ফসলমৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলে ধান-চালের দাম কমেছে, খরচ তুলতে হিমশিম কৃষকের
মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের বাজারে ধান ও চালের দাম কমেছে; ভোক্তারা স্বস্তি পেলেও বীজ, সার, সেচ ও শ্রমের খরচ বাড়ায় উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না বলে জানাচ্ছেন কৃষকেরা।
ফসলমৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের বাজারে ধান ও চালের দাম কমেছে; ভোক্তারা স্বস্তি পেলেও বীজ, সার, সেচ ও শ্রমের খরচ বাড়ায় উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না বলে জানাচ্ছেন কৃষকেরা।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আগাম আমনে বিঘায় ১৮-২২ মণ ফলন হলেও মণপ্রতি ৭৫০-৯০০ টাকা দরে বিক্রি করে কৃষকের খরচ উঠছে না; দেড় সপ্তাহে ধানের দাম মণে ২০০-৩০০ টাকা কমেছে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আমনে বিঘায় ১৪ থেকে ১৮ মণ ফলন হলেও ধানের মণ ৫০০-৬০০ টাকা হওয়ায় বিঘাপ্রতি ১৪-১৫ হাজার টাকা খরচের বিপরীতে ৫-৬ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনছেন কৃষকেরা।
ফসলগত বৈশাখে পাহাড়ি ঢলে বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার পর স্বাভাবিকের অর্ধেকেরও কম ফসল ঘরে তুলেছিলেন হাওরপাড়ের কৃষকরা; এখন বাজারে গিয়ে নতুন বিপাকে তাঁরা।
আউশ মৌসুমে সরকারি ধান সংগ্রহ না থাকায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের কৃষকেরা ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে কম দামে ধান বেচতে বাধ্য হচ্ছেন; ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি ও আউশ সংগ্রহের দাবি তাঁদের।
মৌসুমের শুরুতে কম বৃষ্টির পর পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও হাওরের পানি নামায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা; চুনারুঘাটে সর্বোচ্চ ১৮,২৮৫ হেক্টর; গত বছর আবাদ ছিল প্রায় ৮৮ হাজার হেক্টর; সাময়িক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেও পুনরায় রোপণ।
বোরোর সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পরও চালকল মালিকদের আবেদনে সরকার অতিরিক্ত দুই লাখ টন চাল কিনছে; গুদামে সক্ষমতার চেয়ে বেশি মজুত, আউশের দাম মণপ্রতি ৬৫০-৭৫০ টাকায় নেমেছে, আর নিবন্ধিত কৃষক মাত্র ১০ লাখ ৬৭ হাজার।
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের প্রায় চার লাখ কৃষক ধানের দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন; গত বছরের তুলনায় মণপ্রতি দর নেমেছে কয়েকশ টাকা।
অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলে আমন রোপণ প্রায় শেষ; রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের লক্ষ্য ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭১৪ হেক্টর, বাকি জমি ১০-১৫ দিনে; কৃষকেরা সেচ খরচ বাঁচলেও উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম নিয়ে উদ্বিগ্ন।
ফসল২০২৬ সালের এপ্রিলে নেত্রকোনার হাওরের বোরো চাষিরা জাগো নিউজকে অভিযোগ করেন, কিছু ব্যবসায়ী ৪০ কেজির মণে ৪২ থেকে ৪৫ কেজি ধান নিচ্ছেন, যাকে তাঁরা ‘নতুন জুলুম’ বলছেন। ব্যবসায়ীরা ভেজা ধানের কথা বলেন, আর খাদ্য বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানায়।
ফসল২০২৪ সালের নভেম্বরে মানিকগঞ্জে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়, ধারদেনা শোধের আশায় ধান কাটায় ব্যস্ত ছিলেন কৃষকেরা। জেলা কৃষি অফিসের হিসাবে ৩৫ হাজার ৫৫০ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয় ৩১ হাজার ৬৪৯ হেক্টরে, কাটা হয়েছিল ৩০ শতাংশ জমির ধান।
এগ্রোটেক২০১৯ সালের মে মাসে বোরো ধান মণপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছিল কৃষকদের। কৃষিমন্ত্রী তখন চাল রপ্তানি ও যন্ত্র ব্যবহারের কথা বলেন; বিআইডিএসের গবেষক নাজনীন আহমেদ দীর্ঘমেয়াদে প্রযুক্তিতে উৎপাদন খরচ কমানোর ওপর জোর দেন।