প্রচলিত আলুর জাতে ক্রোমোজোম থাকে চার সেট (টেট্রাপ্লয়েড), আর ডিপ্লয়েড আলুতে দুই সেট। কানাডার কৃষি ও কৃষিখাদ্য বিভাগের (এএএফসি) বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফলন, সংরক্ষণ, রোগ প্রতিরোধ ও জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোয় ডিপ্লয়েড আলু আশা জাগাচ্ছে। খবরটি দিয়েছে ফার্মস ডট কম।
প্রচলিত প্রজনন এত দিন টেট্রাপ্লয়েড আলুর সীমিত জিনভান্ডারের ওপর নির্ভর করেছে। ফলে বাণিজ্যিক জাতগুলো একে অন্যের মতো, যা নতুন রোগ ও প্রতিকূলতা সামলানোর ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। ডিপ্লয়েড আলু প্রজননবিদদের বেশি বৈচিত্র্য ও বেশি নির্ভুলতা দেয়। শার্লটটাউনের গবেষক ড. বুরলায়ে ফোফানা বলেন, দীর্ঘদিন ধারণা ছিল ভালো ফলনের জন্য বেশি ক্রোমোজোম লাগে, কিন্তু তাঁদের গবেষণা দেখাচ্ছে সেই ধারণায় আটকে থাকার দরকার নেই।
তাঁর দল ইএমএস মিউটাজেনেসিস নামের জিনগত বৈচিত্র্য তৈরির পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত ৭২১টি ডিপ্লয়েড ক্লোন যাচাই করে ৫৪টিকে কয়েক বছরের মাঠ পরীক্ষার জন্য বেছে নেয়। পরীক্ষিত ক্লোনের ৮০ শতাংশের বেশির কন্দের চেহারা ছিল গ্রহণযোগ্য বা চমৎকার। ছোট আলুর (ক্রিমার) জাতের ২০ শতাংশ এবং টেবিল বা চিপসের জাতের ২৯ শতাংশ কানাডায় চাষ হওয়া বাণিজ্যিক টেট্রাপ্লয়েড আলুর সমান বা বেশি বাজারযোগ্য ফলন দিয়েছে। এগুলোর সুপ্তাবস্থাও ভালো থেকে উচ্চ, ফলে আগেভাগে অঙ্কুর গজায় না এবং বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায়।
গবেষকেরা জানান, ভাজার উপযোগী কিছু ডিপ্লয়েড জাত এখনও টেট্রাপ্লয়েডের সমান ফলন দিতে পারেনি, তবে আরও প্রজননে সেই ঘাটতি মিটতে পারে। ফলাফল যোগ হবে ফ্রেডেরিকটনে ড. বেনোয়া বিজিমুঙ্গুর দলের পরিচালিত কানাডিয়ান পটেটো জিন রিসোর্সেস সংগ্রহে, যেখানে ৩০০-র বেশি জিনসম্পদ আছে এবং যা কানাডা ও অন্যান্য দেশের প্রজনন কর্মসূচিতে কাজে লাগে।
ছবি: D H Wright / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)