সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৬৪%বাতাস ৪ কিমি/ঘ

নেত্রকোনার হাওরে দেশি মাছ কমছে, ২৯ প্রজাতি হারিয়ে গেছে

বারসিকের তথ্যে, নেত্রকোনার হাওরে ছয় দশক আগে অন্তত ১১৫ প্রজাতির দেশি মাছ ছিল; এখন দেখা মেলে ৬১ প্রজাতির, ২৯টি পুরোপুরি হারিয়ে গেছে।

নেত্রকোনার হাওরে দেশি মাছ কমছে, ২৯ প্রজাতি হারিয়ে গেছে
মৎস্য

নেত্রকোনার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল ক্রমেই দেশি মাছশূন্য হয়ে পড়ছে। হাওর, নদী, খাল-বিলে জাল ফেলে দিন শেষে প্রায় খালি হাতে ফিরছেন জেলেরা, আর লোকসানে টিকতে না পেরে অনেকে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে দিনমজুরি বা খেতমজুরিতে যাচ্ছেন।

গবেষণা সংস্থা বারসিকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ছয় দশক আগেও নেত্রকোনার হাওরে অন্তত ১১৫ প্রজাতির দেশি মাছ ছিল। এর মধ্যে ২৯ প্রজাতি পুরোপুরি হারিয়ে গেছে, এখন দেখা মেলে মাত্র ৬১ প্রজাতির। অবশিষ্টগুলোর মধ্যে ৪৩টি বিপন্ন, ১১টি চরম বিপন্ন এবং ১২টি তীব্র সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে।

মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী ও কলমাকান্দার হাওরে জেলেদের দুর্দশা চোখে পড়ে। মদনের প্রবীণ জেলে ওয়াহাব মিয়া (৭০) ছয় দশক ধরে মাছ ধরছেন; তিনি এমন সংকট আগে দেখেননি। জেলেরা বলছেন, মাছ পড়ুক বা না পড়ুক, নৌকা, জ্বালানি তেল ও জাল মেরামতের খরচ রোজই লাগে, ফলে জমানো পুঁজি হারিয়ে অনেকে দেনায় পড়ছেন।

মৎস্যসংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বিচার আহরণ, বর্ষায় ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা ধ্বংস, ‘চায়না দুয়ারী’ ও মিহি ফাঁসের কারেন্ট জালের ব্যবহার, বিষ, গ্যাস ট্যাবলেট ও বিদ্যুতের শক দিয়ে মাছ ধরা এবং কৃষিজমির কীটনাশক ও রাসায়নিক সার বৃষ্টির পানিতে হাওরে মেশা এই সংকটের প্রধান কারণ। সরকারি নথিতে জেলায় একসময় ১৩৫টি হাওর, ৮২৪টি বিল, ১১৫টি নদী ও ৪৩৯টি প্রাকৃতিক খালের উল্লেখ থাকলেও পলি জমা, দখল ও জলাশয় সংকুচিত হওয়ায় মাছের আবাস নষ্ট হয়েছে।

দেশি মাছের জোগান কমায় স্থানীয় পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরাও লোকসানে পড়েছেন; বাজারের চাহিদা মেটাতে নির্ভর করতে হচ্ছে খামারের চাষের মাছের ওপর। স্থানীয় পরিবেশকর্মী অহিদুর রহমানের মতে, প্রজনন মৌসুমে অবৈধ জাল ও ক্ষতিকর পদ্ধতিতে মাছ ধরা এখনই বন্ধ না হলে বাকি প্রজাতিগুলোও হারিয়ে যাবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদ জানান, হাওরে পর্যাপ্ত অভয়াশ্রম তৈরি এখন সময়ের দাবি। মদন ও খালিয়াজুরীতে বর্তমানে কোনো সরকারি মৎস্য অভয়াশ্রম নেই; নতুন অভয়াশ্রমের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অবৈধ জাল বন্ধ ও আবাসস্থল রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দরকার বলেও তিনি মনে করেন।

প্রতিবেদন: কৃষি সময়ের নেত্রকোনা সংবাদদাতা।

ছবি: Redmin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

সূত্র: কৃষি সময়

কৃষি সময়সূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

চিংড়ি রপ্তানি বাড়াতে ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটির তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর

ভারতের চেয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি চিংড়ি চাষের জমি থাকলেও রপ্তানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ; উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি ও শ্রম অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর।

বাংলা নিউজ ২৪১৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

কম্বোডিয়ার টনলে সাপে মাছের অভয়াশ্রম রক্ষায় স্থানীয় নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ

কম্পং থম প্রদেশের বোয়েং রিম কমিউনিটি মাছের অভয়াশ্রমের ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জেলা ও কমিউন কর্মকর্তা, গ্রামপ্রধান ও কমিউনিটি সংগঠনের ২৩ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ওয়ার্ল্ডফিশ ও আইডব্লিউএমআই।

WorldFish১৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

ভিয়েতনামের পাঙাশ খামারে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ নিয়ে যুক্তরাজ্যের অর্থায়নে গবেষণা

স্টার্লিং বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে ২৪ লাখ পাউন্ডের একটি প্রকল্প খতিয়ে দেখবে ভিয়েতনামের পাঙাশ চাষে কীভাবে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ গড়ে ওঠে, আর ওষুধ কাজ না করলে চাষিরা কী বিকল্প নিতে পারেন।

AgNavigator১৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)