ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) গবেষকদের হাতে দেশের আবহাওয়ায় অভিযোজিত তেলফসল পেরিলা ভোজ্যতেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদার একটি অংশ মেটাতে পারে এবং একসময় রপ্তানিও হতে পারে। ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল জাগো নিউজে প্রকাশিত খায়রুল বাশার আশিকের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে দেশে নিবন্ধিত প্রথম পেরিলা জাত সাউ পেরিলা-১ (গোল্ডেন পেরিলা বিডি) এবং বর্ষার খরিফ-২ মৌসুমে কৃষক কীভাবে এটি চাষ করতে পারেন, তার বিবরণ দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা বছর বছর বাড়ছে, কিন্তু উৎপাদন সে তুলনায় পিছিয়ে থাকায় আমদানি ব্যয়ও বাড়ছে। ফসলটির পেছনের গবেষকরা আশা করছেন, বাণিজ্যিক চাষ হলে আমদানি করা তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে; আর সচেতনতা বাড়িয়ে উৎপাদন বাড়ানো গেলে পেরিলা তেল বিদেশে বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রাও আয় করা যাবে।
২০২৬ সালের শুরুতে ভোজ্যতেলের ঘাটতির চিত্র
সে সময় পাওয়া হিসাব থেকে ঘাটতির আকার বোঝা যায়। মার্কিন কৃষি বিভাগের বৈদেশিক কৃষি সেবা (ইউএসডিএ এফএএস) ঢাকা থেকে ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ যে বার্ষিক তেলবীজ প্রতিবেদন (অয়েলসিডস অ্যান্ড প্রোডাক্টস অ্যানুয়াল) প্রকাশ করে, তাতে দেশের বছরে ভোজ্যতেলের চাহিদা ধরা হয় প্রায় ৪৮ লাখ টন। দেশে উৎপাদিত তেলবীজ, প্রধানত সরিষা ও রেপসিড এবং অল্প পরিমাণে তিল, চীনাবাদাম, সূর্যমুখী ও সয়াবিন, এর মাত্র ১০ শতাংশের মতো মেটায়। বাকিটা আসে অপরিশোধিত তেল হিসেবে, অথবা তেলবীজ আমদানি করে দেশের কলে মাড়াই করে।
একই প্রতিবেদনের হিসাবে চাহিদার প্রায় ৫২ শতাংশ পাম তেল, ৩৬ শতাংশ সয়াবিন তেল, ১০ শতাংশ সরিষার তেল এবং বাকি ২ শতাংশ রাইস ব্র্যান তেলসহ অন্যান্য ভোজ্যতেল। মানুষ যে রান্নার তেল কেনেন, তার প্রায় ৮৭ শতাংশই সয়াবিন ও পাম তেল। মাথাপিছু ভোগ বছরে ২৪ লিটারের বেশি ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক দশকে পারিবারিক ব্যবহার, রেস্তোরাঁ ও ফাস্ট ফুডের দোকানের বিস্তার এবং তরুণদের মধ্যে ভাজাপোড়া ও রান্নার জন্য প্রস্তুত খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়ায় চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
বাংলাদেশে পাম তেল উৎপাদন হয় না। ইউএসডিএ এফএএসের হিসাবে ২০২৪/২৫ বিপণন বছরে পাম তেল আমদানি হয় ২৫ লাখ ৪০ হাজার টন, আর ২০২৫/২৬ বছরের প্রাক্কলন ২৬ লাখ টন। ২০২৫/২৬ বছরের প্রথম সাত মাসে আসা প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার টন পাম তেলের ৯৭ শতাংশ সরবরাহ করে ইন্দোনেশিয়া, বাকিটা মালয়েশিয়া। ২০২৪/২৫ বছরে সয়াবিন তেল আমদানি ধরা হয় ১৬ লাখ ৫০ হাজার টন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫/২৬ বছরের প্রথম সাত মাসে প্রায় ৮ লাখ ৬৬ হাজার টন সয়াবিন তেল আসে, যার ৭১ শতাংশ আর্জেন্টিনা থেকে। এর বাইরে ২০২৪/২৫ বছরে মাড়াইয়ের জন্য ১৮ লাখ ২০ হাজার টন সয়াবিন এবং দেশি সরিষার সঙ্গে মেশানোর জন্য ৪ লাখ ২১ হাজার টন রেপসিড আমদানি হয়।
দামও বহু বছর ধরে অস্থির ছিল। ২০২১ সালের জুলাই থেকে সব ধরনের রান্নার তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় এবং ২০২২ সালের মে মাসে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে দাম কিছুটা কমলেও সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে আবার বাড়ে। পরিশোধনকারী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকার বোতলজাত সয়াবিন ও পাম তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে। ২০২৬ সালের মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ছিল লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকা এবং ‘সুপার’ পাম তেল ১৬৫ টাকা, আর খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছিল ১৯৩ টাকায়। খোলা সরিষার তেলের দাম ছিল লিটারপ্রতি প্রায় ২০০ থেকে ২২০ টাকা, বোতলজাত সরিষার তেল ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা; প্রতিবেদনের মতে এ দামের কারণে সরিষার তেলের ভোগ কমছিল।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে তৈরি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী অপরিশোধিত ও পরিশোধিত সয়াবিন তেল এবং পরিশোধিত পাম তেলে কোনো আমদানি শুল্ক ছিল না, তবে মূলত মূল্য সংযোজন কর মিলিয়ে মোট করভার ছিল ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। দেশের মাড়াইকারী শিল্পকে সহায়তা দিতে এবং তেল ও সয়াবিন খইলের দাম কম রাখতে সয়াবিন আমদানিতে কোনো শুল্ক আরোপ করা হয়নি।

দেশে যেসব তেলফসল হয়
জাগো নিউজের প্রতিবেদনে দেশের তেলফসল হিসেবে সরিষা, চীনাবাদাম, তিল, তিসি, সয়াবিন ও সূর্যমুখীর কথা বলা হয় এবং জানানো হয়, সাধারণত সরিষা, তিল ও সূর্যমুখী থেকেই তেল তৈরি হয়। ইউএসডিএ এফএএসের প্রতিবেদনে রেপসিড ও সরিষাকে, যা একসঙ্গে ‘সরিষা’ নামে বিক্রি হয়, সবচেয়ে বড় তেলফসল বলা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য ব্যবহার করে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে তেলফসল আবাদ হয় এবং উৎপাদনের প্রাক্কলন ছিল ১৬ লাখ ৯০ হাজার টন, যা ২০২৪-২৫ সালের চেয়ে যথাক্রমে ১ দশমিক ৯ ও ২ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এর প্রধান কারণ, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভালো দামের আশায় কৃষকরা সরিষার জমিতে আলু চাষ করেছিলেন।
২০২৫-২৬ সালে সরিষা ও রেপসিডের আবাদ ধরা হয় ১০ লাখ হেক্টর এবং উৎপাদন ১২ লাখ ৮০ হাজার টন; ২০২৪-২৫ সালে তা ছিল ১০ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর এবং ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন। এ ফসলের জন্য ঠান্ডা আবহাওয়া দরকার, ১২ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সবচেয়ে ভালো বাড়ে, তাই এটি রবি ফসল। অক্টোবরের মাঝামাঝি বপন শুরু হয়, তবে রোপা আমন দেরিতে কাটা হলে অনেক জায়গায় বপন পিছিয়ে যায়; ভালো ফলনের জন্য ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝির মধ্যে ফসল তুলতে হয়। দেশে গড় ফলন হেক্টরে প্রায় ১ দশমিক ৩ টন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ২০টির বেশি সরিষা ও রেপসিড জাত অবমুক্ত করেছে, যার মধ্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউ সরিষা-১ ও সাউ সরিষা-২ রয়েছে। ডিএই প্রতিটি উপজেলায় বহু কৃষককে বিনা মূল্যে সরিষার বীজ ও সার দিচ্ছিল।
সরিষা, সয়াবিন ও সূর্যমুখীসহ বেশির ভাগ তেলফসল নভেম্বর থেকে মার্চের রবি মৌসুমে হয়, আর তিল ও চীনাবাদাম জুন থেকে অক্টোবরের খরিফ মৌসুমের ফসল। বাংলাদেশ সরিষার তেল রপ্তানিও করে, প্রধানত মধ্যপ্রাচ্যের সেসব দেশে যেখানে বহু বাংলাদেশি থাকেন; ইউএসডিএ এফএএস ২০২৬/২৭ সালে ২ লাখ ২০ হাজার টন রপ্তানির পূর্বাভাস দেয়।
পেরিলার জায়গা ফসল-পঞ্জিকার অন্য সময়ে। জুলাইয়ে বপন করে বর্ষার খরিফ-২ মৌসুমে এটি চাষ হয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০২৫ সালে লিখেছেন, হেক্টরে ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৫ টন ফলনের সম্ভাবনা এবং খরিফ-২ মৌসুমের স্বল্প জীবনকালের কারণে পেরিলা ফসলে বৈচিত্র্য আনা ও তেলের আমদানি নির্ভরতা কমানোর একটি সম্ভাবনাময় উপায়।
পেরিলা কী
পেরিলার বৈজ্ঞানিক নাম Perilla frutescens (L.) Britton; এটি পুদিনা পরিবারের (Lamiaceae) উদ্ভিদ। এটি একবর্ষজীবী বীরুৎ, ৬০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার উঁচু হয়। কাণ্ড রোমশ ও চারকোনা, পাতা বিপরীতমুখী, চওড়া ডিম্বাকার ও করাতের মতো খাঁজকাটা কিনারাযুক্ত, পুদিনার মতো কড়া গন্ধ থাকে, আর শাখার মাথায় মঞ্জরিতে ছোট ছোট ফুল ফোটে। উদ্ভিদবিজ্ঞানের তথ্যসূত্রে এর আদি বিস্তারের এলাকার মধ্যে বাংলাদেশ, পূর্ব ও পশ্চিম হিমালয় ও উত্তর-পূর্ব ভারত, নেপাল, মিয়ানমার, চীন, কোরিয়া ও জাপানের নাম রয়েছে।
প্রজাতিটির তিনটি স্বীকৃত ভ্যারাইটি আছে: var. frutescens, যা কোরিয়ান পেরিলা বা দেউলক্কে নামে পরিচিত এবং মূলত বীজ ও পাতার জন্য চাষ হয়; var. crispa, যা জাপানি রান্নার শিসো; আর var. hirtella বা লেবু পেরিলা। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে আনা ফসলটি দক্ষিণ কোরিয়ার জাত, যা কোরিয়ান পেরিলা নামে পরিচিত; বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের গবেষণাতেও সাউ পেরিলা-১-কে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা উচ্চফলনশীল তেলফসল বলা হয়েছে।
এর ফল খুব ছোট, ব্যাস প্রায় ২ মিলিমিটার। এক হাজার বীজের ওজন প্রায় ৪ গ্রাম, আর বীজে প্রায় ৩৮ থেকে ৪৫ শতাংশ চর্বি জাতীয় উপাদান (লিপিড) থাকে। কোরিয়ায় ভাজা বীজ থেকে পেষা তেল ‘দেউলগিরেউম’ রান্না ও স্বাদ বাড়ানোর কাজে ব্যবহার হয়; তিলের তেলের সঙ্গে এটি কোরীয় রান্নার প্রধান দুই সুগন্ধি তেলের একটি, আর পাতা ‘ক্কেননিপ’ ভেষজ ও সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। উত্তর-পূর্ব ভারত ও কুমায়ুন পাহাড়ে বীজ ভেজে চাটনি ও সালাদ বানানো হয় এবং তেল রান্নায় ব্যবহৃত হয়। না-ভাজা বীজের তেল তিসির তেলের মতো দ্রুত শুকিয়ে যায় বলে দীর্ঘদিন ধরে রং, বার্নিশ, ছাপার কালি ও লিনোলিয়াম তৈরিতে ব্যবহার হয়ে আসছে।
তথ্যসূত্রগুলো উদ্ভিদটির কিছু অসুবিধার কথাও বলে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঞ্চলে পেরিলা আগ্রাসী আগাছা হিসেবে ছড়িয়েছে; নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির এক্সটেনশন গার্ডেনার প্লান্ট টুলবক্স সেখানে একে আগ্রাসী উদ্ভিদের তালিকায় রেখেছে এবং বলেছে, এটি গবাদিপশুর জন্য বিষাক্ত হতে পারে। মাঠে চরে খাওয়া গরু, অন্যান্য জাবর কাটা প্রাণী ও ঘোড়া কাঁচা গাছ খেলে পাতার রাসায়নিক যৌগের কারণে তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগতে পারে। এটি অবশ্য তেল বের করার পর পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খইলের থেকে আলাদা বিষয়।

সাউ পেরিলা-১: মাঠ গবেষণা থেকে নিবন্ধিত জাত
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেকৃবির একদল গবেষক দীর্ঘদিন পেরিলা নিয়ে গবেষণা করে ফসলটিকে দেশের আবহাওয়ায় অভিযোজিত করতে সক্ষম হন। কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এইচ এম এম তারিক হোসেনের তত্ত্বাবধানে ২০০৭ সাল থেকে এর ধারাবাহিক গবেষণা শুরু হয়। ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় বীজ বোর্ড শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে সাউ পেরিলা-১ (গোল্ডেন পেরিলা বিডি) নামে জাতটির নিবন্ধন দেয়। এটিই দেশে নিবন্ধিত প্রথম পেরিলা জাত, এবং পরে তা কৃষকদের জন্য অবমুক্ত করা হয়।
প্রকাশিত গবেষণাও এ তথ্যের সঙ্গে মেলে। শেকৃবির গবেষক এম এ কে মজুমদার, এইচ এম এম টি হোসেন, এ এফ এম জে উদ্দিন ও মেহেরুন্নেসার ২০২১ সালে জার্নাল অব বায়োসায়েন্স অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার রিসার্চে প্রকাশিত প্রবন্ধে সাউ পেরিলা-১ (গোল্ডেন পেরিলা বিডি)-কে বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্ভাবিত নতুন ভোজ্য তেলবীজ জাত বলা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের গবেষণাতেও উল্লেখ আছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বীজ বোর্ড ফসলটিকে সাউ পেরিলা-১ (গোল্ডেন পেরিলা বিডি) হিসেবে শনাক্ত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অবমুক্তির পরপরই ১৪টি উপজেলায়, প্রতি উপজেলায় এক বিঘা করে, পরীক্ষামূলক চাষ হয়, আর ২০২০ সালে দেশের ৪৫টি উপজেলার ১৭ হেক্টর জমিতে পেরিলা চাষ হয়। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক চাষে আগ্রহ দেখায় এবং ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বীজ কোম্পানি লাল তীর সিডকে এর বীজ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য ছিল, দেশে পেরিলার বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে এবং এখন যে কেউ এটি চাষ করতে পারেন; সরকারের কৃষি বিভাগ আশা করছিল, এ ফসল দেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ঢাকার শেরেবাংলা নগরে, ৮৭ একর জমির ওপর। ১৯৩৮ সালের ১১ ডিসেম্বর বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট নামে এর যাত্রা শুরু; পরে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কৃষি অনুষদ হিসেবে চলে, এবং ২০০১ সালে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০১-এর মাধ্যমে দেশের ১৭তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। কৃষি, কৃষি ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, পশুপালন ও ভেটেরিনারি মেডিসিন এবং মৎস্য বিষয়ে এর অনুষদ রয়েছে, আছে বীজ প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটও। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রকাশনার তালিকায় ড. এইচ এম এম তারিক হোসেনের নেতৃত্বে সাউ পেরিলা-১-এর পুষ্টি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজও রয়েছে।

পেরিলার বীজ ও তেলে কী আছে
পেরিলার বীজ দেখতে সরিষার দানার মতো, আর সরিষার মতোই মাড়াই করে তেল পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাড়াইয়ের পর প্রায় ৪০ শতাংশ তেল পাওয়া যায়, যেখানে সরিষা থেকে পাওয়া যায় ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ। বীজে ২৫ শতাংশের বেশি আমিষ থাকায় তেল বের করার পর যে খইল থাকে তা প্রোটিনসমৃদ্ধ এবং গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে উপযোগী। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের প্রবন্ধেও পেরিলার তেলের পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ বলা হয়েছে।
শেকৃবি দলের ২০২১ সালের গবেষণায় দেশে উৎপাদিত সাউ পেরিলা-১-এর বীজ বিশ্লেষণ করা হয়। তাতে দেখা যায়, তেলের ফ্যাটি অ্যাসিডের ৯১ শতাংশ অসম্পৃক্ত, আর ওমেগা-৩ জাতীয় আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড ৫০ দশমিক ৫২ শতাংশ, যা এর প্রধান বহু-অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড। সম্পৃক্ত, এক-অসম্পৃক্ত ও বহু-অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডের অনুপাত পাওয়া যায় ১ : ২.২৬ : ৮.৯৫, আর ওমেগা-৬ ও ওমেগা-৩-এর অনুপাত ১ : ২.২২। ওমেগা-৬ জাতীয় লিনোলেইক অ্যাসিড ছিল ২২ দশমিক ৭১ শতাংশ, যা লেখকদের মতে সয়াবিন, সূর্যমুখী ও ভুট্টার তেলের চেয়ে অনেক কম। তাঁদের সিদ্ধান্ত ছিল, প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ তেলের ভোজ্য উদ্ভিজ্জ উৎসগুলোর মধ্যে সাউ পেরিলা-১-এর বীজ অন্যতম সেরা।
সাধারণ তথ্যসূত্রে পেরিলা তেলে ওমেগা-৩-এর অংশ ৫৪ থেকে ৬৪ শতাংশ বলা হয়, যা উদ্ভিজ্জ তেলের মধ্যে সর্বোচ্চগুলোর একটি; ওমেগা-৬ সাধারণত ১৪ শতাংশের কাছাকাছি। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের প্রবন্ধে আগের গবেষণার বরাতে আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিডের পরিসর ৪০ থেকে ৬৮ শতাংশ বলা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে, পেরিলা তেলে ইরুসিক অ্যাসিড শনাক্ত হয়নি।
জাগো নিউজের প্রতিবেদনে তেলটি হার্ট, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, মস্তিষ্ক ও ত্বকের জন্য উপকারী বলেও দাবি করা হয়েছিল। কোনো স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নে এসব দাবির সমর্থন পাওয়া যায়নি, তাই এখানে তা পুনরাবৃত্তি করা হলো না; কোনো রোগের কারণে নির্দিষ্ট কোনো তেল খাওয়ার কথা ভাবলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পেরিলা শুধু তেলফসল নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গোল্ডেন পেরিলার পাতা সবজি হিসেবে খাওয়া যায় এবং বিদেশে পেরিলা পাতার আলাদা চাহিদা আছে, সুগন্ধের কারণে রান্নায় ভিন্ন স্বাদ আনতে এটি ব্যবহার করা যায়, আর কিছু ফাস্ট ফুডেও এর ব্যবহার আছে। কোরিয়া থেকে আমদানি করা পেরিলা তেল তখন দেশের বাজারে লিটারপ্রতি ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল এবং বাড়তি পুষ্টিগুণের কারণে ধনী ক্রেতাদের মধ্যে এর বিশেষ চাহিদা ছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
নীলফামারীতে এক কৃষকের পরীক্ষামূলক চাষ
মাঠপর্যায়ের চাষের খবর আগেও প্রকাশিত হয়েছিল। ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর বাংলাদেশ প্রতিদিন নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা থেকে জানায়, মাগুড়া মাস্টারপাড়া গ্রামের এক কৃষক আগের বছর উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও বীজে ৩০ শতাংশ জমিতে কোরিয়ান পেরিলা চাষ করেছিলেন। তিনি পত্রিকাটিকে বলেন, ৩ হাজার টাকা খরচ করে তিনি ১২০ কেজি বীজ পান এবং গ্রামের ঘানিতে তেল ভাঙান; প্রথম বছরের সাফল্যে পরের বছর ৪৫ শতাংশ জমিতে চাষ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় অন্য কৃষকরাও বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য তাঁর কাছ থেকে বীজ নিচ্ছিলেন।
উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে জানান, তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং ফসলটির চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরীক্ষিত জাত সংগ্রহ করে ওই কৃষককে দেওয়া হয়; তাঁর ভাষ্যে, এ তেলে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে এবং ইরুসিক অ্যাসিড নেই। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ওই এলাকার মাটি ও আবহাওয়া পেরিলা চাষের উপযোগী এবং এর চাষ ছড়িয়ে দিতে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফসলটি সাড়ে তিন মাসে তোলা যায়, সরিষার মতো গ্রামের ঘানি ও অটো অয়েল মিলে ভাঙানো যায়, তেল সুগন্ধি এবং কচি পাতা চা, রান্না ও সালাদে ব্যবহার হয়; কৃষকের মতে চাষ পদ্ধতি ও খরচ সরিষার মতোই, আর রোগবালাইও কম।
সাউ পেরিলা-১ চাষের পদ্ধতি
প্রতিবেদনে সাউ পেরিলা-১ (গোল্ডেন পেরিলা বিডি) উৎপাদন প্রযুক্তি এভাবে তুলে ধরা হয়।
- মাটি: যেখানে পানি জমে থাকে না এমন প্রায় সব ধরনের মাটিতে এ ফসল চাষ করা যায়, তবে বেলে দোআঁশ ও দোআঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো।
- মৌসুম: খরিফ-২। বীজ বপনের উপযুক্ত সময় ১০ থেকে ২৫ জুলাই। পেরিলা অত্যন্ত আলোক-সংবেদনশীল (ফটোসেনসিটিভ) ফসল; সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ফুল আসে। তাই গাছের পর্যাপ্ত অঙ্গজ বৃদ্ধি ও কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বীজ বুনতে হবে।
- বীজের হার: হেক্টরপ্রতি এক থেকে দেড় কেজি বীজ।
- বীজতলা: এক থেকে দেড় মিটার চওড়া, দৈর্ঘ্য জমির মাপমতো। বীজতলায় জৈব সার দিলে স্বাস্থ্যবান চারা পাওয়া যায়। বৃষ্টির পানি যেন না জমে, সেজন্য দুই বেডের মাঝে নালা রাখতে হবে। বীজ ছোট বলে মাটি যথাসম্ভব ঝুরঝুরে করতে হবে এবং পিঁপড়ার আক্রমণ ঠেকাতে হবে। খরিফ-২ মৌসুমে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় বপনের পর প্রথম ১৫ দিন বীজতলার চারপাশে খুঁটি দিয়ে উঁচু করে পলিথিন দেওয়া যেতে পারে।
- বপন: লাইন করে বীজ বুনলে অঙ্কুরোদগম ভালো হয়; অথবা বীজ ছিটিয়ে ওপরে ঝুরঝুরে মাটি দিতে হবে। বপনের পর বীজতলায় হালকা পানি দিতে হবে এবং বীজতলা যেন একেবারে শুকিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
- জমি তৈরি: চার থেকে পাঁচটি আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করতে হবে, আর পানি নিষ্কাশনের জন্য জমির চারপাশে নালা রাখতে হবে।
- চারা রোপণ: বপনের ২৫ থেকে ৩০ দিন পর, পাঁচ-ছয়টি পাতা হলে চারা রোপণের উপযোগী হয়। চারা তোলার সঙ্গে সঙ্গে শিকড়ে মাটি রেখে রোপণ করতে হবে; গাছ থেকে গাছ ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার এবং লাইন থেকে লাইন ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্বে। ২ মিটার চওড়া বেড এবং দুই বেডের মাঝে ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার নালা রাখলে পানি নিষ্কাশন ভালো হয়; বেড ছাড়াও রোপণ করা যায়, তবে তখন নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। রোপণের পরপরই হালকা সেচ দিতে হবে।
- সেচ: বর্ষায় সাধারণত সেচ লাগে না, তবে ফুল আসার সময় একটানা ১৫ থেকে ২০ দিন বৃষ্টি না হলে হালকা সম্পূরক সেচ লাগতে পারে। জমিতে যেন পানি না জমে।
- নিড়ানি: রোপণের ১০ থেকে ১৫ দিন পর প্রথমবার এবং ২৫ থেকে ৩০ দিন পর দ্বিতীয়বার।
- বালাই: রোগ ও পোকার আক্রমণ সাধারণত খুব কম, তবে কাটুই পোকা, হক মথ ও বিছা পোকা দেখা দিতে পারে; ক্ষতির ধরন দেখে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা নিতে হবে।

ফসল সংগ্রহ, ফলন, সংরক্ষণ ও সার নিয়ে গবেষণা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চারা রোপণের ৭০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যে পেরিলা সংগ্রহ করা যায়। বীজ পরিপক্ব হলে সাধারণত পাতা ঝরে যায়; ৮০ শতাংশ পাতা হলুদ হলে বীজ ধূসর রং ধারণ করে এবং সংগ্রহের উপযোগী হয়। বাইরে থেকে বীজ দেখা যায় বলে পরিপক্বতা সহজেই বোঝা যায়। এরপর গাছের গোড়া কেটে বা পুরো গাছ উপড়ে শক্ত চটের বস্তা, মোটা পলিথিন বা ত্রিপলের ওপর হালকা করে পিটিয়ে বীজ সংগ্রহ করা হয়। হেক্টরে ফলন ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৫ টন।
বীজ ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে, আর্দ্রতা ৭ থেকে ৮ শতাংশ হলে বায়ুরোধী টিন বা প্লাস্টিকের পাত্রে যথাসম্ভব শুকনো ও ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতিবেদনে বীজভর্তি পাত্র মাটির সংস্পর্শে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ফসলটির পুষ্টি ব্যবস্থাপনা নিয়েও মাঠ গবেষণা শুরু হয়েছিল। ২০২২ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর শেকৃবিতে চালানো এক পরীক্ষায়, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জার্নাল অব অ্যাগ্রোফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টে প্রকাশিত হয়, মো. হুমায়ুন কবির, এইচ এম এম তারিক হোসেন ও সহকর্মীরা সাউ পেরিলা-১-এ বিভিন্ন জৈব সার ও রাসায়নিক সারের মাত্রা তুলনা করেন। জৈব সারের মধ্যে পোলট্রি লিটার ও ভার্মিকম্পোস্টে সর্বোচ্চ ফলন পাওয়া যায়, হেক্টরে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৮৫ দশমিক ৭ ও ১ হাজার ২৪৯ দশমিক ২ কেজি; আর সুপারিশকৃত সারের ১২৫ শতাংশ মাত্রায় ফলন হয় ১ হাজার ৩২৩ দশমিক ৪ কেজি, সুপারিশকৃত মাত্রায় ১ হাজার ৩০৪ দশমিক ১ কেজি। লেখকরা সুপারিশকৃত সারের সঙ্গে পোলট্রি লিটার বা ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহারের সুপারিশ করেন।
ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেট হাউসে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চালানো আরেক পরীক্ষায়, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আর্কাইভস অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সে প্রকাশিত হয়, গন্ধক ও ফসফরাসের প্রভাব যাচাই করা হয়। হেক্টরে ১৮ দশমিক ৫ কেজি গন্ধক ও ৩০ কেজি ফসফরাস একসঙ্গে দিলে সর্বোচ্চ ফলন, হেক্টরে ১ দশমিক ৫০ টন পাওয়া যায়। লেখকদের সিদ্ধান্ত, হেক্টরে ১০০ কেজি জিপসাম ও ১৫০ কেজি টিএসপির মতো মাঝারি মাত্রার সার বৃদ্ধি ও ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। এগুলো পরীক্ষার ফল; পেরিলায় সার প্রয়োগের বিষয়ে কৃষকদের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পেরিলা কোথায় জায়গা পেতে পারে
প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষক বর্ষা মৌসুমে খেতের আইলে, বাড়ির আঙিনায় বা যেকোনো উঁচু জায়গায় পেরিলা চাষ করে পরিবারের প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ করতে পারেন এবং বাকিটা বাজারে বিক্রি করতে পারেন। গবেষকরা আশা করছিলেন, বাণিজ্যিক উৎপাদনের মাধ্যমে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমবে, আর সচেতনতা বাড়িয়ে চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে উৎপাদন বাড়িয়ে পেরিলা তেল রপ্তানিও করা সম্ভব হবে।
ছবি: Dalgial / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ, মার্কিন কৃষি বিভাগের বৈদেশিক কৃষি সেবা (বাংলাদেশ তেলবীজ বার্ষিক প্রতিবেদন, মার্চ ২০২৬), জার্নাল অব বায়োসায়েন্স অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার রিসার্চ (মজুমদার ও অন্যান্য, ২০২১), জার্নাল অব অ্যাগ্রোফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (কবির ও অন্যান্য, ২০২৫), আর্কাইভস অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স (ইউসুফ ও অন্যান্য, ২০২৫), বাংলাদেশ প্রতিদিন, নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটি এক্সটেনশন, উইকিপিডিয়া (Perilla frutescens, Perilla oil, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), লাল তীর সিড





মন্তব্য
(০)