সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

মিরসরাইয়ের পাহাড়ে ইন্দোনেশিয়ার চারায় অ্যাভোকাডো, কেজি ৮০০ টাকা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. ওমর শরীফ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জানান, ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা ১০টি চারার গাছ থেকে তিনি ৫০০ কেজির বেশি অ্যাভোকাডো তুলেছেন এবং প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

মিরসরাইয়ের পাহাড়ে ইন্দোনেশিয়ার চারায় অ্যাভোকাডো, কেজি ৮০০ টাকা
ফল

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার পাহাড়ি একটি খামারে ২০২৫ সালে অ্যাভোকাডোর ফলন আগের বছরগুলোর চেয়ে ভালো হয়েছিল বলে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জাগো নিউজ ২৪ জানায়। বাগানটির মালিক তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা ও বৃক্ষপ্রেমী মো. ওমর শরীফ। পত্রিকাটির মিরসরাই উপজেলা প্রতিনিধি এম মাঈন উদ্দিনকে তিনি বলেন, প্রতি কেজি অ্যাভোকাডো ৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন এবং সামনের বছরগুলোতে চাষের পরিধি অনেক বাড়াতে চান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমর শরীফ ইন্দোনেশিয়া থেকে ১০টি অ্যাভোকাডো চারা এনে নিজের খামার জোহরা এগ্রো ফার্মস অ্যান্ড নার্সারিতে লাগান। তাঁর ভাষ্য, নিয়মিত পরিচর্যায় দুই বছরের মধ্যে গাছগুলোতে ফল আসতে শুরু করে, আর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত তিনি ৫০০ কেজির কিছু বেশি ফল সংগ্রহ করেছেন। প্রতিবেদনে তাঁর বাগানকে মিরসরাই তথা চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রথম সফল অ্যাভোকাডো চাষ হিসেবে তুলে ধরা হয়; উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, উপজেলায় তিনিই প্রথম এ ফল চাষে সফল হয়েছেন।

উদ্যোক্তা ও কৃষি অফিস যা বলেছে


ওমর শরীফ জাগো নিউজকে বলেন, তাঁর সাফল্য দেখে অনেকেই উৎসাহিত হয়ে অ্যাভোকাডো চাষ শুরু করেছেন। তাঁর ভাষায়, 'উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে বিদেশি ফলের চাষ দেশে সম্প্রসারিত হলে একদিকে খাদ্যে পুষ্টি চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে; অন্যদিকে কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের পথ তৈরি হবে। আমি প্রতি কেজি অ্যাভোকাডো ৮০০ টাকা করে বিক্রি করছি। অনলাইনে বেশি বিক্রি হয়।'

তিনি আরও জানান, তিনি মেক্সিকান জাতের প্রতিস্থাপনযোগ্য অ্যাভোকাডো চারা লাগিয়েছেন, যা তাঁর মতে কম খরচে স্থানীয় চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে। প্রতিবেদনে দুটি তথ্য পাশাপাশি এসেছে: চারা কেনা হয়েছে ইন্দোনেশিয়া থেকে, আর উদ্যোক্তার বর্ণনায় জাতটি মেক্সিকান। এ দুটি তথ্য পরস্পরবিরোধী নয়, কারণ অ্যাভোকাডোর জাত ভাগ করা হয় উদ্ভিদতাত্ত্বিক গোষ্ঠী বা 'রেস' অনুযায়ী, চারা কোন দেশ থেকে কেনা হয়েছে তা দিয়ে নয়; বিষয়টি নিচে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো জাতের নাম দেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি ফলের ওজন প্রায় ৪০০ থেকে ৮০০ গ্রাম। ভেতরের অংশ মাখনের মতো মসৃণ, স্বাদ হালকা মিষ্টি। অ্যাভোকাডো কাঁচা বা পাকা অবস্থায়, সবজি হিসেবে, সালাদে, স্যান্ডউইচে কিংবা টোস্টে খাওয়া যায় এবং দেশের বাজারে এ ফলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় ওমর শরীফকে একজন সৌখিন কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি পত্রিকাটিকে বলেন, 'উপজেলায় প্রথমবার অ্যাভোকাডো চাষ করে সফল হয়েছেন। তার বাগানের ফলগুলো বড় বড়।' তিনি আরও জানান, এই উদ্যোক্তা পিচফল, থাই সফেদাসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফল চাষ করেছেন, এবং তাঁর উদ্যোগকে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকরণীয় বলে উল্লেখ করেন।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে অ্যাভোকাডো ছাড়াও খামারের গাছের তালিকায় ছিল কিউই (প্রতিবেদনে 'মিয়ামোটা' নামে উল্লেখিত), ব্লুবেরি, ব্ল্যাকবেরি, মাল্টা, লেবু, কমলালেবু ও কফি। ওমর শরীফ পত্রিকাটিকে আরও জানান, থাইল্যান্ড থেকে আনা অ্যাভোকাডোর চারা বাজারজাত করার পরিকল্পনাও তাঁর আছে।

২০২৩ সাল থেকে খবরে আসা তিন মৌসুমের ফলন


এই বাগান নিয়ে সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর প্রতিবেদনটিই প্রথম নয়। ২০২৩ সালের ১ আগস্ট জাগো নিউজ ২৪ 'মিরসরাইয়ে অ্যাভোকাডো চাষে সফল ওমর শরীফ' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, আর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একই প্রতিনিধি আবার খামারটিতে যান।

২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওমর শরীফ বলেন, কয়েক বছর আগে ইন্দোনেশিয়া থেকে ১০টি অ্যাভোকাডো চারা সংগ্রহ করে বাগানে লাগানো হয় এবং ২০২২ সাল থেকে কয়েকটি গাছে ফল আসতে শুরু করে। তখন পাহাড়ের গাছে থোকায় থোকায় ফল ঝুলছিল এবং কয়েক দিনের মধ্যেই তা সংগ্রহের কথা ছিল, তবে শিলাবৃষ্টির কারণে আগের বছরের তুলনায় ফলন কম হয়েছিল বলে তিনি জানান। সে সময়ই তাঁর নার্সারিতে থাইল্যান্ড থেকে সংগ্রহ করা অ্যাভোকাডো চারা বিক্রি হচ্ছিল। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় তখন পত্রিকাটিকে বলেছিলেন, তিনি এখনো বাগানটিতে যাননি, গিয়ে দেখে আসবেন।

২০২৪ সালের প্রতিবেদনে অ্যাভোকাডোর আকারকে পেয়ারা বা নাশপাতির মতো বলা হয়, যার ভেতরে বেশ বড় ডিম্বাকার বীজ থাকে। খামারের অন্য গাছের দীর্ঘ তালিকাও তাতে ছিল: মিয়াজাকি ও আলফানসোসহ নানা জাতের আম, দারচিনি, লবঙ্গ, পুলসান, রাম্বুটান, আপেল, তেঁতুল, থাই সফেদা, কয়েক ধরনের মাল্টা, চাইনিজ ও দার্জিলিং কমলা, চায়না-৩ লিচু, লটকন এবং ভিয়েতনামি ও শ্রীলঙ্কান নারকেল।

দুটি প্রতিবেদন মিলিয়ে দেখা যায়, গাছগুলোতে প্রথম ফল আসে ২০২২ সালে, ২০২৪ সালে শিলাবৃষ্টিতে ফলন কমে যায়, আর ২০২৫ সালে ফলন ভালো হয়; তখন উদ্যোক্তা এ পর্যন্ত মোট সংগ্রহ ৫০০ কেজির কিছু বেশি বলে জানান। চারা ঠিক কবে লাগানো হয়েছিল, কোনো প্রতিবেদনেই সে তারিখ নেই। তাই দুই বছরের মধ্যে ফল আসার তথ্যটি উদ্যোক্তার নিজের বক্তব্য।

মিরসরাই: পাহাড়, নদী আর কৃষি


মিরসরাই চট্টগ্রাম জেলার সবচেয়ে উত্তরের উপজেলা। এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রকাশিত জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার হিসাবে উপজেলাটির আয়তন ৪৮২.৮৮ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদর উপজেলা, দক্ষিণে সীতাকুণ্ড উপজেলা ও বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ফটিকছড়ি উপজেলা এবং পশ্চিমে সোনাগাজী ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। প্রধান নদী ফেনী; সন্দ্বীপ চ্যানেল এবং ইছাখালী, মহামায়া, ডোমখালী, হিঙ্গুলী ও মায়ানী খাল এখানকার উল্লেখযোগ্য জলাধার।

বাংলাপিডিয়া উপজেলার জনসংখ্যা ৩,৯৮,৭১৬ জন উল্লেখ করেছে এবং আয়ের একক বৃহত্তম উৎস হিসেবে কৃষিকে দেখিয়েছে, যার হার ৩৮.৯৩ শতাংশ। প্রধান ফসলের তালিকায় আছে ধান, ডাল, আলু, বেগুন, শাকসবজি ও বাঁশ, আর প্রধান ফলের তালিকায় আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, লিচু, আনারস ও তরমুজ। সে তালিকায় অ্যাভোকাডোর নাম নেই, যা থেকে বোঝা যায় এলাকায় ফসলটি কতটা নতুন। উপজেলার প্রধান রপ্তানিপণ্য হিসেবে বাঁশ, মাছ, ধান, আলু, কলা ও শাকসবজির নাম রয়েছে।

উপজেলার একটি অংশ পাহাড়ি ও বনভূমিতে ঘেরা; বাংলাপিডিয়া দর্শনীয় স্থানের মধ্যে করেরহাট ফরেস্ট রেঞ্জ ও মুহুরী প্রকল্পের নাম উল্লেখ করেছে। পুরো চট্টগ্রাম জেলার জন্য বাংলাপিডিয়ায় বার্ষিক গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন ১৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মোট বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৩,১৯৪ মিলিমিটার লেখা আছে। এমন ভেজা আবহাওয়ায় জলাবদ্ধতা সইতে না পারা যেকোনো ফলগাছের জন্য পানি নিষ্কাশন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার পাহাড়ে খৈয়াছড়া ঝরনা। ছবি: Rony Barua / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার পাহাড়ে খৈয়াছড়া ঝরনা। ছবি: Rony Barua / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

অ্যাভোকাডো কী


অ্যাভোকাডো (বৈজ্ঞানিক নাম Persea americana) গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আমেরিকার আদি চিরসবুজ গাছ। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার ইনস্টিটিউট অব ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্সেসের (ইউএফ/আইএফএএস) বহুল ব্যবহৃত সম্প্রসারণ নির্দেশিকা অনুযায়ী, কলম্বাস-পূর্ব যুগ থেকেই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আমেরিকায় এর চাষ হয়ে আসছে। গাছটি মাঝারি থেকে বড় আকারের হয়, উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার থেকে প্রায় ২০ মিটার পর্যন্ত। কোনো কোনো জাতের গাছ ফুল আসার আগে ও ফুল ফোটার সময় অল্প সময়ের জন্য পাতা ঝরায়।

উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় অ্যাভোকাডোর ফল একধরনের বেরি, যার ভেতরে একটি বড় বীজ ঘিরে থাকে মাখনের মতো শাঁস। জাতভেদে খোসা পাতলা বা পুরু, মসৃণ বা খসখসে হয়, আর পাকার সময় রং সবুজ, কালো, বেগুনি বা লালচে হতে পারে। তথ্যসূত্র অনুযায়ী একটি অ্যাভোকাডোর ওজন সাধারণত ১০০ থেকে ১,০০০ গ্রাম; ফলে মিরসরাইয়ের ফলের ৪০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজন স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই পড়ে।

অন্য অনেক ফলের মতো অ্যাভোকাডো সাধারণত গাছে থাকা অবস্থায় পাকে না। গাছে এটি পরিপক্ব হয়, আর নরম হয় গাছ থেকে তোলার বা ঝরে পড়ার পর। ইউএফ/আইএফএএস জানায়, পরিপক্ব ফল তোলার ৩ থেকে ৮ দিনের মধ্যে পাকে। ফসল তোলার উপযুক্ত হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে তারা বাড়ির বাগানিদের একটি বড় ফল তুলে ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেখার পরামর্শ দেয়: ঠিকমতো নরম হলে ফসল পরিপক্ব, আর কুঁচকে গেলে বা রাবারের মতো হয়ে গেলে বুঝতে হবে আগেভাগে তোলা হয়েছে। পরিপক্ব ফল গাছে রেখে দেওয়া যায় বলে একটি গাছ থেকে কিছুদিন ধরে ফল তোলা সম্ভব, তবে বেশি দিন রেখে দিলে শেষ পর্যন্ত ফল ঝরে পড়ে।

আমেরিকা মহাদেশ থেকে ফসলটি অনেক আগেই অন্য অঞ্চলে ছড়িয়েছে। অ্যাভোকাডোর ইতিহাস অনুযায়ী ১৬০১ সালে এটি স্পেনে এবং আনুমানিক ১৭৫০ সালে ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছায়। ইউএফ/আইএফএএসের নির্দেশিকায় মেক্সিকো, ব্রাজিল, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল, চিলি ও স্পেনের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়াকেও বাণিজ্যিক অ্যাভোকাডো উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৩ সালে বিশ্বে ১ কোটি ৪ লাখ ৭০ হাজার টন অ্যাভোকাডো উৎপাদিত হয়। শীর্ষে ছিল মেক্সিকো, ২৯ লাখ ৭০ হাজার টন; এরপর কলম্বিয়া, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র ও পেরু, আর পঞ্চম ইন্দোনেশিয়া, ৮ লাখ ৭০ হাজার টন।

রিইউনিয়ন দ্বীপে ফুল আসতে শুরু করা একটি অ্যাভোকাডো গাছ। ছবি: B.navez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
রিইউনিয়ন দ্বীপে ফুল আসতে শুরু করা একটি অ্যাভোকাডো গাছ। ছবি: B.navez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

মেক্সিকান, গুয়াতেমালান ও ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ধরন


উৎপত্তিস্থল অনুযায়ী অ্যাভোকাডোর জাতগুলোকে তিনটি গোষ্ঠী বা 'রেস'-এ ভাগ করা হয়: মেক্সিকান, গুয়াতেমালান ও ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান। ইউএফ/আইএফএএসের ব্যাখ্যায়, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান অ্যাভোকাডোর উৎপত্তি দক্ষিণ মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় নিম্নভূমিতে, আর গুয়াতেমালান ও মেক্সিকান ধরনের উৎপত্তি গুয়াতেমালা ও মেক্সিকোর মাঝারি উচ্চতার পার্বত্য অঞ্চলে। বাণিজ্যিক অনেক জাতই দুই গোষ্ঠীর সংকর, যাদের বৈশিষ্ট্য দুই মাতৃ-পিতৃ গোষ্ঠীর মাঝামাঝি।

আবহাওয়া সহ্য করার ক্ষমতায় এই গোষ্ঠীগুলো আলাদা। ইউএফ/আইএফএএসের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ও কিছু সংকর জাত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় নিম্নভূমির আবহাওয়ায় সবচেয়ে ভালো মানিয়ে নেয়, অন্যদিকে মেক্সিকান জাতগুলো শীত বেশি সহ্য করতে পারে এবং নির্দেশিকার ভাষায় 'গ্রীষ্মমণ্ডলীয় নিম্নভূমির পরিবেশে ভালোভাবে খাপ খায় না'। গুয়াতেমালান ও মেক্সিকান সংকর জাত সাধারণত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ও গুয়াতেমালান সংকরের চেয়ে বেশি শীতসহিষ্ণু।

এ কারণেই 'ইন্দোনেশিয়ার চারা, মেক্সিকান জাত' ধরনের বর্ণনা থেকে একজন কৃষক বুঝতে পারেন না গাছটি কেমন ফল দেবে। চারা কোন দেশ থেকে কেনা হয়েছে তা থেকে তার গোষ্ঠী বোঝা যায় না, আর গোষ্ঠী কেবল একটি মোটা দাগের নির্দেশনা; ফলের আকার, মৌসুম ও আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট জাত, যার নাম প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। যাঁরা এ ফল চাষ করতে চান, তাঁরা উপজেলা কৃষি অফিস বা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) হর্টিকালচার সেন্টারে খোঁজ নিতে পারেন, কোন চারা স্থানীয়ভাবে পরীক্ষিত।

ফুল ফোটার ধরনও অ্যাভোকাডোকে জটিল করে তোলে। এর ফুল উভলিঙ্গ, কিন্তু স্ত্রী ও পুং অংশ দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সক্রিয় হয়; এই সময়ের ভিত্তিতে জাতগুলোকে 'এ' ও 'বি' ধরনে ভাগ করা হয়। ইউএফ/আইএফএএস জানায়, কিছু জাত একা লাগালেও ভালো ফল ধরে, আবার কিছু জাতের ক্ষেত্রে কাছাকাছি অন্য ধরনের একটি জাত একই সময়ে ফুল দিলে ফলন ভালো হয়; মৌমাছি ও বোলতা পরপরাগায়ন ঘটায়। একটি অ্যাভোকাডো গাছের ফুলের ১ শতাংশেরও কম শেষ পর্যন্ত ফলে পরিণত হয়, আর কিছু জাত এক বছর পরপর ভালো ফলন দেয়। নির্দেশিকা বলছে, নিয়মিত সার ও পানি পাওয়া গাছে এই প্রবণতা কম দেখা যায়।

গাছ কীভাবে চাষ হয়


বেশির ভাগ অ্যাভোকাডো জাতের বীজ থেকে একই জাতের গাছ হয় না, অর্থাৎ বীজের চারা মাতৃগাছের গুণ ধরে রাখে না। তাই নার্সারিতে বাছাই করা জাতের ডাল একটি কচি বীজের চারার (আদিজোড়) ওপর কলম করে চারা তৈরি করা হয়। ইউএফ/আইএফএএস জানায়, ফ্লোরিডায় ফাটল কলম (ক্লেফট গ্রাফটিং) সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি এবং সেখানে কলমের গাছে ৩ থেকে ৪ বছরে ফল আসে। বীজ থেকে জন্মানো গাছে ফল আসতে মোটামুটি চার থেকে ছয় বছর লাগে, কখনো দশ বছরও লেগে যায়।

বাংলাদেশে ডিএইয়ের 'বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প'-এর তৎকালীন পরিচালক ড. মেহেদী মাসুদ ২০২২ সালের জুলাইয়ে জাগো নিউজকে বলেছিলেন, সাধারণত কলমের অ্যাভোকাডো চারায় পাঁচ বছর পর এবং বীজের চারায় আট বছর পর ফল ধরে।

জমি বাছাইয়ে সবচেয়ে জরুরি বিষয় পানি নিষ্কাশন। ইউএফ/আইএফএএসের নির্দেশিকা বলছে, অ্যাভোকাডো গাছ নানা ধরনের ভালো নিষ্কাশিত মাটিতে মানিয়ে নিলেও বন্যা বা জলাবদ্ধ মাটি সহ্য করতে পারে না। মাটি দীর্ঘ সময় ভেজা বা পানির নিচে থাকলে গাছের বৃদ্ধি ও ফলন কমে, পুষ্টির ঘাটতির লক্ষণ ও ডাল শুকিয়ে যাওয়া দেখা দেয়, এমনকি গাছ মারাও যেতে পারে; এ অবস্থায় শিকড়ে ফাইটোফথোরা ছত্রাকের আক্রমণের ঝুঁকিও খুব বেশি থাকে। নির্দেশিকায় ফাইটোফথোরা সিনামোমি ছত্রাকজনিত শিকড় পচাকে বিশ্বের বেশির ভাগ অ্যাভোকাডো উৎপাদন এলাকার সবচেয়ে গুরুতর রোগ বলা হয়েছে। যেখানে পানি জমার আশঙ্কা আছে, সেখানে স্থানীয় মাটি দিয়ে উঁচু ঢিবি বানিয়ে তার ওপর গাছ লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকার অন্য মৌলিক পরামর্শগুলো হলো পূর্ণ রোদে, ভবন ও অন্য গাছ থেকে যথেষ্ট দূরে গাছ লাগানো এবং শুকনো মৌসুমে কচি গাছে নিয়মিত পানি দেওয়া। নির্দেশিকা সতর্ক করে, জোরালো বাতাসে বা অতিরিক্ত ফলের ভারে অ্যাভোকাডোর ডাল সহজেই ভেঙে যায়; তাই বড় গাছ ছেঁটে নাগালের মধ্যে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, এতে ঝড়ে ক্ষতিও কমে। ফ্লোরিডার জন্য তালিকাভুক্ত পোকা ও রোগের মধ্যে আছে স্কেল পোকা, মাকড়, থ্রিপস, স্ক্যাব, অ্যানথ্রাকনোজ ও পাউডারি মিলডিউ। নির্দেশিকার সারের মাত্রা ফ্লোরিডার মাটির জন্য লেখা; বাংলাদেশের চাষিদের সার প্রয়োগ ও বালাই দমনের পরামর্শ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে নেওয়া উচিত।

জাত ও পরিচর্যাভেদে ফলনে বড় পার্থক্য হয়। ইউএফ/আইএফএএসের তথ্যে ফ্লোরিডায় পরিণত গাছ বছরে গড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৭৫ কেজি ফল দেয়। অস্ট্রেলিয়ার উৎপাদন নিয়ে এফএওর একটি প্রকাশনায় বাণিজ্যিক বাগানের গড় ফলন হেক্টরপ্রতি প্রায় সাত টন বলা হয়েছে, কোনো কোনো বাগানে যা ২০ টন পর্যন্ত পৌঁছায়।

ব্রাজিলের সেয়ারা রাজ্যের পাকাজুসের একটি নার্সারিতে সদ্য কলম করা অ্যাভোকাডো চারা। ছবি: Porto Neto / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ব্রাজিলের সেয়ারা রাজ্যের পাকাজুসের একটি নার্সারিতে সদ্য কলম করা অ্যাভোকাডো চারা। ছবি: Porto Neto / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

২০২৫ সালের আগে বাংলাদেশে অ্যাভোকাডো


মিরসরাইয়ের এই প্রতিবেদনের কয়েক বছর আগে থেকেই অ্যাভোকাডো সম্ভাবনাময় বিদেশি ফলের তালিকায় ছিল। ২০২১ সালের আগস্টে বিবিসি বাংলা ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি, মাল্টা, রাম্বুটান, রকমেলন ও লংগানের সঙ্গে অ্যাভোকাডোকে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক সম্ভাবনাময় সাতটি বিদেশি ফলের একটি হিসেবে উল্লেখ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে অ্যাভোকাডো চাষের চেষ্টা চলছে, ভালো মানের চর্বির জন্য এটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়, এবং বছরে একবার জুলাই-আগস্টে এর ফলন হয়।

একই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ফল বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বাবুল চন্দ্র সরকার বলেন, সাধারণত মে থেকে জুলাই মাসে দেশের বাজারে প্রচুর ফল থাকে, এরপর সরবরাহ কমতে থাকে; এ কারণেই অন্য গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের ফল এ দেশে উৎপাদনের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। ডিএইয়ের ফল প্রকল্পের পরিচালক ড. মেহেদী মাসুদ বিবিসিকে জানান, প্রকল্পের ফলের চারা-কলম বিক্রি ২০১৯-২০ সালের ৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২০-২১ সালে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, এবং উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়ছে।

২০২২ সালের জুলাইয়ে জাগো নিউজ ২৪ ডিএইয়ের মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টার থেকে প্রতিবেদন করে, সেখানে তিনটি অ্যাভোকাডো গাছে শতাধিক ফল এসেছিল; কয়েক বছর ধরে ফল দেওয়া সবচেয়ে বড় গাছটি থেকে সে মৌসুমে প্রায় অর্ধশত পরিপক্ব ফল পাওয়া যায়। ড. মেহেদী মাসুদ জানান, প্রকল্পটি ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে অ্যাভোকাডোর চারা এনে প্রতিটি হর্টিকালচার সেন্টারে দিয়েছে, সেখানে ফল এসেছে এবং চারা সম্প্রসারণ চলছে। সেন্টারের উপপরিচালক এস এম সালাহউদ্দিন বলেন, ঢাকার কোনো কোনো জায়গায় অ্যাভোকাডো ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়; প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের কয়েকটি বাজারে আমদানি করা অ্যাভোকাডো প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি নাগাদ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষকেরাও এ ফল চাষ করছিলেন। ২০২৫ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানায়, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে ২০২৪-২৫ মৌসুমে ঝিনাইদহে ২ হেক্টর জমিতে অ্যাভোকাডো চাষ হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলার চাচড়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা শাহিনুর রহমান বাসসকে বলেন, ২০১৯ সালে একজন কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে থাইল্যান্ড থেকে অ্যাভোকাডোর চারা এনে তিনি তিন বিঘা জমিতে লাগান এবং প্রায় পাঁচ বছর পর প্রথম ফল পান। তাঁর ভাষ্য, স্থানীয় বাজারে অ্যাভোকাডো কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়, তবে ঢাকা-চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছে গড়ে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যায়। ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ষষ্ঠী চন্দ্র রায় বাসসকে বলেন, বিদেশি ফলের আবাদ বাড়লে ফল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মিরসরাইয়ে ওমর শরীফের জানানো ৮০০ টাকা কেজি দর ২০২২ সালে ঢাকার এবং ২০২৫ সালের মাঝামাঝি ঝিনাইদহের উদ্ধৃত দামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

পুষ্টিগুণ ও একটি সংশোধন


২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অ্যাভোকাডোতে চিনির পরিমাণ কম হওয়ায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) খাদ্য উপাদান তথ্যভান্ডার দিয়ে দুটি দাবিই যাচাই করা যায়। ইউএসডিএর হিসাবে প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা অ্যাভোকাডোতে থাকে ৬৭০ কিলোজুল (১৬০ কিলোক্যালরি) শক্তি, ১৪.৬৬ গ্রাম চর্বি, ৮.৫৩ গ্রাম শর্করা (এর মধ্যে ৬.৭ গ্রাম খাদ্যআঁশ), মাত্র ০.৬৬ গ্রাম চিনি, ২ গ্রাম আমিষ এবং ৪৮৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম; শাঁসের প্রায় ৭৩ শতাংশই পানি।

চিনির পরিমাণ আসলেই কম। তবে অ্যাভোকাডোতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট নেই, এই দাবি সঠিক নয়: ১০০ গ্রামের ১৪.৬৬ গ্রাম চর্বির মধ্যে ২.১৩ গ্রাম স্যাচুরেটেড, ৯.৮০ গ্রাম মনোআনস্যাচুরেটেড এবং ১.৮২ গ্রাম পলিআনস্যাচুরেটেড; মোট চর্বির প্রায় ১৪ শতাংশ স্যাচুরেটেড ফ্যাট। চর্বির বেশির ভাগই মনোআনস্যাচুরেটেড, প্রধানত ওলেইক অ্যাসিড। ইউএফ/আইএফএএস অ্যাভোকাডোকে পটাশিয়ামের ভালো উৎস ও ভিটামিন 'এ'-এর মাঝারি উৎস বলেছে এবং জানিয়েছে, ফলটিতে কোলেস্টেরল নেই।

ফলটির শক্তির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসে চর্বি থেকে। কোনো নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকায় অ্যাভোকাডো কতটা মানানসই, সে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ। ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাদ্যাভ্যাস বদলানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মাঝখান থেকে কাটা একটি অ্যাভোকাডো, ভেতরে বীজ ও হালকা রঙের শাঁস দেখা যাচ্ছে; ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তোলা। ছবি: Billjones94 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
মাঝখান থেকে কাটা একটি অ্যাভোকাডো, ভেতরে বীজ ও হালকা রঙের শাঁস দেখা যাচ্ছে; ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তোলা। ছবি: Billjones94 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

ছবি: B.navez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫; ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪; ১ আগস্ট ২০২৩; ১১ জুলাই ২০২২), বিবিসি বাংলা (১৭ আগস্ট ২০২১), বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (৩০ জুন ২০২৫), বাংলাপিডিয়া (এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ), ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা আইএফএএস এক্সটেনশন, এফএওস্ট্যাট (জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা), ইউএসডিএ ফুডডেটা সেন্ট্রাল

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)