সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

ঈদুল আজহার আগে পাবনার পশুর হাটে ভিড় থাকলেও বেচাকেনা কম

২০২৬ সালের ২৩ মে পাবনার পুষ্পপাড়াসহ বিভিন্ন হাটে কোরবানির পশুতে ভরা থাকলেও বেচাকেনা ছিল কম; গরুর মণপ্রতি দর চলছিল ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে।

ঈদুল আজহার আগে পাবনার পশুর হাটে ভিড় থাকলেও বেচাকেনা কম
লাইভস্টক

২০২৬ সালের ২৮ মে ঈদুল আজহার আগে পাবনার কোরবানির পশুর হাটগুলো ক্রেতা-বিক্রেতায় ঠাসা থাকলেও বেচাকেনা তখনো জমে ওঠেনি। জাগো নিউজ ২৪-এর ২৩ মে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেটুকু বিক্রি হচ্ছিল তাতে গরুর মণপ্রতি দর চলছিল ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা ছিল, ঈদের শেষ কয়েক দিনে বেচাকেনা বাড়বে।

পুষ্পপাড়া হাটে পশু অনেক, ক্রেতা কম


পাবনার পুষ্পপাড়া হাটে কোরবানি সামনে রেখে বিপুল সংখ্যায় গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া আনা হয়েছিল; সবচেয়ে বেশি ছিল গরু ও খাসি। দূর-দূরান্ত থেকে নসিমন, পিকআপসহ নানা গাড়িতে ষাঁড় এনেছিলেন বিক্রেতারা। তীব্র গরমে সকাল থেকে ষাঁড় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও তেমন বিক্রি হচ্ছিল না।

বিক্রেতারা জানান, শুধু পুষ্পপাড়া নয়, কয়েক দিন ধরে জেলার বিভিন্ন হাট গরুতে ভরে গেলেও ক্রেতারা মূলত ঘুরে দেখছিলেন। কোরবানির জন্য যারা পশু কিনবেন, তারা রাখা ও লালনপালনের ঝামেলা এড়াতে তখনই কিনছিলেন না। আগের বছরগুলোর তুলনায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ বাইরের ব্যাপারীদের আনাগোনাও ছিল কম।

ঈদুল আজহার আগে বাংলাদেশের একটি পশুর হাটে বিক্রির জন্য আনা ষাঁড়; ২০২৪ সালের ছবি। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঈদুল আজহার আগে বাংলাদেশের একটি পশুর হাটে বিক্রির জন্য আনা ষাঁড়; ২০২৪ সালের ছবি। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

মণপ্রতি দর ও ব্যাপারীদের হিসাব


হাটে গরুর দাম ঠিক হচ্ছিল মণের হিসাবে; বাংলাদেশে এক মণ ধরা হয় ৪০ কেজি। ব্যাপারী ও ক্রেতাদের কথায় এই হিসাব ছিল গরু থেকে কত মণ মাংস হতে পারে তার অনুমান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪ মণের কম ওজনের ষাঁড় বিক্রি হচ্ছিল মণপ্রতি ৩২ থেকে ৩৫ হাজার টাকায়, আর বড় গরুর দর ছিল ৩০ হাজার টাকার মধ্যে। ক্রেতারা বলছিলেন, মণপ্রতি ৩২ হাজার পর্যন্ত হলে খুব অসুবিধা হবে না, তবে এর বেশি হলে কিছুটা অসুবিধা হবে।

ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, ৪ মণ মাংস হবে এমন একটি গরু তিনি ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় কিনেছেন, বিক্রি পর্যন্ত খরচ পড়বে আরও ৫ হাজার, তাই দেড় লাখের নিচে বিক্রি করলে লাভ থাকবে না। তার ধারণা, কোরবানির জন্য ছোট ও দেশি গরুর মণপ্রতি দর ৪০ হাজারের কাছাকাছি এবং বড় ও সংকর জাতের গরুর দর ৩২ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় দাঁড়াবে।

ব্যবসায়ী সকিরুদ্দিন বলেন, কয়েক দিন ধরে বড় গরুর বাজার নরম; ৮ মণ ওজনের তিনটি গরুর দাম ২ লাখ টাকার বেশি উঠছিল না, কারণ ঢাকা বা বাইরের ক্রেতা কম আসছিলেন। আরেক ব্যাপারী মো. মোক্তার ৩ থেকে ৬ মণের ৮টি গরু এনেছিলেন। তিনি জানান, দুদিন আগে তাড়াবাড়িয়া হাটে ৬টি ষাঁড় নিয়ে গিয়ে ৩টি ফেরত এনেছেন। তার কথায়, ‘বেচাকেনা বাড়লে দাম আরেকটু বাড়ার কথা। তবে সবশেষ বেচাকেনা কোথায় গিয়ে যে ঠেকবে বুঝতেছি না।’

আতাইকুলা থানার কইজুড়ি শ্রীপুর থেকে আসা রেজাউল প্রামাণিক জানান, ৫ মণের বেশি ওজনের গরু মণপ্রতি ৩০ থেকে ৩২ হাজার আর ছোট গরু ৩৫ হাজার টাকায় বিকোচ্ছিল। ৯ মণের বেশি ওজনের একটি ষাঁড়ের দাম উঠছিল আড়াই লাখের মধ্যে। তিনি বলেন, ‘হাটে ক্রেতাইতো নাই।’

আগেভাগে কেনা ক্রেতাদের ভাবনা


পাবনা শহরের নুরপুরের সোহান ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকায় একটি ষাঁড় কেনেন, যা থেকে সাড়ে ৫ মণের মতো মাংস হতে পারে বলে তার ধারণা; এত আগে কিনে এখন একে রাখা নিয়েই তার চিন্তা। শহরের বাসিন্দা আব্দুল মতিন খান ৮ মণ হিসাবে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় একটি কালো ষাঁড় কেনেন; প্রতিবেদনের হিসাবে মণপ্রতি দর দাঁড়ায় প্রায় ৩৪ হাজার টাকার ওপরে। তিনি বলেন, ‘কোরবানির জিনিস টাকার হিসাবে হয় না।’

ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীতে ঈদুল আজহার আগে বসা ছাগলের হাট; ২০১৮ সালের ছবি। ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীতে ঈদুল আজহার আগে বসা ছাগলের হাট; ২০১৮ সালের ছবি। ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

জেলায় চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ পশু


প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৬ সালে পাবনা জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২টি। এর বিপরীতে ৩৩ হাজার ৪০টি খামারে প্রস্তুত ছিল ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৮টি পশু, যার মধ্যে ছাগল ৩ লাখ ৭৯ হাজার ১৭৭টি। বাংলা ট্রিবিউনের ১১ মে-র প্রতিবেদনে একই জেলার তথ্যে ভেড়ার সংখ্যা ৬২ হাজার ৩৮৫টি বলা হয়। প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, চাহিদার দ্বিগুণ এই পশু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাবে। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় কোরবানিযোগ্য পশু ছিল ৪৩ লাখ ৫ হাজার ৬২৮টি, আর চাহিদা ২৪ লাখ ২৫ হাজার ৮৯টি।

সারা দেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে ওই বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশু, আর চাহিদা ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি; উদ্বৃত্ত প্রায় ২২ লাখ, বাংলা ট্রিবিউন ২২ মে জানায়।

হাসিল, জাল নোট ও নিরাপত্তায় নজর


জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জহুরুল ইসলাম জানান, জেলার স্থায়ী ও অস্থায়ী ২৫টি হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচা হচ্ছিল। শুরুতে গতি কম থাকলেও তখন বেচাকেনা বাড়তে শুরু করেছিল বলে তিনি জানান; হাটে যেন অতিরিক্ত হাসিল আদায় না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছিল। পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, জাল নোট শনাক্তে মেশিন বসানো, হাট ও মহাসড়কে পুলিশের টহল বাড়ানো এবং অতিরিক্ত হাসিল আদায় বন্ধসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

পাবনার একটি গ্রামের খোলা মাঠ। ছবি: Jahangir Sheikh / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
পাবনার একটি গ্রামের খোলা মাঠ। ছবি: Jahangir Sheikh / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (২৩ মে ২০২৬), বাংলা ট্রিবিউন (১১ মে ও ২২ মে ২০২৬), প্রথম আলো (১৮ মে ২০২৬), উইকিপিডিয়া (মণ)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সৌরপ্যানেলের নিচে ভেড়া চরালে বাড়ে মৌমাছি, তবে সংখ্যা রাখতে হবে কম

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, সৌরখামারে হেক্টরপ্রতি দুটি ভেড়া চরালে ঘাস কাটার তুলনায় উপকারী পোকা ৩৮ শতাংশ বাড়ে। খামারিদের জন্য ভেড়ার পাল পরিকল্পনার একটি সহায়ক টুলও তৈরি করেছেন গবেষকেরা।

Farms.com১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

প্রোটিনের চাহিদায় বদলে গেল কানাডার দুধের বাজার, মাখনের উদ্বৃত্ত শেষ

দুগ্ধজাত প্রোটিনের চাহিদা বাড়ায় পাঁচ বছরের মধ্যে কানাডার দুধের বাজারে মাখনচর্বির কাঠামোগত উদ্বৃত্ত মিটে গেছে, দুধের দাম নির্ধারণেও এসেছে পরিবর্তন।

Manitoba Co-operator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিকি হেক্টরে ওটের বীজ চাষ, ইথিওপিয়ার এক কৃষকের পারিবারিক ব্যবসা

ইথিওপিয়ার এক ক্ষুদ্র কৃষক মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে বীজের জন্য ওট চাষ করে প্রথম ফসল ৪৫ হাজার বির্রে বিক্রি করেন এবং পরের বছর চাষ বাড়ান। আইএলআরআইয়ের পশুখাদ্যের বীজকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের অংশ এটি।

ILRI১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)