রিসোর্ট প্রতিষ্ঠান ছুটি রিসোর্ট ২০২৬ সালের মে মাসে তাদের ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬’ শুরু করে। জাগো নিউজ ২৪-এ ২০২৬ সালের ১৮ মে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচির সূচনায় প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও দেশীয় প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। আয়োজকেরা জানান, পরিবেশ রক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী রোপণ ও আহ্বান
অনুষ্ঠানে চারা রোপণের পর বিদ্যা সিনহা মিম সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করি। এর মাধ্যমে দেশকে সবুজায়িত করি এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করি।’
কর্মসূচিতে ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোস্তফা মাহমুদ আরিফি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল, ছুটি রিসোর্ট পূর্বাচলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর ফেরদৌস, ছুটি রিসোর্ট পুবাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সামসুল ইসলাম মাসুদসহ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এক মাসে প্রায় চার হাজার চারা
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছুটি রিসোর্ট ২০১২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে দেশি-বিদেশি ফলজ, বনজ ও বিরল প্রজাতির গাছ রোপণ করে আসছে। ২০২৬ সালের কর্মসূচির আওতায় পরের এক মাসে প্রতিষ্ঠানটির চারটি রিসোর্ট এবং নির্মাণাধীন প্রকল্প এলাকায় প্রায় চার হাজার গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানায়। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, সবুজ ও টেকসই পরিবেশ গড়তে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ চলবে। কোন প্রজাতির কতটি চারা লাগানো হবে, প্রতিবেদনে তার বিস্তারিত হিসাব দেওয়া হয়নি।
কৃষ্ণচূড়া গাছ কেমন
কৃষ্ণচূড়া, যা গুলমোহর বা আগুনচূড়া নামেও পরিচিত, শিমগোত্রীয় (ফ্যাবেসি) পরিবারের একটি গাছ; বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া (Delonix regia)। এর আদি নিবাস আফ্রিকার দ্বীপদেশ মাদাগাস্কার, তবে বহু শতাব্দী ধরে এটি পৃথিবীর নানা উষ্ণ অঞ্চলে শোভাবর্ধক গাছ হিসেবে লাগানো হয়ে আসছে। বাংলাদেশ, ভারত, দক্ষিণ চীন, আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে এটি জন্মায়।
গাছটি মাঝারি আকারের ও পত্রঝরা। এর পাতা পালকের মতো যৌগিক, উজ্জ্বল সবুজ। ফুলে চারটি বড় ছড়ানো লাল বা কমলা-লাল পাপড়ি থাকে, আর পঞ্চম পাপড়িটি খাড়া, তাতে হলুদ ও সাদা ছোপ। হলুদ ফুলের একটি প্রাকৃতিক জাতকে বাংলায় রাধাচূড়া বলা হয়। কৃষ্ণচূড়ার জন্য উষ্ণ আবহাওয়া দরকার; গাছটি শুষ্ক ও লবণাক্ত অবস্থা সহ্য করতে পারে এবং শাখা-প্রশাখা বহুদূর ছড়িয়ে ছায়া দেয়। কাঁচা অবস্থায় এর শুঁটি সবুজ থাকে, পাকলে গাঢ় বাদামি ও শক্ত হয়ে যায়।


দেশে বৃক্ষরোপণের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে বৃক্ষরোপণের বড় সরকারি আয়োজন হলো বন অধিদপ্তরের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা। দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ২০২৫ সালের ২৩ জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৫-৯৬ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারি উদ্যোগে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৮৪২ হেক্টর ব্লক বাগান ও ৭২ হাজার ৫৮১ কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগান করা হয় এবং ২০৬ কোটির বেশি চারা বিতরণ বা রোপণ করা হয়।
বাসস জানায়, ২০২৫ সালের ২৫ জুন ঢাকার শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৫ উদ্বোধন করা হয়; মেলা চলে ২৪ জুলাই পর্যন্ত। সে বছরের অভিযানের মূল বার্তা ছিল পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগিয়ে সবুজ বাংলাদেশ গড়া।
ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), উইকিপিডিয়া (কৃষ্ণচূড়া)





মন্তব্য
(০)