২০২৬ সালের ১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের খামারগুলোতে গরু ও বাছুর মিলিয়ে ছিল ৯ কোটি ৪২ লাখ, যা ২০২৫ সালের ১ জুলাইয়ের ৯ কোটি ৪০ লাখের চেয়ে সামান্য বেশি। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস (এনএএসএস) ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই তাদের ক্যাটল প্রতিবেদনে এ হিসাব প্রকাশ করে। সংস্থাটি প্রতিবেদনের শিরোনাম দেয় "যুক্তরাষ্ট্রে গবাদি পশুর মজুত সামান্য বেড়েছে"।
গাভি, বকনা ও ষাঁড়ের হিসাব
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট পশুর মধ্যে অন্তত একবার বাচ্চা দেওয়া গাভি ও বকনা ছিল ৩ কোটি ৮১ লাখ, যা আগের বছরের সমান। এর মধ্যে মাংসের জন্য পালিত বিফ গাভি ২ কোটি ৮৫ লাখ, এক বছর আগের চেয়ে ১ শতাংশ কম। অন্যদিকে দুধের গাভি বেড়ে দাঁড়ায় ৯৬ লাখ ৫০ হাজারে, যা আগের বছরের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি।
- ৫০০ পাউন্ড ও তার বেশি ওজনের সব বকনা: ১ কোটি ৪৭ লাখ, আগের বছরের ১ কোটি ৪৬ লাখের চেয়ে ১ শতাংশ বেশি
- বিফ পালের জন্য রেখে দেওয়া রিপ্লেসমেন্ট বকনা: ৩৮ লাখ, ৩ শতাংশ বেশি
- দুধের পালের রিপ্লেসমেন্ট বকনা: ৩৬ লাখ, ৩ শতাংশ বেশি
- অন্যান্য বকনা: ৭৩ লাখ, ১ শতাংশ কম
- ৫০০ পাউন্ড ও তার বেশি ওজনের স্টিয়ার (খাসি করা এঁড়ে): ১ কোটি ৩৯ লাখ, ১ শতাংশ বেশি
- ৫০০ পাউন্ড ও তার বেশি ওজনের ষাঁড়: ১৯ লাখ, অপরিবর্তিত
- ৫০০ পাউন্ডের কম ওজনের বাছুর: ২ কোটি ৫৬ লাখ, অপরিবর্তিত

বাছুর উৎপাদন কমছে, ফিডলটে পশু বাড়ছে
এনএএসএসের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাছুর জন্মাবে ৩ কোটি ২৫ লাখ, যা ২০২৫ সালের চেয়ে ২ শতাংশ কম। জবাইয়ের বাজারের জন্য সব ফিডলটে মোটাতাজা করা গরু ও বাছুর ১ জুলাই ছিল ১ কোটি ৩২ লাখ, আগের বছরের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি। মার্কিন কৃষি সংবাদমাধ্যম ব্রাউনফিল্ড অ্যাগ নিউজ লিখেছে, ২০২৬ সালের বাছুর উৎপাদন কম হলেও রিপ্লেসমেন্ট বকনা ধরে রাখার প্রবণতা ২০২৭ সালে বাছুরের সংখ্যা বাড়াতে পারে।

বছরে দুবার গণনা, জুলাইয়েরটি ফিরেছে ২০২৫ সালে
এনএএসএস বছরে দুবার মার্কিন গবাদি পশুর মজুত গোনে, ১ জানুয়ারি ও ১ জুলাই। ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১ জানুয়ারির মজুত ছিল ৮ কোটি ৬২ লাখ; সংস্থাটি তখন একে "সামান্য কম" বলে বর্ণনা করে। সেই হিসাবে বিফ গাভি ছিল ২ কোটি ৭৬ লাখ, দুধের গাভি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার, আর ফিডলটে পশু ছিল ১ কোটি ৩৮ লাখ।
জুলাইয়ের প্রতিবেদনটি অবশ্য নিয়মিত ছিল না। হাই প্লেইনস জার্নাল জানায়, বাজেট সংকটের কারণে ২০২৪ সালে এটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ এনএএসএস জুলাইয়ের ক্যাটল প্রতিবেদন আবার চালুর ঘোষণা দেয়। ২০২৬ সালের হিসাব তৈরিতে সংস্থাটি জুলাইয়ের প্রথমার্ধে সারা দেশের ১৭ হাজার ৪০০-রও বেশি খামারির কাছ থেকে তথ্য নেয়। তাঁরা ১ জুলাইয়ের মজুত ও পুরো বছরের বাছুর উৎপাদনের তথ্য ইন্টারনেট, ডাক বা টেলিফোনে জানান।

ছবি: USDA NRCS Texas (Beverly Moseley) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ইউএসডিএ ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস (ক্যাটল প্রতিবেদন, জুলাই ও জানুয়ারি ২০২৬; বিজ্ঞপ্তি, মার্চ ২০২৫), ব্রাউনফিল্ড অ্যাগ নিউজ, হাই প্লেইনস জার্নাল




মন্তব্য
(০)