চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিজ্ঞান অনুষদ সংলগ্ন কলোনি থেকে ২০২৩ সালের ৯ মে, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ১২ ফুট লম্বা একটি অজগর উদ্ধার করা হয়। সাপটির ওজন ছিল প্রায় ২০ কেজি। কলোনির বাসিন্দারা রাতে সাপটি দেখে খবর দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ও ভেনম রিসার্চ সেন্টারের গবেষক রফিক ইসলাম একটি দল নিয়ে গিয়ে সেটি উদ্ধার করেন। পরে অজগরটিকে আরেকটি নির্জন পাহাড়ে অবমুক্ত করা হয়। খবরটি ২০২৩ সালের ১০ মে জাগো নিউজ ২৪ প্রকাশ করে।
কলোনিতে রাতে অজগর, উদ্ধারের পর পাহাড়ে অবমুক্ত
রফিক ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, উদ্ধার হওয়া সাপটি অবিষধর বার্মিজ পাইথন বা অজগর। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, খাবারের সন্ধানে এ ধরনের সাপ মাঝেমধ্যে পাহাড় থেকে লোকালয়ে নেমে আসে এবং বিরক্ত না করলে কারও ক্ষতি করে না। সে কারণে সাপটিকে না মেরে লোকালয় থেকে দূরে একটি নির্জন পাহাড়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই উদ্ধারকাজের সঙ্গে যুক্ত ভেনম রিসার্চ সেন্টার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের একটি গবেষণা ইউনিট। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অধীনে ২০১৮ সালের মার্চে পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্প হিসেবে এর কাজ শুরু হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ যৌথভাবে এতে কাজ করে। কেন্দ্রটির মূল লক্ষ্য দেশের সাপের বিষ সংগ্রহ করে দেশেই সাপের কামড়ের প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম তৈরি করা। জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড জানায়, জার্মানির গ্যোটে বিশ্ববিদ্যালয় ও ফ্রাঙ্কফুর্ট বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল এই কাজে অংশীদার এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যার স্নাতকেরা এখানে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেন।

বার্মিজ অজগর কেমন সাপ
বার্মিজ অজগরের বৈজ্ঞানিক নাম Python bivittatus। বাংলাদেশ, পূর্ব ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা এর প্রাকৃতিক আবাস। বনভূমি, তৃণভূমি, জলাভূমি, পাহাড়ের পাদদেশ ও নদী উপত্যকায় এরা থাকে। বনে একটি পূর্ণবয়স্ক বার্মিজ অজগর গড়ে প্রায় ৩.৭ মিটার বা ১২ ফুট লম্বা হয়; অর্থাৎ চবিতে উদ্ধার হওয়া সাপটি ছিল এই প্রজাতির গড় আকারের।
অজগর বিষধর নয়। এরা মূলত নিশাচর এবং ওত পেতে থেকে শিকার ধরে, তারপর শরীর দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মারে। পাখি, স্তন্যপায়ী প্রাণী, উভচর ও সরীসৃপ এদের খাবার। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) ২০১২ সালে প্রজাতিটিকে সংকটাপন্ন (ভালনারেবল) তালিকায় রাখে। আবাসস্থল ধ্বংস ও অতিরিক্ত শিকারের কারণে একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে বনে এদের সংখ্যা অন্তত ৩০ শতাংশ কমেছে বলে ধারণা করা হয়।

পাহাড়ি ক্যাম্পাসে সাপের আনাগোনা
১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে হাটহাজারী উপজেলায় অবস্থিত। ২,৩১২ একরের বেশি আয়তনের এই ক্যাম্পাস দেশের বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, যার বড় অংশ পাহাড় ও প্রাকৃতিক বনে ঢাকা। ফলে এখানে সাপসহ নানা বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে।
এর আগেও ক্যাম্পাসে অজগর উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। প্রথম আলো জানায়, ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর সমাজবিজ্ঞান অনুষদের একটি গবেষণাকেন্দ্র থেকে প্রায় ১৮ কেজি ওজনের ১২ ফুট লম্বা একটি বার্মিজ অজগর উদ্ধার করে জীববিজ্ঞান অনুষদের পেছনের জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে সময় আগের তিন মাসে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৫টি সাপ উদ্ধারের কথা পত্রিকাটি উল্লেখ করে। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. ফরিদ আহসান তখন বলেছিলেন, পাহাড়ে আগুন দেওয়া ও গাছ কাটার ফলে সাপের আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে।

ছবি: MD sajjad hossain photography / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, জিআইজেড, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)