বগুড়ার মহাস্থানগড় এলাকায় সার্কাসের কাজে ব্যবহৃত অসুস্থ হাতি ‘বাদশা বাহাদুর’কে ২০২৬ সালের ৪ জুলাই, শনিবার সন্ধ্যায় সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়। মহাস্থান বন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে হাতিটিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জাগো নিউজ জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় হাতিটির কল্যাণ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তাকে ঢাকার মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রাতেই হাতিটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানার উদ্দেশে ঢাকায় পাঠানো হয়।
কীভাবে হাতিটি সরকারের জিম্মায় এল
জাগো নিউজ ও ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত খাবার, চিকিৎসা ও যথাযথ পরিচর্যার অভাবে হাতিটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে হাতিটিকে ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব পান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে হাতিটির মালিকের সঙ্গে আলোচনা হলে তিনি স্বেচ্ছায় হাতিটিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জিম্মায় দিতে রাজি হন। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে মালিক স্বেচ্ছায় হাতিটি সরকারের জিম্মায় দিয়েছেন। তিনি জানান, জাতীয় চিড়িয়াখানায় হাতিটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, নিয়মিত পরিচর্যা ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মতলবুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, কয়েক দিন আগে বন বিভাগ হাতিটির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। হাতিটি অসুস্থ থাকায় প্রথমে সেটিকে সাফারি পার্কে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল; পরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। হস্তান্তরের সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জাগো নিউজ জানায়, হাতিটিকে চিকিৎসার জন্য পাঠানোয় স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মহাস্থানগড় ও জাতীয় চিড়িয়াখানা
মহাস্থানগড় বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়, বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার উত্তরে, করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে প্রাচীন নগর প্রত্নস্থল; অন্তত খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে এখানে প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে।
হাতিটির গন্তব্য বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত। ১৯৭৪ সালের ২৩ জুন মিরপুরে চালু হওয়া এই চিড়িয়াখানা প্রায় ১৮৬ একর জায়গা জুড়ে এবং এটি দেশের সবচেয়ে বড় চিড়িয়াখানা। এটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়; ২০১৫ সালে ‘ঢাকা চিড়িয়াখানা’ নাম বদলে ‘বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা’ রাখা হয়।

বাংলাদেশে হাতির অবস্থা
আইইউসিএন বাংলাদেশের ২০১৬ সালের এক প্রকাশনা অনুযায়ী, এশীয় হাতি বাংলাদেশে ‘মহাবিপন্ন’ প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত। ওই গবেষণায় দেশে ২৬৮টি স্থায়ী বন্য হাতি, ৯৩টি পরিযায়ী হাতি এবং ৯৬টি আবদ্ধ বা পোষা হাতি পাওয়া যায়। বিপন্ন বন্যপ্রাণীর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক কনভেনশন সাইটিসের পরিশিষ্ট ১-এও প্রজাতিটি রয়েছে।
পরিবেশবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মোঙ্গাবে ২০২৫ সালের অক্টোবরে জানায়, দেশে আবদ্ধ ৯৬টি হাতির মধ্যে ১৪টি চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্কসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার, বাকি ৮২টি ব্যক্তিমালিকানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যক্তিমালিকানার বেশির ভাগ হাতি বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে টাকা তোলার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, আর বন্যপ্রাণী ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকাণ্ড ও নিষ্ঠুরতা বন্ধে ২০২৪ সালে হাইকোর্ট নির্দেশনা দেন।

ছবি: Borhan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দৈনিক ইত্তেফাক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, আইইউসিএন বাংলাদেশ, মোঙ্গাবে, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)