২০২৬ সালের ২৯ মার্চ জাগো নিউজ ২৪ কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ সমীরণ বিশ্বাসের লেখা একটি ব্যবহারিক নির্দেশিকা প্রকাশ করে। বিষয় ছিল লেবু এবং কমলা ও মাল্টার মতো লেবুজাতীয় ফলে ক্যাংকার রোগ দেখা দিলে চাষির করণীয়। লেখক ক্যাংকারকে লেবুর সবচেয়ে ক্ষতিকর ও মারাত্মক রোগগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন এবং এর লক্ষণ, কারণ, রোগ ঠেকাতে বাগানের পরিচর্যা ও কপারজাতীয় স্প্রের কথা তুলে ধরেন। এই প্রতিবেদনে চাষিদের জন্য সেই পরামর্শ নতুন করে সাজানো হয়েছে, প্রকাশিত উদ্ভিদরোগ গবেষণার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে এবং চাষির যা জানা দরকার সেই প্রেক্ষাপট যোগ করা হয়েছে: জীবাণুটি কী, এক গাছ থেকে আরেক গাছে কীভাবে যায় এবং বাংলাদেশের গবেষকেরা এ নিয়ে গবেষণায় কী পেয়েছেন।
ক্যাংকার রোগের জন্য দায়ী Xanthomonas citri subsp. citri নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। একে Xanthomonas citri pv. citri নামেও লেখা হয়, সংক্ষেপে Xcc। গাছের মাটির ওপরের সব অংশে, অর্থাৎ পাতা, ডাল, কচি ডগা ও ফলে এটি আক্রমণ করে। ইউরোপীয় ও ভূমধ্যসাগরীয় উদ্ভিদ সংরক্ষণ সংস্থা (ইপিপিও) ২০২৪ সালের তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশে রোগটিকে সীমিত বিস্তারে উপস্থিত বলে তালিকাভুক্ত করেছে। ২০১৮ সালে মলিকুলার প্ল্যান্ট প্যাথলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনাও বাংলাদেশকে সেই দেশগুলোর তালিকায় রেখেছে, যেখানে রোগটি স্থানীয়ভাবে দেখা যায়।
বিশ্বে ও বাংলাদেশে লেবুজাতীয় ফল
লেখক উল্লেখ করেন, উৎপাদনের দিক থেকে বিশ্বের ফলগুলোর মধ্যে লেবুজাতীয় ফলের স্থান দ্বিতীয়। ২০২৩ সালে প্রকাশিত সাইট্রাস রিসার্চ বইয়ের ভূমিকা অধ্যায়ে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) পরিসংখ্যান ধরে ২০২১ সালের জন্যও একই অবস্থান দেখানো হয়েছে: সে বছর লেবুজাতীয় ফল ছিল বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বাধিক উৎপাদিত ফল, ১ কোটি ২ লাখ হেক্টরের বেশি জমি থেকে উৎপাদন হয় ১৬ কোটি ১৮ লাখ টন। এর সবচেয়ে বড় অংশ কমলা (অরেঞ্জ), ৭ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টন; এরপর ট্যানজারিন, ৪ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টন।
২০২৪ সালে প্ল্যান্ট সায়েন্স টুডে সাময়িকীতে প্রকাশিত ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উদ্ভিদরোগ বিশেষজ্ঞদের এক গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের ১৪০টির বেশি দেশে লেবুজাতীয় ফলের বাণিজ্যিক চাষ হয়। গবেষণাটি বলছে, পানি সহজে নেমে যায় এমন হালকা দোআঁশ মাটি, ৪ থেকে ৯ মাত্রার পিএইচ, শিকড় বাড়ার জন্য মাটির প্রায় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং বছরে ৭৫ থেকে ১২৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত এ ফসলের জন্য সবচেয়ে ভালো; বাংলাদেশে ব্যক্তিগত বাগান ও বাণিজ্যিক বাগানে ছোট পরিসরে এর চাষ হয়। লেখকেরা লিখেছেন, দেশে ১৮টির বেশি প্রজাতির লেবুজাতীয় ফলের চাষ হয় এবং এদের বেশির ভাগের জন্য ক্যাংকার বড় হুমকি।
নির্দেশিকায় বাংলাদেশের আবহাওয়ায় যেসব লেবুজাতীয় ফল সবচেয়ে ভালো হয় সেগুলোর নাম দেওয়া হয়: এলাচি লেবু, কাগজি লেবু, জাম্বুরা, কমলা ও মাল্টা। লেবু বাংলাদেশের রান্নাঘরে নিত্যদিনের ফল; খাবারের স্বাদ বাড়াতে এবং শরবত তৈরিতে এর ব্যবহার আছে।
নির্দেশিকা প্রকাশের এক মাস আগে, ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্যবিষয়ক সাইট ফ্রেশপ্লাজায় প্রকাশিত ডেইলি অবজারভারের এক প্রতিবেদনে দেশের অন্যতম লেবু উৎপাদন এলাকার চিত্র উঠে আসে। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে লেবুর চাষ হয়, হেক্টরপ্রতি গড় বার্ষিক ফলন ৯ থেকে ১০ টন, এবং সে মৌসুমে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টন উৎপাদনের আশা করা হচ্ছিল। ফলনের প্রায় ৮০ শতাংশ তোলা হয় মূল মৌসুমে, প্রায় ২০ শতাংশ অমৌসুমে। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, উৎপাদন সরকারি হিসাবের সঙ্গে মিলছে, তবে খরা ও পানির সংকটে তা কিছুটা কমেছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২২ সালের এপ্রিলে জানায়, পাশের সিলেট জেলার জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় বড় আকারের জারা লেবুর চাষ হয় এবং জৈন্তাপুরে বারির সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে এ ফল নিয়ে গবেষণা করছে।

রোগের পেছনের ব্যাকটেরিয়া
সাইট্রাস ক্যাংকারের প্রথম বৈজ্ঞানিক বর্ণনা হয় যুক্তরাষ্ট্রে, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে সেখানকার দক্ষিণ-পূর্বের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার পর। মলিকুলার প্ল্যান্ট প্যাথলজির পর্যালোচনা অনুযায়ী, হাসে নামের এক গবেষক ১৯১৪ সালে ফ্লোরিডা, টেক্সাস ও মিসিসিপি থেকে নমুনা পেয়ে ব্যাকটেরিয়াটি আলাদা করেন এবং ১৯১৫ সালে এর নাম দেন Pseudomonas citri। পরে একে Xanthomonas গণে নেওয়া হয় এবং কয়েক দফা নাম বদলের পর ২০০৭ সালে Xanthomonas citri subsp. citri নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়। জীবাণুটি দণ্ডাকার, গ্রাম-নেগেটিভ ও বায়ুজীবী, এর একটি মেরুপ্রান্তীয় ফ্ল্যাজেলা আছে এবং কৃত্রিম মাধ্যমে জন্মালে হলুদ কলোনি তৈরি করে।
রোগটির উৎপত্তি কোথায়, তা নিয়ে মতভেদ আছে। ২০২৩ সালে প্ল্যান্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনা বলছে, সবচেয়ে পুরোনো প্রমাণ মেলে ইংল্যান্ডে সংরক্ষিত হার্বেরিয়াম নমুনায়: ১৮২৭ থেকে ১৮৩১ সালের মধ্যে ভারত থেকে সংগৃহীত Citrus medica এবং ১৮৪২ থেকে ১৮৪৪ সালের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে সংগৃহীত Citrus aurantifolia নমুনায় ক্যাংকারের দাগ পাওয়া গেছে। অন্য গবেষকেরা দক্ষিণ চীনকে উৎস বলে সন্দেহ করেছিলেন। পর্যালোচনার উপসংহার, রোগটি সম্ভবত ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের মতো এশিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকায় উৎপন্ন হয়েছে।
সাধারণ রূপটি এশীয় ক্যাংকার বা ক্যাংকার এ নামে পরিচিত। প্যাথোটাইপ এ অনেক ধরনের লেবুজাতীয় গাছে আক্রমণ করে। এর সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি রূপ, এ* ও এডব্লিউ, প্রাকৃতিক পরিবেশে কেবল মেক্সিকান বা কি লাইম এবং অ্যালেমো গাছে দাগ তৈরি করে। ক্যানক্রোসিস বি ও সি নামের আরও দুটি রূপের জন্য দায়ী আলাদা একটি প্যাথোভার, Xanthomonas citri pv. aurantifolii। মলিকুলার প্ল্যান্ট প্যাথলজির পর্যালোচনায় গ্রেপফ্রুট, লাইম ও লেবুকে সবচেয়ে সংবেদনশীল, সুইট অরেঞ্জকে মাঝারি সংবেদনশীল এবং কামকোয়াট ও ক্যালামন্ডিনকে সবচেয়ে কম সংবেদনশীলদের মধ্যে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশের জীবাণু নিয়েও গবেষণা হয়েছে। ২০১৩ সালে প্ল্যান্ট ডিজিজ সাময়িকীর এক রোগ-প্রতিবেদনে বাংলাদেশ থেকে আসা লাইম ও লেবু ফলে সিকোয়েন্স টাইপ ১-এর প্যাথোটাইপ এ প্রথমবারের মতো শনাক্তের খবর দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের বাকৃবি, বারি ও ডিএইর গবেষণায় বারি কাগজি লেবু-১, জারা লেবু, বীজহীন লেবু, কলম্বো লেবু, বারি মাল্টা-১, স্থানীয় লেবু, বাতাবি লেবু, বারি কমলা, সাতকরা ও অন্যান্য লেবুজাতীয় গাছের ক্যাংকার-আক্রান্ত পাতা, ডাল ও ফল থেকে জীবাণুটির ৫৪টি আইসোলেট সংগ্রহ করা হয়। নমুনা আসে সিলেট, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি, জামালপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে। সবগুলোই এশীয় ক্যাংকারের জন্য দায়ী টাইপ এ Xcc হিসেবে শনাক্ত হয়।
গবেষকেরা আইসোলেটগুলো লেবুজাতীয় গাছের পাতায় পরীক্ষা করে দেখেন, ৫৪টির মধ্যে ২টি (৩.৭১ শতাংশ) আগ্রাসী, ৩৪টি (৬২.৯৬ শতাংশ) মাঝারি আগ্রাসী এবং ১৮টি (৩৩.৩৩ শতাংশ) দুর্বল আগ্রাসী। আগ্রাসনের মাত্রার সঙ্গে আশ্রয় গাছ বা নমুনা সংগ্রহের এলাকার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। সবচেয়ে তীব্র লক্ষণ দেখিয়েছে কাগজি লেবুর আইসোলেটগুলো। অন্য দেশের আইসোলেটের সঙ্গে তুলনা করে লেখকেরা মত দেন, চারা ও রোপণসামগ্রী আনা-নেওয়ার মাধ্যমে জীবাণুটি দেশে ঢুকে থাকতে পারে। তাঁরা লিখেছেন, রপ্তানিযোগ্য মানের লেবুজাতীয় ফল উৎপাদন করতে হলে বাংলাদেশে ক্যাংকার নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।
ক্যাংকার কীভাবে ছড়ায় ও গাছে ঢোকে
নির্দেশিকায় ব্যাখ্যা করা হয়, জীবাণু সাধারণত গাছের ক্ষতস্থান এবং পাতার রন্ধ্র বা পত্ররন্ধ্র দিয়ে গাছের ভেতরে ঢোকে। তাই বর্ষাকালে জোরালো বাতাসে গাছে ক্ষত হলে আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। এটি পানিবাহিত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ বলে ঝড়-বৃষ্টির সময় রোগ বেশি দেখা যায়, আর সে কারণে বর্ষা মৌসুমে এর প্রকোপ বেশি। গবেষণাও এই বর্ণনাকে জোরালোভাবে সমর্থন করে।
মলিকুলার প্ল্যান্ট প্যাথলজির পর্যালোচনা অনুযায়ী, বাতাসের ধাক্কায় আসা বৃষ্টির ছাট জীবাণু ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম। সক্রিয় দাগ ভিজে যাওয়ার ঠিক পরপর জীবাণুর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। প্রায় এক ঘণ্টা বৃষ্টি ও বাতাসের পর বৃষ্টির পানিতে জীবাণু কমে যায় বটে, কিন্তু দুই ঝড়ের মাঝের সময়ে জীবাণু এত দ্রুত বাড়ে যে প্রতিটি নতুন ঝড়ের জন্য আবার বড় সংখ্যায় জীবাণু তৈরি থাকে। ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জীবাণুটি ভালোভাবে বাড়ে, তাই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপগ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকায় সারা বছর এর বড় সংখ্যা টিকে থাকতে পারে। দমকা বাতাসসহ ঘন ঘন স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টি রোগ ছড়ানোর জন্য খুবই অনুকূল; বাতাস যত জোরালো, গাছে তত বেশি ক্ষত হয় এবং সংক্রমণ তত তীব্র হয়। হারিকেন ও টর্নেডো জীবাণুকে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে পারে।
জীবাণু ক্ষতস্থান এবং প্রাকৃতিক ছিদ্র, অর্থাৎ পত্ররন্ধ্র ও পাতার কিনারার হাইডাথোড দিয়ে গাছে ঢোকে। তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও জীবাণুর পরিমাণ সবচেয়ে অনুকূল হলে সংক্রমণের প্রায় সাত দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দিতে পারে; তাপমাত্রা বা জীবাণুর সংখ্যা কম থাকলে দুই মাস বা তার বেশি সময় লাগতে পারে। বেড়ে উঠতে থাকা কচি পাতা, ডগা ও ফল সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে, আর টিস্যু পরিণত হলে প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে। তবে সবুজ থাকা অবস্থায় আক্রান্ত হওয়া ডাল বছরের পর বছর জীবাণু ধরে রাখতে পারে এবং ভিজলেই সেই উঁচু, কর্কের মতো দাগ থেকে জীবাণু বের হয়।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, এ রোগের জীবাণু মাটিতে ৮ থেকে ১০ দিন বাঁচতে পারে এবং আলো বা রোদে দ্রুত নষ্ট হয়। গবেষণা জীবাণুর টিকে থাকার বিষয়টি একটু ভিন্নভাবে বর্ণনা করে: জীবাণুটি মূলত গাছের দাগের ভেতরেই বেঁচে থাকে। দাগের বাইরে কাপড়চোপড় ও কৃষি যন্ত্রপাতির মতো জড় বস্তুর ওপর এটি মাত্র এক থেকে তিন দিন টেকে, আর মাটিতে অন্য অণুজীবের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় হেরে দুই মাসের বেশি বাঁচে না। কাজেই রোগের মূল ভান্ডার গাছে ও গাছের নিচে পড়ে থাকা আক্রান্ত পাতা, ডাল ও ফল; এ কারণেই সেগুলো সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলার পরামর্শটি গুরুত্বপূর্ণ।
মানুষ ও চারার মাধ্যমেও রোগ দূরে যায়। পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, আক্রান্ত নার্সারির চারা মাঠে লাগানোর পর সেগুলো জীবাণুর উৎস হয়ে ওঠে এবং বৃষ্টি ও বাতাস সেখান থেকে আশপাশের গাছে জীবাণু নিয়ে যায়। প্ল্যান্টস সাময়িকীর ২০২৩ সালের পর্যালোচনা বাগান ও নার্সারি উভয় জায়গায় যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকদের জীবাণুমুক্ত রাখা এবং গাছে যাতে ক্ষত না হয় সেভাবে সাবধানে যন্ত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেয়।
পাতা, ডাল ও ফলে রোগের লক্ষণ
নির্দেশিকা অনুযায়ী, ক্যাংকারে গাছের শাখা-প্রশাখা, ফল, পাতা, ফলের বোঁটা ও ডগা আক্রান্ত হয়। শুরুতে আক্রান্ত জায়গায় ছোট ছোট হলুদ দাগ পড়ে, পরে দাগগুলো একসঙ্গে মিশে পুরু ও বড় হয়। ফোস্কার মতো এসব দাগের চারপাশে হলুদ আভা থাকে, যা পাতায় বেশি দেখা যায়। পাতা, ফল ও কাণ্ডে উঁচু বাদামি ফোস্কার মতো দাগ পড়ে; পাতার ওপরে ও নিচে দুই দিকেই এমন দাগ হয়, আর শুরুতে হলুদ থাকা দাগ ধীরে ধীরে বাদামি হয়ে যায়। আক্রান্ত পাতা ঝরে পড়ে, গাছের ওপরের দিকের পাতা ঝরে যায়, নতুন পাতার বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ও পাতা বিকৃত হয়, কখনো কখনো ফলের খোসা ফেটে যায়, আর আক্রমণ তীব্র হলে গাছ মারা যেতে পারে।
গবেষণা সাহিত্য একই চিত্র আরও বিস্তারিতভাবে দেয়। প্ল্যান্টস সাময়িকীর পর্যালোচনা বলছে, পাতায় প্রথম লক্ষণ ২ থেকে ১০ মিলিমিটারের উঁচু গোল দাগ, সাধারণত শুরুতে পাতার নিচের পিঠে, পরে পাতার দুই পিঠেই দাগ দেখা দেয়। দাগগুলো শুরুতে নরম, ফোস্কার মতো, সাদা বা হলুদ; পরে শক্ত হয়ে হালকা বাদামি রং নেয় এবং খসখসে, কর্কের মতো ক্যাংকারের দাগে পরিণত হয়, প্রায়ই চারপাশে পানিভেজা কিনারা থাকে। পরে পাতার দাগের মাঝখান বসে যায় এবং খসে পড়তে পারে, তাতে পাতায় ছিদ্রের মতো দেখায়। রোগ বাড়লে আগাম পাতা ঝরা এবং ডালের আগা থেকে ধীরে ধীরে মরে যাওয়াই গাছের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
ডাল ও ফলের দাগ উঁচু হয়, কিনারা তেলতেলে বা পানিভেজা দেখায়; ডালের দাগে সাধারণত হলুদ আভা থাকে না, ফলের দাগে থাকতে পারে। ফলের দাগের মাঝখান প্রায়ই বসে যায়, তবে দাগ খোসার গভীরে যায় না এবং ফলের ভেতরের মান নষ্ট করে না। তবু আগাম ফল ঝরা ও দাগি ফলই এ রোগের প্রধান অর্থনৈতিক ক্ষতি, কারণ তাজা ফলের বাজারে ক্যাংকারের দাগওয়ালা ফল বাতিল হয়ে যায়।

পাতা সুড়ঙ্গকারী পোকার ভূমিকা
নির্দেশিকায় বলা হয়, লেবুর পাতা সুড়ঙ্গকারী পোকার আক্রমণ এ রোগ ডেকে আনে; এ পোকার কীড়া পাতার ভেতরে সুড়ঙ্গ কেটে খায়। তাই নিয়মিত লেবুখেত পরিদর্শন করে আক্রমণ দেখামাত্র দমনের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। গবেষণাও একমত যে পোকাটি ক্যাংকারকে অনেক বাড়িয়ে দেয়, যদিও পোকা নিজে জীবাণু বহন করে না।
এশীয় সাইট্রাস লিফমাইনার বা পাতা সুড়ঙ্গকারী পোকা (Phyllocnistis citrella) একটি মথ। মিলনের পর স্ত্রী পোকা বেড়ে উঠতে থাকা পাতায় ডিম পাড়ে, আর কীড়া পাতার বাইরের আবরণের নিচে সুড়ঙ্গ কেটে খায়। মলিকুলার প্ল্যান্ট প্যাথলজির পর্যালোচনা ব্যাখ্যা করে, এই সুড়ঙ্গ ক্ষত হিসেবে কাজ করে এবং পাতার ভেতরের টিস্যু সংক্রমণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়; পোকা যেখানে খেয়েছে সেখানে তৈরি ক্যাংকারের দাগ পত্ররন্ধ্র দিয়ে হওয়া সংক্রমণের চেয়ে বড়, ঘন এবং বেশি জীবাণু ছড়ায়। কচি গাছের তেজি নতুন পাতায় পোকাটি দ্রুত খায় ও বংশ বাড়ায়; নতুন বাগানে ক্যাংকার বেশি তীব্র হওয়ার এটি একটি কারণ। সব ধরনের লেবুজাতীয় গাছে এটি আক্রমণ করে, তবে গ্রেপফ্রুট, ট্যানজারিন ও জাম্বুরা (পামেলো) এর পছন্দের গাছ।
পর্যালোচনা অনুযায়ী, যেসব দেশে গবেষণাগুলো হয়েছে সেখানে কীড়া দমনে মূলত অ্যাবামেকটিন ও নিওনিকোটিনয়েড গোত্রের কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। জৈব দমনের সাফল্য সীমিত: সবচেয়ে পরিচিত প্রাকৃতিক শত্রু Ageniaspis citricola নামের একটি ছোট বোলতা অনেক কীড়াকে পরজীবী হিসেবে আক্রমণ করতে পারে, কিন্তু আক্রমণ বেশি হলে এটি রাসায়নিক স্প্রের মতো কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। বাংলাদেশে কোন কীটনাশক নিবন্ধিত ও স্থানীয়ভাবে সুপারিশকৃত এবং তার মাত্রা ও প্রয়োগের সময় কী, তা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত।

বাগানের পরিচর্যায় ক্যাংকার ঠেকানো
নির্দেশিকায় রোগ ঠেকানোর প্রথম ধাপ হিসেবে বাগানের সঠিক ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়, যাকে লেখক জৈব ব্যবস্থাপনা বলেছেন। ধাপগুলো ছিল:
- বাগান তৈরির শুরুতে চারার মধ্যে নির্দিষ্ট সঠিক দূরত্ব বজায় রাখা; প্রয়োজনে চারা থেকে চারা এবং সারি থেকে সারির দূরত্ব একটু বেশি রাখা, যাতে ঝোড়ো হাওয়ায় গাছে ক্ষত না হয়।
- সুস্থ-সবল মাতৃগাছ থেকে রোগমুক্ত লেবুর চারা সংগ্রহ করে কেবল সেগুলোই লাগানো।
- পাতা সুড়ঙ্গকারী পোকার জন্য নিয়মিত লেবুখেত পরিদর্শন করা এবং আক্রমণ দেখামাত্র দমনের ব্যবস্থা নেওয়া।
- রোগাক্রান্ত পাতা, ডালপালা ও ফল সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলা।
- গাছের পাতা শুকনো থাকা অবস্থায় বাগানের পরিচর্যা করা।
- বর্ষা মৌসুমের আগেই লেবুগাছের ডাল ছাঁটাই করে ছাঁটা অংশ পুড়িয়ে ফেলা, তারপর সঠিক মাত্রায় বোর্দো মিশ্রণ প্রয়োগ করা।
- ক্যাংকারে আক্রান্ত মরা গাছ সমূলে তুলে দ্রুত পুড়িয়ে ফেলা।
এই ধাপগুলো গবেষণার সুপারিশের সঙ্গে মেলে। প্ল্যান্টস সাময়িকীর ২০২৩ সালের পর্যালোচনা বলছে, বর্ষার আগে গ্রীষ্ম ও শরতের আক্রান্ত ডগা ছেঁটে বা পাতা ঝরিয়ে পুড়িয়ে ফেললে ক্যাংকারের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য হয়, এবং ছাঁটাইয়ের সঙ্গে কপার স্প্রে ছোট মাত্রার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। রোগ আগেভাগে ধরার জন্য নিয়মিত বাগান পরিদর্শন এবং যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকদের জীবাণুমুক্ত রাখার কথাও পর্যালোচনায় আছে।
যেখানে ক্যাংকার স্থায়ী হয়ে গেছে, সেখানকার জন্য মলিকুলার প্ল্যান্ট প্যাথলজির পর্যালোচনা একটি সমন্বিত ব্যবস্থার কথা বলে: ক্যাংকারমুক্ত নার্সারির চারা লাগানো, কম সংবেদনশীল জাত বেছে নেওয়া, গাছ দিয়ে বায়ুরোধী বেষ্টনী তৈরি, কপারভিত্তিক ব্যাকটেরিয়ানাশক স্প্রে, পাতা সুড়ঙ্গকারী পোকা দমন এবং গাছের নিজস্ব প্রতিরোধব্যবস্থা সক্রিয় করে এমন উপাদানের ব্যবহার। পরিষ্কার চারা জরুরি, কারণ আক্রান্ত নার্সারির চারা নতুন বাগানে জীবাণুর উৎস হয়ে ওঠে, আর কচি গাছ ঘন ঘন নতুন পাতা ছাড়ে বলে বেশি সংবেদনশীল। তাই নতুন বাগানে রোগের আগমন দেরি করাতে পারলে এর ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
বর্ষার ঝড়ের দেশে বায়ুরোধী বেষ্টনীর কথা আলাদা করে বলা দরকার। গাছের সারি দিয়ে তৈরি বেষ্টনী বাগানে বাতাসের ধাক্কা কমায়, ফলে জীবাণুর বিস্তার এবং জীবাণু ঢোকার ক্ষতের সংখ্যা দুটোই কমে। পর্যালোচনায় কপার স্প্রের সঙ্গে বায়ুরোধী বেষ্টনীকে খুবই কার্যকর বলা হয়েছে; আর্জেন্টিনায় বেষ্টনী-ঘেরা গাছে ক্যাংকারের মাত্রা কপার স্প্রে করা গাছের চেয়ে কম পাওয়া গেছে।
কপার স্প্রে: কী পারে, কী পারে না
রাসায়নিক দমনের জন্য নির্দেশিকায় কপার অক্সিক্লোরাইড বা অন্য কপারজাতীয় বালাইনাশক স্প্রের পরামর্শ দেওয়া হয়। রোগের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেই স্প্রে করতে এবং ঝড়-বৃষ্টিতে রোগ বেশি হয় বলে পুরো বর্ষাজুড়ে স্প্রে চালিয়ে যেতে বলা হয়; প্রতিরোধমূলক হিসেবেও এটি ব্যবহার করা যায় এবং ছাঁটাইয়ের পর বোর্দো মিশ্রণ প্রয়োগ করতে হয়।
ক্যাংকারের বিরুদ্ধে কপারই প্রচলিত রাসায়নিক উপায়, তবে এর সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে গবেষণা স্পষ্ট। মলিকুলার প্ল্যান্ট প্যাথলজির পর্যালোচনা বলছে, কপার স্প্রে পুরোপুরি প্রতিরোধমূলক, এর কোনো নিরাময়ক বা অন্তর্বাহী কার্যকারিতা নেই: কপার নতুন পাতায় জীবাণু জমে ওঠা কমায় এবং বেড়ে উঠতে থাকা ফল ও পাতার উপরিভাগকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে, কিন্তু আগে থেকে থাকা দাগ সারায় না। কপার হাইড্রোক্সাইড, কপার অক্সিক্লোরাইড ও কপার অক্সাইডের মতো অদ্রবণীয় রূপগুলোই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এগুলো স্প্রে করা উপরিভাগে কপারের একটি অদ্রবণীয় আস্তরণ তৈরি করে, যা সেখানে এসে পড়া জীবাণু মেরে ফেলে; ধীরে ধীরে কপার ছাড়ে বলে এগুলো গাছের জন্য কম ক্ষতিকর এবং দ্রবণীয় রূপের চেয়ে বেশি দিন কাজ করে।
পর্যালোচনা অনুযায়ী, কতটুকু কপার এবং কত ঘন ঘন স্প্রে করা হবে তা নির্ভর করে আবহাওয়া এবং কত দিন সুরক্ষা দরকার তার ওপর। সাধারণত যে মৌসুমে কচি টিস্যু বেশি থাকে এবং আবহাওয়া জীবাণুর অনুকূল, তখনই কপার দেওয়া হয়। পাতা ও ফল বড় হতে থাকলে সুরক্ষার আস্তরণ পাতলা হয়ে যায়, তাই বারবার স্প্রে লাগে; জাতভেদে ৯০ থেকে ১২০ দিন ধরে বাড়তে থাকা ফলকে বায়ুরোধী বেষ্টনীর আড়ালেও বারবার স্প্রে দিয়ে রক্ষা করতে হয়। ঝড়ো আবহাওয়ায় সংবেদনশীল গাছে শুধু কপার যথেষ্ট নয়, কারণ বাতাসে চালিত বৃষ্টি জীবাণুকে সরাসরি পত্ররন্ধ্রে ঢুকিয়ে দেয় এবং কপারের আস্তরণকে পাশ কাটিয়ে যায়। এ কারণেই প্রাদুর্ভাবের অনুকূল পরিস্থিতিতে পর্যালোচনাটি কপার স্প্রে ও বায়ুরোধী বেষ্টনী একসঙ্গে ব্যবহারকে অপরিহার্য বলেছে।
কপারের ক্ষতিকর দিকও আছে। স্প্রে করা কপার মাটিতে জমে শিকড়ের বৃদ্ধি ও গাছের পুষ্টি গ্রহণে ক্ষতি করতে পারে; বেশি ঘনত্বে ফলের গায়ে দাগ পড়তে পারে; আর ঘন ঘন ব্যবহারে কপার-প্রতিরোধী জীবাণু তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে দমন আরও কঠিন করতে পারে। অতিরিক্ত ব্যবহার না করার যে সতর্কতা নির্দেশিকায় দেওয়া হয়েছে, তার কারণ এটিই।
নির্দেশিকায় কপার অক্সিক্লোরাইডের একটি মাত্রা ও স্প্রের সময়সূচিও দেওয়া হয়েছিল। এই প্রতিবেদনে তা পুনরাবৃত্তি করা হয়নি, কারণ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) বা বারির প্রকাশিত কোনো সুপারিশের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা যায়নি, আর কপারজাতীয় বালাইনাশকের শক্তি ব্র্যান্ডভেদে আলাদা। কপার অক্সিক্লোরাইড বা বোর্দো মিশ্রণ স্প্রের আগে বাংলাদেশে নিবন্ধিত বালাইনাশক ব্যবহার করুন, মোড়কের নির্দেশনা মানুন এবং মাত্রা ও দুই স্প্রের মাঝের ব্যবধান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বা স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে জেনে নিন।
নিরাপদে স্প্রে করার নিয়ম
নির্দেশিকার শেষে স্প্রে করার সময়ের সাবধানতাগুলো দেওয়া হয়:
- সকালে বা বিকেলে, যখন রোদ কম থাকে, তখন স্প্রে করুন।
- প্রয়োজনের বেশি ব্যবহার করবেন না।
- বৃষ্টিতে স্প্রে ধুয়ে গেলে আবার স্প্রে করুন।
- স্প্রে করার সময় গ্লাভস ও মাস্ক ব্যবহার করুন।
- স্প্রে শেষে হাত-মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
- ফল তোলার কয়েক দিন আগে স্প্রে বন্ধ রাখুন; প্রতিটি বালাইনাশকের অপেক্ষার সময় তার মোড়কে লেখা থাকে।
- বালাইনাশক শিশুদের নাগালের বাইরে শুষ্ক ও ঠান্ডা জায়গায় রাখুন।
বাণিজ্যে ক্যাংকারের প্রভাব
লেবুজাতীয় ফলের বাণিজ্যে ক্যাংকার বড় ক্ষতি করে। দাগি ফল তাজা ফলের ক্রেতারা ফিরিয়ে দেন, আর যেসব দেশ রোগমুক্ত বা রোগটি নির্মূল করেছে তারা জীবাণুটিকে কোয়ারেন্টাইন বালাই হিসেবে গণ্য করে, ফলে রোগটি বাজার বন্ধ করে দেয়। মলিকুলার প্ল্যান্ট প্যাথলজির পর্যালোচনায় লেখা আছে, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড থেকে রোগটি নির্মূল করা হয়েছে এবং ইউরোপে এটি নেই।
নির্মূল করা ব্যয়বহুল। প্ল্যান্টস সাময়িকীর ২০২৩ সালের পর্যালোচনায় ফ্লোরিডার সাইট্রাস ক্যাংকার নির্মূল কর্মসূচির বর্ণনা আছে। ১৯৯৯ সালের শেষ দিক থেকে সেখানে নিয়ম ছিল, আক্রান্ত গাছের ১ হাজার ৯০০ ফুট (৫৭৯ মিটার) ব্যাসার্ধের মধ্যে সব লেবুজাতীয় গাছ কেটে টুকরা করে মাটিচাপা দিতে হবে, আর কোনো এলাকা অন্তত দুই বছর ক্যাংকারমুক্ত থাকলে তবেই সেখানে আবার গাছ লাগানো যাবে। চাষিদের তীব্র আপত্তির মুখে অর্থনৈতিকভাবে টেকসই নয় বলে ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে নিয়মটি স্থগিত হয়; ফ্লোরিডায় ২০০৬ সালে এবং ব্রাজিলে ২০০৯ সালে নির্মূল কর্মসূচি বন্ধ হয়। যেখানে রোগ স্থায়ী হয়ে গেছে, সেখানে চাষিরা ওপরে বর্ণিত সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ওপরই নির্ভর করেন।
বাংলাদেশের ক্ষতিটা হয়েছে রপ্তানিতে। ডিএইর উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে ২০২৪ সালের বাকৃবি, বারি ও ডিএইর গবেষণায় বলা হয়, দেশ থেকে বৃহত্তর সিলেটের জারা লেবু এবং মূলত নরসিংদীর কলম্বো লেবু রপ্তানি হয় এবং তখনকার চলতি অর্থবছরে এ থেকে আয় হয় ৭৫ কোটি টাকা; কিন্তু ক্যাংকারের কারণে লেবুজাতীয় ফলের রপ্তানি প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে, আর এক সময় ইউরোপে জারা লেবু রপ্তানি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২২ সালের এপ্রিলে জানায়, ক্যাংকারের কারণে ২০০৭ সালে যুক্তরাজ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার পর প্রায় ১৫ বছর ধরে সিলেট থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় লেবুজাতীয় ফলের রপ্তানি বন্ধ ছিল।
ছবি: ডেভিড বার্টেলস, ইউএসডিএ এপিএইচআইএস / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, মলিকুলার প্ল্যান্ট প্যাথলজি (ফেরেন্স ও অন্যান্য, ২০১৮), প্ল্যান্টস (সাইট্রাস ক্যাংকার বিষয়ক পর্যালোচনা, ২০২৩), প্ল্যান্ট সায়েন্স টুডে (বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বারি ও ডিএই, ২০২৪), প্ল্যান্ট ডিজিজ (ভার্নিয়ের ও অন্যান্য, ২০১৩), ইউরোপীয় ও ভূমধ্যসাগরীয় উদ্ভিদ সংরক্ষণ সংস্থা (ইপিপিও) গ্লোবাল ডেটাবেস, সাইট্রাস রিসার্চ (ইনটেকওপেন, ২০২৩, এফএওর তথ্য), ফ্রেশপ্লাজায় প্রকাশিত ডেইলি অবজারভারের প্রতিবেদন (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (এপ্রিল ২০২২)





মন্তব্য
(০)