খাবার টেবিলে ১২ মাস ফল রাখতে ১৬১ কোটি টাকার প্রকল্প
ফলের গুরুত্ব বিবেচনায় ও জনগণের টেকসই নিরাপত্তার লক্ষ্যে একশত ৬১ কোটি ব্যয়ে বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি গত মঙ
ফলের গুরুত্ব বিবেচনায় ও জনগণের টেকসই নিরাপত্তার লক্ষ্যে একশত ৬১ কোটি ব্যয়ে বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জাতীয় নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মানবদেহের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ফলের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। পুষ্টিবিদদের মতে প্রতিদিন গড়ে ২০০ গ্রাম ফল খাওয়া উচিত।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, বর্তমানে দেশে যে পরিমান ফল উৎপাদন হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় মাত্র ৪০ শতাংশ। উৎপাদিত ফলের ৬০ শতাংশ পাওয়া যায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই চার মাসে। শীত মৌসুমে ফল প্রাপ্তির সুবিধা কম থাকায় গ্রামীন ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষ পুষ্টির অভাবে ভোগে। এর ফলে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে শিশুদের বিকাশ।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া ২য় সংশোধিত প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২৩ সালের জুন মাসে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৩টি পাহাড়ি জেলাসহ অন্যান্য উপজেলার অসমতল, পাহাড়ি, অব্যবহৃত ও বসতবাড়ির চারপাশের জমি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে উৎপাদন ২০ শতাংশ বাড়ানো হবে। এর আওতায় ৭৪টি হার্টিকালচার সেন্টারে আওতাধীন দেশের ৮ বিভাগের ৫১টি উপজেলায় ৪০২টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পে আওতায় এক হাজার একশত ব্যাচ কৃষককে প্রশিক্ষণ, এক হাজার ব্যাচ নারী কৃষক, নার্সারীম্যান, মালীসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এছাড়া ১১ হাজার বাণিজ্যিক মিশ্র ফলের প্রদর্শনী, ৪ হাজার ৫ শত বাণিজ্যিক ফলের বাগান, ১৭ হাজার বসতবাড়িতে ফলের বাগান, ৫ হাজারটি ক্যাশোনাট, এক হাজারটি ড্রাগন ফলের বাগান, এক হাজার ২ শত ৮৮টি বিদেশি ফল বাগানসহ একাধিক বাগান করা হবে। এছাড়া ১৪ লক্ষ ঘন মিটার কৃষি উন্নয়ন, ৩০ হাজার রানিং মিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পটি সম্পর্কে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী বিভাগের সদস্য মো. জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, ‘দেশিয় ও বিদেশি ফলের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমানো ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে এই প্রকল্প ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি চাষীদের প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও আয় বৃদ্ধিতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘দেশে মধুমাসে ফলের প্রাচুর্য থাকে অন্য সময় ফল থাকেনা। আমরা এখন ড্রাগন, স্ট্রবেরি চাষ করছি। আম, জাম, কাঁঠালতো আছেই। আমরা চাচ্ছি এগুলোকে সারা বছর কিভাবে আমাদের টেবিলে আনতে পারি সেই ব্যবস্থা নিতে।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘ফল উৎপাদন বাড়ায় বিদেশি ফলের ইম্পোর্ট কমে গেছে। আমাদের নিজস্ব দেশিয় ফল বিক্রিও বাড়ছে।’



