সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

মাদারীপুরের কালকিনিতে ফাঁদে ধরা কুমির পিটিয়ে হত্যা

২০২৫ সালের ২৯ মার্চ মাদারীপুরের কালকিনিতে ফাঁদ পেতে ধরা প্রায় আট ফুট লম্বা একটি কুমিরকে রশি দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করে উৎসুক জনতা। বন বিভাগ জানায়, ময়নাতদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদারীপুরের কালকিনিতে ফাঁদে ধরা কুমির পিটিয়ে হত্যা
পরিবেশ

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় ফাঁদ পেতে ধরা একটি কুমিরকে রশি দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করেছে উৎসুক জনতা। ২০২৫ সালের ২৯ মার্চ শনিবার বেলা ১টার দিকে উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের নতুন আন্ডারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুমিরটি প্রায় আট ফুট লম্বা ও দুই ফুট প্রস্থ ছিল। মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

কয়েক দিন ধরে নদীতে দেখা যাচ্ছিল কুমিরটি


বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রথম আলো জানায়, এর আগে কিছুদিন ধরে উপজেলার পালরদী নদী ও আড়িয়াল খাঁ নদে একটি কুমির দেখতে পাচ্ছিলেন স্থানীয় লোকজন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন মাইকিং করে মানুষকে সচেতন করে, এরপর বাসিন্দারা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।

২৯ মার্চ সকালে নতুন আন্ডারচরে পালরদী নদীর সংযোগ খালে কুমিরটি দেখতে পান এলাকাবাসী। পরে জেলেদের সহযোগিতায় খালে ফাঁদ পেতে সেটিকে জালে আটকানো হয়। রশি দিয়ে বেঁধে কুমিরটিকে সমতল জমিতে আনা হলে খবর পেয়ে সেখানে ভিড় জমে যায়। একপর্যায়ে উৎসুক লোকজন কুমিরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। বিডিনিউজ২৪ ডটকমের প্রতিবেদনে স্থানীয়দের বরাতে বলা হয়, আড়িয়াল খাঁ নদে গোসল করতে গেলে কুমিরটি তেড়ে আসে, তখন লোকজন জড়ো হয়ে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সেটিকে পেটায়।

মাদারীপুর ইকো পার্কের পাশে আড়িয়াল খাঁ নদীতে মাছ ধরার দৃশ্য। স্থানীয় সূত্র জানায়, এই নদ ও পালরদী নদীতে কয়েক দিন ধরে কুমিরটি দেখা যাচ্ছিল। ছবি: ShazidSharif2001 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মাদারীপুর ইকো পার্কের পাশে আড়িয়াল খাঁ নদীতে মাছ ধরার দৃশ্য। স্থানীয় সূত্র জানায়, এই নদ ও পালরদী নদীতে কয়েক দিন ধরে কুমিরটি দেখা যাচ্ছিল। ছবি: ShazidSharif2001 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বন বিভাগ ও প্রশাসন যা বলেছে


ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘খালের মধ্যে একটি কুমির দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন কুমিরটি ধরেন। পরে তাঁরা পিটিয়ে কুমিরটি হত্যা করেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আমাদের টিম পাঠানো হয়েছে। মৃত কুমিরটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উত্তম কুমার দাশ জানান, কুমির আটকের খবর পেয়ে বন বিভাগকে জানানো হয় এবং উপজেলা প্রশাসনও ঘটনাস্থলে যায়। তিনি বলেন, ‘উৎসুক জনতা কুমিরকে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। কিন্তু বন্য প্রাণী হত্যা করা আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ।’ তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত কুমিরের দেহ উদ্ধার ও ময়নাতদন্তের পর বন বিভাগ আইনগত ব্যবস্থা নেবে। সেদিনের প্রতিবেদনগুলোতে কারও বিরুদ্ধে মামলা বা কাউকে আটকের কথা বলা হয়নি।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ৩৭ ধারায় বলা আছে, তফসিল ১-এ উল্লিখিত কুমির হত্যা অপরাধ, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড; একই অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড। একই ধারার শর্তে বলা হয়েছে, কুমিরের আক্রমণে কারও জীবনাশঙ্কা দেখা দিলে জীবন রক্ষার্থে আক্রমণকারী কুমিরকে হত্যার ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না; এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট স্টেশন কর্মকর্তা ওয়ার্ডেনের সঙ্গে পরামর্শ করে মামলা করতে পারবেন।

কালকিনি উপজেলা কার্যালয়, মাদারীপুর। ছবি: Enamul Hasan Tamim / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
কালকিনি উপজেলা কার্যালয়, মাদারীপুর। ছবি: Enamul Hasan Tamim / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কুমিরটি কোথা থেকে এল


মাদারীপুর বন্য প্রাণী সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য মাসুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কুমির দেশে এখন বিলুপ্তি প্রায়। এই প্রাণীটি মাদারীপুরের নদ-নদীতে দেখা যায় না। ধারণা করা হচ্ছে, কুমিরটি সুন্দরবন থেকে বিভিন্ন নদ নদী হয়ে মাদারীপুরে আসতে পারে।’ তিনি জানান, ধরার পর কুমিরটিকে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা, কিন্তু জনতা সেটিকে মেরে ফেলে। তাঁর মতে, ঘটনাটি প্রাণিকুলের সুরক্ষা ও সংরক্ষণে সচেতনতার অভাবের দিকে ইঙ্গিত করে, আর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। বিডিনিউজ২৪ ডটকম জানায়, তিনি ঘটনায় জড়িতদের বন্যপ্রাণী আইনে বিচারের দাবি জানান।

সুন্দরবন লোনা পানির কুমিরের (Crocodylus porosus) একটি আবাস। সুন্দরবনের করমজলে বন বিভাগের একটি কেন্দ্রে ২০০২ সাল থেকে লোনা পানির কুমিরের প্রজনন করানো হচ্ছে বলে ২০১৯ সালে দ্য ডেইলি স্টার জানায়। মাদারীপুরে ধরা কুমিরটির প্রজাতি সেদিনের প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়নি।

সুন্দরবনের করমজলে প্রজননের জন্য রাখা লোনা পানির কুমির; মাদারীপুরের কুমিরটির ছবি নয়। ছবি: Fabian Roudra Baroi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সুন্দরবনের করমজলে প্রজননের জন্য রাখা লোনা পানির কুমির; মাদারীপুরের কুমিরটির ছবি নয়। ছবি: Fabian Roudra Baroi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: Fabian Roudra Baroi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, বিডিনিউজ২৪ ডটকম, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ (আইন ও বিচার বিভাগ, বাংলাদেশ সরকার), দ্য ডেইলি স্টার, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)