২০২৬ সালের ৩০ জুন উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। যমুনা তীরের এই উপজেলায় কৃষকের খেতের ফসল, বসতঘর ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যায় এবং হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। সেদিন জাগো নিউজ ও ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন এই খবর প্রকাশ করে।
কোন এলাকায় পানি, কোন ফসলের ক্ষতি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক দিনের বর্ষণ আর উজানের ঢলে উপজেলার সাপধরী, চিনাডুলী ও নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানি বাড়তে থাকে। এতে আমন ধানের বীজতলা, শাকসবজি, পাটসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল ডুবে যায়।
ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, যমুনার বুকে চার ইউনিয়নে ২৫ হেক্টর জমির পাট, বীজতলা ও সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে।
সাপধরী ইউনিয়নের প্রজাপতি গ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিম প্রামানিক জানান, তার তিন বিঘা জমির পাট পানিতে তলিয়ে গেছে; পানি দীর্ঘ দিন থাকলে পাট নষ্ট হয়ে যাবে। একই গ্রামের রফিক মন্ডল জানান, তার ৪০ শতাংশ জমির সবজি কিছুটা তলিয়ে গেছে, পানি আরও বাড়লে বাকিটুকুও ডুবে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, ভালো ফলনের আশায় তারা ঋণ করে এবারের মৌসুমে চাষাবাদ করেছিলেন।

পানি বাড়ায় কয়েকটি গ্রামীণ সড়কও তলিয়ে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়।
বীজতলার ক্ষতি আমন মৌসুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বীজতলায় চারা তৈরি করে পরে তা জমিতে রোপণ করা হয়। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দেশে ধান চাষের মধ্যে রোপা আমনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; ২০০৯-১০ সালে দেশের ধানি জমির প্রায় ৪৬ শতাংশে রোপা আমন চাষ হয়েছিল এবং রোপা আমন সারা দেশেই চাষ হয়।

বাহাদুরাবাদ ঘাটে যমুনার পানি
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক আব্দুল মান্নান সেদিন জানান, যমুনা নদীর বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আগের ২৪ ঘণ্টায় সেখানে পানি বেড়েছিল ২৭ সেন্টিমিটার।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, "আরও ২ থেকে ৩ দিন পানি বাড়তে পারে। এতে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে এই পানি আবার খুব কম সময়ের মধ্যে কমার সম্ভাবনা রয়েছে।"
বাহাদুরাবাদ জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায়। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, এখান থেকে ব্রহ্মপুত্র পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে দক্ষিণ-পূর্বে বয়ে গেছে, আর বাহাদুরাবাদ থেকে আরিচা পর্যন্ত নদীটির নাম যমুনা। বাহাদুরাবাদে এই নদীর পানির উচ্চতা ও প্রবাহ মাপা হয়। বাংলাপিডিয়া আরও জানায়, মে থেকে জুলাই মাসের বন্যা সাধারণত ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও মেঘনার পানিতে হয়, আর বিস্তৃত বন্যার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে আগস্টে। বর্ষায় যমুনার অনেক চর পানিতে ডুবে যায়।

যমুনা তীরের উপজেলা ইসলামপুর
বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ইসলামপুর উপজেলার আয়তন ৩৫৩.৩১ বর্গকিলোমিটার। উপজেলার প্রধান নদী যমুনা, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও বাঙ্গালী। এখানে একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে, যার মধ্যে সাপধরী, চিনাডুলী ও নোয়ারপাড়াও আছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪২৯।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী। বাংলাদেশের ভেতরে এর দৈর্ঘ্য ২৭৬ কিলোমিটার, যার ২০৫ কিলোমিটার যমুনা। নদীটি গড়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার চওড়া এবং বর্ষায় কোথাও পাঁচ কিলোমিটারের কম চওড়া থাকে না, জানায় বাংলাপিডিয়া।
ছবি: Afifa Afrin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, বাংলাপিডিয়া




মন্তব্য
(০)