দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কৃষি সংগঠন এগ্রিএসএ (AgriSA) ১৪ অক্টোবর প্রিটোরিয়ায় বার্ষিক কংগ্রেসে ভূমি ও উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদ, শ্রম, গ্রামীণ নিরাপত্তা এবং অর্থনীতি ও বাণিজ্য নিয়ে পাঁচটি নীতি নির্দেশনা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে এবং ফলভিত্তিক কাজের অঙ্গীকার করেছে। ফার্মার্স উইকলিতে প্রতিবেদনটি করেছেন হানলি দু প্লেসি।
এগ্রিএসএর সভাপতি উইলেম দ্য শাভোন ভ্রুগ্ট (Willem de Chavonnes Vrugt) বলেন, একা চাষ করা যায়, কিন্তু একা কৃষি গড়া যায় না। তাঁর মতে, এখন প্রশ্ন হলো কোন প্রতিষ্ঠান কোন কাজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত এবং তাদের কাজ কীভাবে সমন্বিত হবে।
সংগঠনের ভূমি ও উন্নয়ন বিষয়ক কেন্দ্রের সহসভাপতি এবেন দু প্লেসি জানান, দেশের ১২ কোটি ২৩ লাখ হেক্টর জমির মধ্যে মাত্র ১ কোটি ৫৯ লাখ হেক্টর, প্রায় ১৩ শতাংশ, উচ্চ বা মাঝারি চাষযোগ্য; উচ্চ সম্ভাবনার চাষযোগ্য জমি ২০ লাখ হেক্টরেরও কম। এগ্রিএসএ প্রায় ২৫ লাখ হেক্টর রাষ্ট্রীয় জমি দ্রুত ছাড়তে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যের প্রতিষ্ঠান গঠন, ল্যান্ড ব্যাংকের মিশ্র অর্থায়ন প্রকল্প বাড়ানো, বিশ্বাসযোগ্য উপকারভোগী বাছাই, নিরাপদ মালিকানা এবং জমি পাওয়ার পর জোরালো সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
প্রাকৃতিক সম্পদ কেন্দ্রের সভাপতি লাউবশার কুটজি জানান, দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ পানি কৃষিতে ব্যবহৃত হয়, আর সেচব্যবস্থায় পাঠানো পানির আনুমানিক ৩০ শতাংশ কাজে লাগার আগেই নষ্ট হয়। সংগঠনটি দক্ষ জলাধার ব্যবস্থাপনা সংস্থা, অবকাঠামোয় বিনিয়োগ, অনুমানযোগ্য পানি লাইসেন্স এবং জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের দাবি জানিয়েছে।
শ্রম কেন্দ্রের সভাপতি ইয়োহান ভেগে বলেন, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কৃষিতে সরাসরি প্রায় ৯ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ কাজ করেছেন, অর্থাৎ দেশের প্রতি ১৮ জন কর্মজীবীর একজন। এগ্রিএসএ ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ভোক্তা মূল্যসূচকের সঙ্গে যুক্ত করা, কৃষিকাজের আলাদা ভিসা এবং ১১টি কৃষি কলেজের সংস্কার চায়।
অর্থনীতি ও বাণিজ্য কেন্দ্রের সভাপতি ইয়ানি স্ট্রাইডম জানান, ২০২৫ সালে কৃষি রপ্তানি রেকর্ড ১,৫১০ কোটি মার্কিন ডলারে (প্রায় ২৭ হাজার কোটি র্যান্ড) পৌঁছেছে এবং উৎপাদনের ৫৫ শতাংশের বেশি রপ্তানি হয়। কিন্তু ২০২৫/২৬ মৌসুমে বন্দরের অদক্ষতায় প্রায় ৪২০ কোটি র্যান্ড ক্ষতি হয়েছে, আর সাড়ে সাত লাখ কিলোমিটার সড়কের ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ খারাপ বা খুব খারাপ অবস্থায়। সংগঠনটি রেলপথে পণ্য পরিবহন সংস্কার, ডারবান ও কেপটাউন বন্দরের জট কমানো, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় বাজার বাড়ানো এবং জৈবনিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা


মন্তব্য
(০)