সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

বগুড়ার মহাস্থানহাটের 'মিষ্টি কুমড়া রানি' শিরিন আক্তারের সংগ্রাম ও সাফল্য

২০০৩ সালে দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে ফেরা শিরিন আক্তার পানের দোকান থেকে শুরু করে এখন বগুড়ার মহাস্থানহাট থেকে মৌসুমে দিনে ৫ থেকে ৮ টন মিষ্টি কুমড়া বিভিন্ন জেলায় পাঠান।

বগুড়ার মহাস্থানহাটের 'মিষ্টি কুমড়া রানি' শিরিন আক্তারের সংগ্রাম ও সাফল্য
শাকসবজি

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানহাটে মিষ্টি কুমড়ার পাইকারি ব্যবসা করে পরিচিতি পেয়েছেন শিরিন আক্তার। জাগো নিউজ ২৪ ২০২৬ সালের ১০ জুলাই তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি সবজি বাজারে তিনি 'মিষ্টি কুমড়া রানি' নামে পরিচিত। তার সংগ্রহ করা কুমড়া সবজিবাহী ট্রাকে ঠাকুরগাঁও, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, খুলনাসহ নানা জেলায় যায়, আর পাইকাররা সেগুলো চেনেন 'শিরিন আপার কুমড়া' নামে।

অভাবের সংসার থেকে পানের দোকান


শিরিন আক্তারের জন্ম শিবগঞ্জের মহাস্থান গ্রামের নাগরকান্দি এলাকায়। বাবা ছিলেন কাঠের স'মিলের শ্রমিক। পাঁচ ভাই-বোনের সংসারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী, অনেক দিন দুবেলা খাবার জুটত না। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তার বিয়ে হয় এক বিবাহিত ট্রাকচালকের সঙ্গে। সেই সংসার টেকেনি। ২০০৩ সালে কোলে এক শিশু আর গর্ভে আরেক সন্তান নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন।

এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ছোট পানের দোকান দেন। সেখান থেকেই ব্যবসার প্রতি আগ্রহ জন্মায়। ধীরে ধীরে বরবটি ও শিম কেনাবেচা শুরু করেন, পরে নিয়মিত যেতে থাকেন মহাস্থানের সবজি হাটে। ভোরে কৃষকদের কাছ থেকে সবজি কিনে নিজেই বিক্রি করতেন, পরে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের বাজারেও পাঠাতে শুরু করেন।

জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দশক আগে মহাস্থানহাটে একজন নারীকে পাইকারি সবজি ব্যবসা করতে দেখা ছিল বিরল। হাটে তাকে কটূক্তি ও অপমান সইতে হয়েছে। শিরিন আক্তার বলেন, 'আমি কারো কথায় কান দিইনি। অপমান শুনেছি, কিন্তু লক্ষ্য থেকে একচুলও সরিনি।' ব্যবসার শুরুতে কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা হারিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার ধাপের হাটে সবজির বাজার। ছবি: Masum-al-hasan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার ধাপের হাটে সবজির বাজার। ছবি: Masum-al-hasan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

উত্তরাঞ্চলের বড় সবজি মোকাম মহাস্থানহাট


মহাস্থান বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তরে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম প্রত্নস্থল, প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ। এর পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে করতোয়া নদী। শিবগঞ্জ উপজেলার ৫৫টি হাট-বাজারের মধ্যে মহাস্থান হাট অন্যতম, আর উপজেলার প্রধান রপ্তানি পণ্যের তালিকায় আছে সবজি।

প্রথম আলো ২০২৩ সালের আগস্টে মহাস্থান হাটকে উত্তরাঞ্চলে সবজির অন্যতম বড় পাইকারি মোকাম বলে উল্লেখ করে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২৩ সালের নভেম্বরের এক প্রতিবেদনে মহাস্থান হাট ব্যবসায়ী সমিতির বরাতে বলা হয়, এই হাট থেকে প্রতিদিন অন্তত ৩৫টি ট্রাক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সবজি নিয়ে যায়, প্রতিটিতে থাকে ৩০০ মণ সবজি।

মহাস্থানগড়ের প্রাচীন সীমানা প্রাচীর, বগুড়ার শিবগঞ্জ। ছবি: Masum-al-hasan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মহাস্থানগড়ের প্রাচীন সীমানা প্রাচীর, বগুড়ার শিবগঞ্জ। ছবি: Masum-al-hasan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

শুধু মিষ্টি কুমড়ায় মনোযোগ


লোকসানের পর শিরিন আক্তার শুধু মিষ্টি কুমড়ার ব্যবসা শুরু করেন। প্রথম দিকে প্রতিটি কুমড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকায় কিনে ৩৫ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি করতেন, দিনে বিক্রি হতো ৮০ থেকে ১০০টি। পরে মৌসুমের শুরুতেই কৃষকদের সঙ্গে অগ্রিম চুক্তি করে খেতের কুমড়া বুকিং দিতে শুরু করেন এবং ট্রাকভর্তি কুমড়া বিভিন্ন জেলায় পাঠাতে থাকেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি প্রতি মণ কুমড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় কিনে পাইকারদের কাছে মণপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা লাভে বিক্রি করেন। মৌসুমে প্রতিদিন তার মাধ্যমে ৫ থেকে ৮ টন মিষ্টি কুমড়া বিভিন্ন জেলায় যায়।

বাড়ির পাশে তিনি বাতাস চলাচলের উপযোগী একটি সংরক্ষণাগার করেছেন। সেখানে অতিপাকা কুমড়া আলাদা রাখা হয় এবং পচন ঠেকাতে বাকি কুমড়া ছায়াযুক্ত শুকনো জায়গায় রাখা হয়। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, মিষ্টি কুমড়া গ্রীষ্ম-বর্ষার জনপ্রিয় সবজি, যা শর্করা, ভিটামিন এ ও সি এবং খনিজের ভালো উৎস; পাকা গোটা কুমড়া শুকনো অবস্থায় কয়েক মাস রাখা যায়।

মিষ্টি কুমড়ার খেতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাকতাড়ুয়া। ছবি: Hamimnrafi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মিষ্টি কুমড়ার খেতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাকতাড়ুয়া। ছবি: Hamimnrafi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

অসুস্থতার মধ্যেও ১৫ কর্মীর দল


ব্যবসার আয়ে তিনি জমি কিনেছেন, পাকা বাড়ি করেছেন, ছেলেকে ব্যবসায় দাঁড় করিয়েছেন। পিঠ ও পায়ে দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর আগের মতো মাঠে যেতে পারেন না, তাই ১৫ জন কর্মীর একটি দল গড়েছেন। মাঠের কাজ তারা করলেও পরিকল্পনা, কেনাবেচা ও ব্যবস্থাপনা তিনিই দেখেন। তিনি বলেন, 'আমি চাই, কোনো নারী যেন কারো কাছে হাত না পাতে। সবাই নিজের পায়ে দাঁড়াক।'

হাটের ব্যবসায়ীরাও তার পরিশ্রমের কথা বলেন। আড়তদার আনোয়ার হোসেন বাবু বলেন, 'এখন অনেক পাইকার আগে থেকেই তার পণ্যের অপেক্ষায় থাকেন।' হাট কমিটির সদস্য কুদ্দুস আলীর মতে, নতুন ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি অনুকরণীয়।

ছবি: Salim_Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, প্রথম আলো, বাংলাপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

শাকসবজি

সম্পর্কিত খবর

শাকসবজি

কুয়াশায় শিকড় খাওয়ানোর প্রযুক্তিতে রোগমুক্ত আলুবীজ উৎপাদনের পরীক্ষা ইংল্যান্ডে

স্টার্টআপ এয়ারপনিক্স ও ডাইসন ফার্মিং ডেফরার অর্থায়নে দুই বছরের এক পরীক্ষা শুরু করেছে: কুয়াশাভিত্তিক পদ্ধতিতে বর্তমান খরচের অর্ধেকেরও কমে ইংল্যান্ডে রোগমুক্ত প্রথম প্রজন্মের আলুবীজ উৎপাদন সম্ভব কি না।

AgNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

মাশরুমের গাঁজন প্রযুক্তিতে টফুর বর্জ্য হলো প্রোটিনসমৃদ্ধ সুস্বাদু উপাদান

সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা সয়া দুধ ও টফুর অবশিষ্ট ওকারা ঝিনুক মাশরুমের মাইসেলিয়াম দিয়ে গাঁজন করে এর প্রোটিন প্রায় ২৮ থেকে ৩০ শতাংশে তুলেছেন, বাড়িয়েছেন উমামি স্বাদ।

Green Queen১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

মাদারগঞ্জে ৬০ হেক্টরে আগাম শসা, দুই হাজার টন উৎপাদনের আশা

জামালপুরের মাদারগঞ্জে এবার প্রায় ৬০ হেক্টরে আগাম শসার আবাদ হয়েছে, উৎপাদন হতে পারে প্রায় দুই হাজার টন; পাইকারি বাজারে কেজি ৩০-৪০ টাকা, বিঘায় খরচ ১৫-২০ হাজার আর বিক্রি ৩০-৪০ হাজার টাকা।

ডেইলি বাংলাদেশ১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)