কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে লিলি মথের (Spodoptera picta) যৌন ফেরোমন শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা পোকার ছাড়া রাসায়নিক থেকে শুরু না করে শুরু করেছেন পোকার ঘ্রাণগ্রাহক বা রিসেপ্টর থেকে। এতে ফেরোমনভিত্তিক বালাই দমনের উপায় তৈরির কাজ অনেক দ্রুত হতে পারে।
যৌন ফেরোমন হলো রাসায়নিক সংকেত, যা দিয়ে পোকা সঙ্গী খোঁজে। ফসল সুরক্ষায় এগুলো দিয়ে পোকার মিলন বাধাগ্রস্ত করা হয়, কিংবা ফাঁদে টেনে এনে পোকার সংখ্যা নজরে রাখা ও দমন করা হয়। কিন্তু ফেরোমন খুঁজে পাওয়া কঠিন: জীবিত পোকা লাগে, কখন ফেরোমন ছাড়ে তা ঠিকঠাক জানতে হয়, আর কোন যৌগ সঙ্গীকে টানে তা বুঝতে অনেক পরীক্ষা করতে হয়।
গবেষক দল প্রক্রিয়াটি উল্টে দিয়েছে। লিলি মথের জিনগত তথ্য ও কাছাকাছি প্রজাতির সঙ্গে তুলনা করে তাঁরা দুটি সম্ভাব্য ঘ্রাণগ্রাহক বেছে নেন। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ঘ্রাণগ্রাহক দুটির ত্রিমাত্রিক গঠন অনুমান করেন এবং কম্পিউটার মডেলিংয়ে খুঁজে বের করেন কোন অণু সেগুলোর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
গবেষণাগারে দেখা গেছে, অনুমান করা যৌগে ঘ্রাণগ্রাহকগুলো সাড়া দেয়। রাসায়নিক ও স্নায়ুবৈদ্যুতিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে, স্ত্রী মথ এই ফেরোমন ছাড়ে এবং পুরুষ মথ তা টের পায়; আচরণগত পরীক্ষায় দেখা গেছে, ফেরোমনটি পুরুষ মথকে আকর্ষণ করে এবং মিলনের আচরণ জাগায়।
লিলি মথ ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে নেই, তবে বিশ্বের অনেক জায়গায় এটি গুরুতর বালাই, বিশেষ করে বাড়ির বাগান, পার্ক ও উদ্ভিদ উদ্যানে। সেখানে কীটনাশকের ব্যবহারে বিধিনিষেধ থাকায় ফেরোমনভিত্তিক দমন কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
গবেষকেরা একে ধারণার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, ঘ্রাণগ্রাহক থেকে শুরু করার এই পদ্ধতিতে বর্তমান, নতুন ও আগ্রাসী ফসল-পোকার অজানা ফেরোমন দ্রুত শনাক্ত করা যাবে, ফলে কৃষকের হাতে পোকা নজরদারি ও মিলন বাধার ফাঁদ আগেভাগে পৌঁছাতে পারে।
ছবি: Tim (iNaturalist user: twan3253) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: Seed World Europe




মন্তব্য
(০)