আর্জেন্টিনার দুটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চলে পানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সেচব্যবস্থা আধুনিক করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, কর্দোবা প্রদেশের দক্ষিণে একটি নতুন প্রাণিসম্পদ অ্যাকুইডাক্ট (পাইপে পানি বয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা) উৎপাদকদের নির্ভরযোগ্য পানি দিয়েছে এবং ৫০ হাজার হেক্টর উৎপাদনশীল জমি পুনরুদ্ধার করেছে। আর আপেল, নাশপাতি ও বাদাম রপ্তানির কেন্দ্র রিও নেগ্রো উপত্যকায় নতুন সেচকাজে উৎপাদন বেড়েছে ৪ হাজার হেক্টরজুড়ে।
দুটি বিনিয়োগই হয়েছে ‘ইন্টিগ্রেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম ফর দ্য রুরাল অ্যাগ্রিফুড সিস্টেম’ বা গিরসার (GIRSAR) কর্মসূচির আওতায়, যাতে বিশ্বব্যাংক সহায়তা দিচ্ছে। কর্মসূচিটির লক্ষ্য দেশজুড়ে গ্রামীণ কৃষিব্যবসার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, আর তার কেন্দ্রে রয়েছে পানি।
দক্ষিণ কর্দোবায় পশুপালনের জন্য ১০০ কিলোমিটার পাইপলাইন
দক্ষিণ কর্দোবার প্রেসিদেন্তে রোকে সায়েন্স পেনিয়া বিভাগের প্রাণিসম্পদ অ্যাকুইডাক্ট লাবুলায়ে ও হেনেরাল লেভায়ের মধ্যবর্তী হাজার হাজার হেক্টর জমির উৎপাদন-চিত্র বদলে দিয়েছে। আর্জেন্টিনার কৃষি সংবাদমাধ্যম বিচোস দে কাম্পোর ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিওবাম্বা এলাকায় এক অনুষ্ঠানে কর্দোবার গভর্নর মার্তিন ইয়ারিওরা অ্যাকুইডাক্টটি উদ্বোধন করেন। এতে বসানো হয়েছে ১০০ কিলোমিটার পাইপ, খরচ পড়েছে প্রায় ১ কোটি মার্কিন ডলার, আর অর্থ জুগিয়েছে বিশ্বব্যাংকের অংশ আন্তর্জাতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংক (আইবিআরডি)।
এলাকাটির বড় অংশের মাটির নিচের স্তর সোডিয়ামসমৃদ্ধ এবং ভূগর্ভস্থ পানি লবণাক্ত, তাই গবাদি পশুর জন্য ভালো পানি পাওয়া কঠিন ছিল। বিশ্বব্যাংক জানায়, দীর্ঘদিনের ঝুঁকিপূর্ণ এই অঞ্চলে মানসম্মত পানি নিশ্চিত হওয়ায় জলবায়ু ঝুঁকি থেকে পশুপালন সুরক্ষা পাচ্ছে এবং লা প্রোভিদেনসিয়া, লা রামাদা ও সান্তা আনার মতো জনপদের জীবিকা স্থিতিশীল হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য পানি পেয়ে ১২৮ জন উৎপাদক একই জমিতে পশুর সংখ্যা দ্বিগুণ করতে পারবেন, পশুর বিপাকীয় দক্ষতা বাড়বে এবং মৃত্যুহার কমবে। বিচোস দে কাম্পোর প্রতিবেদনে লক্ষ্য হিসেবে ২১ হাজার গবাদি পশু থেকে দ্বিগুণে যাওয়ার কথা বলা হয়।

ভিয়েদমার আইডেভি সেচব্যবস্থার আধুনিকায়ন
রিও নেগ্রো প্রদেশের রাজধানী ভিয়েদমা শহরটি রিও নেগ্রো নদীর দক্ষিণ তীরে, আটলান্টিক উপকূল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। এর চারপাশের নিম্ন উপত্যকায় সেচব্যবস্থা পরিচালনা করে লোয়ার ভ্যালি ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট বা আইডেভি (IDEVI)। ১৯৬১ সালে প্রাদেশিক আইন ২০০-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার পরিকল্পনা ছিল ৭৩ হাজার ৫২৫ হেক্টর উৎপাদনশীল জমি গড়ে তোলা; ফল ও সবজির খামার, দুগ্ধখামার ও পশুপালনের খামার নিয়ে ধাপে ধাপে এর উন্নয়ন হয়।
বিশ্বব্যাংক জানায়, পঞ্চাশ বছরের বেশি চলার পর আইডেভির সেচব্যবস্থা পুরোপুরি আধুনিক করা হয়েছে। লক্ষ্য ভিয়েদমার চারপাশের ৫০০ খামারে সময়মতো ও নির্ভরযোগ্যভাবে পানি পৌঁছানো; এলাকাটি আর্জেন্টিনার শীর্ষ হেজেলনাট উৎপাদক হিসেবে স্বীকৃত। প্রতিবেদনের দুই বছর আগে মূল সেচখালের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে আস্তরণ দেওয়া, গেট বদলে যান্ত্রিক করা এবং পানিপ্রবাহ মাপার সেন্সর বসানোর কাজ শুরু হয়। ভবিষ্যতের উৎপাদন টেকসই রাখতে প্রকৌশল কাজের পাশাপাশি চাষপদ্ধতিরও উন্নতি করা হয়েছে।


পানির ঘাটতি নয়, ভারসাম্যহীনতা
প্রকল্প দুটি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিবেদন ‘নারিশ অ্যান্ড ফ্লারিশ: ওয়াটার সলিউশনস টু ফিড টেন বিলিয়ন পিপল অন আ লিভেবল প্ল্যানেট’-এর যুক্তির সঙ্গে মেলে। প্রতিবেদনটির ভাষ্য, বিশ্ব আসলে পানির ঘাটতিতে নয়, বরং তীব্র ভারসাম্যহীনতায় ভুগছে: কিছু অঞ্চল তাদের ভূগর্ভস্থ জলাধার নিঃশেষ করছে, আবার কারও পানি আছে কিন্তু তা কাজে লাগাতে দরকার বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত। পানির ব্যবহারে ভারসাম্য আনা গেলে ২০৫০ সালের মধ্যে ১ হাজার কোটি মানুষের খাবার জোগানো এবং সেই পথে ২৪ কোটি ৫০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি সম্ভব বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দুই প্রদেশের ছোট ও মাঝারি উৎপাদকের কাছে পরিবর্তনটা বাস্তব। রোকে সায়েন্স পেনিয়ার একজন পশুপালক একই জমিতে বেশি পশু রাখতে পারবেন, ক্ষতি হবে কম; আর ভিয়েদমার একজন চাষি সেচের গেট খুলবেন এই নিশ্চয়তা নিয়ে যে ফসলের জন্য যথেষ্ট পানি আছে।
ছবি: Jonydiaz / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বিশ্বব্যাংক, বিচোস দে কাম্পো, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)