সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

গোলাপ ফুলের ব্যবহার, উপকারিতা ও ঝুঁকি: গবেষণা যা বলে

গোলাপের ফুল, ফল, পাতা ও বাকল প্রসাধনী, খাদ্য ও ওষুধশিল্পে ব্যবহৃত হয়। তবে এর বেশির ভাগ স্বাস্থ্যগুণের প্রমাণ এখনো গবেষণাগার, প্রাণী বা ছোট পরিসরের গবেষণায় সীমিত, আর কারও কারও ত্বকে গোলাপের তেল অ্যালার্জি ঘটাতে পারে।

গোলাপ ফুলের ব্যবহার, উপকারিতা ও ঝুঁকি: গবেষণা যা বলে
ফুল

গোলাপ (গণ Rosa) বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে সবচেয়ে পরিচিত ফুলগুলোর একটি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হেলিয়ন সাময়িকীতে প্রকাশিত তাইওয়ানের ন্যাশনাল ইয়াং মিং চিয়াও তুং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সিউইং ওয়াংয়ের এক পর্যালোচনা প্রবন্ধে বলা হয়েছে, গোলাপের ফল, ফুল, পাতা ও বাকল প্রসাধনী, খাদ্য ও ওষুধসহ নানা পণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। তবে গোলাপ দিয়ে নানা রোগ সারানোর যেসব ঘরোয়া দাবি প্রচলিত আছে, তার বেশির ভাগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। গোলাপের কোন ব্যবহার প্রতিষ্ঠিত, গবেষণা কতটুকু বলে আর কোথায় সাবধান থাকতে হবে, তা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও গবেষণার তথ্যে মিলিয়ে দেখা হলো।

গোলাপ: পরিচিতি ও ব্যবহার


হেলিয়নের পর্যালোচনা অনুযায়ী, গোলাপ গণে শতাধিক প্রজাতি রয়েছে। বাগান, টব, লন ও বারান্দা সাজাতে এবং সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কাট ফ্লাওয়ার হিসেবে গোলাপের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে বাণিজ্যিক গোলাপ চাষের বড় কেন্দ্র ঢাকার সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়ন, যা ‘গোলাপ গ্রাম’ নামে পরিচিত। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা ট্রিবিউনকে সাভার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজিয়াত আহমেদ জানান, বিরুলিয়ার কয়েকটি গ্রামে ২৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের গোলাপ চাষ হয়।

সুগন্ধি শিল্পে গোলাপের তেল বা আতর তৈরি হয় পাপড়ি বাষ্পে পাতন করে। এর প্রধান উৎস দামেস্ক গোলাপ (Rosa × damascena), যা থেকে গোলাপজলও তৈরি হয়। আতরের প্রধান সুগন্ধি উপাদান জেরানিওল ও সিট্রোনেলল। খাবারেও গোলাপের ব্যবহার আছে: গোলাপের পাপড়ি দিয়ে তৈরি মিষ্টি সংরক্ষিত খাবার গুলকন্দ ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচলিত, যা ঐতিহ্যগতভাবে দামেস্ক গোলাপ দিয়েই বানানো হয়। শুকনো পাপড়ি দিয়ে গোলাপ চা-ও তৈরি হয়।

দামেস্ক গোলাপ (Rosa × damascena), আতর ও গোলাপজলের প্রধান উৎস। ছবি: H. Zell / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
দামেস্ক গোলাপ (Rosa × damascena), আতর ও গোলাপজলের প্রধান উৎস। ছবি: H. Zell / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ইরানের কাশানের কামসারে গোলাপজল তৈরির ঐতিহ্যবাহী ‘গোলাবগিরি’, মে ২০১৪। ছবি: Mostafameraji / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ইরানের কাশানের কামসারে গোলাপজল তৈরির ঐতিহ্যবাহী ‘গোলাবগিরি’, মে ২০১৪। ছবি: Mostafameraji / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে গবেষণা কতটা বলে


হেলিয়নের পর্যালোচনায় প্রদাহ, ডায়াবেটিস, ঋতুস্রাবের ব্যথা (ডিসমেনোরিয়া), বিষণ্নতা, মানসিক চাপ, খিঁচুনি ও বার্ধক্যে গোলাপের সম্ভাব্য উপকারের কথা এসেছে। তবে প্রমাণের ধরন এক নয়। ডায়াবেটিস ও প্রদাহের ক্ষেত্রে তথ্য মূলত গবেষণাগার ও প্রাণীর ওপর পরীক্ষা থেকে। মানুষের ওপর কিছু নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষায় গোলাপের তেলের ঘ্রাণ নেওয়ায় ঋতুস্রাবের ব্যথা কমেছে, আর হাসপাতালে ভর্তি হৃদ্‌রোগীদের উদ্বেগ ও ঘুমের ওপর গোলাপের প্রভাব পরীক্ষা করা হয়েছে। পর্যালোচনায় গোলাপজলকে ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত বলা হয়েছে এবং বিভিন্ন জীবাণুর বিরুদ্ধে এর ব্যাকটেরিয়ারোধী প্রভাবের কথা এসেছে।

সুগন্ধ দিয়ে চিকিৎসা বা অ্যারোমাথেরাপি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ হেলথ (এনসিসিআইএইচ) জানায়, অনিদ্রায় অ্যারোমাথেরাপি কাজে আসে কি না তা জানা যায় না, কারণ এ নিয়ে কঠোর গবেষণা খুব কম হয়েছে। অর্থাৎ গোলাপের ঘ্রাণ ভালো লাগতে পারে, কিন্তু একে চিকিৎসা ভাবার মতো প্রমাণ নেই।

গোলাপের ফল বা ‘রোজ হিপ’ পুষ্টির দিক থেকে উল্লেখযোগ্য। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফুডডেটা সেন্ট্রালের তথ্যে, প্রতি ১০০ গ্রাম বুনো গোলাপ ফলে ৪২৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং ২৪.১ গ্রাম খাদ্যআঁশ থাকে। ডগ রোজের (Rosa canina) ফলে ভিটামিন সি, কোয়েরসেটিন ও এলাজিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি বলে হেলিয়নের পর্যালোচনায় উল্লেখ আছে।

পাকা ফলসহ ডগ রোজের (Rosa canina) ডাল। ছবি: MrPanyGoff / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
পাকা ফলসহ ডগ রোজের (Rosa canina) ডাল। ছবি: MrPanyGoff / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

যক্ষ্মা, কুষ্ঠ, লিভারের রোগ, পাইলস, ছানি বা চোখের রোগ গোলাপ দিয়ে সারে, এমন দাবির সমর্থন যাচাই করা কোনো স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বা গবেষণা পর্যালোচনায় মেলেনি। এসব রোগে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গোলাপের কোনো ঘরোয়া মিশ্রণ খাবেন না, আর চোখে গোলাপের নির্যাস বা কোনো ঘরোয়া মিশ্রণ দেবেন না।

অ্যালার্জি ও অন্যান্য ঝুঁকি


গোলাপের তেল সবার ত্বকে নিরাপদ নয়। হেলিয়নের পর্যালোচনায় রোজা মসকেটা তেল থেকে অ্যালার্জিক কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিসের একটি ঘটনার উল্লেখ করে এ ধরনের উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহারে অ্যালার্জির বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) জানায়, প্রসাধনীর মতো পণ্যের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থেকে কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস হতে পারে। এতে ত্বক চুলকায়, ফোসকা পড়ে, শুকিয়ে ফেটে যায়; সাধারণত সংস্পর্শের কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে এমন হয়। যে উপাদানে সমস্যা, তা চিহ্নিত করে এড়িয়ে চললে ত্বক সাধারণত সেরে ওঠে।

গোলাপ বাগানে কাজ করার আরেকটি ঝুঁকি কাঁটা। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানায়, স্পোরোট্রিকোসিস রোগের জন্য দায়ী স্পোরোথ্রিক্স ছত্রাক মাটি ও গোলাপ ঝোপের মতো গাছপালায় থাকে, এবং গোলাপের কাঁটার খোঁচায় এই ছত্রাক ত্বকে ঢুকে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। শুরুতে ত্বকে ছোট, ব্যথাহীন লাল, বেগুনি বা গোলাপি ফোলা দেখা দেয়। সিডিসি ও এনএইচএসের পরামর্শ মেনে যা করবেন:

  • গাছপালা নিয়ে কাজের সময় দস্তানা, লম্বা হাতার জামা ও ফুলপ্যান্ট পরুন।
  • নতুন প্রসাধনী বা গোলাপের তেল ব্যবহারের পর ত্বকে চুলকানি বা ফুসকুড়ি হলে তা ব্যবহার বন্ধ করুন।
  • কাঁটার খোঁচার জায়গায় ফোলা বা ঘা না সারলে, কিংবা ত্বকের সমস্যা বারবার বা তীব্রভাবে হলে চিকিৎসকের কাছে যান।

গোলাপ বা এর কোনো পণ্য ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের আগে, বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়, শিশুর ক্ষেত্রে বা নিয়মিত ওষুধ খেলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ছবি: ArifHossain.ED / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: দা এগ্রো নিউজ, হেলিয়ন (সিউইং ওয়াং, ২০২৩), মার্কিন কৃষি বিভাগের ফুডডেটা সেন্ট্রাল (ইউএসডিএ), মার্কিন ন্যাশনাল সেন্টার ফর কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ হেলথ (এনসিসিআইএইচ), যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস), মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি), ঢাকা ট্রিবিউন, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফুল

সম্পর্কিত খবর

জৈব

গরুর চারণের আচ্ছাদন ফসলে সূর্যমুখী, সেই মাঠেই ফুল তুলতে আসেন দর্শনার্থী

কানাডার ম্যানিটোবার আর্নেসের দুগিদ পরিবার পুনরুৎপাদনশীল চারণের আচ্ছাদন ফসলে কাটা ফুলের সূর্যমুখী জাত যোগ করেছে। এখন একই মাঠ তাদের গরুর খাবার জোগায়, আবার দর্শনার্থীদের নিজ হাতে ফুল তোলার দিনেও ভিড় টানে।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফুল

আগুনরঙা সুগন্ধি পানামা রোজ: গোলাপ নয়, রঙ্গনের আত্মীয়; কাটিংয়েই চারা

মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে ফোটা কমলা-লাল পানামা রোজ (Rondeletia odorata) পানামা ও কিউবার গুল্ম; অক্টোবর থেকে মে পর্যন্ত ফোটে, ১০-১৫ সেন্টিমিটার ডাল কেটে পুঁতলে তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহে শিকড় গজায়।

সমকাল১৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফুল

পাবনার বিল-ঝিলে লাল-সাদা শাপলার সমারোহ, তবু কমছে শাপলা জন্মানোর জায়গা

গাজনার বিল, ডিকশির বিল, চলনবিলসহ পাবনার জলাশয়ে এখন লাল ও সাদা শাপলা ফুটেছে; তবে জলাশয় ভরাট, অপরিকল্পিত মাছ চাষ আর কীটনাশকে শাপলার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

দেশ রূপান্তর১২ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)