Skip to content
দা এগ্রো নিউজদা এগ্রো নিউজকৃষি ও কৃষকের সংবাদ
সাবস্ক্রাইব

পণ্যের লাগামছাড়া দামে নাভিশ্বাস জনজীবন

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের লাগামছাড়া দামে নাভিশ্বাস জনজীবন। ক্রেতারা অসহায়। বাজারে চাল, ডাল, পিঁয়াজ, মরিচ, সয়াবিন, আটা, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে প্রতিটি পণ্যের বেড়েছে দাম।

সাম্প্রতিক দেশকাল২০ অক্টোবর ২০২১ · ৩ মিনিটের পড়া

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের লাগামছাড়া দামে নাভিশ্বাস জনজীবন। ক্রেতারা অসহায়। বাজারে চাল, ডাল, পিঁয়াজ, মরিচ, সয়াবিন, আটা, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে প্রতিটি পণ্যের বেড়েছে দাম। অতীতে এভাবে একসঙ্গে সব পণ্যের দাম কখনো বাড়েনি। ১৫ দিন আগেও যে পিঁয়াজ ছিলো ৪০-৪৫ টাকা, তা এখন ৭০-৭৫ টাকা। প্রতি কেজিতে বেড়েছে অন্তত ২৫ টাকা। মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০ টাকা।

এছাড়া কেজিপ্রতি চিনির ১৫, আদার ৩০-৪০, রসুনের ৮-১০ আর আটার দাম বেড়েছে ১০ টাকা। ডজনপ্রতি ডিমের দাম বেড়েছে অন্তত ১৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের দেশে সাধারণত অক্টোবরে কিছু কিছু পণ্যের দাম বাড়ে। কিন্তু এবার সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। এটা সত্যি যে জনজীবন নাভিশ্বাস হয়ে পড়েছে। আশা করি নভেম্বরের মধ্যেই শাকসবজিসহ কাঁচা পণ্যের দাম কমবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাজার মনিটর করছে। কিন্তু এর সুফল জনগণ পাচ্ছে বলে মনে হয় না। আমি মনে করি সরকারের আরো পর্যবেক্ষণ বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে সরকারকে কিছু কিছু পণ্যে ভর্তুকি দিতে হবে। কিছু পণ্যের শুল্ক হ্রাস করতে হবে।

উত্তর বাড্ডা কাঁচাবাজার এলাকায় এক সবজি বিক্রেতা বলেন, এখন সবজির মৌসুম। তার পরও কেন দাম বাড়ছে বোধগম্য নয়। তবে পুরো বাজারে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। সরকার তা ভাঙতে না পারলে কোনো পণ্যই সহনীয় দামে পাওয়া যাবে না।

রাজধানীর রামপুরা, উত্তর বাড্ডা, কোকাকোলা মোড়সহ কয়েকটি খুচরা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব বাজারেই নিত্যপণ্যের দাম চড়া। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজি ১২০-১৩০ টাকা। কারওয়ান বাজারে এর পাইকারি মূল্য ৮০-৯০ টাকা। বরবটির পাইকারি মূল্য কেজি ৬০ টাকা হলেও খুচরা মূল্য ৭০-৮০ টাকা। শিমের কেজি ১১০-১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যার পাইকারি মূল্য ৯০ টাকা। ঢেঁড়সের কেজি পাইকারি ৪০ টাকা হলেও খুচরা ৫০-৬০ টাকা। মুলার পাইকারি মূল্য ৪৫ টাকা হলেও খুচরা ৫০-৬০ টাকা। পটোল পাইকারি ৩৫ টাকা হলেও খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা। সাদা বেগুন পাইকারি ৫০ টাকা হলেও খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা।

শসার পাইকারি মূল্য ৩৫ টাকা, খুচরা ৫০-৫৫ টাকা। পেপের পাইকারি মূল্য ১৫ টাকা, খুচরা ২৫ টাকা। লম্বা বেগুন পাইকারি ৪৫ টাকা, খুচরা ৬০-৬৫ টাকা। করলা পাইকারি ৫৫ টাকা, খুচরা ৬০-৭০ টাকা। লাউ ৪৫-৫০, ফুলকপি ৪০-৪৫। আলুর কেজি ২০-২৫ টাকা। আদার পাইকারি মূল্য ১৩৫ টাকা, খুচরা ১৫০-১৬০ টাকা। রসুন (ইন্ডিয়ান) পাইকারি মূল্য ১২০ টাকা, খুচরা ১৪০-১৫০ টাকা। গাজর (দেশি) পাইকারি ৯০ টাকা, খুচরা ১১০ টাকা। বিদেশি গাজর পাইকারি মূল্য ১১৫ টাকা, খুচরা ১৪০ টাকা। টমেটো (বিদেশি) পাইকারি মূল্য ১৩০ টাকা, খুচরা ১৫০ টাকা। মুলা পাইকারি মূল্য ৪৪ টাকা, খুচরা ৫৫-৬০ টাকা। চিচিঙ্গা পাইকারি মূল্য ৪৫ টাকা, খুচরা ৫৫-৬০ টাকা।

মোহাম্মদপুরের ক্রেতা আবদুল আলী বলেন, আগে ৫০০ টাকায় ব্যাগভর্তি বাজার করে নিয়ে যেতাম। এখন ব্যাগের অর্ধেকও হয় না। কোনো সবজির দামই ৫০-৬০ টাকার নিচে নেই। না খেয়েও তো থাকতে পারি না। এ নিয়ে বিক্ষোভ করলে পুলিশে নিয়ে যাবে। কী করব, কার কাছে যাব বুঝতে পারছি না।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের মাছের দামই বেড়েছে। ১০ দিন আগেও যে তেলাপিয়া বিক্রি হতো কেজি ১৫০ টাকা, এখন তা ১৮০ টাকা। ১ কেজি ওজনের রুই এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হতো ২০০ টাকায়, এখন ২৪০-২৫০ টাকা। কিছুদিন আগেও পাঙ্গাশ বিক্রি হতো ১২০ টাকায়, এখন ১৬০ টাকা। ১৫ দিন আগেও মাঝারি কই বিক্রি হতো ১৬০-১৮০ টাকায়, এখন ২২০ টাকা।

রামপুরা কাঁচাবাজারের মাছ বিক্রেতা আলিম জানান, বাজারে মাছের সংকট। ইলিশের কারণে নদীতে অন্য কোনো মাছও ধরতে দিচ্ছে না সরকার। তাই সব মাছেরই দাম বেশি।

মুরগির বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ টাকা। কিছুদিন আগেও ছিলো ১৫০-১৬০ টাকা। সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিলো ২৮০-২৯০ টাকা। ডিমের ডজন ১১৫ টাকা, যা এক মাস আগেও ছিলো ৯৫-১০০ টাকা।

ট্যাগ#পণ্য
সাম্প্রতিক দেশকালদা এগ্রো নিউজ

সম্পর্কিত খবর

মন্তব্য

()
পণ্যের লাগামছাড়া দামে নাভিশ্বাস জনজীবন | দা এগ্রো নিউজ