সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

নেত্রকোনায় সাড়ে ৪২ মণের ফ্রিজিয়ান ষাঁড় ‘ঈশা খাঁ’ কোরবানির জন্য প্রস্তুত

নেত্রকোনা সদরের ফচিকা গ্রামের খায়রুল ইসলামের তিন বছর আট মাস বয়সী ফ্রিজিয়ান ষাঁড় ‘ঈশা খাঁ’র ওজন প্রায় সাড়ে ৪২ মণ; ২০২৬ সালের ঈদুল আজহার আগে তিনি এটি বিক্রির প্রস্তুতি নেন। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার মতে ওজন ১ হাজার ৬০০ কেজির বেশি।

নেত্রকোনায় সাড়ে ৪২ মণের ফ্রিজিয়ান ষাঁড় ‘ঈশা খাঁ’ কোরবানির জন্য প্রস্তুত
লাইভস্টক

নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের ফচিকা গ্রামে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহার আগে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ‘ঈশা খাঁ’ নামের একটি বিশাল ষাঁড়। জাগো নিউজ ২৪ ওই বছরের ২৪ মে এক প্রতিবেদনে জানায়, তিন বছর আট মাস বয়সী কালো-সাদা রঙের ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টির ওজন প্রায় সাড়ে ৪২ মণ। উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুট, দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ ফুট। গরুটির মালিক খায়রুল ইসলাম ঈদুল আজহা সামনে রেখে এটি বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং ভালো দাম পেলে আলোচনা সাপেক্ষে বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খায়রুল ইসলাম কাইলাটি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য। ঈশা খাঁর সবচেয়ে পছন্দের খাবার শেওড়াগাছের পাতা। এক দিন আগে, ২৩ মে, প্রথম আলোও ‘ঈশা খাঁ’কে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে; সেখানেও ষাঁড়টির বয়স, জাত, রং, ওজন, উচ্চতা, দৈর্ঘ্য ও প্রিয় খাবারের একই বিবরণ ছিল।

জাগো নিউজের প্রতিনিধি রোববার (২৪ মে) দুপুরে খায়রুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখেন, আঙিনার দুটি কাঁঠালগাছের মাঝে প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে ষাঁড়টি বাঁধা। দূরদূরান্ত থেকে আসা উৎসুক মানুষ ও ক্রেতারা গরুটি দেখছিলেন; কেউ ছবি তুলছিলেন, কেউ ভিডিও করছিলেন।

খামারেই জন্ম, দুই মাস বয়সে নাম ‘ঈশা খাঁ’


স্থানীয় লোকজন ও খামারির বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, গরুটির জন্ম খায়রুল ইসলামের নিজের খামারেই। জন্মের পর থেকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি দেশীয় পদ্ধতিতে এটিকে লালন-পালন করা হয়। নিয়মিত খাবার ও পরিচর্যায় ধীরে ধীরে এর আকার বাড়তে থাকে। মাত্র দুই মাস বয়সেই বাছুরটির চলাফেরায় আলাদা আভিজাত্য দেখে পরিবার এর নাম রাখে ‘ঈশা খাঁ’।

আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে, কয়েকজন ক্রেতা গরুটির দাম ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত বলেছিলেন। কিন্তু মায়ার কারণে খায়রুল ইসলাম তখন সেটি বিক্রি করেননি। ২০২৬ সালের কোরবানিতে তিনি ঈশা খাঁকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দাম উল্লেখ করা হয়নি; খামারি শুধু বলেছিলেন, ভালো ক্রেতা পেলে আলোচনা করে দাম ঠিক করবেন।

খায়রুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, নিজের ছেলে ও দুই মেয়ের পাশাপাশি গরুটিকেও তিনি সন্তানের মতো লালন-পালন করেছেন; রাতে ঘুমানোর আগে গরুটিকে না দেখে তাঁর ঘুম আসত না। প্রথম আলোর প্রতিবেদনেও তাঁর একই কথা ছিল, সঙ্গে ছিল যে সকালে ঘুম থেকে উঠেও তিনি প্রথমে গরুটিকেই দেখেন।

খাদ্যতালিকা ও প্রতিদিনের পরিচর্যা


খামারির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঈশা খাঁর খাদ্যতালিকায় ছিল নিচের খাবারগুলো:

  • কাঁচা ঘাস ও খড়
  • কলা
  • গম ও ধানের ভুসি
  • খইল
  • খুদের ভাত
  • শাকসবজি
  • বিভিন্ন গাছের লতাপাতা, বিশেষ করে শেওড়াগাছের পাতা

খায়রুল ইসলাম বলেন, শান্ত স্বভাবের গরুটিকে সব সময় বৈদ্যুতিক পাখার বাতাসে রাখতে হয় এবং প্রতিদিন গোসল করাতে হয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক মণের মতো খাবার লাগে। তাঁর ভাষ্য, ছবি ও ভিডিওতে গরুটিকে ছোট মনে হলেও বাস্তবে এটি অনেক বড়। ভালো ক্রেতা পেলে আলোচনা সাপেক্ষে তিনি তখনই গরুটি বিক্রি করে দেবেন।

এখানে ‘মণ’ একটি প্রচলিত ওজনের একক। উপমহাদেশে বিভিন্ন সময় ও অঞ্চলে মণের ওজন ভিন্ন ছিল। ১৮৩৩ সালে বঙ্গীয় প্রেসিডেন্সিতে মণকে ১০০ ট্রয় পাউন্ড হিসেবে প্রমিত করা হয়, পরে মেট্রিক হিসাবে এক মণ দাঁড়ায় ৩৭.৩২৪২ কেজিতে। বাংলাদেশে সাধারণত এক মণকে ৪০ কেজি ধরা হয়। এ কারণে প্রতিবেদনের ‘সাড়ে ৪২ মণ’ ওজন কেজিতে কত, তা নির্ভর করে কোন মণ ধরা হচ্ছে তার ওপর; জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিজে গরুটির ওজন কেজিতে বলেছেন, যা পরের অংশে আছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা যা বলেছিলেন


নেত্রকোনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শে খামারি খায়রুল ইসলাম গরুটি লালন-পালন করছেন। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য খাইয়ে গরুটি বিশাল আকার ধারণ করেছে। তাঁর মতে, এটি সম্ভবত জেলার সবচেয়ে বড় গরু, যার ওজন ১ হাজার ৬০০ কেজির ওপরে। এ ধরনের গরু তৈরিতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। প্রথম আলোর ২৩ মের প্রতিবেদনেও তাঁর একই বক্তব্য ছাপা হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের অংশ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন এই অধিদপ্তরের শিকড় ঔপনিবেশিক আমলে, ১৭৯৫ সালে ব্রিটিশ অশ্বারোহী বাহিনীর জন্য গঠিত একটি ভেটেরিনারি ইউনিটে। ১৮৮৩ সালে এটি সিভিল ভেটেরিনারি ডিপার্টমেন্ট হয়; দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের পশুপালন পরিদপ্তর এবং পরে কয়েক দফা নাম বদলে আজকের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। দেশের প্রতিটি উপজেলায় এর কার্যালয় আছে, যেখান থেকে খামারিরা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি সেবা পান।

২০২৫ সালের নভেম্বরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ১.৮১ শতাংশ, কৃষিজ জিডিপিতে ১৬.৫৮ শতাংশ এবং এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৩.১৯ শতাংশ। অর্থমূল্যে প্রাণিসম্পদ জিডিপির আকার তখন ৯১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়।

ঈদুল আজহার আগে বাংলাদেশের একটি কোরবানির পশুর হাট, ২০২৪ সালে তোলা। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঈদুল আজহার আগে বাংলাদেশের একটি কোরবানির পশুর হাট, ২০২৪ সালে তোলা। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ফ্রিজিয়ান জাত ও বাংলাদেশে সংকর গরু


ফ্রিজিয়ান বা হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান মূলত দুগ্ধ উৎপাদনের জন্য পরিচিত একটি আন্তর্জাতিক গরুর জাত বা জাতগোষ্ঠী। যুক্তরাষ্ট্রে ‘হলস্টেইন’ বলতে প্রায় পুরোপুরি নেদারল্যান্ডসের বংশধারার গরু বোঝায়; যুক্তরাজ্যে ‘ফ্রিজিয়ান’ নামটি বেশি প্রচলিত, এবং সেখানে হলস্টেইন ও ফ্রিজিয়ান এত কাছাকাছি যে পরিসংখ্যানে দুটিকে আলাদা করা হয় না। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম হল্যান্ডের গাভি কেনা হয় ১৮৫২ সালে। এই জাতের জিনভান্ডার বিশ্বের সবচেয়ে বড়গুলোর একটি, তাই অন্যান্য দুগ্ধ জাতের তুলনায় এর জেনেটিক উন্নতি দ্রুত হয়েছে এবং বিশ্বের বেশির ভাগ দুগ্ধ খামারির পছন্দের জাত এটি। যুক্তরাষ্ট্রে একটি গড় হলস্টেইন গাভি বছরে প্রায় ১০ হাজার কেজি দুধ দেয়, ইউরোপে গড়ে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার লিটার।

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গৃহপালিত গরুর দুটি প্রধান প্রজাতি বস ইন্ডিকাস ও বস টরাস। উপমহাদেশের কুঁজওয়ালা জেবু গরু বস ইন্ডিকাস; এদের বৃদ্ধি ধীর, আকার ছোট ও উৎপাদন কম, তবে কিছু সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সক্ষম। শীতপ্রধান অঞ্চলের বস টরাস জাতের আকার মাঝারি থেকে ভারী, এরা আগে প্রজননক্ষম হয় এবং দুধ ও মাংস উৎপাদনের সম্ভাবনা বেশি। ফ্রিজিয়ান এই দ্বিতীয় দলের।

ষাটের দশক থেকে বাংলাদেশে তিন ধরনের গরু পালন হয়ে আসছে: বিশুদ্ধ জাত, সংকর জাত ও দেশি। দেশি গরুর উৎপাদনক্ষমতা বাড়াতে অতীতে বহুবার বিদেশি জাতের সঙ্গে সংকরায়ণের চেষ্টা হয়েছে; আনা জাতের মধ্যে আছে হলস্টেইন-ফ্রিজিয়ান, জার্সি, শাহিওয়াল, সিন্ধি ও শাহিওয়াল-ফ্রিজিয়ান। বাংলাপিডিয়ায় উল্লিখিত দেশের সংকরগুলোর মধ্যে ফ্রিজিয়ান সংকরের দুধ উৎপাদন সবচেয়ে বেশি, প্রতি দুগ্ধকালে প্রায় ১ হাজার ৮০০ লিটার। একই সূত্র বলছে, বিশুদ্ধ ও সংকর জাতের পুষ্টি চাহিদা বেশি, এরা পরিবেশের সঙ্গে কম খাপ খায় এবং পরজীবী ও রোগে বেশি আক্রান্ত হয়; অন্যদিকে দেশি গরু রোগ কম হয় এবং গরম সহ্য করতে পারে। কঠিন আবহাওয়া, সবুজ ঘাসের অভাব, অদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবার জ্ঞানের ঘাটতিতে দেশে সংকর গরু প্রায়ই পুরো সম্ভাবনা দেখাতে পারে না।

দেশে গরুর সংখ্যাও বেড়েছে। প্রথম আলো ২০২৬ সালের ২২ মে প্রাণিসম্পদ খাত নিয়ে এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে গরুর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৩৭ লাখের মতো; সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ২ কোটি ৫১ লাখ ছাড়িয়েছে। একই প্রতিবেদনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, দেশের প্রায় ৯০ ভাগ খামারি ক্ষুদ্র খামারি এবং তাঁরাই এ খাতকে এগিয়ে নিচ্ছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আশিকুল ইসলাম সেখানে বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই পশুপালন বিজ্ঞানভিত্তিক নয় এবং উন্নত জাত, প্রাণিখাদ্য ও আধুনিক পালনপদ্ধতির বিস্তারে ঘাটতি রয়ে গেছে।

দড়িতে বাঁধা একটি হলস্টেইন জাতের ষাঁড়, মেক্সিকোতে ২০২০ সালে তোলা। ছবি: Cvmontuy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
দড়িতে বাঁধা একটি হলস্টেইন জাতের ষাঁড়, মেক্সিকোতে ২০২০ সালে তোলা। ছবি: Cvmontuy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

গরমে সংকর গরু: কেন পাখা আর প্রতিদিনের গোসল


খায়রুল ইসলাম ঈশা খাঁকে সব সময় পাখার নিচে রাখতেন এবং প্রতিদিন গোসল করাতেন। দেশের গবেষণাতেও দেখা গেছে, ফ্রিজিয়ান রক্তের গরু গরম ও আর্দ্রতায় সহজে কষ্ট পায়। বাংলাদেশ জার্নাল অব অ্যানিমেল সায়েন্সে প্রকাশিত (২০১৭ সালের খণ্ড) এক গবেষণায় নিবিড় ব্যবস্থাপনায় পালিত হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান সংকর গাভির ওপর গরমের প্রভাব মাপা হয়। গবেষকেরা লেখেন, উষ্ণমণ্ডলীয় দেশি গরুকে শীতপ্রধান অঞ্চলের জাত দিয়ে উন্নত করলে তাপের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়ে। গোয়ালঘরের গড় তাপমাত্রা-আর্দ্রতা সূচক (টিএইচআই) শীতকালে ছিল ৭০.৮৩, গরমকালে ৮৩.৮৭। ৫০ শতাংশ ফ্রিজিয়ান রক্তের গাভির দৈনিক গড় দুধ শীতে ১৪.৯২ লিটার থেকে গরমে ১২.৮৪ লিটারে এবং ৭৫ শতাংশ ফ্রিজিয়ান রক্তের গাভির ১৯.৫৪ লিটার থেকে ১৫ লিটারে নেমে আসে; অর্থাৎ ফ্রিজিয়ান রক্ত যত বেশি, গরমে ক্ষতিও তত বেশি দেখা গেছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক সাময়িকী ক্লাইমেটে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রিত জলবায়ু কক্ষে হলস্টেইন-ফ্রিজিয়ান সংকর গাভিকে মাত্র ২৪ ঘণ্টা টিএইচআই ৭৫ ও ৮০ মাত্রার গরমে রাখা হয়। টিএইচআই ৭২-এর তুলনায় টিএইচআই ৮০-তে মলদ্বারের তাপমাত্রা ৫.১ শতাংশ, হৃৎস্পন্দন ৮.৬ শতাংশ, শ্বাসের হার ২৩.৫ শতাংশ এবং পানি পান ১৯.১ শতাংশ বাড়ে। খাদ্য গ্রহণ টিএইচআই ৭৫-এ ৬.৫ শতাংশ এবং ৮০-তে ১৪ শতাংশ কমে যায়। গবেষকদের উপসংহার, স্বল্প সময়ের গরমেও এই সংকর গাভি বিশেষভাবে নাজুক এবং এতে বাংলাদেশের খামারিদের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।

দুটি গবেষণাই দুধেল গাভির ওপর, ষাঁড়ের ওপর নয়। তবু এগুলো দেখায়, ফ্রিজিয়ান জাতের গরু পালনে গরম থেকে সুরক্ষা কেন জরুরি। গবাদিপশুর স্বাস্থ্য বা গরমজনিত সমস্যায় খামারিদের উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জনের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

শেওড়া গাছ: ঈশা খাঁর প্রিয় খাবার


শেওড়া (বৈজ্ঞানিক নাম Streblus asper) মোরাসি বা ডুমুর পরিবারের মাঝারি আকারের একটি গাছ। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, চীনের দক্ষিণাঞ্চল, ফিলিপাইনসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এটি জন্মে। বাংলায় একে শাওড়া, শাহড়া বা শেওড়া বলা হয়। এর পাতা প্রায় ৫ থেকে ১০ সেন্টিমিটার লম্বা, শক্ত, ডিম্বাকার ও কিনারা অসমভাবে খাঁজকাটা; পাতা এতটাই খসখসে যে ভিয়েতনামে কাঠের কাজে একে প্রাকৃতিক শিরিষ কাগজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর ডাল একসময় দাঁতন হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে ইংরেজিতে একে ‘টুথব্রাশ ট্রি’ও বলা হয়, আর থাইল্যান্ডে সাতশ বছর ধরে এর বাকল থেকে কাগজ তৈরি হয়েছে।

পশুখাদ্য হিসেবে শেওড়াপাতার পুষ্টিমান নিয়ে বাংলাদেশে গবেষণা হয়েছে। ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের (আইসিএআর) ইন্ডিয়ান জার্নাল অব অ্যানিমেল সায়েন্সেসে প্রকাশিত এক গবেষণায় বাংলাদেশের ১০ প্রজাতির গাছের পাতা বিশ্লেষণ করা হয়, যার মধ্যে ছিল শেওড়া, তুঁত, আম, কাঁঠাল, ইপিল-ইপিল, বরই ও ধইঞ্চা। পাতাগুলোর অপরিশোধিত আমিষ ছিল ৮.৫ থেকে ২৩.৯ শতাংশ; সব পাতাতেই ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস প্রচুর পাওয়া যায়। গবেষকদের উপসংহার, পুষ্টির বিচারে তুঁত, ধইঞ্চা, ইপিল-ইপিল ও শেওড়ার পাতা পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহারের বড় সম্ভাবনা রাখে। এফএওর পশুখাদ্য তথ্যভান্ডার ফিডিপিডিয়ায় আকবর ও আলমের ১৯৯১ সালের একটি গবেষণার উল্লেখ আছে, যেখানে বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলকে আম ও শেওড়াপাতা খাওয়ানোর প্রভাব দেখা হয়েছিল।

বাংলাপিডিয়া জানায়, বাংলাদেশে রোমন্থক পশুর খাদ্যের মূল উৎস ফসলের অবশিষ্টাংশ, দানাশস্যের উপজাত, ঝোপঝাড়, পশুখাদ্যের গাছ এবং রাস্তার ধারে ও আইলে জন্মানো ঘাস। কাঁচা সবুজ খাদ্যের মধ্যে আছে কাঁঠাল ও আমপাতা, ইপিল-ইপিল এবং কচুরিপানা, শৈবাল ও ক্ষুদিপানার মতো জলজ উদ্ভিদ। গাছজাতীয় পশুখাদ্যের ক্ষেত্রে পশু সাধারণত পাতা ও কচি ডগাই খায়। ঈশা খাঁর খাদ্যতালিকার কাঁচা ঘাস, খড়, ভুসি, খইল ও গাছের পাতা এই প্রচলিত উৎসগুলোরই অংশ।

শেওড়া গাছের (Streblus asper) পাতা ও ডাল, ভারতে তোলা। ছবি: Vinayaraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
শেওড়া গাছের (Streblus asper) পাতা ও ডাল, ভারতে তোলা। ছবি: Vinayaraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

প্রাকৃতিক খাবার বনাম ক্ষতিকর মোটাতাজাকরণ


জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেছিলেন, ঈশা খাঁ ‘সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য’ খেয়ে বড় হয়েছে। কোরবানির মৌসুমে এ প্রশ্নটি প্রতিবছরই ওঠে, কারণ দ্রুত ওজন বাড়াতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের ঝুঁকি থাকে। বাংলাদেশের মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ স্থলজ ও জলজ প্রাণীর খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিশেষভাবে প্রাণী ও মাছের খাদ্যে হরমোন ও বৃদ্ধি উদ্দীপক (গ্রোথ প্রোমোটার) ব্যবহার নিষিদ্ধ করে।

২০২৬ সালের কোরবানির আগেও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে নজরদারির কথা বলেছিলেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ১৭ মে রংপুর বিভাগ নিয়ে এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী বিভাগের খামারগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু লালন-পালন করা হয়েছে এবং কৃত্রিম হরমোন বা ক্ষতিকর কোনো উপাদানের ব্যবহার ঠেকাতে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বাংলাপিডিয়ার ভুক্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পরিকল্পিত গরু মোটাতাজাকরণ কর্মসূচি সাধারণত প্রচলিত নয়, তবে ঈদুল আজহার সময় গরুর মৌসুমি চাহিদা থাকে এবং মানুষ সাধারণত সুস্থ-সবল পশু কোরবানি দিতে পছন্দ করেন। একই সূত্রে বলা হয়, এক বছর বয়সী ষাঁড় বাছুর মোটাতাজা করতে খামারিরা সবুজ ঘাস, গমের ভুসি, চালের কুঁড়া, ভাতের মাড়, ইউরিয়া-মোলাসেস ব্লক বা ইউরিয়া-মোলাসেস মেশানো খড়ের মতো খাদ্য ব্যবহার করেন।

২০২৬ সালের কোরবানির বাজার ও নেত্রকোনার চিত্র


২০২৬ সালের ১৮ মে সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ঘোষণা দেওয়া হয়; সেই হিসাবে বাংলাদেশে ঈদুল আজহা পালিত হবে ২৮ মে। সৌদি আরবে ঈদ ছিল এক দিন আগে, ২৭ মে। ঈদুল আজহা পালিত হয় আল্লাহর আনুগত্যে নিজের পুত্রকে কোরবানি দিতে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর প্রস্তুত হওয়ার স্মরণে; এদিন বিশেষ নামাজ, পশু কোরবানি এবং দরিদ্র ও অভাবীদের মধ্যে মাংস বিতরণ করা হয়। অর্থাৎ ২৪ মে যখন ঈশা খাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, তখন ঈদের বাকি ছিল চার দিন।

৩ মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০২৬ সালে কোরবানির জন্য দেশে পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত পশু ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি; ফলে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। প্রস্তুত পশুর মধ্যে গরু-মহিষ ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি, ছাগল-ভেড়া ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি এবং অন্যান্য প্রজাতির ৫ হাজার ৬৫৫টি। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়:

  • সারা দেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি পশুর হাট বসবে; এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬টি ও দক্ষিণে ১১টি, মোট ২৭টি।
  • ঢাকার হাটগুলোতে ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।
  • দেশীয় খামারিদের স্বার্থে সীমান্তবর্তী এলাকায় পশুর হাট না বসানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
  • অনলাইনে পশু কেনায় কোনো খাজনা বা হাসিল নেওয়া হবে না।
  • চামড়া নষ্ট না হতে পেশাদার ও অপেশাদার কসাইদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আগের বছরের তুলনায় এটি বড় প্রস্তুতি। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে ২০২৫ সালের ঈদুল আজহায় দেশে ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু কোরবানি হয়েছিল; এর মধ্যে গরু-মহিষ ৪৭ লাখ ৫ হাজার ১০৬টি এবং ছাগল-ভেড়া ৪৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮টি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৪ লাখ ৮ হাজার ৯১৮টি। মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, প্রতিটি উপজেলার ছোট, মাঝারি ও বড় তিনটি গ্রাম থেকে অন্তত ১ শতাংশ নমুনা নিয়ে স্তরায়িত দৈব নমুনায়ন পদ্ধতিতে এই হিসাব করা হয়।

মূল প্রতিবেদনে নেত্রকোনার ২০২৬ সালের জেলাওয়ারি চাহিদা ও প্রস্তুত পশুর হিসাব ছিল না। আগের বছরের চিত্র পাওয়া যায় ইত্তেফাকের ২০২৫ সালের ২১ মের প্রতিবেদনে: জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভার খবরে জানানো হয়, সে বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ১০০টি, আর প্রস্তুত ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭টি পশু, যা চাহিদার চেয়ে বেশি। ওই বছর জেলায় পশুর হাটের জন্য ১৬৩টি আবেদন জমা পড়েছিল।

নেত্রকোনা, কাইলাটি ও ‘ঈশা খাঁ’ নামের ইতিহাস


নেত্রকোনা ময়মনসিংহ বিভাগের একটি জেলা। উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড়, পূর্বে সুনামগঞ্জ, দক্ষিণে কিশোরগঞ্জ ও পশ্চিমে ময়মনসিংহ জেলা। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী জেলার আয়তন ২ হাজার ৭৯৪.২৮ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৩। জেলায় উপজেলা ১০টি। ১৮৮২ সালে গঠিত নেত্রকোনা মহকুমা ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হয়। কংস, সোমেশ্বরী, ধলা, মগড়া ও তেওরখালী জেলার প্রধান নদী; বর্ষায় জেলার দক্ষিণ-পূর্বাংশ হাওরে পরিণত হয়, আর উত্তর ও পশ্চিমাংশ মূলত পলিগঠিত সমভূমি। জেলার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; বাংলাপিডিয়ায় ২০১১ সালের জনশুমারির ভিত্তিতে দেওয়া হিসাবে জেলার ৭২.৪৩ শতাংশ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি।

নেত্রকোনা সদর উপজেলার আয়তন ৩৪১.৭১ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারিতে এর জনসংখ্যা ছিল ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৬৪। একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলাটি গঠিত; কাইলাটি তার একটি। বাংলাপিডিয়ার তালিকায় কাইলাটি ইউনিয়নের আয়তন ৫ হাজার ৪৮১ একর। নেত্রকোনা শহরের পাশ দিয়ে মগড়া নদী বয়ে গেছে; প্রচলিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই নদীর বাঁকে শহরের চোখের মতো আকৃতি থেকেই ‘নেত্র’ ও ‘কোণা’ মিলে নামটি এসেছে।

নেত্রকোনার মোক্তারপাড়া সেতু থেকে মগড়া নদী, ২০২২ সালে তোলা। ছবি: কুপি বাতি / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
নেত্রকোনার মোক্তারপাড়া সেতু থেকে মগড়া নদী, ২০২২ সালে তোলা। ছবি: কুপি বাতি / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

‘ঈশা খাঁ’ নামটি বাংলার ইতিহাসে ষোড়শ শতকের বারো ভূঁইয়াদের নেতা ঈশা খাঁর নাম। সরাইলের জমিদার পরিবারে জন্ম নেওয়া ঈশা খাঁ ভাটি অঞ্চলের শাসক হিসেবে মোগল আক্রমণের বিরুদ্ধে বাংলার জমিদারদের ঐক্যবদ্ধ করে প্রতিরোধ গড়েছিলেন। তিনি সোনারগাঁকে প্রশাসনিক কেন্দ্র করেন এবং বর্তমান কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার এগারসিন্দুরকে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন। ১৫৮৫ সালে তিনি বর্তমান কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের জঙ্গলবাড়ি দুর্গ দখল করেন। মোগল বিজয়ের আগে নেত্রকোনা অঞ্চলও তাঁর অধিকারভুক্ত ছিল। ১৫৯৯ সালে তাঁর মৃত্যু হয় এবং তাঁর মৃত্যুর পরই অঞ্চলটি পুরোপুরি মোগলদের নিয়ন্ত্রণে যায়। বাংলাদেশে তিনি আজও বিদ্রোহী চেতনা ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। খায়রুল ইসলামের পরিবার দুই মাস বয়সী বাছুরের অভিজাত চালচলন দেখে তার নাম রেখেছিল ‘ঈশা খাঁ’।

ছবি: Homoatrox / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দ্য ডেইলি ইত্তেফাক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশ জার্নাল অব অ্যানিমেল সায়েন্স, ক্লাইমেট (এমডিপিআই), ইন্ডিয়ান জার্নাল অব অ্যানিমেল সায়েন্সেস, ফিডিপিডিয়া (এফএও), এএমপিইআইডি, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সৌরপ্যানেলের নিচে ভেড়া চরালে বাড়ে মৌমাছি, তবে সংখ্যা রাখতে হবে কম

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, সৌরখামারে হেক্টরপ্রতি দুটি ভেড়া চরালে ঘাস কাটার তুলনায় উপকারী পোকা ৩৮ শতাংশ বাড়ে। খামারিদের জন্য ভেড়ার পাল পরিকল্পনার একটি সহায়ক টুলও তৈরি করেছেন গবেষকেরা।

Farms.com১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

প্রোটিনের চাহিদায় বদলে গেল কানাডার দুধের বাজার, মাখনের উদ্বৃত্ত শেষ

দুগ্ধজাত প্রোটিনের চাহিদা বাড়ায় পাঁচ বছরের মধ্যে কানাডার দুধের বাজারে মাখনচর্বির কাঠামোগত উদ্বৃত্ত মিটে গেছে, দুধের দাম নির্ধারণেও এসেছে পরিবর্তন।

Manitoba Co-operator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিকি হেক্টরে ওটের বীজ চাষ, ইথিওপিয়ার এক কৃষকের পারিবারিক ব্যবসা

ইথিওপিয়ার এক ক্ষুদ্র কৃষক মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে বীজের জন্য ওট চাষ করে প্রথম ফসল ৪৫ হাজার বির্রে বিক্রি করেন এবং পরের বছর চাষ বাড়ান। আইএলআরআইয়ের পশুখাদ্যের বীজকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের অংশ এটি।

ILRI১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)