চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূঁইয়া গ্রামে চিতাবাঘসদৃশ একটি বন্যপ্রাণীর উপস্থিতিতে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই জাগো নিউজ ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রামের পুরাতন ঈদগাহ কবরস্থান এলাকায় কয়েক দিন ধরে প্রাণীটিকে দেখা যাচ্ছিল। প্রাণীটি আসলে কোন প্রজাতির, সেদিন পর্যন্ত বন বিভাগ তা নিশ্চিত করেনি।
গ্রামবাসী যা জানিয়েছিলেন
স্থানীয়দের বরাতে প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, প্রাণীটির গর্জন ও চলাফেরা বাঘের মতো, আর এর সঙ্গে দুটি শাবকও রয়েছে। জনকণ্ঠের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলাকাবাসীর ভাষ্যে প্রাণীটি দেখতে অনেকটা চিতাবাঘ বা মেছোবাঘের মতো। ১৬ জুলাই পর্যন্ত মানুষের ওপর কোনো আক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। তবে প্রাণীটি কয়েকবার গরু ও ছাগলের ওপর হামলার চেষ্টা করেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছিলেন।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা রায়হান উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘দক্ষিণ ভূঁইয়া গ্রামের ঈদগাহ কবরস্থানে দুটি চিতাবাঘের বাচ্চা দেখা গেছে। এলাকাবাসীকে সতর্ক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’ প্রাণীটি চিতাবাঘ, মেছোবাঘ নাকি অন্য কোনো বন্যপ্রাণী, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়রা বন বিভাগের তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।

বন বিভাগের বক্তব্য
মিরসরাই উপকূলীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুল গফুর জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি এখনও কেউ আমাদের জানায়নি। সাধারণত এসব বন্যপ্রাণী সহজে কাউকে আক্রমণ করে না। যদি না তাদের উত্ত্যক্ত করা হয়। তাই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।’ জনকণ্ঠকে তিনি আরও বলেন, সঠিক অবস্থান নিশ্চিত হলে উদ্ধার কার্যক্রম নেওয়া হবে।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী লাইসেন্স বা পারমিট ছাড়া কোনো বন্যপ্রাণী শিকার করা নিষিদ্ধ। কোনো বন্যপ্রাণী মানুষের জীবন বা গৃহপালিত পশুসহ সম্পদের জন্য হুমকি হলে তা সরিয়ে নেওয়া বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব আইনে প্রধান বন্যপ্রাণী সংরক্ষক ও ওয়ার্ডেনদের দেওয়া হয়েছে। আইনের ৩৭ ধারায় চিতাবাঘ হত্যার শাস্তি সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড বা ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড। তাই এমন প্রাণী দেখলে তাড়া করা, ধরার চেষ্টা বা আঘাত না করে দূরত্ব বজায় রেখে স্থানীয় বন বিভাগের কার্যালয়ে খবর দেওয়াই নিয়ম।
মেছোবাঘ ও মিরসরাই এলাকা
গ্রামবাসীর উল্লেখ করা মেছোবাঘ (Prionailurus viverrinus) দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি বুনো বিড়াল, যা ঘন গাছপালাঘেরা জলাভূমি, বিল, অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ ও ম্যানগ্রোভ বনে থাকে। এর খাদ্যের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই মাছ, বাকিটা পাখি, ছোট ইঁদুরজাতীয় প্রাণী ও পোকামাকড়। বাংলাদেশের বেশির ভাগ বিভাগেই এদের দেখা মেলে। ২০১৬ সাল থেকে আইইউসিএনের লাল তালিকায় প্রজাতিটি সংকটাপন্ন (Vulnerable)। বাঘের শাবক ভেবে বা মাছের ক্ষতির অভিযোগে মানুষের হাতে প্রায়ই এরা মারা পড়ে।

মিরসরাই উপজেলার আয়তন ৪৮২.৮৮ বর্গকিলোমিটার। এর একদিকে ফেনী নদী, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেল, পাশে সীতাকুণ্ড উপজেলা। উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়ন রয়েছে, যার একটি ইছাখালী। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ৪ লাখ ৭২ হাজার ৭৯৪। উপজেলার মহামায়া লেক চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচিত একটি জলাধার।
ছবি: Hasib / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দৈনিক জনকণ্ঠ, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ (এফএও ফাওলেক্স), উইকিপিডিয়া (মেছোবাঘ, মিরসরাই উপজেলা)





মন্তব্য
(০)