সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

‘ঢলন’ প্রথায় আমের লাভ হারানোর অভিযোগ রাজশাহী অঞ্চলের চাষিদের

রাজশাহী অঞ্চলের আমচাষিদের অভিযোগ, কেজিভিত্তিক বেচাকেনার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও ‘ঢলন’ প্রথায় তাঁদের ৪০ কেজির দামে ৫২ থেকে ৫৪ কেজি আম দিতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহন, বাছাই ও সংরক্ষণের ক্ষতি পোষাতেই বাড়তি ওজন নেওয়া হয়।

‘ঢলন’ প্রথায় আমের লাভ হারানোর অভিযোগ রাজশাহী অঞ্চলের চাষিদের
এগ্রোবিজ

রাজশাহী অঞ্চলের আমচাষিদের লাভের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিনের ‘ঢলন’ প্রথা কেড়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চাষিরা। ২০২৬ সালের ৯ জুন জাগো নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদনে চাষিরা জানান, রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন মোকাম ও পাইকারি বাজারে এখনো তাঁদের ৪০ কেজির (এক মণ) পরিবর্তে ৫২ থেকে ৫৪ কেজি পর্যন্ত আম দিতে হচ্ছে, কিন্তু দাম দেওয়া হচ্ছে ৪০ কেজিরই, যদিও এক বছর আগেই বিভাগীয় প্রশাসন কেজিভিত্তিক আম বেচাকেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আম ঘিরে রাজশাহী অঞ্চলের অর্থনীতি প্রতিবছরই বড় হচ্ছে। দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের কদর বাড়ছে। চাষিদের ভাষ্য, অতিরিক্ত ওজনের কারণে প্রতি মৌসুমে শত কোটি টাকার আম বিনা মূল্যে চলে যাচ্ছে ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের হাতে। প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হয়, যখন মৌসুমের প্রধান জাতগুলো বাজারে আসছিল: রাজশাহী জেলার ২০২৬ সালের আম সংগ্রহের সময়সূচি অনুযায়ী ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও ব্যানানা ম্যাঙ্গো এবং ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি পাড়ার অনুমতি ছিল।

চাষিরা যা বলেছেন


রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার আমচাষি আব্দুল কাদের বলেন, ‘বাগান পরিচর্যা, শ্রমিক, সার ও কীটনাশকের খরচ প্রতিবছর বাড়ছে। কিন্তু আম বিক্রির সময় এসে যদি ৪০ কেজির দামে ৫৪ কেজি আম দিতে হয়, তাহলে লাভ করার সুযোগ কোথায়?’

একই অভিযোগ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আমচাষি আলম সরকার। তিনি বলেন, ‘অনেক ব্যবসায়ী অতিরিক্ত ওজন ছাড়া আম কিনতেই চান না। বাধ্য হয়েই লোকসান মেনে বিক্রি করতে হয়।’

চাষিদের অভিযোগ, রাজশাহীর বানেশ্বর, চারঘাট ও বাঘা থেকে শুরু করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট এবং নওগাঁর সাপাহার ও পোরশার বাজারেও এই প্রথা বহাল রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, কোথাও কোথাও আমের মান, আকার কিংবা পরিবহনজনিত ক্ষতির অজুহাতে আরও দুই থেকে তিন কেজি বেশি আম দাবি করেন ব্যবসায়ীরা, আর উপায় না থাকায় চাষিরা সেভাবেই বিক্রি করতে বাধ্য হন।

একজন চাষির জন্য এই প্রথার মানে কী, প্রতিবেদনে তার একটি উদাহরণ দেওয়া হয়। এক মণ আমের দাম ২ হাজার টাকা হলে কাগজে-কলমে প্রতি কেজির দাম দাঁড়ায় ৫০ টাকা। কিন্তু চাষি যদি ৫৪ কেজি আম দিয়ে একই ২ হাজার টাকা পান, তাহলে প্রকৃতপক্ষে প্রতি কেজির দাম দাঁড়ায় প্রায় ৩৭ টাকা। প্রতিবেদনের হিসাবে এতে চাষি তাঁর উৎপাদিত আমের প্রায় ২৬ শতাংশের মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।

আমচাষি সমবায়ের নেতাদের দাবি, চারটি প্রধান আম উৎপাদনকারী জেলার মোট উৎপাদনের ভিত্তিতে হিসাব করলে শুধু অতিরিক্ত ওজন হিসেবে নেওয়া আমের মূল্যই প্রতি মৌসুমে ৫০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে। শিবগঞ্জ আমচাষি সমবায় সমিতির সম্পাদক ইসমাইল খান শামীম বলেন, কৃষকেরা বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাগানের পেছনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেন, কিন্তু বাজারে এসে তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের বড় একটি অংশ বিনা মূল্যে চলে যায়। তাঁর মতে, এটি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, পুরো অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগের বিষয়।

মৌসুমের প্রথম দিনগুলোতেও একই অভিযোগ শোনা গিয়েছিল। ২০২৬ সালের ১ জুন প্রথম আলো কানসাট থেকে জানায়, ১ হাজার ৬৫০ টাকা মণ দরে ক্ষীরশাপাতি আম বিক্রি করা এক চাষি বলেছেন, তাঁর কাছ থেকে ৫৪ কেজিকে এক মণ ধরা হয়েছে; এর বাইরে ওজনদার, হিসাবরক্ষক ও শ্রমিকদেরও আম দিতে হয়েছে। ২ হাজার ১০০ টাকা মণ দরে আম বিক্রি করা আরেক চাষি জানান, তাঁকে ৫২ কেজিতে এক মণ দিতে হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এই যে এত বেশি করে আম দিয়ে বেচতে হচ্ছে, এটা কি দেখার কেউ নেই? প্রশাসন কি আমচাষিদের স্বার্থ দেখবে না?’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর বাজারে ঝুড়িভর্তি আম, ২০১৫ সালের জুনে তোলা। রহনপুর এ অঞ্চলের আমের মোকামগুলোর একটি। ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর বাজারে ঝুড়িভর্তি আম, ২০১৫ সালের জুনে তোলা। রহনপুর এ অঞ্চলের আমের মোকামগুলোর একটি। ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

‘ঢলন’ কী


স্থানীয়ভাবে ‘ঢলন’ বলতে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে বেশি পণ্য দেওয়াকে বোঝায়। জাগো নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, একসময় পরিবহন, ঝরে যাওয়া কিংবা পচনজনিত ক্ষতি পোষাতে প্রতি মণে এক থেকে দুই কেজি বেশি আম দেওয়ার চল ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই বাড়তি ওজন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়; অনেক বাজারে ৪০ কেজির দামে ৫২ থেকে ৫৪ কেজি পর্যন্ত আম নেওয়া শুরু হয়।

২০২১ সালের জুলাইয়ে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে শব্দটির উৎস ব্যাখ্যা করা হয়। ‘ঢলন’ এসেছে ‘ঢলে পড়া’ থেকে, যার অর্থ একদিকে বেশি নেমে যাওয়া। দাঁড়িপাল্লায় ওজন করার সময় বাটখারার চেয়ে বেশি জিনিস অপর প্রান্তে তুলে দিলে সেই পাল্লা যতটুকু ঝুলে পড়ে, সেটিই ঢলন; ব্যবসায়ীরা সাধারণত ওই অংশের দাম দিতে চান না। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গ ও কুষ্টিয়ায় এটি ‘ঢলতা’ নামে এবং রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলে ‘ঢলন’ নামে প্রচলিত।

মণের মাপ নিয়ে অবশ্য কোনো বিরোধ নেই। ২০২০ সালে প্রথম আলো জানায়, সারা দেশে ৪০ কেজিতে এক মণ ধরা হয় এবং রাজশাহী জেলার অন্যান্য বাজারেও তখন ৪০ কেজিতেই মণ ছিল। বিরোধ হলো, এক মণের দাম পেতে চাষিকে পাল্লায় কত কেজি আম তুলতে হবে, তা নিয়ে। এই সংখ্যা বাজারভেদে ও বছরভেদে বদলেছে: ২০২১ সালে প্রথম আলো দেখেছিল, কানসাটে ৫২ কেজিতে এবং সাপাহার ও বানেশ্বরে ৪৮ কেজিতে মণ ধরে চাষির কাছ থেকে আম কেনা হচ্ছে।

পাল্লার পাশে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকেরা দেখিয়েছেন, কাটছাঁট কীভাবে জমে ওঠে। ২০২১ সালের জুনে বানেশ্বরে প্রথম আলো দেখে, এক চাষির দুই ক্যারেট ল্যাংড়া আমের ওজন হয় ৫৩ কেজি; এর মধ্যে দুই কেজি শোলা ও চার কেজি ক্যারেটের ওজন হিসেবে বাদ যায়, আর বাকি ৪৭ কেজির জন্য তাঁকে দেওয়া হয় ৩৯ কেজির দাম। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সাপাহারের এক চাষি পত্রিকাটিকে বলেন, তাঁর আনা ১০ মণ আম্রপালি ঢলন দিতে গিয়ে হয়ে গেছে আট মণ; চার-পাঁচ বছর আগে কাঁটার পাল্লায় যেখানে ৪৫ কেজিতে মণ হতো, এখন ডিজিটাল ওজন যন্ত্রে নেওয়া হচ্ছে ৫১-৫২ কেজি। পত্রিকাটি আরও জানায়, সাপাহারে আড়তদারেরা প্রতি মণে ৭০ টাকা করে কমিশনও নিচ্ছিলেন।

ব্যবসায়ীরা যা বলছেন


ব্যবসায়ীদের বক্তব্য ভিন্ন। রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর আমের হাটের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজ ২৪-কে বলেন, ‘আম সংগ্রহের পর পরিবহন, বাছাই, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সময় কিছু ক্ষতি হয় এবং ওজনও কমে যায়। দীর্ঘদিন ধরে সেই ক্ষতি সমন্বয়ের জন্যই অতিরিক্ত ওজন নেওয়ার প্রচলন তৈরি হয়েছে।’ তবে প্রতিবেদনে চাষিদের প্রশ্নও তুলে ধরা হয়: বাজার ব্যবস্থার এই ক্ষতির পুরো দায় কেন শুধু উৎপাদনকারীদের বহন করতে হবে?

বছরের পর বছর অন্য সাংবাদিকদের কাছেও ব্যবসায়ীরা একই যুক্তি দিয়েছেন। ২০২০ সালের অক্টোবরে বানেশ্বরে ৩৬ বছর ধরে ব্যবসা করা এক আড়তদার প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবছর আমের মণ নির্ধারণ করা হয়; দুই বছর আগে ৪৫ কেজিতে মণ ছিল, আর সে বছর ব্যবসায়ীরা বসে ৪৮ কেজিতে মণ ঠিক করেছিলেন। তাঁর যুক্তি, কাঁচামাল ঢাকায় নেওয়ার পথে পচে যায় এবং এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে সাপাহারের একটি আড়তের স্বত্বাধিকারী প্রথম আলোকে বলেন, ওজনের সময় দুটি প্লাস্টিকের ক্যারেটের ওজন দুই কেজি ধরা হয়, ফলে প্রকৃতপক্ষে ঢলন নেওয়া হয় ১০ থেকে ১১ কেজি; চাষির কাছ থেকে কেনার পর বাছাই করতে গেলে অনেক আম নষ্ট বের হয়। সাপাহার আম আড়তদার সমিতির সভাপতি বলেন, আগে থেকে এক মণে ৪৮ কেজি নেওয়া হতো; ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে চাষিরা ভেজা আম আনছেন এবং তা আড়তে বেশি নষ্ট হচ্ছে বলে তখন ৫১-৫২ কেজি নেওয়া হচ্ছিল।

২০২৫ সালের মৌসুম শুরুর দিন বানেশ্বরের এক ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, আম পাকার পর মণে তিন কেজি ওজন কমে যায়, পচা ও ফাটা আম হিসেবে বাদ যায় আরও চার কেজি, আর এক কেজি নেন আড়তদার; সে কারণেই তাঁরা ৪৮ কেজিতে মণ ধরে আম কিনছেন। আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বানেশ্বর বাজারের আড়তদার বা বণিক সমিতির এটা নিয়ম। আমরা কিনছি ওইভাবে। দিচ্ছিও ওইভাবেই।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর বাজারে আমের একটি আড়ত, ২০১৫ সালের জুনে তোলা। এ ধরনের আড়তে কমিশন এজেন্টরা চাষির আম কিনে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর বাজারে আমের একটি আড়ত, ২০১৫ সালের জুনে তোলা। এ ধরনের আড়তে কমিশন এজেন্টরা চাষির আম কিনে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

প্রথা বন্ধের আগের উদ্যোগগুলো


স্থানীয় প্রশাসন কয়েকবার ঢলন বন্ধের চেষ্টা করেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৩ অক্টোবর পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজার বণিক সমিতির কার্যালয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, চাষি, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় ওই বাজারে ঢলন প্রথা বাতিল করা হয়। সেখানে আমের মণ ধরা হতো ৪৮ কেজিতে, পেঁয়াজের ৪২ ও রসুনের ৪১ কেজিতে। পুঠিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তখন বলেন, ব্যবসায়ীরা বানেশ্বরে কৃষকের কাছ থেকে ঢলন নিলেও ঢাকায় গিয়ে ৪০ কেজিতে মণ হিসেবেই বিক্রি করেন; ৪০ কেজির মণ নিশ্চিত করতে পরদিন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে।

তবু প্রথা টিকে থাকে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সাপাহারের ইউএনও প্রথম আলোকে বলেন, প্রশাসনের মধ্যস্থতায় স্থানীয় আড়তদার ও আমচাষি সমিতি ৪০ কেজির জায়গায় ৫ কেজি বেশি এবং ক্যারেটসহ ওজনের কারণে আরও ৩ কেজি বাড়তি ধরে ৪৮ কেজিতে মণ ধরার সমঝোতা করেছে। তাঁর ভাষ্য, ৪৮ কেজির জায়গায় ৫০ বা ৫২ কেজি নেওয়ার সুযোগ নেই; তখন পর্যন্ত কোনো বিক্রেতা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেননি, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০২৫ সালে বিভাগীয় প্রশাসন পুরো অঞ্চলের জন্য সমাধানের চেষ্টা করে। প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি আলোচনা হয় এবং কেজি দরে আম কেনাবেচার সাধারণ নির্দেশনা চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়; মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। ১০ মে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁয় কেজি দরে আম কেনাবেচা করতে হবে। কিন্তু মৌসুমের প্রথম দিনই প্রথম আলো দেখে, বানেশ্বরের ব্যবসায়ীরা ৪৮ কেজিতে মণ ধরে আম কিনছেন।

২০২৫ সালের ৫ জুন চার জেলার আম কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়, জাত, গ্রেড ও গুণগত মান বিবেচনায় খুচরা বা পাইকারি যেকোনো পর্যায়ে আম কেজি দরে কেনাবেচা হবে এবং আড়তদারেরা কোনো পর্যায়েই কমিশন পাবেন না। প্রথম আলো জানায়, এরপর আড়তদারেরা কেজিপ্রতি তিন টাকা কমিশন দাবি করেন, বাজারে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, ‘গোপন ওজন’ শুরু হয় এবং আমের দাম পড়ে যায়।

২০২৫ সালের ১১ জুন তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ বানেশ্বর, কানসাট, ভোলাহাট, রহনপুর ও সাপাহার মোকামের আমচাষি, হাটের ইজারাদার, ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বৈঠক করেন। জাগো নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদনে এই বৈঠকের কথাই বলা হয়েছে: সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে ঢলন প্রথা বাতিল করে কেজিভিত্তিক আম বেচাকেনার সিদ্ধান্ত হয় এবং আড়তদারদের কমিশন প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

পরদিনই প্রথম আলো দেখে, বানেশ্বর ও কানসাটে আগের নিয়মেই বেচাকেনা চলছে। বৈঠকে উপস্থিত বানেশ্বর বণিক সমিতির সভাপতি বলেন, রাতে বাজারে সভা করে সিদ্ধান্ত সবাইকে জানানো হয়েছে, রেজল্যুশনে ব্যবসায়ীদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে এবং সকালে মাইকিং করা হয়েছে; কিন্তু চাপাচাপি করলে ব্যবসায়ীরা আম কেনা বন্ধ করে দেবেন এবং চাষিদের আম পচে যাবে। কানসাটে এক চাষি জানান, কেজি দরে বিক্রি করতে গেলে ব্যাপারী ছোট আম নিতে চাননি বা অর্ধেক দাম দিতে চেয়েছেন, আর পাবনা থেকে আসা এক ব্যাপারী বলেন, আগের নিয়মই বরং ভালো ছিল। এক বছর পর চাষিরা জাগো নিউজ ২৪-কে বলেন, ২০২৫ সালের জুনের সিদ্ধান্তটি এখনো কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ; অধিকাংশ বাজারে আগের নিয়মেই আম কেনাবেচা চলছে।

সংখ্যায় ২০২৬ সালের আমের মৌসুম


জাগো নিউজ ২৪ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, ২০২৬ সালের মৌসুমে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর, এই চার জেলায় প্রায় ১২ লাখ ৫৫ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, আর দেশের মোট আম উৎপাদনের বড় একটি অংশ আসে এই অঞ্চল থেকে। ২০২৬ সালের মার্চে বাসস জানায়, ডিএই চার জেলায় ৯২ হাজার ৫৫২ হেক্টর জমিতে আম চাষ এবং ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ৫৫৪টি গাছ থেকে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করেছে। রাজশাহী অঞ্চলের ডিএইর অতিরিক্ত পরিচালক ২০২৬ সালকে আমের ‘অন ইয়ার’ বলে উল্লেখ করেন; প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছিল।

সংশ্লিষ্টরা জাগো নিউজ ২৪-কে জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। জেলাভিত্তিক হিসাবেও এর পরিসর বোঝা যায়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৬ সালের ১০ মে জানায়, রাজশাহী জেলায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ টন; কেজিপ্রতি আনুমানিক ৩২ টাকা দরে জেলা প্রশাসন এর বাজারমূল্য ধরেছে প্রায় ৭৮০ কোটি টাকা। একই দিন প্রথম আলো জানায়, নওগাঁয় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৬১ টন; কৃষি বিভাগের ধারণা, জেলায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার আম-বাণিজ্য হতে পারে, আর রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ২০০ মেট্রিক টন।

আম সংগ্রহের সময়সূচিই বাজারের গতি ঠিক করে দেয়। রাজশাহীর ২০২৬ সালের ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী ১৫ মে থেকে গুটি আম, ২২ মে গোপালভোগ, ২৫ মে রানিপসন্দ ও লক্ষ্মণভোগ এবং ৩০ মে হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি পাড়া যাবে; এরপর ১০ জুন ল্যাংড়া ও ব্যানানা ম্যাঙ্গো এবং ১৫ জুন আম্রপালি ও ফজলি। নওগাঁর সময়সূচিতে জিআই স্বীকৃতি পাওয়া নাক ফজলি বাজারে আসার তারিখ ছিল ৫ জুন।

মৌসুমের প্রথম সপ্তাহগুলোতে দাম ছিল কম। ২০২৬ সালের ১৫ মে আম পাড়ার প্রথম দিনে বানেশ্বরে গাছপাকা গুটি আম বিক্রি হয় ১ হাজার ৩২০ টাকা মণে। ৩১ মে সেখানে হিমসাগর বিক্রি হয় মণপ্রতি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, গোপালভোগ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, গুটি আম ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং লক্ষ্মণভোগ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায়; ব্যবসায়ীরা বলেন, ঈদের ছুটির পর পাইকারেরা তখনো পুরোপুরি বাজারে ফেরেননি।

রাজশাহীর একটি আমগাছ, ২০২৪ সালের মে মাসে তোলা। ছবি: Tanvir Rahat / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
রাজশাহীর একটি আমগাছ, ২০২৪ সালের মে মাসে তোলা। ছবি: Tanvir Rahat / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

উৎপাদন খরচ, দাম ও চাষির লাভ


চাষির লাভের ব্যবধান এতটাই কম যে কয়েক কেজিও বড় হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের জুনে রাজশাহীর চাষিরা প্রথম আলোকে তাঁদের হিসাব দেন: এক বিঘার একটি মাঝারি বাগানে সাধারণত প্রায় দুই টন আম হয়; কেজিপ্রতি জমির ইজারামূল্য পড়ে ১৫ টাকা, সার ও কীটনাশক ৬ টাকা, পরিবহন ও প্যাকেজিং ৬ টাকা এবং আম পাড়া ৫ টাকা; সব মিলিয়ে মোকামে পৌঁছানো পর্যন্ত কেজিপ্রতি খরচ প্রায় ৩২ টাকা। রাজশাহী ডিএইর উপপরিচালকের হিসাবে উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত গড় খরচ কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা।

বাগান আর শহরের দামের ফারাকও বড়। ২০২৫ সালের জুনে প্রথম আলো দেখে, কানসাটে, যেখানে ৫০ কেজিতে মণ ধরা হচ্ছিল, হিমসাগরের গড় দাম কেজিপ্রতি প্রায় ২০ টাকা, আর ঢাকার কারওয়ান বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০ টাকায়; পথে পরিবহন ও ক্যারেট বাবদ কেজিতে আরও ১১-১২ টাকা যোগ হয়ে ঢাকায় পৌঁছানো পর্যন্ত খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৩২ টাকা।

বাড়তি ওজনের অভিযোগ শুধু এই চার জেলায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রথম আলো জানায়, ২০২৫ সালের জুনে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, পাইকারেরা গৃহস্থদের কাছ থেকে ৪৫ কেজিতে মণ ধরে নাক ফজলি আম কিনে ৪০ কেজিতে মণ ধরে বিক্রি করছেন; নওগাঁর বদলগাছীর এক চাষি বলেন, তিন মণ আমে তাঁকে ১৫ কেজি বেশি দিতে হয়েছে, এবং তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।

আমের অঞ্চল ও তার মোকাম


বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে আম (Mangifera indica) বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলের আদি ফল। দেশের উন্নত জাতের আম, যেমন ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, ক্ষীরশাপাতি, আশ্বিনা ও লক্ষ্মণভোগ, প্রধানত রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও দিনাজপুরে চাষ হয়; বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) আম গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে। কলমের গাছে চতুর্থ বছরে প্রথম ফল আসে এবং প্রায় ৪৫ বছর পর্যন্ত ফল ধরে; জানুয়ারি থেকে মার্চে মুকুলের সময় কুয়াশা, বৃষ্টি বা মেঘলা আবহাওয়া ফলন কমিয়ে দেয়।

এ অঞ্চলের আমের বড় অংশই বেচাকেনা হয় খোলা হাটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট দেশের বৃহত্তম আমের বাজার হিসেবে পরিচিত, আর পুঠিয়ার বানেশ্বর রাজশাহী জেলার সবচেয়ে বড় আমের মোকাম। নওগাঁর সবচেয়ে বড় আমের হাট সাপাহার বাজার সাপাহার-নজিপুর সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে বসে; ২০২৩ সালে প্রথম আলো জানায়, সেখানে প্রতিদিন অন্তত দেড় কোটি টাকার আম বিকিকিনি হচ্ছিল। ২০২১ সালে পত্রিকাটি লিখেছিল, এসব বাজার মূলত রাস্তার ওপর বা দুই ধারে বসে; প্রধান তিন জেলার বিপুল আমের জন্য আলাদা কোনো বাজার গড়ে ওঠেনি।

চাষিরা বিকল্প পথও খুঁজে নিয়েছেন। ২০২৫ সালের জুনে প্রথম আলো জানায়, অনলাইন বিক্রেতা ও কুরিয়ার সেবার কল্যাণে রাজশাহীর অনেক চাষি আড়তদারের ওপর নির্ভর না করেই আম বিক্রি করতে পারছেন; রাজশাহী ডিএইর উপপরিচালক দাবি করেন, জেলায় আমের বাজার প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার।

সংস্কারের দাবি ও প্রশাসনের বক্তব্য


অর্থনীতিবিদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ জাগো নিউজ ২৪-কে বলেন, ব্যবসায়ীরা একদিকে কম দামে আম কিনছেন, অন্যদিকে অতিরিক্ত ওজনও নিচ্ছেন; ফলে কৃষক তাঁর উৎপাদিত পণ্যের প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁর মতে, এটি শুধু আমের বাজারের সমস্যা নয়, দেশের কৃষিপণ্য বিপণন ব্যবস্থার একটি বড় দুর্বলতার প্রতিফলন; উৎপাদনকারী কৃষক ন্যায্যমূল্য না পেলে কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন ব্যাহত হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আহমেদ শফি উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের আমকেন্দ্রিক অর্থনীতির আকার প্রতিবছর বাড়ছে, দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রাজশাহীর আম বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। ‘অথচ উৎপাদনের মূল কেন্দ্রের কৃষকেরাই যদি ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে সেই সাফল্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে,’ বলেন তিনি। তাঁর মতে, প্রতিটি বাজারে বাধ্যতামূলকভাবে ইলেকট্রনিক ওজনযন্ত্র ব্যবহার, ডিজিটাল রসিদ চালু, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং কৃষক সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করা গেলে এ ধরনের অনিয়ম অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এমন দাবি আগেও উঠেছে। ২০২১ সালে নওগাঁর শাহ কৃষি জাদুঘর ও পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম আলোকে বলেন, ভোক্তার কাছে ফরমালিনমুক্ত নিরাপদ আম পৌঁছে দিতে প্রশাসন যেভাবে আম পাড়ার ক্যালেন্ডার চালু করেছে, সেভাবেই আমচাষিদের সুরক্ষায় এ অঞ্চলে একটি সুষ্ঠু আম বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার, যাতে দামে ও ওজনে চাষিরা না ঠকেন।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এ এন এম বজলুর রশিদ জাগো নিউজ ২৪-কে বলেন, বাড়তি ওজনে আম কেনার কোনো সুযোগ নেই। কেজিভিত্তিক আম বেচাকেনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ছবি: Mahinur11 / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (৯ জুন ২০২৬), প্রথম আলো (২৩ অক্টোবর ২০২০, ১০ জুলাই ২০২১, ৮ জুলাই ২০২৩, ১৬ মে ২০২৫, ৩ জুন ২০২৫, ১২ জুন ২০২৫, ১৪ জুন ২০২৫, ২৩ জুন ২০২৫, ১০ মে ২০২৬, ১৫ মে ২০২৬, ৩১ মে ২০২৬, ১ জুন ২০২৬), বাসস (১১ মার্চ ২০২৬), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (১০ মে ২০২৬), বাংলাপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

এগ্রোবিজ

সম্পর্কিত খবর

ফসল

ইংল্যান্ডে যবের ফলন ১৪ বছরে সর্বনিম্ন, গম সামান্য বেশি

যুক্তরাজ্যের কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার প্রাথমিক হিসাবে ইংল্যান্ডে যব উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ৩৭ লাখ টন হয়েছে, গম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন; গমের তুলনায় পশুখাদ্যের যব বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে।

Farmers Weekly১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

নিজস্ব কারখানা ছেড়ে চুক্তিভিত্তিক ও যৌথ কারখানায় ঝুঁকছে উদ্ভিজ্জ মাংস

চাহিদা অনিশ্চিত থাকায় উদ্ভিজ্জ মাংসের ব্র্যান্ডগুলো নিজস্ব কারখানার বদলে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন, যৌথ অবকাঠামো ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের পুরোনো যন্ত্রপাতির দিকে ঝুঁকছে বলে জানিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

FoodNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

সারের দাম দেখার প্ল্যাটফর্ম ক্লিয়ারকস্টে বিনিয়োগ, সালফার সংকটে কমছে ফসফরাস

কৃষকদের সারের দাম ও চালান দেখার এবং সরবরাহ চুক্তির সুযোগ দেওয়া কানাডার স্টার্টআপ ক্লিয়ারকস্ট সিরিজ এ তহবিল পেয়েছে; ২০২৭ সালের শুরুতে উত্তর আমেরিকাজুড়ে নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু করবে তারা।

AgNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)