মাগুরার শালিখা উপজেলার সীমাখালি বাজারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বড় কাঁঠালের পাইকারি বাজার। জাগো নিউজ ২৪ ২০২৬ সালের ১৭ জুলাই জানায়, এখান থেকে প্রতি মৌসুমে দেশের ৩০ থেকে ৩৫টি জেলায় কাঁঠাল সরবরাহ করা হয়। সেবছর বাম্পার ফলন আর ভালো দাম পাওয়ায় খুশি ছিলেন জেলার কৃষক, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।
কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল। গাছে ধরা ফলের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়; এর কাঁচা ফল তরকারিতে, পাকা কোয়া ফল হিসেবে, বীজ খাবারে এবং গাছের কাঠ আসবাব তৈরিতে কাজে লাগে।
সীমাখালি বাজারে গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা
মাগুরা জেলা খুলনা বিভাগের অন্তর্গত, আয়তন ১ হাজার ৩৯ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার; জেলার চারটি উপজেলার একটি শালিখা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী শালিখা উপজেলার জনসংখ্যা ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৬, আয়তন ২২৮ দশমিক ৬৫ বর্গকিলোমিটার, আর উপজেলাটি সাতটি ইউনিয়নে বিভক্ত।
এই উপজেলার সীমাখালি বাজার থেকে পাইকাররা কাঁঠাল কিনে দেশের নানা জেলায় পাঠান। কাঁঠাল ব্যবসায়ী আকরাম মোল্লা জাগো নিউজকে বলেন, ‘সীমাখালি বাজার থেকে কাঁঠাল কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাই। এখানে গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলে। এই ব্যবসায় লাভও ভালো হয়।’
হাসেম নামের আরেক চাষি বলেন, ‘মাগুরার কাঁঠালের স্বাদ ও মান অনেক ভালো। এবার ফলনও খুব ভালো হয়েছে। কাঁঠাল চাষ করে ভালো লাভ করছি। এটি লাভজনক ফসল।’

জেলায় ৭৫২ হেক্টরে কাঁঠাল চাষ
মাগুরা জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মৌসুমে জেলায় ৭৫২ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল চাষ হয়। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩৩ হাজার ৭৯৪ মেট্রিক টন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬৭ কোটি টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) মাগুরার উপপরিচালক মো. তাইজুল ইসলাম জানান, সেবছর জেলায় কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে রপ্তানির সুযোগ বাড়ানো গেলে কাঁঠাল দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।’

রপ্তানির সম্ভাবনা, অপচয়ের চ্যালেঞ্জ
উপপরিচালকের রপ্তানির কথাটি এসেছিল এমন সময়ে, যখন কাঁঠাল রপ্তানি নিয়ে দেশে আলোচনা চলছিল। দৈনিক ইত্তেফাক ২০২৬ সালের ২৮ জুন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া ১৭টি সমঝোতা স্মারকের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়টিও ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন কাঁঠালের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক, আর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিবেদন অনুযায়ী বৈশ্বিক কাঁঠাল রপ্তানিতে বাংলাদেশের অংশ মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ।
একই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) ফল গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, দেশে প্রতি বছর আট থেকে ১০ লাখ টন কাঁঠাল উৎপাদন হয়, কিন্তু অভ্যন্তরীণ চাহিদা কম থাকা ও রপ্তানির সুযোগ না থাকায় এর ৪৫ শতাংশের বেশি নষ্ট হয়। ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে উৎপাদিত ফলের মধ্যে আম প্রথম, কলা দ্বিতীয় এবং কাঁঠাল তৃতীয়; বারি এ পর্যন্ত কাঁঠালের ছয়টি জাত উদ্ভাবন করেছে। বিশেষজ্ঞরা মান, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিংয়ে দেশের সক্ষমতার ঘাটতিকে রপ্তানির পথে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছিলেন।

ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দৈনিক ইত্তেফাক, দ্য ডেইলি স্টার, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (জনশুমারি ২০২২), উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)