যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) গবেষণা শাখা ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (ইআরএস) ২০২৬ সালের ২৬ মে প্রকাশিত এক ‘চার্ট অব নোট’-এ জানায়, রোবটিক দোহন দুগ্ধখামারের শ্রমব্যয় কমাতে পারে, তবে কোন ধরনের শ্রমের খরচ কমে তা নির্ভর করে খামারে কতটি গাভি আছে তার ওপর। ইআরএসের অর্থনীতিবিদ জোনাথন ম্যাকফ্যাডেনের তৈরি চার্টটি ২০২১ সালের জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে করা।
রোবটিক দোহন কীভাবে কাজ করে
ইআরএসের বর্ণনায়, রোবটিক দোহন পদ্ধতিতে গাভি বাক্সের মতো দেখতে একটি স্টলে ঢোকে, মানুষের হাতের শ্রম ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দোহন হয়, তারপর বেরিয়ে যায়। সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের দুগ্ধখামারে এই পদ্ধতি ক্রমে বেশি দেখা যাচ্ছে।
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় দোহন ব্যবস্থা (অটোমেটিক মিল্কিং সিস্টেম বা ভলান্টারি মিল্কিং সিস্টেম) ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া যায়; এর গবেষণা ও উন্নয়ন মূলত নেদারল্যান্ডসে হয়েছে। যন্ত্রটি সাধারণত লেজার সেন্সর দিয়ে বাঁটের অবস্থান খুঁজে নেয় এবং রোবটিক বাহু দিয়ে বাঁট পরিষ্কার করে দোহনের কাপ লাগায় ও খোলে। দোহন বাক্সে রাখা সুস্বাদু খাবারের টানে গাভি নিজে থেকেই ঢোকে, আর গায়ের শনাক্তকরণ ট্যাগ পড়ে যন্ত্র ঠিক করে গাভিটিকে তখন দোহন করা হবে কি না।

ছোট খামারে কমেছে পরিবারের অবৈতনিক শ্রম
ইআরএস জানায়, ১৫০টির কম গাভির ছোট খামারে বেতনভুক্ত শ্রমিক পাওয়া ও তার খরচ বহন করা প্রায়ই কঠিন, তাই কাজের বড় অংশ খামারি ও পরিবারের সদস্যরা বিনা পারিশ্রমিকে করেন। এই অবৈতনিক শ্রমকে ইআরএস সুযোগ-ব্যয় হিসেবে মূল্য ধরে, গড় মজুরির হার ও খামারির জানানো কর্মঘণ্টার তথ্য ব্যবহার করে।
জরিপের তথ্যে দেখা যায়, ২০২১ সালে ৫০ থেকে ১৪৯ গাভির যেসব খামার রোবটিক দোহন ব্যবহার করেছে, তাদের অবৈতনিক শ্রমব্যয় রোবট না নেওয়া খামারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল: প্রতি হান্ড্রেডওয়েট (সিডব্লিউটি, ১০০ পাউন্ড) দুধে ৫.৩০ ডলার, যেখানে অন্যদের ৯.২২ ডলার। ছোট খামারেও কিছু বেতনভুক্ত শ্রমের খরচ থাকে, তবে সেই খরচে রোবট গ্রহণকারী ও অগ্রহণকারী খামারের মধ্যে পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

মাঝারি খামারে কমেছে বেতনভুক্ত শ্রমের খরচ
পাল বড় হলে দোহন এবং বেশি গাভির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কাজে খামারগুলো বেতনভুক্ত শ্রমিকের ওপর বেশি নির্ভর করে। ইআরএসের হিসাবে, ১৫০ থেকে ৪৯৯ গাভির মাঝারি খামারে রোবটিক দোহন গ্রহণকারীরা ২০২১ সালে বেতনভুক্ত শ্রমে প্রতি হান্ড্রেডওয়েটে ১.১৭ ডলার খরচ করেছে, যা অগ্রহণকারী খামারের গড় ২.১০ ডলারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
ইআরএসের মতে, এই পার্থক্য ইঙ্গিত দেয় যে রোবটিক দোহন দুগ্ধখামারিদের শ্রমব্যয় কমাতে সাহায্য করতে পারে, তবে এর প্রভাব খামারের আকারের ওপর নির্ভর করে।

যে প্রতিবেদন থেকে এই হিসাব
চার্টের তথ্য নেওয়া হয়েছে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ইআরএসের প্রতিবেদন ‘প্রিসিশন ডেইরি ফার্মিং, রোবটিক মিল্কিং, অ্যান্ড প্রফিটেবিলিটি ইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’ (ইকোনমিক রিসার্চ রিপোর্ট ৩৫৬) থেকে, যার লেখক জোনাথন ম্যাকফ্যাডেন ও জ্যাক র্যাফ। প্রতিবেদনটি ইউএসডিএর কৃষি সম্পদ ব্যবস্থাপনা জরিপের (এআরএমএস) ২০০০, ২০০৫, ২০১০, ২০১৬ ও ২০২১ সালের দুগ্ধখামারির তথ্য বিশ্লেষণ করেছে।
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দুধের মাত্র ৬ শতাংশ এসেছে ‘বক্স’ রোবটে দোহন করা গাভি থেকে, আর এই রোবট ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বড় অংশ ৫০ থেকে ১৪৯ গাভির খামারে। গবেষকদের প্রাক্কলন বলছে, বক্স রোবটে দোহন অগ্রহণকারীদের তুলনায় দুগ্ধখামারের নিট আয় ১৩ শতাংশ বাড়ায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গ্রহণকারী খামারিরা তুলনামূলক কমবয়সী ও বেশি শিক্ষিত, তাঁদের খামার বড়, দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ ও নতুন গোয়ালঘর বেশি, গাভিপ্রতি দুধ বেশি এবং খামারির নিজের কর্মঘণ্টা কম।
ছবি: Ieneach fan 'e Esk / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (চার্ট অব নোট, ২৬ মে ২০২৬), ইআরএস প্রতিবেদন ‘প্রিসিশন ডেইরি ফার্মিং, রোবটিক মিল্কিং, অ্যান্ড প্রফিটেবিলিটি ইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’ (জানুয়ারি ২০২৬), উইকিপিডিয়া (অটোমেটিক মিল্কিং)




মন্তব্য
(০)