভৈরবে ২ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রাম জেলার উত্তর-পূর্বের গভীর হাওরে পাশাপাশি অবস্থিত, আর নিকলীর অবস্থান মিঠামইনের পশ্চিমে। কৃষি বিভাগের তালিকার ক্ষতিগ্রস্ত জমির বেশির ভাগই এই চার উপজেলায়। হিসাবটি কেবল ধানের; পাকুন্দিয়ার সবজিখেতের ক্ষতির কোনো পরিমাণ সেদিন জানানো হয়নি।

ফসলের জন্য সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। হাওরে বর্ষার পানি নেমে গেলে শুষ্ক মৌসুমে বোরো রোপণ করা হয় এবং নদীর পানি আবার বাড়ার আগে, এপ্রিল ও মে মাসের শুরুতে, তা কাটা হয়। মার্চের মাঝামাঝি প্রথম আলোতে উদ্ধৃত হাওরের কৃষকেরা বলেছিলেন, ধানের শিষ, অর্থাৎ যে ছড়ায় দানা থাকে, বের হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। কিশোরগঞ্জের শিলাবৃষ্টির এক সপ্তাহ আগে পাশের জেলা সুনামগঞ্জের কৃষকেরা পত্রিকাটিকে বলেন, তাঁদের ধানগাছে তখনো থোড় আসেনি, গাছ নরম, তাই শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি বেশি হয়েছে।

কৃষি ও আবহাওয়া কর্মকর্তারা যা বললেন


কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, শিলাবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বোরো ধানের, বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে ক্ষতির মাত্রা বেশি। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি নিজেও হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন।

নিকলী আবহাওয়া অফিসের বেলুন মেকার আলতাফ হোসেন জানান, রাতে নিকলীতে ১৯ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, বৃষ্টির সঙ্গে শিলাবৃষ্টিও হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাঠপর্যায়ের সম্প্রসারণ সংস্থা। উপপরিচালকের নেতৃত্বে এর কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয় প্রতি মৌসুমে জেলার ফসলের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে এবং ঝড় বা বন্যার পর ফসলের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দেয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বোরো মৌসুমের আগে এই কার্যালয় সারের সংকট সামলাচ্ছিল। জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্বও পালন করা ড. সাদিকুর রহমান তখন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, জেলায় ১০ হাজার ১৬৪ টন ইউরিয়ার চাহিদার বিপরীতে এসেছে ৪ হাজার ৮৭৭ টন, ২ হাজার ৬৭৭ টন টিএসপির বিপরীতে ২১৫ টন, ৭ হাজার ৬৫৫ টন ডিএপির বিপরীতে ৪ হাজার ৩৯১ টন এবং ৭ হাজার ৪৩৬ টন এমওপির বিপরীতে ৩ হাজার ১২০ টন। নিকলীর এক কৃষক পত্রিকাটিকে বলেন, ১২ একর জমিতে বোরো আবাদের পরিকল্পনা থাকলেও ডিলারের কাছ থেকে তিনি মাত্র দুই বস্তা সার পেয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ ও এর হাওর উপজেলাগুলো


জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, ঢাকা বিভাগের জেলা কিশোরগঞ্জের আয়তন ২,৬৮৮.৫৯ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ, দক্ষিণে নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পূর্বে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ এবং পশ্চিমে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলা। প্রধান নদী পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, কালনী, ঘোড়াউত্রা ও ধনু। ১৮৬০ সালে ময়মনসিংহ জেলার অধীনে কিশোরগঞ্জ মহকুমা গঠিত হয় এবং ১৯৮৪ সালে এটি জেলায় পরিণত হয়। জেলায় ১৩টি উপজেলা, ৮টি পৌরসভা ও ১০৮টি ইউনিয়ন রয়েছে; ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ২৯ লাখ ১১ হাজার ৯০৭।

জেলার পূর্বাংশ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশাল হাওর অববাহিকার অংশ। বাংলাপিডিয়া কিশোরগঞ্জের প্রধান জলাভূমি হিসেবে হুমাইপুর, বড় দিঘা, ঢাকির, গোপদিঘি, বাদলা, সোনাবান্ধা ও ধনপুর হাওরের নাম উল্লেখ করেছে। শিলাবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চার উপজেলার বড় অংশই হাওর:

  • ইটনা (আয়তন ৪০১.৯৩ বর্গকিলোমিটার, ২০১১ সালে জনসংখ্যা ১ লাখ ৬৪ হাজার ১২৭) আয়তনে জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা। এর ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে ধনু, বাউলাই ও কালনী নদী; আছে হাউলার হাওর ও কয়েকটি বিল। ৭৭.৮৪ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি; প্রধান ফসল ধান, আলু, সরিষা, চীনাবাদাম ও সবজি। ১৯৭৪, ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যায় এখানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।
  • মিঠামইন (আয়তন ২২২.৯১ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ২৬) উত্তরে ইটনা ও দক্ষিণে অষ্টগ্রামের মাঝে অবস্থিত। প্রধান নদী ধনু ও কালাই; বড়গোপ, গাজারিয়া, দেউদরী, শ্রেঘর, রাতি ও নিকলী বিল উল্লেখযোগ্য। ৮২.৪৮ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি; প্রধান ফসল ধান, সরিষা, আলু, খেরাই, চীনাবাদাম ও সবজি। ঢাকি এর সাতটি ইউনিয়নের একটি, ঢাকি বাজারও উপজেলার উল্লেখযোগ্য হাট।
  • অষ্টগ্রামের (আয়তন ৩৫৫.৫৩ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ৫২৩) ভেতর দিয়ে গেছে মেঘনা, কালনী ও ঘোড়াউত্রা নদী। ৮২.৪০ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি; এখানে ধান, আলু, সরিষা, চীনাবাদাম, রসুন, পেঁয়াজ, মরিচ, হলুদ ও ধনিয়ার চাষ হয়।
  • নিকলী (আয়তন ২১৪.৩৯ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৯) বাউলাই, ধনু, সিংগুয়া ও ঘোড়াউত্রা নদীর তীরে। ৭২.০৬ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি; প্রধান ফসল ধান, গম, ভুট্টা, আলু, সরিষা, চীনাবাদাম ও সবজি।

এসব তথ্য বাংলাপিডিয়ায় দেওয়া ২০১১ সালের আদমশুমারির হিসাব। হাওরের বুক চিরে এখন একটি অলওয়েদার সড়ক ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামকে যুক্ত করেছে। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে ইটনায় ১৫০ কিলোমিটার ও মিঠামইনে ৩২ কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে, হাওর পানিতে ভরে গেলে নৌকা চলে এসব পথে।

কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলাকে যুক্ত করা অলওয়েদার সড়ক; ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তোলা ছবিতে সড়কের দুই পাশে হাওর পানিতে ভরা। ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলাকে যুক্ত করা অলওয়েদার সড়ক; ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তোলা ছবিতে সড়কের দুই পাশে হাওর পানিতে ভরা। ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

এক ফসলের জলাভূমি হাওর


বাংলাপিডিয়ার ব্যাখ্যায়, হাওর হলো ভূ-আলোড়নে সৃষ্ট বড় আকারের গামলাসদৃশ নিচু ভূমি। নদী ও খাল বেয়ে আসা পানি এতে জমে; বর্ষায় এটি বিস্তীর্ণ জলরাশিতে পরিণত হয় আর বর্ষার পর বেশির ভাগই শুকিয়ে যায়। দেশে হাওর মূলত বৃহত্তর সিলেট ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে। এই অববাহিকায় প্রায় ৪৭টি বড় হাওর এবং প্রায় ৬,৩০০ বিল আছে, যার প্রায় ৩,৫০০টি স্থায়ী ও ২,৮০০টি মৌসুমি। ভারতের পাহাড় থেকে নেমে আসা নদীগুলো সমভূমিকে ছয় মিটার পর্যন্ত গভীরে ডুবিয়ে দেয়, আর জমি সাত থেকে আট মাস পানির নিচে থাকে; তখন গ্রামগুলো দ্বীপের মতো দেখায়।

শুষ্ক মৌসুমে পানি নেমে গেলে এক বা একাধিক অগভীর বিল থেকে যায় এবং উর্বর পলিমাটি বেরিয়ে আসে, যেখানে ব্যাপকভাবে ধান চাষ হয়। বাংলাপিডিয়া জানায়, জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একসময় গোচারণে ব্যবহৃত হাওরের কিনারার জমিতেও বোরো চাষ ছড়িয়ে পড়েছে। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জের মতো কিশোরগঞ্জের হাওরের কিছু অংশে মাটির কাছাকাছি পিট মাটিও রয়েছে।

হাওরের কৃষি পঞ্জিকায় ভুলের সুযোগ কম। মার্চের মধ্যে নিচু জমির পানি সবচেয়ে কম স্তরে নেমে যায়; এপ্রিলে বজ্রঝড় শুরু হলে নিচু জমি আবার ভরতে থাকে। এ সময় টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে উত্তর-পূর্বের নদীগুলোতে আকস্মিক বন্যা আসতে পারে। ফসল রক্ষার জন্য তৈরি ডুবন্ত বাঁধের ওপর দিয়ে বন্যার পানি উঠলে বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো খেত তলিয়ে যেতে পারে বলে বাংলাপিডিয়া সতর্ক করেছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দ্য ডেইলি স্টার বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, দেশে সাত জেলার ৪৭টি উপজেলায় ৩৭৩টি হাওর আছে। জেলাগুলো হলো সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া। হাওরগুলোর আয়তন প্রায় ২ লাখ ৬৩ হাজার হেক্টর। মৎস্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেন, হাওরের বাস্তুতন্ত্র দেশের প্রায় ২২ শতাংশ গবাদিপশু ও ২৪ শতাংশ হাঁসের ভরসা। সে সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বোরো মৌসুমে এই সাত জেলায় কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একটি কর্মসূচির পরিকল্পনা করছিল।

২০২২ সালের জুলাইয়ে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় একটি সড়কের পাশে পানিতে ভরা হাওরে যাত্রীবাহী নৌকা। শুষ্ক মৌসুমে এই জমিতেই বোরো চাষ হয়। ছবি: Frameofashik / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
২০২২ সালের জুলাইয়ে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় একটি সড়কের পাশে পানিতে ভরা হাওরে যাত্রীবাহী নৌকা। শুষ্ক মৌসুমে এই জমিতেই বোরো চাষ হয়। ছবি: Frameofashik / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

বোরো মৌসুম ও এবারের লক্ষ্যমাত্রা


বাংলাদেশে আউশ, আমন ও বোরো, এই তিন মৌসুমে ধান চাষ হয়। বোরো শুষ্ক মৌসুমের ফসল, রোপণ হয় শীতকালে, আর উৎপাদনে এটিই এখন তিন মৌসুমের মধ্যে সবচেয়ে বড়। দ্য ডেইলি স্টার ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বোরোর উৎপাদন ১.২ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ১৩ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে, যা শুষ্ক মৌসুমে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। আবাদ হয়েছিল ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টরে, যার ১২ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টরে ছিল হাইব্রিড জাত। সে বছর আমনের উৎপাদন ছিল ১ কোটি ৬৪ লাখ টন, আর মোট চাল উৎপাদন ৪ কোটি ৬ লাখ টন।

২০২৫-২৬ মৌসুমের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সারা দেশে ২ কোটি ২৭ লাখ টন বোরো চাল উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করে। কিশোরগঞ্জে ডিএইর জেলা কার্যালয় ২০২৫ সালের নভেম্বরে জানায়, এবার জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্য, যা থেকে ৭ লাখ ৯৬ হাজার টন চাল উৎপাদনের আশা; আর ভুট্টা চাষের পরিকল্পনা ১১ হাজার ৭৮০ হেক্টরে। এই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৫ মার্চ গোনা প্রায় চার হাজার হেক্টরের ক্ষতি জেলার মোট বোরো জমির ছোট অংশ। তবে ক্ষতি জমেছে কয়েকটি হাওর উপজেলায়, যেখানে ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী প্রতি দশটি পরিবারের সাতটির বেশির আয়ের প্রধান উৎস কৃষি।

হাওরে ফসল মানেই পানির সঙ্গে দৌড়। ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ প্রথম আলোতে লেখক ও গবেষক গওহার নঈম ওয়ারা লেখেন, চালু বেশির ভাগ বোরো জাতের জীবনকাল ১৪০ থেকে ১৬০ দিন; এপ্রিলের আগেই ধান গোলায় তোলার উপযোগী করতে উদ্ভাবিত হয়েছে বিনা-১৭ ও ব্র্যাক ধান-২, যা চারা রোপণের ১০০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে কাটা যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের মোট বোরো ধানের প্রায় ৩০ শতাংশের জোগান আসে হাওর অঞ্চল থেকে।

২০২৬ সালের জানুয়ারির শুরুতে প্রথম আলো সিলেট সদরের শুকিয়ে আসা হাওরে কৃষকদের বোরো রোপণের ছবি প্রকাশ করে, আর ফেব্রুয়ারিতে দ্য ডেইলি স্টার সুনামগঞ্জের শনির হাওরে কৃষকদের চারা রোপণ করতে দেখে। পত্রিকাটি জানায়, সেখানে মাঘের শেষে, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে মাঝামাঝি, ধান রোপণ হয় এবং বর্ষার আগে বৈশাখের শেষে, মে মাসের শুরুতে, ধান কাটা হয়।

শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখীর মৌসুম


কিশোরগঞ্জে আঘাত হানা ঝড় বর্ষার আগের বজ্রঝড়ের মৌসুমের অংশ, যাকে দেশে কালবৈশাখী বলা হয়। বাংলাপিডিয়া কালবৈশাখীকে এমন বজ্রঝড় হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে দেশে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ে। দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস ওপরে উঠে উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম দিক থেকে আসা শীতল ও শুষ্ক বাতাসের সঙ্গে মেশে; বায়ুমণ্ডল অস্থির হয়ে উঠলে উঁচু কিউমুলোনিম্বাস মেঘ তৈরি হয়ে ঝড়ের রূপ নেয়।

বাংলাপিডিয়া বলছে, উচ্চতার সঙ্গে তাপমাত্রার দ্রুত পতন, মেঘে পানির বেশি পরিমাণ এবং প্রবল ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহের কারণে কালবৈশাখীতে শিলাবৃষ্টি সাধারণ ঘটনা; মেঘের ভেতরে বাতাস কত দ্রুত ওপরে ওঠে, তার ওপর শিলার আকার নির্ভর করে। দেশের পশ্চিমাঞ্চলে এই ঝড় সাধারণত বিকেলে আসে, কিন্তু পূর্বাঞ্চলে আসে সাধারণত সন্ধ্যার পর। কালবৈশাখীর গড় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার, ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে ১০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়, আর ঝড় সাধারণত এক ঘণ্টার কম স্থায়ী হয়। এ ধরনের বজ্রঝড় বর্ষার শেষে অক্টোবর-নভেম্বরেও হয়।

২০২৪ সালের জুনে শিলাবৃষ্টির বিজ্ঞান নিয়ে এক প্রতিবেদনে দ্য ডেইলি স্টার ব্যাখ্যা করে, শিলা তৈরি হয় কিউমুলোনিম্বাস মেঘের ভেতরে। প্রবল ঊর্ধ্বমুখী বাতাস বৃষ্টির ফোঁটাকে হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রার স্তরে নিয়ে যায়, সেখানে ফোঁটা বরফ হয়ে যায় এবং আরও পানি জমে বড় হতে থাকে; একসময় ঊর্ধ্বমুখী বাতাস আর ভার ধরে রাখতে না পারলে শিলা নিচে পড়ে। জোরালো বাতাসে আড়াআড়ি ছুটে আসা শিলা গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। পত্রিকাটি জানায়, বাংলাদেশে এক কিলোগ্রাম পর্যন্ত ওজনের শিলা পড়ার রেকর্ড আছে; ১৯৮৬ সালে গোপালগঞ্জে এমন শিলাবৃষ্টিতে ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

ঝড়ের পর ঘাসে ঢাকা মাঠে ছড়িয়ে থাকা শিলা; ছবিটি প্রতীকী, বাংলাদেশে তোলা নয়। ছবি: Soon Chun Siong / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
ঝড়ের পর ঘাসে ঢাকা মাঠে ছড়িয়ে থাকা শিলা; ছবিটি প্রতীকী, বাংলাদেশে তোলা নয়। ছবি: Soon Chun Siong / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

হাওরের জেলাগুলোতে মার্চজুড়ে ঝড়


কিশোরগঞ্জের শিলাবৃষ্টির আগে কয়েক সপ্তাহ ধরেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঝড় হচ্ছিল। দ্য ডেইলি স্টারের খবরে বলা হয়, ২০২৬ সালের ১৪ মার্চ, শনিবার রাত ১১টা থেকে দেড়টার মধ্যে নেত্রকোনার সদর, পূর্বধলা, বারহাট্টা, কলমাকান্দা, আটপাড়া ও মদন উপজেলায় শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী বয়ে যায়। নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক রাকিবুল হাসান বলেন, যেসব এলাকায় বড় শিলা পড়েছে, সেখানে ধানের চারার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে; প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমির রবিশস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মার্চের মাঝামাঝি সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টি, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে অনেক হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ১৯ মার্চ প্রথম আলোকে সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, এবার জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে এবং তাঁদের হিসাবে ৩৭০ হেক্টর জমি শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনো কোনো হাওরে পানি সরাতে কৃষকেরা বাঁধ কেটে দেন, আবার আগাম বন্যার আশঙ্কায় অনেকে বাঁধ কাটতে ভয় পাচ্ছিলেন।

এরপর ঈদুল ফিতরের সময় বৃষ্টি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ২১ মার্চ বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান হয়ে ভারতের ভেতর পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বৃষ্টিবলয়ের প্রভাবে বাংলাদেশে বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, এমন মেঘবলয় সাধারণত ডিসেম্বর থেকে মধ্য মার্চে দেখা যায়, কিন্তু এবার ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় বৃষ্টিই হয়নি, ফলে এখন পশ্চিমা লঘুচাপের এই সক্রিয়তা কিছুটা অস্বাভাবিক।

প্রায় পাকা ধানে শিলাবৃষ্টি আরও বড় ক্ষতি করতে পারে। দ্য ডেইলি স্টার জানায়, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল ভোরে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার ১৫টি গ্রামে আঘাত হানে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, প্রায় ২,০০০ ধানখেত নষ্ট হয়েছে এবং পুরো উপজেলায় প্রায় ১০ শতাংশ ফসলের ক্ষতি হয়েছে; বাসিন্দারা জানান, শিলার আঘাতে টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে।

ফসল রক্ষা বাঁধ ও আগাম বন্যার শঙ্কা


হাওরের কৃষকের সবচেয়ে বড় ভয় পাহাড়ি ঢল, অর্থাৎ ভারী বৃষ্টির পর ভারতের মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসা বর্ষার আগের আকস্মিক বন্যা, যা কয়েক ঘণ্টায় মাঠের ফসল ভাসিয়ে নিতে পারে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুনামগঞ্জ থেকে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে কৃষকেরা জানান, ২০১৬ ও ২০১৭ সালের পরপর আকস্মিক বন্যার পর অনেকে জমি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। মার্চের কলামে গওহার নঈম ওয়ারা স্মরণ করেন, ২০১৭ সালে ২৮ মার্চ থেকে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে বাঁধ ভেঙে সুনামগঞ্জসহ সিলেটের হাওরে আগাম বন্যা শুরু হয়, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পানি বাড়তে থাকে এবং বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

হাওরের ফসল রক্ষা করে ডুবন্ত বাঁধ, যা প্রতি শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে মেরামত ও নির্মাণ করা হয়। কলামটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নীতিমালায় ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কমিটি গঠন, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির সম্পাদকীয়তে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে জেলার ১২টি উপজেলার ৪২টি হাওরে ৭১০টি প্রকল্পে ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত ও নির্মাণের কাজ চলছে; বরাদ্দ আগের বছরের ১৩০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৪৫ কোটি টাকা হয়েছে। সময়সীমা ঘনিয়ে এলে প্রকল্প কর্মকর্তারা প্রায় ৬৮ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার কথা বলেন, আর হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করেন, কয়েকটি প্রকল্পে ১৫ ডিসেম্বর নামমাত্র মাটি ফেলা হয়েছে এবং পুরোদমে কাজ তখনো শুরু হয়নি। সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, সুনামগঞ্জে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর হাওরের জমিতে ধান হয় এবং এসব হাওর ১,৭০০ কিলোমিটারের বেশি বাঁধে সুরক্ষিত।

মার্চের মাঝামাঝিও সুনামগঞ্জে কাজ শেষ হয়নি, সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ মার্চ করা হয়েছিল; বণিক বার্তার বরাত দিয়ে কলামটি জানায়, কর্মকর্তারা বিলম্বের জন্য মূলত জাতীয় নির্বাচনকে দায়ী করেছেন।

ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৩.০)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাপিডিয়া, দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন), বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফসল

সম্পর্কিত খবর

ফসল

ইংল্যান্ডে যবের ফলন ১৪ বছরে সর্বনিম্ন, গম সামান্য বেশি

যুক্তরাজ্যের কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার প্রাথমিক হিসাবে ইংল্যান্ডে যব উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ৩৭ লাখ টন হয়েছে, গম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন; গমের তুলনায় পশুখাদ্যের যব বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে।

Farmers Weekly১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
বিশ্ব

ভালো ফসলের বছরেও আফগানিস্তানে শীতে তীব্র খাদ্যসংকটে পড়বে ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ

অনুকূল বৃষ্টি ও ভালো ফসলের পরও নভেম্বর-এপ্রিলে আফগানিস্তানের ৩৮ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এফএও ও ডব্লিউএফপি; গত বছর একই সময়ের পূর্বাভাস ছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ।

ডব্লিউএফপি১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

জমির সিদ্ধান্তের ভার পেয়ে তুলার ফলন সাত গুণ করলেন মহারাষ্ট্রের সুনীতা

একসময় দিনমজুরি করা, পরিবারের ১২ একর জমি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার না থাকা মহারাষ্ট্রের পাচোদ গ্রামের সুনীতা নেহারে এখন খামার চালান; মাটি ও পানি সংরক্ষণে একরপ্রতি তুলার ফলন প্রায় ১ থেকে বাড়িয়েছেন ৭ দশমিক ১৪ কুইন্টালে।

ডাউন টু আর্থ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)