Skip to content
দা এগ্রো নিউজদা এগ্রো নিউজকৃষি ও কৃষকের সংবাদ
সাবস্ক্রাইব

ছাদে যেভাবে মাছ চাষ করবেন

এখন অনেকেই ছাদে মাছ করছেন। কেউ কেউ পরিবারের চাহিদা পূরণ করে বিক্রি করেও বাড়তি আয় করেন। মাছ চাষে আপনার যেমন প্রতিদিনের প্রয়োজন মিটবে তেমনি অর্থনৈতিক ভাবেও আপনি হতে পারেন সাবলম্বী

জাগোনিউজ২৪.কম১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ · ২ মিনিটের পড়া
ছাদকৃষি

এখন অনেকেই ছাদে মাছ করছেন। কেউ কেউ পরিবারের চাহিদা পূরণ করে বিক্রি করেও বাড়তি আয় করেন। মাছ চাষে আপনার যেমন প্রতিদিনের প্রয়োজন মিটবে তেমনি অর্থনৈতিক ভাবেও আপনি হতে পারেন সাবলম্বী। অবশ্য এ জন্য আপনার মাছের ঘের বা পুকুরের দরকার হবে না। সাধারণ পদ্ধতির চেয়ে ঘরের ভেতর বা আঙিনায় অথবা বাড়ির ছাদে ড্রামে বা ট্যাঙ্কিতে মাছ চাষ করে তিনগুণেরও বেশি লাভবান হতে পারেন। এমন পদ্ধতি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বাংলাদেশের কৃষি গবেষকরা।

আধুনিক এ প্রযুক্তির নাম ‘বায়োফ্লক’। এ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একোয়াকালচার বিভাগের একদল গবেষক। গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ছাদে স্থাপন করা হয়েছে বায়োফ্লক ল্যাব। গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন একোয়াকালচার বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এ এম সাহাবউদ্দিন।

বায়োফ্লক সম্পর্কে গবেষক দলের প্রধান ড. এ এম সাহাবউদ্দিন বলেন, ‘বায়োফ্লক হলো প্রোটিনসমৃদ্ধ জৈব পদার্থ এবং বিভিন্ন অণুজীবের সমষ্টি। এখানে অণুজীব মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মূলত উপকারী ব্যাকটেরিয়া দিয়ে পানিতে উচ্চ কার্বন নাইট্রোজেন অনুপাত নিশ্চিত করে ক্ষতিকর অ্যামোনিয়াকে রূপান্তর করা হয় অণুজীব আমিষে।’

বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষের প্রক্রিয়া সম্পর্কে গবেষকরা জানান, প্রথমে ট্যাঙ্কে পানি দিয়ে এক সপ্তাহ অক্সিজেন সরবরাহ করতে হবে। এতে আয়রন বা অন্য ভারী পদার্থ থাকলে উপরে জমা হবে। এরপর প্রতি ১ হাজার লিটারে এক কেজি হারে আয়োডিনমুক্ত সাধারণ লবণ প্রয়োগ করতে হবে। এরপর টিডিএস ১২০০ এর ওপরে হলে প্রতি ১ হাজার লিটারে ১০ গ্রাম চুন প্রয়োগ করতে হবে। কার্বনের উৎস হিসেবে চিটাগুড় ৫০-১০০ গ্রাম দিতে হবে। সবসময় অক্সিজেনের সরবরাহ রাখতে হবে। দুই সপ্তাহ পর এতে বায়োফ্লক (ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া, শৈবাল, ডায়াটম) তৈরি হবে। পানিতে ৩০-৪০ সেন্টিমিটার বায়োফ্লক তৈরি হলে মাছ ছাড়া যাবে। এ জন্য দরকার উপকারী ব্যাকটেরিয়ার উৎস, নিয়মিত পানির গুণাগুণ পরীক্ষা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং সর্বদা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

ড. এ এম সাহাবউদ্দিন আরো বলেন, বায়োফ্লক পদ্ধতিতে শিং, মাগুর, পাবদা, গুলশা, কৈ, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা যেতে পারে। যেখানে উৎপাদন বাড়বে সনাতন পদ্ধতির চেয়ে তিনগুণ। রোগের প্রাদুর্ভাব কম হওয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দশগুণ বেশি ঘনত্বে মাছ চাষ করা যায়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য মাছ চাষের এ প্রযুক্তি হতে পারে নতুন দিগন্ত।

মাঠ পর্যায়ে এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশব্যাপী এ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে পারলে মাছের উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব।

আপনিও বাড়ির ছাদে মাছ চাষের চেষ্ট করতে পারেন।

ট্যাগ#মাছ চাষ#ছাদ বাগান#ছাদকৃষি#মাছ
জাগোনিউজ২৪.কমদা এগ্রো নিউজ

সম্পর্কিত খবর

মন্তব্য

()
ছাদে যেভাবে মাছ চাষ করবেন | দা এগ্রো নিউজ