মানসিক স্বাস্থ্য: নারীদের চেয়ে পুরুষদের আত্মহত্যার হার বেশি কেন
আর্থিক এবং পারিবারিক যে চাপ, এমনও অনেক সময় মনে হয় যে কিডনি বেইচা হইলেও সংসারডারে টিকাইয়া রাখি।"
আর্থিক এবং পারিবারিক যে চাপ, এমনও অনেক সময় মনে হয় যে কিডনি বেইচা হইলেও সংসারডারে টিকাইয়া রাখি।"
এই কথাগুলো বলছিলেন পয়ত্রিশ বছরের বেশি, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুরুষ। সপ্তম শ্রেণি থেকে পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জন করছেন তিনি।
বহুদিন ধরে বাবা-মা, দুই বোন, স্ত্রী, দুই কন্যা সন্তান এমনকি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দায়িত্বও তাকে বহন করতে হয়। তিনি বলছিলেন, নিজেকে তার প্রায়ই "হালের গরু" বলে মনে হয়।
তিনি বলছেন, "ধরেন আমাদের দেশে মানুষ গরু পালে চারটা কারণে- দুধ, মাংস খাওয়ার জন্য, হাল চাষ করার জন্য, আর বেইচা টাকা পাওয়ার আশায়। আমাদের দেশে ছেলেদেরকেও ওইভাবে পালে যে এরা বড় হইলে কামাই করে খাওয়াবে, দেখাশোনা করবে। কিছু পাওয়ার আশায়, কিছু একটা লাভের আশাতেই বাবা মায়েরা যেন ছেলেদের এইভাবে পালে। যে কারণে ছেলেদের উপরে অনেক চাপ পড়ে।"
এই "চাপের বোঝা" নীরবেই বহন করেন তিনি। চাপ সামাল দেবার জন্য নিজেই খুঁজে নিয়েছেন কিছু পদ্ধতি।
"আমার মানসিক কষ্ট হইলে সেটা আমি কারো কাছে প্রকাশ করি না। মেন্টাল কোন প্রেশার আসলে আমি ওজু করি, দুই রাকাত নামাজ পরি। তারপর একা একা কান্নাকাটি করি। আমি যে কষ্ট পাচ্ছি এটা আমি আজ পর্যন্ত আমার পরিবারের কাউকে বুঝতে দেইনি।"
একজন পুরুষ পরিবারের সবার জন্য অর্থ উপার্জন করবে, সবার দায়িত্ব বহন করবে, জীবনে সফল হবে, সবার জন্য সিদ্ধান্ত নেবে- সমাজ বিজ্ঞানীরা বলেন পুরুষ হয়ে ওঠার এই সামাজিক শিক্ষা জন্ম থেকেই তার ঘাড়ে বিশাল এক বোঝা চাপিয়ে দেয়।
তার কাছ থেকে আশা করা হয় এসব চাপে পুরুষ ভেঙে পড়বে না। পুরুষ দুর্বলতা প্রকাশ করবে না।
সমাজবিজ্ঞানী সামিনা লুৎফা বলছেন, কেন বংশ পরম্পরায় পুরুষ এই শিক্ষা বহন করে চলেছে।
তিনি বলছেন, "এটাকে আমরা বলি জেন্ডার রোল। সমাজ নারী ও পুরুষের জন্য শ্রম বিভাজন করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে সমাজ তার কাছ থেকে এটা কেন চায়, তার উত্তর জানতে হলে আমাদের অনেক পেছনের দিকে যেতে হবে।"


