১৩ অক্টোবর নরওয়ের স্বালবার্ড বৈশ্বিক বীজ ভল্টে (Svalbard Global Seed Vault) সর্বশেষ জমায় ৭৭৩টি বীজের নমুনা পাঠিয়েছে ইউক্রেনের জাতীয় উদ্ভিদ জিনব্যাংক। সুমেরু অঞ্চলের পাহাড়ের ভেতরে এখন ১৪ লাখের বেশি নমুনা সংরক্ষিত। খবরটি দিয়েছে গ্লোবাল এগ্রিকালচার। প্রতিটি নমুনা কোনো না কোনো জিনব্যাংকের সংগ্রহের অনুলিপি, যাতে মূল সংগ্রহ নষ্ট হলেও ফসলের বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা যায়।
ইউক্রেনের জাতীয় উদ্ভিদ জিনব্যাংকের প্রধান ভিক্তর কে. রিয়াবচুন বলেন, সামরিক সংঘাতের খুব কাছে বসে বীজ প্রস্তুত, কাগজপত্র যাচাই এবং মোড়ক ও পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। ইউক্রেনের চালানে ছিল বাকউইট, যা সেখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবার। শীতের ফসল নষ্ট হলে কম সময়ে ফলে বলে এটি "বিমা ফসল" হিসেবেও বোনা হয়।
সিজিআইএআরের জিনব্যাংকগুলোর অবদান ছিল বড়। আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র (সিমিট) পাঠিয়েছে ৩,৩৭০টি নমুনা, লেবাননের ইকার্ডা ২,০৩৯টি, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) ১,৮৯০টি আর আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্র (সিআইপি) ১,০২৭টি। ইরির ধানের মধ্যে ছিল মাদাগাস্কার, কোস্টারিকা ও নেপালের বৈচিত্র্যসহ ৪১০টি প্রথমবারের নমুনা, ফলে তাদের পূর্ণাঙ্গ সংগ্রহের ৯৯.৫৯ শতাংশের অনুলিপি এখন ভল্টে। বুনো আলু ও মিষ্টি আলুর আত্মীয় প্রজাতি, মাকা ও আহিপা পাঠিয়ে সিআইপির সংরক্ষিত অংশ দাঁড়িয়েছে ৯১ শতাংশে। সংঘাতের পর একবার ভল্ট থেকে বীজ তুলে নিয়ে নিজের সংগ্রহ নতুন করে গড়েছিল ইকার্ডা।
ইতালির গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্রিয়া প্রথমবারের মতো ২৭২টি নমুনা জমা দিয়েছে, যার মধ্যে আছে বিংশ শতকের শুরুতে নাজারেনো স্ত্রাম্পেলির উদ্ভাবিত মেন্তানাসহ ঐতিহাসিক গম ও ধানের জাত। নরওয়ে ও নর্ডজেনের সঙ্গে ভল্টটি পরিচালনাকারী ক্রপ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক স্টেফান শ্মিৎস বলেন, খাদ্য আমাদের সীমান্ত পেরিয়ে যুক্ত করে, তাকে রক্ষার দায়ও তেমনি সবার। জমা দেওয়া বীজের মালিকানা থাকে প্রত্যেক জমাদাতার।
ছবি: Bjoertvedt / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার




মন্তব্য
(০)