যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় তিনটি শস্যাগারে (গ্রেইন এলিভেটর) সিএইচএস ইনকরপোরেটেডের মালিকানায় এটাই শেষ ফসল তোলার মৌসুম। ডিটিএন জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি সোমবার, ১৯ অক্টোবর ঘোষণা দিয়েছে, ক্যাসন (Kasson), অস্ট্র্যান্ডার (Ostrander) ও উইকফ (Wykoff) এবং আগেই বন্ধ করা ক্লেয়ারমন্টের (Claremont) শস্যাগার মুখবন্ধ দরপত্রের নিলামে বিক্রি করা হবে।
জুনে সিএইচএস জানিয়েছিল, ক্যাসন, অস্ট্র্যান্ডার ও উইকফের শস্যাগার বন্ধ অথবা বিক্রি করা হবে। ফসল তোলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনটিতেই শস্য নেওয়া চলবে। চারটি শস্যাগারের দরপত্র জমার শেষ দিন ১৯ নভেম্বর ২০২৬; নিলাম পরিচালনা করছে মিনেসোটার রচেস্টারের মাস কোম্পানিজ। এর বাইরে ডজ সেন্টার ও অস্ট্র্যান্ডারে দুটি বাণিজ্যিক সম্পত্তিও বিক্রি করছে সিএইচএস।
চারটি স্থাপনায় মিলিয়ে প্রায় ৭৫ লাখ বুশেল শস্য রাখার জায়গা আছে। সবচেয়ে বড় ক্যাসন, প্রায় ৩৫ লাখ বুশেল ধারণক্ষমতা, সঙ্গে নিজে জ্বালানি নেওয়ার স্টেশন, অফিস, ওজন মাপার যন্ত্র এবং ভাড়া দেওয়া গুদাম। অস্ট্র্যান্ডারে প্রায় ২২ লাখ আর উইকফে প্রায় ১৪ লাখ বুশেল, দুটিতেই অফিস ও ওজনযন্ত্র আছে। ক্লেয়ারমন্টের ধারণক্ষমতা প্রায় ৫ লাখ ৮৪ হাজার বুশেল; এর অফিস ও ওজনযন্ত্র দুই বছরের জন্য সিএইচএসকে ফের ভাড়া দেওয়ার শর্তে বিক্রি হবে, আরও দুই বছর বাড়ানোর সুযোগসহ।
বিক্রির এই সিদ্ধান্ত আসছে প্রতিষ্ঠানটির কঠিন এক বছরে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সিএইচএসের নিট লোকসান ছিল ১৪ কোটি ৭১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ৭ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের চেয়ে ৯৫ শতাংশ বেশি। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ডুলুথ-সুপিরিয়র বন্দরের একটি বড় শস্য টার্মিনাল এবং উইসকনসিনের সুপিরিয়রের একটি শস্যাগার বন্ধ করে।
অন্য জায়গায় অবশ্য বিনিয়োগও করছে সিএইচএস: ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দক্ষিণ ডাকোটার ওয়ার্দিংয়ে নতুন শস্য সংরক্ষণ ও পরিচালনা কেন্দ্র চালু হয়েছে, আর ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে উত্তর ডাকোটার কিন্ডরেড ও ল্যান্সফোর্ড এবং মিনেসোটার ওয়ারেনে সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে পাঁচ অঙ্গরাজ্যে কারগিলের আটটি শস্য স্থাপনা কেনার পরিকল্পনা জানায় সিএইচএস, যাতে ধারণক্ষমতা বাড়ে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ বুশেল।
চার শহরের আশপাশের কৃষকদের সামনে এখন প্রশ্ন, এই মৌসুমের পর শস্যাগারগুলো কে চালাবে। সিএইচএস বলেছে, তারা এই অঞ্চলে থাকবে এবং কৃষকদের কাছে কৃষি উপকরণ ও জ্বালানি পণ্য ও সেবা বিক্রি চালিয়ে যাবে।
ছবি: AlexiusHoratius / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: DTN / Progressive Farmer





মন্তব্য
(০)