সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৬৪%বাতাস ৪ কিমি/ঘ

‘জেবন বাঁচাটায় আগোত, পরে মাছ ধরা’

আজ শনিবার ভোরের আলো ফুটতেই সোডাপীর বাজারে মাছ কিনতে এসেছিলেন রংপুরের পীরগঞ্জের নখাড়পাড়া গ্রামের আজমত আলী (৪৫)। বাঁশের কঞ্চি দিয়ে দাঁত মাজছিলেন আর বলছিলেন, ‘কয় দিন থাকি হাটোত আস

আজ শনিবার ভোরের আলো ফুটতেই সোডাপীর বাজারে মাছ কিনতে এসেছিলেন রংপুরের পীরগঞ্জের নখাড়পাড়া গ্রামের আজমত আলী (৪৫)। বাঁশের কঞ্চি দিয়ে দাঁত মাজছিলেন আর বলছিলেন, ‘কয় দিন থাকি হাটোত আসি ফেরত যাওচি; মাছ পাওয়া যাওছে না। মাঝিপাড়া এলাকার মাছুয়ারা (জেলেরা) কেউ আর মাছ নিয়া বাজারোত আইসোছে না।’

আজমত আলীর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা উপজেলার হাতীবান্ধা গ্রামের আকরাম আলী বলেন, ‘গন্ডগোলের ঘটনার দিন থাকিতো মাঝিপাড়ার জেলেরা মাছ ধরোছে না। ওমরা ঘর থাকি বেরাওচে না। ওই জন্যে হাটোত মাছ নাই, লোকও কম। জেলেরা মাছ নিয়া আইলে এতক্ষণ বাজার জমি (জমে) উঠিল হয়।’

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ১৭ অক্টোবর উত্তেজিত জনতার দেওয়া আগুনে রংপুরের পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া বড়করিমপুর এলাকার জেলেদের ২১টি ঘর ও মাছ ধরার সরঞ্জামাদি পুড়ে যায়। এ সময় নগদ টাকা, গয়নাসহ বাড়ির মালামাল লুট হয়েছে। সেদিন থেকে তাঁরা ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় এলাকায় রয়েছেন। মাছ ধরা তো দূরের কথা; বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাঝিপাড়া গ্রামের জেলেদের ধরা মাছে সকাল-বিকেল আশপাশের পীরগঞ্জ হাটবাজার, হাতীবান্ধা বাজার, সোডাপীর বাজার, খেজমতপুর ও বটেরহাট মাছবাজার জমে উঠত। তাঁরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় গত রোববার থেকে এসব বাজারে খাল, বিল ও নদীর মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। চাষের মাছও বাজারে সরবরাহ আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, জেলেরা খাল, বিল ও নদীতে মাছ ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন পুকুর ও দিঘিতে পোষা মাছও ধরে দেন। তাঁরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় পাঁচ দিন ধরে বাজারে সব ধরনের মাছের সংকট দেখা দিয়েছে।

পীরগঞ্জ বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মুকুল চন্দ্র বলেন, ২০ বছর ধরে মাছ বেচি। কিন্তু পাঁচ দিন ধরে দেশি প্রজাতির মাছের যে সংকট, তা কখনো হয়নি। মাঝিপাড়ার জেলেরা বাজারে দেশি মাছের প্রধান সরবরাহকারী। তাঁরা ভয়ে বাইরে বের হচ্ছেন না। মাছও ধরছেন না। এ কারণে বাজারে দেশি জাতের মাছ একদম নেই। তাঁরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় চাষের মাছেরও দাম বেড়েছে। ছোট আকারের যে রুই মাছ পাঁচ দিন আগে পাইকারি বিক্রি করেছি ১৫০ টাকা কেজি। সেই মাছ এখন ২৭০-২৮০ টাকা কেজি। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। দেশি জাতের মাছ না পেয়ে লোকজন ফিরে যাচ্ছেন। এ কারণে বাজার জমেও উঠছে না।

মাংসের দাম বেশি হওয়ায় খাল, বিলের ছোট মাছ কিনে খেতেন পীরগঞ্জের চতরা গ্রামের রিকশাচালক মিজানুর রহমান। রিকশায় করে যাওয়ার সময় কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘স্যার, এক কেজি গরুর মাংসের টাকা হইলে এখানে প্রায় তিন কেজি ছোট মাছ পাওয়া যেত। হামরা গরিব মানুষ। মাংসের স্বাদ মাছে মেটাই। ২০০ টাকার মাছ কিনলে ফাটাফাটি; দুই দিন ছইলপইল নিয়া খাইতাম। জেলেদের বাড়িত আগুন দেওয়ার পর থাকি হাটোত মাছ নাই। মাঝেমধ্যে যা আসে, দাম বেশি।’

মাঝিপাড়া গ্রামের বড়করিমপুর এলাকার হিন্দুপল্লিতে কথা হয় জেলে হরিদাস চন্দ্রের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘জাল তো পুড়ি দেছে। মাছ ধরব কী দিয়া! হামরা মাছ না ধরলে হাটোত মাছ থাকে কেমন করি। যেভাবে হামার বাড়ি পুড়ি দেছে, মারছে, লুটপাট করছে, এই অবস্থায় হামরা তো ভয়ে কোথাও যাচ্ছি না। জেবন বাঁচাটায় আগোত, পরে মাছ ধরা।’

পীরগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম আজ মুঠোফোনে বলেন, মাঝিপাড়ায় জেলের সংখ্যা শতাধিক। তাঁরা প্রতিদিন মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। গ্রামে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাঁরা মাছ ধরতে বের হচ্ছেন না। অনেকের জাল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে কিছুটা মাছের সংকট রয়েছে। তবে কিছুটা ক্ষতি পোষাতে ১৫ জন জেলেকে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে ১৫টি পাক জাল দেওয়া হয়েছে।

প্রথম আলোসূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

চিংড়ি রপ্তানি বাড়াতে ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটির তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর

ভারতের চেয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি চিংড়ি চাষের জমি থাকলেও রপ্তানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ; উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি ও শ্রম অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর।

বাংলা নিউজ ২৪১৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

নেত্রকোনার হাওরে দেশি মাছ কমছে, ২৯ প্রজাতি হারিয়ে গেছে

বারসিকের তথ্যে, নেত্রকোনার হাওরে ছয় দশক আগে অন্তত ১১৫ প্রজাতির দেশি মাছ ছিল; এখন দেখা মেলে ৬১ প্রজাতির, ২৯টি পুরোপুরি হারিয়ে গেছে।

কৃষি সময়১৭ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মৎস্য

কম্বোডিয়ার টনলে সাপে মাছের অভয়াশ্রম রক্ষায় স্থানীয় নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ

কম্পং থম প্রদেশের বোয়েং রিম কমিউনিটি মাছের অভয়াশ্রমের ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জেলা ও কমিউন কর্মকর্তা, গ্রামপ্রধান ও কমিউনিটি সংগঠনের ২৩ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ওয়ার্ল্ডফিশ ও আইডব্লিউএমআই।

WorldFish১৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)