ছাদকৃষিমুন্সিগঞ্জে হাজী সোলায়মান মিয়াজির ২২শ ফুটের পরিকল্পিত ছাদকৃষি | পর্ব ২৯২
মুন্সিগঞ্জে হাজী সোলায়মান মিয়াজির ছাদকৃষি
ছাদকৃষিমুন্সিগঞ্জে হাজী সোলায়মান মিয়াজির ছাদকৃষি
ছাদকৃষিচট্টগ্রামের সাহেলা আবেদীনের ছাদকৃষি ছয়তলা ভবনের ২ হাজার ২ শ বর্গফুটের এই ছাদটিতে তিন স্তরে চলছে কৃষির আয়োজন। শহরের বুকে উচ্চ ভবনের ছাদে ফুল আর ফসলের সম্মিলন। তবে ফুল আর ফসল উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নন এই ছাদকৃষির উদ্যোক্তা সাহেলা আবেদীন। তিনি রীতিমতো ছাদকৃষিকে পরিবেশ সুরক্ষার আন্দোলন হিসেবেই দেখতে চান। শুর
সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়ছে ছাদকৃষি। ভবন নির্মাণকারীরা অনুধাবন করছেন, প্রয়োজনে ফসলি ভূমি নষ্ট হলেও কৃষি ও সবুজের অস্তিত্ব ধরে রাখার প্রশ্নে ভবনের উপরিভাগে ছাদকৃষি চর্চা করা জরুরি।
বাড়ির ছাদে ছায়াঘন পরিবেশ। সেখানে শোভা পাচ্ছে বিশালদেহী এক আমগাছ। শীতকালের শেষে সেই গাছে ধরতে শুরু করবে মুকুল। এদিকে পুষ্টির জোগানে রয়েছে লেবু, ঢ্যাঁড়শ, করলা, পেঁপে, বরবটিসহ সবজির গাছ। আরও আছে রং-বেরঙের ফুল।
ছাদকৃষিতিন তলা ভবনে নানা পরিকল্পনায় দুই স্তরে ছাদকৃষি সাজিয়েছেন আনোয়ারুল হক ও সাবরিনা হক দম্পতি। তাদের কৃষির অনুশীলন বহু পুরানো। যখন ভবন ওঠেনি তখনও সম্পর্ক রেখেছিলেন কৃষির সঙ্গে। তারপর দালান বাড়ির উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে বৃক্ষের শোভা এবং ছাদকৃষির প্রাচুর্যতাও উর্ধ্বমুখী হয়েছে।
ছাদকৃষি তথা নগরকৃষি এখন সারাদেশেই দ্রুত ছড়াচ্ছে। রাজধানী ঢাকার পরে বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও সবুজে সুশোভিত হয়ে উঠছে ভবনের উপরিভাগ। নগরবাসীরা ইট পাথরে ঘেরা জীবনে প্রশান্তি আর অপরিহার্যতা খুঁজে পেতে বেছে নিচ্ছেন ছাদকৃষিকে। কেউ কেউ এই কার্যক্রমকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে গড়ে তুলছেন সামাজিক সংগঠনও।
বহু আগ থেকেই ছাদকৃষির বহুমুখি উপযোগিতা উপলব্ধি করেছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারুল হক ও সাবরিনা দম্পতি। ছাদকৃষিতে সুস্থ চারা প্রাপ্তি আর নিরাপদ ফলের প্রশ্নে সংশয় দূর করতে তারা উদ্যোগ নিয়েছেন ছাদকৃষি উপযোগী বিভিন্ন ফসলের চারা তৈরির কাজ। এছাড়াও তারা ছাদে বাণিজ্যিক উদ্যোগে উৎপাদন করছেন ড্রাগন ফল।
একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা আবশ্যক। সেই তুলনায় আমাদের দেশের বনভূমির পরিমাণ অনেক কম। এতে পৃথিবীর ওপর বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব বাড়ছে। তাই পরিবেশবিদরা পৃথিবীর স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে যেসব বিষয়ে জোর দিতে বলেছেন, তার মধ্যে অন্যতম ছাদকৃষি।
ছাদকৃষিরাজধানী, বিভাগ কিংবা জেলা শহর পেরিয়ে ছাদকৃষি এখন গ্রামে। চট্টগ্রামের পটিয়ার পাচুরিয়া গ্রামের নুরুল আলমের তিনতলা বাড়ির উপরে কৃষির আয়োজনটি প্রমাণ করে যে ছাদকৃষি রীতিমত একটি সামাজিক আন্দোলনেই রূপ নিয়েছে। আসলে সবুজের সঙ্গে যারা সখ্য গড়তে চান, তারা যেখানে বা যে অবস্থানেই থাকুক না কেন কৃষির প্রতি তাদের মন
ছাদকৃষিবুয়েট টিচার্স কোয়ার্টারে তানিয়া সুলতানার ছাদকৃষি সম্পূর্ণ ভিডিও-
রাজধানী ঢাকা কিংবা বড় বড় শহর পেরিয়ে ছাদকৃষির চর্চা পৌঁছে গেছে গ্রামেও। পাকা বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনার সঙ্গে অনেকেই যুক্ত রাখছেন ছাদকৃষি। সেখান থেকেই পুরণ করছেন জীবনের অপরিহার্য চাহিদাগুলো। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পাচুরিয়া গ্রামে এমন নজির গড়েছেন নুরুল আলম।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট এর শিক্ষক কোয়ার্টারে এক সমৃদ্ধ ছাদকৃষি আয়োজন করেছেন বিশ্বিবদ্যালয়ের শিক্ষক ডক্টর মোহাম্মদ মোস্তফা আলীর স্ত্রী তানিয়া সুলতানা। প্রতিদিনের ছাদকৃষি অনুশীলন থেকে মেটাচ্ছেন পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা ও মানসিক প্রশান্তি।
শীতে প্রকৃতি প্রায় শুষ্ক থাকে। এর প্রভাব সব কিছুর ওপর পড়ে। বাসা-বাড়ির টবের পানিও শুকিয়ে যায়। ঘরের ভেতর, বাসার ছাদে বা বারান্দার টবে রাখা গাছগুলো এ সময় জীর্ণ হতে পারে। তাই ছাদ বাগান, টব ও গাছের নিয়মিত যত্ন নিতে হবে।